ঢাকা ০৮:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘সাত মাসেই লেজেগোবরে সরকারের অবস্থা’: গোলাম পরওয়ার তুলির ভাইসহ সাত গুমে অভিযুক্ত কিসমৎ হায়াৎ, তাঁর প্রতিষ্ঠানকে ৩ কোটি টাকার কাজ দিল ডিএনসিসি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ১৫টি স্প্রে মেশিন বিতরণ এমপি বুলবুলের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে চুক্তি করল চার মুসলিমপ্রধান দেশ ইয়ামালের সঙ্গে সংঘর্ষ, উরুগুয়ের ফুটবলার নিষিদ্ধ ৪ ম্যাচ সৌদিতে নিহত ওমরাহযাত্রী নাসরুল্লাহর পরিবারের পাশে ধর্মমন্ত্রী শিশুর নামে এক হাজার ডলার! নতুন বিনিয়োগের সুযোগ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন পারফিউম ব্যবসায় সামান্থার সাফল্য, আয় ১২০ কোটি রুপি ছাড়াল ছাত্রদল নেতার স্ত্রীর বিরুদ্ধে সেনা কর্মকর্তার বাসা থেকে ১৮ ভরি স্বর্ণ চুরির অভিযোগ ২০ বছর পূর্তিতে আইম্যাক্স পর্দায় ফিরছে নোলানের ‘দ্য প্রেস্টিজ’

শিশুর নামে এক হাজার ডলার! নতুন বিনিয়োগের সুযোগ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

যুক্তরাষ্ট্রে যোগ্য শিশুদের নামে এককালীন এক হাজার ডলার বিনিয়োগ করছে ট্রাম্প প্রশাসন। ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জন্ম নেওয়া মার্কিন নাগরিক শিশুরা এই সরকারি অর্থ পাওয়ার যোগ্য। শিশুর বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরসহ নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। অর্থটি পরিবারের হাতে নগদ দেওয়ার পরিবর্তে শিশুর নিজস্ব বিনিয়োগ অ্যাকাউন্টে জমা হয়।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৪ জুলাই থেকে এসব অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা নেওয়া ও যোগ্য শিশুদের সরকারি অনুদান দেওয়া শুরু হয়েছে। কর্মসূচিটির উদ্দেশ্য, অল্প বয়স থেকেই শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতের জন্য অর্থ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করা।

অ্যাকাউন্ট থাকা এবং সরকারি এক হাজার ডলার পাওয়ার যোগ্যতা এক নয়। নির্ধারিত জন্মসালের বাইরের শিশুরাও বয়স ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করে ট্রাম্প অ্যাকাউন্টের সুবিধা পেতে পারে। তবে এককালীন সরকারি অর্থের জন্য ২০২৫ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়ার পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকত্বের শর্ত প্রযোজ্য। ফলে শুধু যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেই এই অর্থ পাওয়া যাবে না।

ট্রেজারি বিভাগ ১ অক্টোবর জানিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধনের মাধ্যমে আরও ছয় কোটির বেশি যোগ্য শিশুর জন্য অ্যাকাউন্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে অভিভাবককে অ্যাকাউন্টটি নিজের তত্ত্বাবধানে নিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি জানাতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় পরিচয় ও শিশুর সঙ্গে সম্পর্ক যাচাই, শিশুর তথ্য পর্যালোচনা এবং অ্যাকাউন্টের শর্ত গ্রহণ করতে হয়। যোগ্য শিশুর সরকারি এক হাজার ডলার পাওয়ার জন্যও এই ধাপ সম্পন্ন করা প্রয়োজন।

অফিশিয়াল ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস অ্যাপের মাধ্যমে অভিভাবকেরা এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। আইআরএসের ব্যবস্থায় ফরম ৪৫৪৭ জমা দেওয়ার সুযোগও রয়েছে। আইআরএস জানিয়েছে, অনলাইনে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার জন্য অভিভাবকের পরিচয় যাচাইয়ের অ্যাকাউন্ট এবং শিশুর সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, জন্মতারিখ ও ঠিকানা প্রয়োজন হয়।

সরকারি অর্থের পাশাপাশি পরিবার, স্বজন ও নিয়োগকর্তারাও নির্ধারিত নিয়মে অ্যাকাউন্টে অর্থ দিতে পারেন। আইআরএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ ও ২০২৭ সালে সাধারণ সীমার আওতাধীন মোট জমার সর্বোচ্চ পরিমাণ বছরে পাঁচ হাজার ডলার। সরকারি প্রাথমিক অনুদানসহ কিছু নির্দিষ্ট ধরনের অর্থ এই সীমার বাইরে থাকে।

এটি সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্ট নয়। কর্মসূচিতে কম খরচের শেয়ারবাজারভিত্তিক ইনডেক্স ফান্ডে বিনিয়োগের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে জমা অর্থের ভবিষ্যৎ মূল্য বাজারের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে। সরকারি এক হাজার ডলার প্রাথমিক মূলধন হলেও তা নির্দিষ্ট হারে লাভের নিশ্চয়তা দেয় না।

অর্থ তোলার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে। আইআরএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, শিশু যে বছরে ১৮ বছরে পা দেবে, সেই বছরের ১ জানুয়ারি থেকে সাধারণত ট্র্যাডিশনাল আইআরএর অর্থ উত্তোলনের নিয়ম প্রযোজ্য হয়। উত্তোলিত অর্থের করযোগ্য অংশে আয়কর এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আগাম উত্তোলনের জন্য অতিরিক্ত ১০ শতাংশ কর লাগতে পারে। যোগ্য উচ্চশিক্ষার ব্যয় বা প্রথম বাড়ি কেনার মতো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অতিরিক্ত করের ব্যতিক্রম থাকলেও সব উত্তোলন সম্পূর্ণ করমুক্ত নয়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘সাত মাসেই লেজেগোবরে সরকারের অবস্থা’: গোলাম পরওয়ার

শিশুর নামে এক হাজার ডলার! নতুন বিনিয়োগের সুযোগ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

আপডেট সময় ০৭:২৩:৫৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে যোগ্য শিশুদের নামে এককালীন এক হাজার ডলার বিনিয়োগ করছে ট্রাম্প প্রশাসন। ‘ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস’ কর্মসূচির আওতায় ২০২৫ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে জন্ম নেওয়া মার্কিন নাগরিক শিশুরা এই সরকারি অর্থ পাওয়ার যোগ্য। শিশুর বৈধ সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বরসহ নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে হবে। অর্থটি পরিবারের হাতে নগদ দেওয়ার পরিবর্তে শিশুর নিজস্ব বিনিয়োগ অ্যাকাউন্টে জমা হয়।

মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ৪ জুলাই থেকে এসব অ্যাকাউন্টে অর্থ জমা নেওয়া ও যোগ্য শিশুদের সরকারি অনুদান দেওয়া শুরু হয়েছে। কর্মসূচিটির উদ্দেশ্য, অল্প বয়স থেকেই শিশুদের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগের আওতায় আনা এবং ভবিষ্যতের জন্য অর্থ গড়ে তোলার সুযোগ তৈরি করা।

অ্যাকাউন্ট থাকা এবং সরকারি এক হাজার ডলার পাওয়ার যোগ্যতা এক নয়। নির্ধারিত জন্মসালের বাইরের শিশুরাও বয়স ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করে ট্রাম্প অ্যাকাউন্টের সুবিধা পেতে পারে। তবে এককালীন সরকারি অর্থের জন্য ২০২৫ থেকে ২০২৮ সালের মধ্যে জন্ম নেওয়ার পাশাপাশি মার্কিন নাগরিকত্বের শর্ত প্রযোজ্য। ফলে শুধু যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করলেই এই অর্থ পাওয়া যাবে না।

ট্রেজারি বিভাগ ১ অক্টোবর জানিয়েছে, স্বয়ংক্রিয় নিবন্ধনের মাধ্যমে আরও ছয় কোটির বেশি যোগ্য শিশুর জন্য অ্যাকাউন্ট প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে অভিভাবককে অ্যাকাউন্টটি নিজের তত্ত্বাবধানে নিতে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি জানাতে হবে। এই প্রক্রিয়ায় পরিচয় ও শিশুর সঙ্গে সম্পর্ক যাচাই, শিশুর তথ্য পর্যালোচনা এবং অ্যাকাউন্টের শর্ত গ্রহণ করতে হয়। যোগ্য শিশুর সরকারি এক হাজার ডলার পাওয়ার জন্যও এই ধাপ সম্পন্ন করা প্রয়োজন।

অফিশিয়াল ট্রাম্প অ্যাকাউন্টস অ্যাপের মাধ্যমে অভিভাবকেরা এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। আইআরএসের ব্যবস্থায় ফরম ৪৫৪৭ জমা দেওয়ার সুযোগও রয়েছে। আইআরএস জানিয়েছে, অনলাইনে সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ার জন্য অভিভাবকের পরিচয় যাচাইয়ের অ্যাকাউন্ট এবং শিশুর সোশ্যাল সিকিউরিটি নম্বর, জন্মতারিখ ও ঠিকানা প্রয়োজন হয়।

সরকারি অর্থের পাশাপাশি পরিবার, স্বজন ও নিয়োগকর্তারাও নির্ধারিত নিয়মে অ্যাকাউন্টে অর্থ দিতে পারেন। আইআরএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, ২০২৬ ও ২০২৭ সালে সাধারণ সীমার আওতাধীন মোট জমার সর্বোচ্চ পরিমাণ বছরে পাঁচ হাজার ডলার। সরকারি প্রাথমিক অনুদানসহ কিছু নির্দিষ্ট ধরনের অর্থ এই সীমার বাইরে থাকে।

এটি সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্ট নয়। কর্মসূচিতে কম খরচের শেয়ারবাজারভিত্তিক ইনডেক্স ফান্ডে বিনিয়োগের ব্যবস্থা রয়েছে। ফলে জমা অর্থের ভবিষ্যৎ মূল্য বাজারের পারফরম্যান্সের ওপর নির্ভর করবে। সরকারি এক হাজার ডলার প্রাথমিক মূলধন হলেও তা নির্দিষ্ট হারে লাভের নিশ্চয়তা দেয় না।

অর্থ তোলার ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রয়েছে। আইআরএসের নির্দেশনা অনুযায়ী, শিশু যে বছরে ১৮ বছরে পা দেবে, সেই বছরের ১ জানুয়ারি থেকে সাধারণত ট্র্যাডিশনাল আইআরএর অর্থ উত্তোলনের নিয়ম প্রযোজ্য হয়। উত্তোলিত অর্থের করযোগ্য অংশে আয়কর এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে আগাম উত্তোলনের জন্য অতিরিক্ত ১০ শতাংশ কর লাগতে পারে। যোগ্য উচ্চশিক্ষার ব্যয় বা প্রথম বাড়ি কেনার মতো নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে অতিরিক্ত করের ব্যতিক্রম থাকলেও সব উত্তোলন সম্পূর্ণ করমুক্ত নয়।