ঢাকা ০২:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
রিয়াদ-দাম্মামের ১৪৬ ফ্লাইট বাতিল, ক্ষতিগ্রস্ত ২২ হাজার যাত্রী উজিরপুরে দুই ভূমি কর্মচারী প্রত্যাহার ও গাড়িচালককে অব্যাহতি কর অঞ্চল-১২ এর সাবেক উপ কর কমিশনার হাফিজুলের বিরুদ্ধে নিয়োগ জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ মনাকষা সীমান্তে ৩৫ তরুণকে মোবাইল সার্ভিসিং প্রশিক্ষণ দিচ্ছে ৫৩ বিজিবি চাঁদাবাজির অভিযোগে গ্রেপ্তার মোহাম্মদপুরের ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি রাজেশ প্লাস্টিক পুনর্ব্যবহারে বড় শিল্প গড়ার আহ্বান চট্টগ্রামের ডিসির ‘আমার মৃত্যুর জন্য ইউএনও দায়ী’ লিখে পোস্ট, প্রত্যাহার জামালগঞ্জের এসিল্যান্ড কৃষি সহায়তায় নয়ছয়: ডিএইর ঢাকা অঞ্চলের পিডি কাইয়ুমের অপকর্মের জালে কৃষকের হাহাকার পীরগঞ্জের ইউএনও গোলাম রব্বানী সরদারের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ ইয়ামাল, এমবাপে নাকি কেইন—ব্যালন ডি’অর জিতবেন কে?

কর অঞ্চল-১২ এর সাবেক উপ কর কমিশনার হাফিজুলের বিরুদ্ধে নিয়োগ জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ম-নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাতারাতি অঢেল সম্পদ ও ক্ষমতার চূড়ায় আরোহণ করেছেন বর্তমান উপ কর কমিশনার মো. হাফিজুল ইসলাম। ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে একসময়ের তৃতীয় শ্রেণীর কর পরিদর্শক হিসেবে চাকরিতে যোগদানকারী এই কর্মকর্তা বর্তমানে কর অঞ্চল নোয়াখালীতে কর্মরত থাকলেও তার দুর্নীতির মূল আখড়া ছিল কর অঞ্চল-১২, ঢাকা।

বিশেষ করে কর অঞ্চল-১২-এর অধীনে ২৪৩ নম্বর সার্কেলের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তিনি একাধিক বৃহৎ ও মাঝারি কর্পোরেট কোম্পানিকে কর ফাঁকির বেআইনি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে বহাল থাকাকালীন কোনো প্রকার ব্যবসা পরিচালনার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও হাফিজুল ইসলাম নিজের নামে এবং বেনামে একাধিক লাভজনক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।

অনুসন্ধানে তার আয়ের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ বিপুল পরিমাণ অর্থের সন্ধান মিলেছে রাজধানীর অভিজাত এলাকা উত্তরায়, যেখানে রয়েছে তার আলিশান বাড়ি ও বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। শুধু রাজধানীই নয়, তার নিজ জেলা সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে জেলা শহরেও নামে ও বেনামে কেনা হয়েছে বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি। সরকারি তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া থেকে বাঁচতে এই কর্মকর্তা তার সমস্ত অবৈধ আয়ের বড় অংশ বিনিয়োগ করেছেন নিজের গৃহিণী স্ত্রী ও শাশুড়ির নামে। দৃশ্যমান কোনো আয়ের উৎস না থাকলেও তাদের ব্যাংক হিসাব এবং সম্পত্তিতে জমা হয়েছে কোটি কোটি টাকা।

হাফিজুল ইসলামের এই লাগামহীন দুর্নীতির সবচেয়ে বড় ও ভয়ংকর অধ্যায়টি উন্মোচিত হয়েছে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কর অঞ্চল-১২, ঢাকার সর্বশেষ নিয়োগ প্রক্রিয়ায়, যেখানে তিনি সরাসরি জালিয়াতি ও জঘন্য স্বজনপ্রীতির সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেছেন। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে সহকারী কর কমিশনার থেকে উপ কর কমিশনার হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর মো. হাফিজুল ইসলামকে প্রথমে কর অঞ্চল রাজশাহীতে বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে তিনি পরবর্তীতে আবারও ঢাকায় বদলি হয়ে আসেন এবং ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর রাজশাহী থেকে সরাসরি কর অঞ্চল-১২-এ উপ কর কমিশনার হিসেবে যোগ দেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত সেপ্টেম্বর মাসে কর অঞ্চল-১২, ঢাকার সদর দপ্তর (প্রশাসন) এবং বিভাগীয় নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্বরত অবস্থায় উপ কর কমিশনার মো. হাফিজুল ইসলাম তার সিন্ডিকেটের সঙ্গে মিলে সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে ১১ জনকে ক্যাটাগরিক্যালি নিয়োগ প্রদান করেন। কর অঞ্চল-১২, ঢাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তার দাবি, সদস্য সচিবের প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই সম্পূর্ণ জালিয়াতির মূল নকশা তৈরি করেছিলেন স্বয়ং হাফিজুল ইসলাম এবং তার প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা ও চূড়ান্ত স্বাক্ষরেই এই প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগপত্রগুলো ইস্যু করা হয়েছে।

এই নিয়োগ বাণিজ্যের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দৃষ্টান্ত হলো শামীম আশরাফ নামের এক প্রার্থীর চাকরি প্রাপ্তি। ইতিপূর্বে ঢাকা কর অঞ্চল-২৪-এ স্থায়ী ঠিকানা ঢাকার বাইরে তথা ময়মনসিংহে হওয়ার কারণে তাকে কঠোরভাবে অযোগ্য ঘোষণা করে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কিন্তু কর অঞ্চল-১২, ঢাকাতে উচ্চমান সহকারী (ইউডি) পদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় হাফিজুল ইসলাম ক্ষমতার বলে সেই বিতর্কিত শামীম আশরাফকে প্রথম স্থান পাইয়ে দেন। ঢাকার যাত্রাবাড়ীর ভুয়া ও জাল ঠিকানা ব্যবহারের বিষয়টি জেনেও তিনি তাকে সরাসরি চাকরিতে নিয়োগ দেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, এই শামীম আশরাফ আর কেউ নন, তিনি কর অঞ্চল-১২, ঢাকার বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত নাজির ফুয়াদ হাসান আকন্দের আপন ভাই। ফুয়াদ হাসান আকন্দের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভয়ংকর নিয়োগ বাণিজ্যের সিন্ডিকেটের ভেতরের আসল প্রধান গডফাদার হিসেবে কাজ করেছেন উপ কর কমিশনার মো. হাফিজুল ইসলাম। এছাড়াও কর অঞ্চল-১২, ঢাকার সর্বশেষ ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি টাকার বিশাল ঘুষের লেনদেন ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

কর অঞ্চল-১২, ঢাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঊর্ধ্বতন ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, হাফিজুল ইসলামের মতো এমন চিহ্নিত ও বড় মাপের দুর্নীতিবাজদের কারণে সৎ কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তাই উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে মিথ্যা ও জালিয়াতিপূর্ণ স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করে শামীম আশরাফদের মতো লোকদের চাকরি প্রদানের সঙ্গে পর্দার আড়ালের ও সামনের যারা জড়িত, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের দাবি উঠেছে।

এই সকল গুরুতর অভিযোগ, নিয়োগ জালিয়াতি ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়ার বিষয়ে উপ কর কমিশনার মো. হাফিজুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। এমনকি মুঠোফোনে খুঁদে বার্তা (এসএমএস) পাঠানো হলেও তিনি কোনো প্রকার উত্তর প্রদান করেননি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রিয়াদ-দাম্মামের ১৪৬ ফ্লাইট বাতিল, ক্ষতিগ্রস্ত ২২ হাজার যাত্রী

কর অঞ্চল-১২ এর সাবেক উপ কর কমিশনার হাফিজুলের বিরুদ্ধে নিয়োগ জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ

আপডেট সময় ০১:৩৪:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিয়ম-নীতিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে রাতারাতি অঢেল সম্পদ ও ক্ষমতার চূড়ায় আরোহণ করেছেন বর্তমান উপ কর কমিশনার মো. হাফিজুল ইসলাম। ২০০৫ সালের ডিসেম্বরে একসময়ের তৃতীয় শ্রেণীর কর পরিদর্শক হিসেবে চাকরিতে যোগদানকারী এই কর্মকর্তা বর্তমানে কর অঞ্চল নোয়াখালীতে কর্মরত থাকলেও তার দুর্নীতির মূল আখড়া ছিল কর অঞ্চল-১২, ঢাকা।

বিশেষ করে কর অঞ্চল-১২-এর অধীনে ২৪৩ নম্বর সার্কেলের দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে তিনি একাধিক বৃহৎ ও মাঝারি কর্পোরেট কোম্পানিকে কর ফাঁকির বেআইনি সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দিয়ে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। চাকরির বিধিমালা অনুযায়ী সরকারি চাকরিতে বহাল থাকাকালীন কোনো প্রকার ব্যবসা পরিচালনার ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকলেও হাফিজুল ইসলাম নিজের নামে এবং বেনামে একাধিক লাভজনক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলেছেন।

অনুসন্ধানে তার আয়ের সঙ্গে সম্পূর্ণ অসঙ্গতিপূর্ণ বিপুল পরিমাণ অর্থের সন্ধান মিলেছে রাজধানীর অভিজাত এলাকা উত্তরায়, যেখানে রয়েছে তার আলিশান বাড়ি ও বিলাসবহুল ফ্ল্যাট। শুধু রাজধানীই নয়, তার নিজ জেলা সাতক্ষীরার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে শুরু করে জেলা শহরেও নামে ও বেনামে কেনা হয়েছে বিঘার পর বিঘা কৃষিজমি ও বাণিজ্যিক সম্পত্তি। সরকারি তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া থেকে বাঁচতে এই কর্মকর্তা তার সমস্ত অবৈধ আয়ের বড় অংশ বিনিয়োগ করেছেন নিজের গৃহিণী স্ত্রী ও শাশুড়ির নামে। দৃশ্যমান কোনো আয়ের উৎস না থাকলেও তাদের ব্যাংক হিসাব এবং সম্পত্তিতে জমা হয়েছে কোটি কোটি টাকা।

হাফিজুল ইসলামের এই লাগামহীন দুর্নীতির সবচেয়ে বড় ও ভয়ংকর অধ্যায়টি উন্মোচিত হয়েছে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত কর অঞ্চল-১২, ঢাকার সর্বশেষ নিয়োগ প্রক্রিয়ায়, যেখানে তিনি সরাসরি জালিয়াতি ও জঘন্য স্বজনপ্রীতির সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেছেন। ২০২৩ সালের নভেম্বর মাসে সহকারী কর কমিশনার থেকে উপ কর কমিশনার হিসেবে পদোন্নতি পাওয়ার পর মো. হাফিজুল ইসলামকে প্রথমে কর অঞ্চল রাজশাহীতে বদলি করা হয়েছিল। কিন্তু অদৃশ্য ক্ষমতার জোরে তিনি পরবর্তীতে আবারও ঢাকায় বদলি হয়ে আসেন এবং ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর রাজশাহী থেকে সরাসরি কর অঞ্চল-১২-এ উপ কর কমিশনার হিসেবে যোগ দেন।

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত সেপ্টেম্বর মাসে কর অঞ্চল-১২, ঢাকার সদর দপ্তর (প্রশাসন) এবং বিভাগীয় নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব হিসেবে দায়িত্বরত অবস্থায় উপ কর কমিশনার মো. হাফিজুল ইসলাম তার সিন্ডিকেটের সঙ্গে মিলে সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে ১১ জনকে ক্যাটাগরিক্যালি নিয়োগ প্রদান করেন। কর অঞ্চল-১২, ঢাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তার দাবি, সদস্য সচিবের প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই সম্পূর্ণ জালিয়াতির মূল নকশা তৈরি করেছিলেন স্বয়ং হাফিজুল ইসলাম এবং তার প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতা ও চূড়ান্ত স্বাক্ষরেই এই প্রশ্নবিদ্ধ নিয়োগপত্রগুলো ইস্যু করা হয়েছে।

এই নিয়োগ বাণিজ্যের সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দৃষ্টান্ত হলো শামীম আশরাফ নামের এক প্রার্থীর চাকরি প্রাপ্তি। ইতিপূর্বে ঢাকা কর অঞ্চল-২৪-এ স্থায়ী ঠিকানা ঢাকার বাইরে তথা ময়মনসিংহে হওয়ার কারণে তাকে কঠোরভাবে অযোগ্য ঘোষণা করে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। কিন্তু কর অঞ্চল-১২, ঢাকাতে উচ্চমান সহকারী (ইউডি) পদের চূড়ান্ত পরীক্ষায় হাফিজুল ইসলাম ক্ষমতার বলে সেই বিতর্কিত শামীম আশরাফকে প্রথম স্থান পাইয়ে দেন। ঢাকার যাত্রাবাড়ীর ভুয়া ও জাল ঠিকানা ব্যবহারের বিষয়টি জেনেও তিনি তাকে সরাসরি চাকরিতে নিয়োগ দেন। অনুসন্ধানে জানা যায়, এই শামীম আশরাফ আর কেউ নন, তিনি কর অঞ্চল-১২, ঢাকার বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত নাজির ফুয়াদ হাসান আকন্দের আপন ভাই। ফুয়াদ হাসান আকন্দের বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভয়ংকর নিয়োগ বাণিজ্যের সিন্ডিকেটের ভেতরের আসল প্রধান গডফাদার হিসেবে কাজ করেছেন উপ কর কমিশনার মো. হাফিজুল ইসলাম। এছাড়াও কর অঞ্চল-১২, ঢাকার সর্বশেষ ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি টাকার বিশাল ঘুষের লেনদেন ও জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

কর অঞ্চল-১২, ঢাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ঊর্ধ্বতন ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, হাফিজুল ইসলামের মতো এমন চিহ্নিত ও বড় মাপের দুর্নীতিবাজদের কারণে সৎ কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। তাই উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি। একই সঙ্গে মিথ্যা ও জালিয়াতিপূর্ণ স্থায়ী ঠিকানা ব্যবহার করে শামীম আশরাফদের মতো লোকদের চাকরি প্রদানের সঙ্গে পর্দার আড়ালের ও সামনের যারা জড়িত, তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়েরের দাবি উঠেছে।

এই সকল গুরুতর অভিযোগ, নিয়োগ জালিয়াতি ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত কোটি কোটি টাকার সম্পদের পাহাড় গড়ার বিষয়ে উপ কর কমিশনার মো. হাফিজুল ইসলামের বক্তব্য জানতে তার ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি। এমনকি মুঠোফোনে খুঁদে বার্তা (এসএমএস) পাঠানো হলেও তিনি কোনো প্রকার উত্তর প্রদান করেননি।