তেজগাঁও রাজস্ব সার্কেলের সাবেক কানুনগো খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে নামজারির ফাইলে অযথা ত্রুটি দেখিয়ে আবেদন বাতিল এবং অর্থের বিনিময়ে তা নিষ্পত্তির অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, এভাবে তিনি গুলশান, ধানমন্ডি, রমনা, ডেমরা ও নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে নিজের ও বেনামে জমি ও ফ্ল্যাটের মালিক হয়েছেন। তিনি বর্তমানে ‘বাংলাদেশ কানুনগো কল্যাণ সমিতি’র সভাপতি বলেও জানা গেছে। অভিযোগ যাচাইয়ে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, খলিলুর রহমান তেজগাঁও রাজস্ব সার্কেলে কানুনগো হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় নামজারির আবেদন নিষ্পত্তিতে অনিয়ম করতেন। ভুক্তভোগীদের দাবি, বিভিন্ন ভুলত্রুটির অজুহাতে তিনি নামজারি আবেদন বাতিল করতেন। একাধিকবার আবেদন করেও তাঁরা প্রতিকার পাননি। অভিযোগে বলা হয়েছে, পরে অর্থ দেওয়া হলে একই ফাইলের সমস্যা সমাধান হয়ে যেত।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, বাধ্য হয়ে জমির মালিকেরা অর্থ দিলে ফাইল নিষ্পত্তি হতো। এ প্রক্রিয়াকে তাঁরা ‘ঘুষের চক্র’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সরকারি দায়িত্বের পাশাপাশি তিনি একটি ‘ভূমি সেবা ফার্ম’ ও একটি কোচিং সেন্টার পরিচালনা করেন। এসব প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন, মালিকানা বা কার্যক্রম সম্পর্কে যাচাইযোগ্য তথ্য খসড়ায় নেই। অভিযোগকারী বা ভুক্তভোগীদের নাম, আবেদনের সংখ্যা ও ঘটনার সময়কালও জানা যায়নি। তিনি কত দিন তেজগাঁও সার্কেলে ছিলেন এবং কবে সাবেক হয়েছেন, সে তথ্যও নেই।
অভিযোগের সত্যতা জানতে খলিলুর রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগের বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ভুক্তভোগীরা দাবি করেছেন, একাধিকবার আবেদন করেও তাঁরা কোনো প্রতিকার পাননি।
বাংলাদেশ কানুনগো কল্যাণ সমিতি, ভূমি মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন বা দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কোনো প্রতিক্রিয়া এ প্রতিবেদন তৈরির সময় পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। কেউ কোনো লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন কি না, সে তথ্যও জানা যায়নি।
অভিযোগের নথিতে উল্লিখিত সম্পদের মধ্যে রয়েছে:
– গুলশান ডুমনী মৌজায় ৪ কাঠা জমি (জোত নং ১৩৭/২৫) এবং আরও ৪ কাঠা (জোত নং ১৪৭/৩৫)
– ধানমন্ডি রামচন্দ্রপুর মৌজায় একটি ফ্ল্যাট
– রমনা খিলগাঁও এলাকায় একটি ফ্ল্যাট
– ডেমরা শূন্যা মৌজায় ৬ কাঠা (জোত নং ২৩/০২), ৫ কাঠা (জোত নং ২৪/০২) ও ৪ কাঠা (জোত নং ২৫/০২) জমি
– নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কাঞ্চন মৌজায় ৩ কাঠা জমি
অভিযোগ অনুযায়ী, এসব সম্পদ তাঁর নিজের ও বেনামে অর্জিত। তবে এসব সম্পদ কার নামে নিবন্ধিত, কখন ও কত মূল্যে কেনা হয়েছে এবং তা বৈধ আয়ের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ কি না, তা যাচাই করা যায়নি।
কানুনগো ভূমি প্রশাসনের একটি নন-গেজেটেড পদ, যিনি রাজস্ব সার্কেলে ভূমি-সংক্রান্ত নথি ও কার্যক্রম তদারক করেন। বাংলাদেশে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং ঘুষ লেনদেন দুর্নীতি দমন-সংক্রান্ত আইনে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত, এবং এসব বিষয়ে তদন্তের এখতিয়ার সাধারণত দুদকের।
অভিযোগগুলো তদন্তে প্রমাণিত হলে ভূমি প্রশাসনে নামজারি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠতে পারে, কারণ নামজারি সাধারণ নাগরিকের জমির মালিকানা-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সেবা। এ বিষয়ে দুদক বা ভূমি মন্ত্রণালয়ের কোনো পদক্ষেপের ঘোষণা এখনো আসেনি। সম্পদের নিবন্ধন-তথ্য ও আয়ের উৎস যাচাই এবং ভুক্তভোগীদের সরাসরি বক্তব্য সংগ্রহের মাধ্যমেই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করা সম্ভব। বর্তমানে অভিযোগগুলো অপ্রমাণিত এবং অভিযুক্তের বক্তব্য অপেক্ষমাণ।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















