ঢাকা ০৯:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের সঞ্চালক আওয়ামী লীগ নেতা নিখিল কুমার নাথ, উঠছে প্রশ্ন বর্ণাঢ্য আয়োজনে ফয়লাহাট আছিয়া কারামতিয়া আলিম মাদ্রাসার সুবর্ণজয়ন্তী ও মিলনমেলা ভুল চিকিৎসায় শিশুমৃত্যুর অভিযোগ, সাভারে হাসপাতাল ভাঙচুর ‘সাত মাসেই লেজেগোবরে সরকারের অবস্থা’: গোলাম পরওয়ার তুলির ভাইসহ সাত গুমে অভিযুক্ত কিসমৎ হায়াৎ, তাঁর প্রতিষ্ঠানকে ৩ কোটি টাকার কাজ দিল ডিএনসিসি চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধে ১৫টি স্প্রে মেশিন বিতরণ এমপি বুলবুলের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বাড়াতে চুক্তি করল চার মুসলিমপ্রধান দেশ ইয়ামালের সঙ্গে সংঘর্ষ, উরুগুয়ের ফুটবলার নিষিদ্ধ ৪ ম্যাচ সৌদিতে নিহত ওমরাহযাত্রী নাসরুল্লাহর পরিবারের পাশে ধর্মমন্ত্রী শিশুর নামে এক হাজার ডলার! নতুন বিনিয়োগের সুযোগ দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন

‘সাত মাসেই লেজেগোবরে সরকারের অবস্থা’: গোলাম পরওয়ার

বিএনপির রাজনৈতিক অপরিপক্বতা ও অদূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে সাত মাসের মধ্যেই সরকার লেজেগোবরে অবস্থায় পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তাঁর অভিযোগ, সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের দায়িত্বহীন বক্তব্য, দলীয়করণ এবং বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর প্রবণতা রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ লেবার পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজার রহমান ইরান। এতে ১১ দলের শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য দেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাজনৈতিক অপরিপক্বতা ও অদূরদর্শী নেতৃত্ব থেকে বিএনপি সরে না আসায় সাত মাসেই সরকার লেজেগোবরে অবস্থায় পড়েছে। এই সময়ের মধ্যে প্রায় চারজন মন্ত্রী-এমপি বিদায় নিয়েছেন। সরকারে দায়িত্ব পালনকালে এত অপরিপক্ব, অদক্ষ ও অরাজনৈতিক বক্তব্য এবং নেতৃত্ব আগের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, দেশের অনেক ভুঁইফোড় রাজনৈতিক দল নিবন্ধন নিয়ে তদবির, লেজুড়বৃত্তি ও মন্ত্রিত্বের ভাগ-বাঁটোয়ারায় ব্যস্ত থেকেছে। কিন্তু নানা লোভনীয় প্রস্তাবের পরও রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে আপস না করে দেশপ্রেমিক ও আধিপত্যবাদবিরোধী ইসলামী শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে লেবার পার্টি উদাহরণ তৈরি করেছে। এ জন্য জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলের পক্ষ থেকে দলটিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তিনি।

শ্রমিকদের পরিস্থিতি তুলে ধরে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, দেশে শ্রমিক-মজুরদের অবস্থা ভালো নেই। গার্মেন্টস ও শিল্প খাতে প্রায়ই অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে, শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করছেন। এসব ঘটনার জন্য সরকার বিরোধী দলকে দায়ী করছে এবং বিরোধীদের উসকানিতে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলছে।

তিনি বলেন, দেশে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। শ্রমিক পরিবারগুলো কঠিন পরিস্থিতিতে জীবনযাপন করছে। বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গার্মেন্টসসহ সব পেশার শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবি পূরণে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের দায়িত্ব।

সরকারের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অপরাধের বিরুদ্ধে আপসহীন ভূমিকা পালন করছেন। অথচ দেশের অস্থিতিশীলতার জন্য তাঁকে দায়ী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, নিজেদের চাঁদাবাজি, দখলদারি, মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি আড়াল করতেই বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া গোয়েন্দা ব্যবস্থা ও কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর করে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলছে। অতীতে এই গোয়েন্দা ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরীহ মানুষকে জঙ্গি সাজিয়ে ক্রসফায়ার, রিমান্ড ও আয়নাঘরে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর কাঠামোয় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন না এনে সরকার বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের অপকর্ম ও দলীয়করণের বিরুদ্ধে কথা বললেই বিরোধী দলকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য দায়ী করা হচ্ছে। অথচ সরকারের অনিয়ম ও ব্যর্থতা জাতির সামনে তুলে ধরাই বিরোধী দলের দায়িত্ব। এভাবে বিরোধী দলের কণ্ঠরোধের চেষ্টা ফ্যাসিবাদের পথ তৈরি করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে কথা বললে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা হতো। নিরীহ মানুষকে ধরে জঙ্গি সাজিয়ে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর আটকে রাখা হতো। বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটতে শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সরকারের দলীয়করণের সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, বর্তমান সরকারের মন্ত্রী ও চিফ হুইপ প্রকাশ্যে দলীয়করণের কথা বলছেন। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বরগুনায় গিয়ে সব ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থীকে নির্বাচিত করা না হলে উন্নয়নের বরাদ্দ দেওয়া হবে না বলে বক্তব্য দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, সরকারের একজন চিফ হুইপ এ ধরনের বক্তব্য দিতে পারেন কি না।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সাত-আট মাস ধরে বিরোধী দল গণভোটের গণরায় কার্যকরের দাবিতে আন্দোলন করছে। এর মধ্যে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে, সারসংকট তৈরি হয়েছে, নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে এবং খুন-ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদসহ সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির লোকজনকে বেছে বেছে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।

তিনি বলেন, এসবের প্রতিবাদে বিরোধী দল আন্দোলন করলেও হরতাল-অবরোধ করেনি, গাড়িতে আগুন দেয়নি কিংবা ভাঙচুর করেনি। ৭০ শতাংশ মানুষের গণরায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হলেও দেশকে ভালোবেসে বিরোধী দল সহিংস আন্দোলনে যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

সরকারের প্রতি আলোচনার আহ্বান জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদের বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে সংবিধান সংস্কার নিয়ে ঐকমত্য কমিশনে হওয়া প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে হবে। গণভোটে প্রধানমন্ত্রীও ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদের ৮৪টি বিষয়ে সমর্থন জানিয়েছে। এই গণরায় মেনে নিয়ে দেশকে স্থিতিশীল রাখার দায়িত্ব সরকারের।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের পরিবারের পাশে জামায়াতে ইসলামী ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা দাঁড়িয়েছেন। অথচ সরকারি দলের পক্ষ থেকে কতজন শহীদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো হয়েছে, সে প্রশ্নের জবাব নেই। তাঁর মতে, গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যান করা জুলাইয়ের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সরকারকে সতর্ক করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, দেশকে অরাজকতা ও অস্থিরতার মধ্যে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়। ভুল রাজনীতির মাধ্যমে রাজপথ উত্তপ্ত করা হলে আওয়ামী লীগকে আবার রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ করে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, অতীতে বিএনপি, জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করেছে। এখন সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে ৭০ শতাংশ মানুষের রায় একসঙ্গে মেনে নিলে আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পেত না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠান থেকে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া রুটে তৃতীয় দফার লংমার্চে অংশ নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ লেবার পার্টিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানান তিনি।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানের সঞ্চালক আওয়ামী লীগ নেতা নিখিল কুমার নাথ, উঠছে প্রশ্ন

‘সাত মাসেই লেজেগোবরে সরকারের অবস্থা’: গোলাম পরওয়ার

আপডেট সময় ০৮:১১:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

বিএনপির রাজনৈতিক অপরিপক্বতা ও অদূরদর্শী নেতৃত্বের কারণে সাত মাসের মধ্যেই সরকার লেজেগোবরে অবস্থায় পড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

তাঁর অভিযোগ, সরকারের মন্ত্রী-এমপিদের দায়িত্বহীন বক্তব্য, দলীয়করণ এবং বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানোর প্রবণতা রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।

বুধবার (২১ অক্টোবর) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ লেবার পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলটির ৪৯তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজার রহমান ইরান। এতে ১১ দলের শীর্ষ নেতারাও বক্তব্য দেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, রাজনৈতিক অপরিপক্বতা ও অদূরদর্শী নেতৃত্ব থেকে বিএনপি সরে না আসায় সাত মাসেই সরকার লেজেগোবরে অবস্থায় পড়েছে। এই সময়ের মধ্যে প্রায় চারজন মন্ত্রী-এমপি বিদায় নিয়েছেন। সরকারে দায়িত্ব পালনকালে এত অপরিপক্ব, অদক্ষ ও অরাজনৈতিক বক্তব্য এবং নেতৃত্ব আগের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দেখা যায়নি।

তিনি বলেন, দেশের অনেক ভুঁইফোড় রাজনৈতিক দল নিবন্ধন নিয়ে তদবির, লেজুড়বৃত্তি ও মন্ত্রিত্বের ভাগ-বাঁটোয়ারায় ব্যস্ত থেকেছে। কিন্তু নানা লোভনীয় প্রস্তাবের পরও রাজনৈতিক আদর্শের সঙ্গে আপস না করে দেশপ্রেমিক ও আধিপত্যবাদবিরোধী ইসলামী শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে লেবার পার্টি উদাহরণ তৈরি করেছে। এ জন্য জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলের পক্ষ থেকে দলটিকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তিনি।

শ্রমিকদের পরিস্থিতি তুলে ধরে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, দেশে শ্রমিক-মজুরদের অবস্থা ভালো নেই। গার্মেন্টস ও শিল্প খাতে প্রায়ই অসন্তোষ দেখা দিচ্ছে, শ্রমিকেরা সড়ক অবরোধ করছেন। এসব ঘটনার জন্য সরকার বিরোধী দলকে দায়ী করছে এবং বিরোধীদের উসকানিতে অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলছে।

তিনি বলেন, দেশে মূল্যস্ফীতি ৯ শতাংশের ওপরে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে থাকায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে। শ্রমিক পরিবারগুলো কঠিন পরিস্থিতিতে জীবনযাপন করছে। বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে গার্মেন্টসসহ সব পেশার শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি নির্ধারণের দাবি পূরণে মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সরকারের দায়িত্ব।

সরকারের সমালোচনা করে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান অপরাধের বিরুদ্ধে আপসহীন ভূমিকা পালন করছেন। অথচ দেশের অস্থিতিশীলতার জন্য তাঁকে দায়ী করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য, নিজেদের চাঁদাবাজি, দখলদারি, মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি আড়াল করতেই বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে।

তিনি অভিযোগ করেন, সরকার আওয়ামী লীগের রেখে যাওয়া গোয়েন্দা ব্যবস্থা ও কর্মকর্তাদের ওপর নির্ভর করে বিরোধী দলের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলছে। অতীতে এই গোয়েন্দা ব্যবস্থার মাধ্যমে নিরীহ মানুষকে জঙ্গি সাজিয়ে ক্রসফায়ার, রিমান্ড ও আয়নাঘরে নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, পুলিশ ও গোয়েন্দা বাহিনীর কাঠামোয় প্রয়োজনীয় পরিবর্তন না এনে সরকার বিরোধী দলের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকারের অপকর্ম ও দলীয়করণের বিরুদ্ধে কথা বললেই বিরোধী দলকে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির জন্য দায়ী করা হচ্ছে। অথচ সরকারের অনিয়ম ও ব্যর্থতা জাতির সামনে তুলে ধরাই বিরোধী দলের দায়িত্ব। এভাবে বিরোধী দলের কণ্ঠরোধের চেষ্টা ফ্যাসিবাদের পথ তৈরি করে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও ক্ষমতাসীনদের বিরুদ্ধে কথা বললে রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা হতো। নিরীহ মানুষকে ধরে জঙ্গি সাজিয়ে মাসের পর মাস, বছরের পর বছর আটকে রাখা হতো। বর্তমান সরকারও একই পথে হাঁটতে শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সরকারের দলীয়করণের সমালোচনা করে জামায়াতের এই নেতা বলেন, বর্তমান সরকারের মন্ত্রী ও চিফ হুইপ প্রকাশ্যে দলীয়করণের কথা বলছেন। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বরগুনায় গিয়ে সব ইউনিয়নে বিএনপির প্রার্থীকে নির্বাচিত করা না হলে উন্নয়নের বরাদ্দ দেওয়া হবে না বলে বক্তব্য দিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি। তাঁর প্রশ্ন, সরকারের একজন চিফ হুইপ এ ধরনের বক্তব্য দিতে পারেন কি না।

গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সাত-আট মাস ধরে বিরোধী দল গণভোটের গণরায় কার্যকরের দাবিতে আন্দোলন করছে। এর মধ্যে গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে, সারসংকট তৈরি হয়েছে, নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে এবং খুন-ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। পাশাপাশি সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদসহ সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির লোকজনকে বেছে বেছে নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগও তোলেন তিনি।

তিনি বলেন, এসবের প্রতিবাদে বিরোধী দল আন্দোলন করলেও হরতাল-অবরোধ করেনি, গাড়িতে আগুন দেয়নি কিংবা ভাঙচুর করেনি। ৭০ শতাংশ মানুষের গণরায়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হলেও দেশকে ভালোবেসে বিরোধী দল সহিংস আন্দোলনে যায়নি বলে দাবি করেন তিনি।

সরকারের প্রতি আলোচনার আহ্বান জানিয়ে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, সংসদের বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনা করে সংবিধান সংস্কার নিয়ে ঐকমত্য কমিশনে হওয়া প্রস্তাব বাস্তবায়ন করতে হবে। গণভোটে প্রধানমন্ত্রীও ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, গণভোটে ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জুলাই সনদের ৮৪টি বিষয়ে সমর্থন জানিয়েছে। এই গণরায় মেনে নিয়ে দেশকে স্থিতিশীল রাখার দায়িত্ব সরকারের।

জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের পরিবারের পাশে জামায়াতে ইসলামী ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীরা দাঁড়িয়েছেন। অথচ সরকারি দলের পক্ষ থেকে কতজন শহীদের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো হয়েছে, সে প্রশ্নের জবাব নেই। তাঁর মতে, গণভোটের রায় প্রত্যাখ্যান করা জুলাইয়ের চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

সরকারকে সতর্ক করে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, দেশকে অরাজকতা ও অস্থিরতার মধ্যে ঠেলে দেওয়া উচিত নয়। ভুল রাজনীতির মাধ্যমে রাজপথ উত্তপ্ত করা হলে আওয়ামী লীগকে আবার রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ করে দেওয়া হবে।

তিনি বলেন, অতীতে বিএনপি, জামায়াতসহ বিরোধী দলগুলো ঐক্যবদ্ধভাবে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন করেছে। এখন সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নে ৭০ শতাংশ মানুষের রায় একসঙ্গে মেনে নিলে আওয়ামী লীগ রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ পেত না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠান থেকে আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-যশোর-ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া রুটে তৃতীয় দফার লংমার্চে অংশ নিতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার। একই সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ লেবার পার্টিকে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর শুভেচ্ছা জানান তিনি।