ঢাকা ০২:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শফিকুর রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ গাড়ি থেকে সরকারি লোগো খুলে পদত্যাগের ঘোষণা ইশরাকের দেশের দুই বিমানবন্দরে ৫ কোটি টাকার স্বর্ণ জব্দ দুর্গাপূজায় সরকারি চাকরিজীবীরা ছুটি পাচ্ছেন টানা ৫ দিন ইউরোপের প্রলোভনে নেপাল-কেনিয়া, দেড় কোটি টাকা খুইয়ে নিঃস্ব সাত পরিবার বাউফলে অগ্নিকাণ্ডে ৭ লাখ টাকাসহ সর্বস্ব হারাল পরিবার অর্থের বিনিময়ে ভোট, ব্যালন ডি’অরের দৌড়ে এগিয়ে রোনালদো সেনবাগে প্রাথমিক শিক্ষায় অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ‘অপহরণের মতো অভিজ্ঞতা’, আয়োজকদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ আকাঙ্ক্ষা রেলওয়ের মেগা প্রকল্পে নজিরবিহীন জালিয়াতি ও হরি লুট: অনিয়মের শীর্ষে আল ফাত্তাহ ও সুবক্তগীন

আইজি-ডিআইজির আস্থাভাজন পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ, মোতালেবের ভয়ংকর ফাঁদ

পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীতে চাকরি সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সেনাপ্রধান, আইজি, ডিআইজি ও মন্ত্রীর ছেলে পরিচয়দানকারী প্রতারক চক্রের অন্যতম সদস্য আব্দুল মোতালেব সরদার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ডিভোর্সি ও অসহায় নারীদের বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আব্দুল মোতালেব কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার বুজরুথ গ্রামের মৃত মতিন সরদারের ছেলে। তিনি বর্তমানে আশুলিয়ার বাইপাইল কাঁচামালের আড়ত-সংলগ্ন বসুন্ধরা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সরকারি বাহিনীতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়ার মাধ্যমে প্রতারণার একটি কৌশল গড়ে তুলেছেন মোতালেব ও তার দল। কখনো পুলিশের চাকরি, কখনো সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী কিংবা বিমানবাহিনীতে নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চাকরির আশায় অনেকেই তার কথায় বিশ্বাস করে অর্থ দিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছেন বলে জানা গেছে।

শুধু চাকরির প্রলোভন নয়, ব্যক্তিগত সম্পর্কের মাধ্যমেও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ডিভোর্সি ও অসহায় নারীদের বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং পরবর্তী সময়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডেও জড়িত তিনি। তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, একসময় মোতালেব নিজেকে সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর পালিত ছেলে হিসেবে পরিচয় দিতেন। এই পরিচয় ব্যবহার করে তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, মোতালেবের বিরুদ্ধে ঢাকা জেলা সহ দেশের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন থানায় প্রতারণা, অপহরণ ও হত্যা-সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে।

চাকরির প্রলোভনে অর্থ হারানো ব্যক্তি এবং বিয়ের আশ্বাসে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ তোলা নারীদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভুক্তভোগীদের অর্থ উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে মোতালেবের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি জাসদ করি। হাসানুল হক ইনুকে আমি একটা সময় বাবা ডাকতাম। আমার বিরুদ্ধে সব মিলিয়ে পাঁচটা হত্যা মামলা আছে।’

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘এমন অভিযোগ পেলে এবং অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শফিকুর রহমানের সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ

আইজি-ডিআইজির আস্থাভাজন পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ, মোতালেবের ভয়ংকর ফাঁদ

আপডেট সময় ১১:৫১:৩৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীতে চাকরি সহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে সেনাপ্রধান, আইজি, ডিআইজি ও মন্ত্রীর ছেলে পরিচয়দানকারী প্রতারক চক্রের অন্যতম সদস্য আব্দুল মোতালেব সরদার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে ডিভোর্সি ও অসহায় নারীদের বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার একাধিক অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

আব্দুল মোতালেব কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার বুজরুথ গ্রামের মৃত মতিন সরদারের ছেলে। তিনি বর্তমানে আশুলিয়ার বাইপাইল কাঁচামালের আড়ত-সংলগ্ন বসুন্ধরা এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় থাকেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বিভিন্ন সরকারি বাহিনীতে চাকরি দেওয়ার কথা বলে চাকরিপ্রত্যাশীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়ার মাধ্যমে প্রতারণার একটি কৌশল গড়ে তুলেছেন মোতালেব ও তার দল। কখনো পুলিশের চাকরি, কখনো সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী কিংবা বিমানবাহিনীতে নিয়োগের আশ্বাস দিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। চাকরির আশায় অনেকেই তার কথায় বিশ্বাস করে অর্থ দিয়ে সর্বস্বান্ত হয়ে ঘরবাড়ি ছাড়া হয়েছেন বলে জানা গেছে।

শুধু চাকরির প্রলোভন নয়, ব্যক্তিগত সম্পর্কের মাধ্যমেও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, ডিভোর্সি ও অসহায় নারীদের বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং পরবর্তী সময়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার মতো কর্মকাণ্ডেও জড়িত তিনি। তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

অভিযোগকারীদের দাবি, একসময় মোতালেব নিজেকে সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর পালিত ছেলে হিসেবে পরিচয় দিতেন। এই পরিচয় ব্যবহার করে তিনি মানুষের আস্থা অর্জন করে প্রতারণার ফাঁদে ফেলে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। শুধু তাই নয়, মোতালেবের বিরুদ্ধে ঢাকা জেলা সহ দেশের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন থানায় প্রতারণা, অপহরণ ও হত্যা-সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে।

চাকরির প্রলোভনে অর্থ হারানো ব্যক্তি এবং বিয়ের আশ্বাসে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ তোলা নারীদের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং ভুক্তভোগীদের অর্থ উদ্ধারে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

এ বিষয়ে মোতালেবের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, আমি জাসদ করি। হাসানুল হক ইনুকে আমি একটা সময় বাবা ডাকতাম। আমার বিরুদ্ধে সব মিলিয়ে পাঁচটা হত্যা মামলা আছে।’

এ বিষয়ে আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, ‘এমন অভিযোগ পেলে এবং অভিযোগের সত্যতা পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।