ঢাকা ১২:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হলেন কট্টর ফিলিস্তিনপন্থি লুলা নিকি মিনাজকে দেখে ট্রাম্প বললেন, ‘এমন সুন্দর নিতম্ব আগে দেখিনি’ ৯৯৯ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করলেন অভিনেতা শিমুল রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে অনিয়ম-দুর্নীতি, পেনশন প্রাপ্তিতে পদে পদে হয়রানি! সৌদি মিশনে জনবল বাড়ানো ও শেখ হাসিনাকে ফেরাতে সংসদীয় কমিটির তাগিদ পবিপ্রবিতে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও সরকারের ৮০ লাখ টাকার ক্ষতি: দুদকের মামলা বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে সমন্বিত কাঠামোর ওপর জোর আশিক চৌধুরীর গুলশানের কিং ফিশার রেস্টুরেন্টে অভিযান, বিপুল অ্যালকোহল জব্দ আসামের বাঙালি মুসলমানদের লড়াই বাংলাদেশেরও লড়াই: নাহিদ ইসলাম চট্টগ্রামে গেড়ে বসা গৃহায়ন কর্মকর্তা নাসির উদ্দিনের দুর্নীতির ফিরিস্তি

চুমুকাণ্ডে মাদ্রাসাশিক্ষকের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন আইনজীবী!

গাজীপুরের টঙ্গীতে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক মো. মোসলেহ উদ্দিনের পক্ষে সাফাই দিতে গিয়ে আইনজীবী নিজেই ফেঁসে গেছেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম দাবি করেছেন, এক-দুই বছর আগেও ওই শিশু শিক্ষকের কাঁধে চড়ে তাঁর দাড়ি টেনেছে। তবে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন তোলেন, ওই সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি শিক্ষক ছিলেন কি না। জবাবে আইনজীবী বলেন, ‘তখন ছিলেন না, পরে হয়তো আসছেন।’

রোববার ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আইনজীবী শরিফুল আলমকে এসব কথা বলতে শোনা যায়। তাঁর বক্তব্যের ওই অংশ ফেসবুকে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভিডিওতে সাংবাদিকেরা তাঁকে প্রশ্ন করেন, এক-দুই বছর আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি শিক্ষক না থাকলে শিশুটির তাঁর কাঁধে চড়ার দাবি কীভাবে করেন? জবাবে আইনজীবী বলেন, ‘তখন ছিলেন না, পরে হয়তো আসছেন।’ এরপর তিনি বলেন, ‘কিন্তু খেলা করছেন এই শিক্ষকের সঙ্গে।’

এদিকে রোববার শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। দুপুরে আদালতের ইন্সপেক্টর আহসান উল্ল্যাহ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন চেয়ে রোববার আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করেছেন।

এর আগে ১৯ অক্টোবর টঙ্গীর মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলেনি। পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার কথা জানায়।

এরপর ২১ অক্টোবর দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হন। এ সময় শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

চতুর্থবারের মতো ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট হলেন কট্টর ফিলিস্তিনপন্থি লুলা

চুমুকাণ্ডে মাদ্রাসাশিক্ষকের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে ফেঁসে গেলেন আইনজীবী!

আপডেট সময় ১১:৫৭:১৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

গাজীপুরের টঙ্গীতে ছয় বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক মো. মোসলেহ উদ্দিনের পক্ষে সাফাই দিতে গিয়ে আইনজীবী নিজেই ফেঁসে গেছেন।

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শরিফুল আলম দাবি করেছেন, এক-দুই বছর আগেও ওই শিশু শিক্ষকের কাঁধে চড়ে তাঁর দাড়ি টেনেছে। তবে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন তোলেন, ওই সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি শিক্ষক ছিলেন কি না। জবাবে আইনজীবী বলেন, ‘তখন ছিলেন না, পরে হয়তো আসছেন।’

রোববার ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে আইনজীবী শরিফুল আলমকে এসব কথা বলতে শোনা যায়। তাঁর বক্তব্যের ওই অংশ ফেসবুকে নানা আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ভিডিওতে সাংবাদিকেরা তাঁকে প্রশ্ন করেন, এক-দুই বছর আগে অভিযুক্ত ব্যক্তি শিক্ষক না থাকলে শিশুটির তাঁর কাঁধে চড়ার দাবি কীভাবে করেন? জবাবে আইনজীবী বলেন, ‘তখন ছিলেন না, পরে হয়তো আসছেন।’ এরপর তিনি বলেন, ‘কিন্তু খেলা করছেন এই শিক্ষকের সঙ্গে।’

এদিকে রোববার শিশুকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে গ্রেপ্তার মাদ্রাসাশিক্ষক মো. মোসলেম উদ্দিনের জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। দুপুরে আদালতের ইন্সপেক্টর আহসান উল্ল্যাহ চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, গাজীপুরের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ওই মাদ্রাসাশিক্ষকের জামিন চেয়ে রোববার আবেদন করা হয়। আদালত শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করেছেন।

এর আগে ১৯ অক্টোবর টঙ্গীর মাদ্রাসার নিচতলার সিঁড়িতে প্রথম শ্রেণির ওই ছাত্রীকে যৌন নিপীড়ন করা হয় বলে অভিযোগ করে তার পরিবার। ঘটনার পর শিশুটি মাদ্রাসায় যেতে চাইছিল না। পরিবারের সদস্যরা কারণ জানতে চাইলে প্রথমে সে কিছু বলেনি। পরে মা-বাবার জিজ্ঞাসাবাদে সে ঘটনার কথা জানায়।

এরপর ২১ অক্টোবর দুপুরে শিশুটির স্বজনেরা মাদ্রাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদ করেন। একপর্যায়ে বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজনও সেখানে জড়ো হন। এ সময় শিক্ষককে মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।