রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার নানকর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে দান করা ৫০ শতক জমির আয়-ব্যয়ের হিসাব দীর্ঘ ২৯ বছরেও দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুল মুন্নাফ মণ্ডলের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, জমিটি বিদ্যালয়ের আয়-ব্যয়ের আওতায় না এনে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ভোগদখলে রেখেছেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯৭ সালের ৩ জুলাই দলিল নম্বর ১০৪১৬ মূলে বিদ্যালয়ের নামে ৫০ শতক জমি দান করা হয়। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ কর্মজীবনে ওই জমি থেকে প্রাপ্ত কোনো আয় বিদ্যালয়ের তহবিলে জমা দেওয়া হয়নি। অবসর গ্রহণের পরও জমিটি প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর না করে তিনি নিজেই ভোগদখলে রেখেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এদিকে, স্থানীয়ভাবে গুঞ্জন রয়েছে, ব্যবস্থাপনা কমিটির মাধ্যমে জমিটি পুনরায় তাঁর নিজের নামে লিখে নেওয়া হয়েছে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মিঠাপুকুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পারভেজ হোসেন বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, “কোনো প্রধান শিক্ষক বা ব্যবস্থাপনা কমিটি প্রতিষ্ঠানের জমি নিজেদের নামে লিখে নিতে পারে না। তবে দীর্ঘদিন ধরে ওই জমির আয় প্রতিষ্ঠানকে না দেওয়ার অভিযোগ আমরা তদন্ত করে দেখছি। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখছি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের উন্নয়নের উদ্দেশ্যে দান করা সম্পত্তি ব্যক্তিগতভাবে ভোগদখলে রাখা বা এর হিসাব না দেওয়া হলে তা উদ্বেগজনক। তাঁরা বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
স্থানীয় সচেতন মহলও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নামে দান করা সম্পত্তির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে।
শহীদুল ইসলাম-বিশেষ প্রতিনিধি 























