ঢাকা ০৫:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গ্যাসের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সোনারগাঁয়ে ৪ চুনা কারখানা গুঁড়িয়ে দিল তিতাস হাসিনার প্রত্যর্পণ ঘিরে জল্পনা, দিল্লিতে বাংলাদেশের গোয়েন্দাপ্রধান শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫৩ বিজিবির অভিযানে ৪০ লাখ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ যন্ত্রাংশ ক্রয়ে কমিশন বাণিজ্য বিআরটিসির মনিরুজ্জামানকে নিয়ে গুরুতর তথ্য দুদকে পার্বতীপুরে প্রধান শিক্ষককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ, আটক ২ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ঢুকে স্বেচ্ছাসেবক দল নেতাকে পিটুনি, ভিডিও ভাইরাল ঢাকা মেডিকেলে ২২ সপ্তাহের গবেষণা কোর্সের উদ্বোধন তেজগাঁও রাজস্ব সার্কেলের সাবেক কানুনগো খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে ঘুষ ও আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ বিএমইটির তাজিম সিন্ডিকেটের জালে ঝুঁকিতে সার্বিয়া গমনেচ্ছুরা কোটালীপাড়ায় মদ্যপানের পর দুই যুবকের মৃত্যু, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আরেকজন

বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে জি এম কাদেরের নিন্দা ও ক্ষোভ

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

আজ এক নিন্দা বার্তায় জি এম কাদের বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা স্বাধীন বাংলাদেশের লজ্জা!’

তিনি বলেন, গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তিনি তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানাচ্ছেন। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাদী হয়ে সাক্ষ্য দেওয়া এই মুক্তিযোদ্ধাকে মৃত্যুর পরও নির্বিঘ্নে সমাহিত করা যায়নি। এটি মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা ও মানবিক মূল্যবোধের চরম অবমাননা।

সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পুলিশি পাহারায় তাঁকে দাফন করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, খোঁড়া কবর মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়ায় তাঁর মেয়ে ও দুই বোন মুঠোফোনের আলোয় নিজেরাই কবর খুঁড়েছেন। এই দৃশ্য শুধু হৃদয়বিদারক নয়, রাষ্ট্র ও সমাজের জন্যও অশনিসংকেত।

পিরোজপুরে স্থানীয় জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান জি এম কাদের। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে মৃতদেহের অসম্মান করা বা শোকাহত পরিবারকে হয়রানি করার অধিকার কারও নেই। এটি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতিরও চরম পরিপন্থী।

পুলিশ লাইনসে গোপনে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়ার খবরও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান কেন আড়ালে দিতে হবে, সেই প্রশ্ন তুলে জি এম কাদের বলেন, এমন পরিস্থিতি মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা রক্ষায় সরকারের দৃঢ়তাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। স্বাধীনতাবিরোধী কোনো শক্তির চাপের কাছে প্রশাসন নতি স্বীকার করতে পারে না।

জি এম কাদের বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষার পাশাপাশি দেশের সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব বর্তমান সরকারের। এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা ও গাফিলতি খতিয়ে দেখতে হবে। সরকার এ দায় এড়াতে পারে না।

তিনি অবিলম্বে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, মানিক পশারীর কবর ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সব মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষীদের সুরক্ষা দেওয়ার দাবি জানান।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে জি এম কাদের বলেন, ‘যাঁরা দেশ স্বাধীন করেছেন, তাঁদের শেষবিদায়ের মর্যাদাও যদি রক্ষা করতে না পারি, সেই ব্যর্থতা গোটা জাতির।’

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাসের অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে সোনারগাঁয়ে ৪ চুনা কারখানা গুঁড়িয়ে দিল তিতাস

বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে জি এম কাদেরের নিন্দা ও ক্ষোভ

আপডেট সময় ০৩:৩৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

আজ এক নিন্দা বার্তায় জি এম কাদের বলেন, ‘বীর মুক্তিযোদ্ধার দাফনে বাধা স্বাধীন বাংলাদেশের লজ্জা!’

তিনি বলেন, গেজেটভুক্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগে তিনি তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ জানাচ্ছেন। মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় বাদী হয়ে সাক্ষ্য দেওয়া এই মুক্তিযোদ্ধাকে মৃত্যুর পরও নির্বিঘ্নে সমাহিত করা যায়নি। এটি মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা ও মানবিক মূল্যবোধের চরম অবমাননা।

সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মৃত্যুর প্রায় ১৫ ঘণ্টা পর গভীর রাতে পুলিশি পাহারায় তাঁকে দাফন করা হয়। পরিবারের অভিযোগ, খোঁড়া কবর মাটি দিয়ে ভরাট করে দেওয়ায় তাঁর মেয়ে ও দুই বোন মুঠোফোনের আলোয় নিজেরাই কবর খুঁড়েছেন। এই দৃশ্য শুধু হৃদয়বিদারক নয়, রাষ্ট্র ও সমাজের জন্যও অশনিসংকেত।

পিরোজপুরে স্থানীয় জামায়াতের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান জি এম কাদের। তিনি বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কিংবা আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার কারণে মৃতদেহের অসম্মান করা বা শোকাহত পরিবারকে হয়রানি করার অধিকার কারও নেই। এটি ধর্মীয় মূল্যবোধ ও সামাজিক সম্প্রীতিরও চরম পরিপন্থী।

পুলিশ লাইনসে গোপনে ‘গার্ড অব অনার’ দেওয়ার খবরও উদ্বেগজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। একজন বীর মুক্তিযোদ্ধাকে রাষ্ট্রীয় সম্মান কেন আড়ালে দিতে হবে, সেই প্রশ্ন তুলে জি এম কাদের বলেন, এমন পরিস্থিতি মুক্তিযুদ্ধের মর্যাদা রক্ষায় সরকারের দৃঢ়তাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। স্বাধীনতাবিরোধী কোনো শক্তির চাপের কাছে প্রশাসন নতি স্বীকার করতে পারে না।

জি এম কাদের বলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষার পাশাপাশি দেশের সব নাগরিকের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষার দায়িত্ব বর্তমান সরকারের। এ ঘটনায় প্রশাসনের ভূমিকা ও গাফিলতি খতিয়ে দেখতে হবে। সরকার এ দায় এড়াতে পারে না।

তিনি অবিলম্বে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, মানিক পশারীর কবর ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সব মুক্তিযোদ্ধা পরিবার ও মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার সাক্ষীদের সুরক্ষা দেওয়ার দাবি জানান।

বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর বিদেহী আত্মার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করে জি এম কাদের বলেন, ‘যাঁরা দেশ স্বাধীন করেছেন, তাঁদের শেষবিদায়ের মর্যাদাও যদি রক্ষা করতে না পারি, সেই ব্যর্থতা গোটা জাতির।’