আরেকটি ওয়ানডে ম্যাচ, আরেকটি হতাশার দিন বাংলাদেশের। নিজেদের পছন্দের ফরম্যাটই এখন যেন টাইগারদের গলার কাঁটা। ধারাবাহিক ব্যাটিং ব্যর্থতায় জিম্বাবুয়ের পর আফগানিস্তানের কাছেও ধরাশায়ী হয়েছে বাংলাদেশ। ম্যাচ শেষে দলের অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ‘ডিফেন্সিভ মাইন্ডসেট’ বা রক্ষণাত্মক মানসিকতাকে ব্যর্থতার অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
ত্রিদেশীয় সিরিজেও কেন বাংলাদেশ ভালো খেলতে পারছে না—এমন প্রশ্নের জবাবে হৃদয় বলেন, ‘কেন খারাপ করছি, এত গভীরে চিন্তা করিনি। দুই সিরিজ আগেও আমরা ঘরের মাঠে ভালো খেলেছি। আমি একমত যে দেশের বাইরে ভালো খেলছি না। প্রায় দেড় বছর হয়ে গেছে এমন। বাইরের কন্ডিশনে দ্রুত মানিয়ে নেওয়া জরুরি। একই সঙ্গে ম্যাচের পরিস্থিতির চাহিদা অনুযায়ী খেলা জরুরি। শুধু মুখে বললে হবে না। আমরা মাঠে তা করে দেখাতে পারছি না। এটা আমাদের ব্যাটারদের ব্যর্থতা।’
মানসিকভাবেও নিজেদের পিছিয়ে থাকার কথা স্বীকার করে হৃদয় বলেন, ‘সাহসের সঙ্গে খেলতে পারছি কি না… আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে যদি ডিফেন্সিভ মাইন্ডসেট থাকে, সফল হওয়া কঠিন। পুরো দল যখন একসঙ্গে ধসে পড়ছি, সেখান থেকে যখন উঠতে পারছি না, তখন আমাদের আরও ভালো পরিকল্পনা করা উচিত। ব্যতিক্রমী কিছু খেলোয়াড় থাকে, যাদের ওপর বিশ্বাস থাকে যে তারা খারাপ পরিস্থিতি থেকে দলকে ভালো অবস্থানে নিতে পারবে। এই জায়গায় একটু ঘাটতি আছে। আশা করব, দ্রুত ঘুরে দাঁড়াতে পারব। যেহেতু হাতে বেশি সময় নেই, সামনে এশিয়া কাপ আছে। দ্রুত এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে হবে।’
এই সিরিজে বাংলাদেশের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক ব্যাটারদের খেলার পরিস্থিতি বোঝার দক্ষতা বা গেম অ্যাওয়ারনেসেরও ঘাটতি দেখছেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কিছু পরিস্থিতিতে উইকেট ধরে খেলতে হয়, বিশেষ করে দ্রুত উইকেট পড়ে গেলে বা একের পর এক উইকেট হারালে। আমরা ধসে পড়লে সবাই একসঙ্গে ধসে পড়ছি। দ্রুত উইকেট গেলে প্রায়ই আমরা ভেঙে পড়ি। এ অবস্থায় এক-দুজনকে দায়িত্ব নিয়ে খারাপ পরিস্থিতি থেকে দলকে ভালো জায়গায় নিয়ে যাওয়া জরুরি।’
তবে বর্তমান দল নিয়েই বিশ্বকাপে কতটা ভালো করা সম্ভব—এমন প্রশ্নের জবাবে হৃদয় বলেন, ‘প্রত্যেক খেলোয়াড় প্রত্যেক ম্যাচে ভালো করবে না। গত কয়েকটি ম্যাচ দেখুন, ঘরের মাঠে বেশির ভাগ ব্যাটার রান করেছে। কিছু ব্যাটারের গড় ৪৫-৫০-এর মতো। জিম্বাবুয়ে সিরিজ এবং এখানে আমরা প্রত্যাশা অনুযায়ী খেলতে পারিনি। একটি দলের এমন সময় যায়। দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানো জরুরি। একই ভুল বারবার করছি, এটা থেকে দ্রুত বেরিয়ে আসা উচিত।’
বড় টুর্নামেন্টের আগে ভালো করতে না পারলেও আসন্ন এশিয়া কাপে ভালো কিছু করার আশা করছেন হৃদয়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যখনই বড় টুর্নামেন্ট খেলি, আমি ব্যক্তিগতভাবে এবং আমাদের দলের সবাই চাই বিশ্বকাপ বা এশিয়া কাপে ট্রফি জিততে। এই ক্ষুধা সবার আছে। এটা আমরা মুখে বলি, কিন্তু মাঠে করে দেখাতে পারছি না। ঘরের মাঠে এশিয়া কাপ, আমাদের জন্য অনেক বড় সুযোগ। প্রত্যেক মানুষের মতো আমাদেরও প্রত্যাশা আছে। অবশ্যই ভালোভাবে বসে বা যেভাবেই হোক, দলকে একটা ভালো অবস্থানে নিয়ে আসা জরুরি। এশিয়া কাপ আমাদের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আশা করি, ভালো কিছু করব, ইনশাআল্লাহ।’
ক্রীড়া প্রতিবেদক 
























