ঢাকা ১২:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাবার কাছ থেকে ইস্টার্ন ব্যাংকের ১.৬৪ কোটি শেয়ার পাচ্ছেন চেয়ারম্যান আনিস আহমেদ স্বতন্ত্র পরিচালক কামরুলের বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ বিদ্যুৎ খাতে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, আরপিসিএলে তিন সদস্যের সিন্ডিকেট নদী দখলের মামলায় প্রাণ-আরএফএলের দুই কর্মকর্তার ৩ বছরের কারাদণ্ড নিরাপদ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়তে বিশ্বনেতাদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান সাবেক এমপি শাওনসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট ৩ কোটি ৮০ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ফুডপান্ডার এমডিসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মার্ক সুজম্যানের বৈঠক সংশোধিত ইউপি নির্বাচন বিধিমালা চূড়ান্ত, হুমকি-ভয় দেখালে শাস্তি পণ্য খালাসে সময় ও খরচ কমাতে সমন্বিত পরিকল্পনার আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

নদী দখলের মামলায় প্রাণ-আরএফএলের দুই কর্মকর্তার ৩ বছরের কারাদণ্ড

  • নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় ১১:৩৪:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫০৭ বার পড়া হয়েছে

নদী দখলের অভিযোগে রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় করা মামলায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের দুই ম্যানেজার (অ্যাডমিন) ফয়সাল মাহমুদ ও সরওয়ার জাহানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া নদী দখলে ব্যবহৃত বালু বহনের সঙ্গে জড়িত মেসার্স মদিনার পথের মালিক মোক্তার হোসেন ও নাজমুল আলম নাহিদকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ে দণ্ডের পাশাপাশি প্রাণ-আরএফএলের কর্মকর্তা ফয়সাল ও সরওয়ারকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর মোক্তার ও নাহিদকে পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকি’র আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত না থাকায় তাদের জামিন বাতিল করে সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি শামছুদ্দোহা সুমন বলেন, নদী দখল ও ভরাটসংক্রান্ত খিলক্ষেত থানার মামলার রায়ে প্রাণ-আরএফএলের দুই ম্যানেজারকে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অনাদায়ে আরও ৩০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই নদী ভরাটের কাজে যারা সরঞ্জাম দিয়েছেন, সেই কোম্পানি মেসার্স মদিনার পথের মালিক মোক্তার ও নাহিদকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদেরও পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার চারপাশে প্রবহমান বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী দখল, দূষণ এবং মৃতপ্রায় নদীগুলো নিয়ে হাইকোর্টের রিট পিটিশনের নির্দেশনার আলোকে জেলা প্রশাসক, বিআইডব্লিউটিএ এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও সংস্থাকে দূষণ রোধে কিছু নির্দেশনা দেন। এরপর বেশ কয়েকবার বালু নদীতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর খিলক্ষেতের পাতিরা মৌজায় বালু নদী পরিদর্শনে যান বিআইডব্লিউটিএ ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ বালু নদীর সাড়ে ১২ হাজার বর্গফুট তীরভূমি ও নদী ভরাট করেছে। পরে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির সত্যতা পান। এ ঘটনায় গাজীপুরের টঙ্গী নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম ওই দিনই খিলক্ষেত থানায় মামলা করেন।

২০২২ সালের ৩১ মে মামলার তদন্ত শেষে চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন খিলক্ষেত থানার এসআই সোহরাব হোসেন। পরে ২০২৩ সালের ১৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে আটজন সাক্ষীর মধ্যে তিনজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। আসামিপক্ষের আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে গতকাল রায় ঘোষণা করেন আদালত।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবার কাছ থেকে ইস্টার্ন ব্যাংকের ১.৬৪ কোটি শেয়ার পাচ্ছেন চেয়ারম্যান আনিস আহমেদ

নদী দখলের মামলায় প্রাণ-আরএফএলের দুই কর্মকর্তার ৩ বছরের কারাদণ্ড

আপডেট সময় ১১:৩৪:২৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নদী দখলের অভিযোগে রাজধানীর খিলক্ষেত থানায় করা মামলায় প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের দুই ম্যানেজার (অ্যাডমিন) ফয়সাল মাহমুদ ও সরওয়ার জাহানকে তিন বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এছাড়া নদী দখলে ব্যবহৃত বালু বহনের সঙ্গে জড়িত মেসার্স মদিনার পথের মালিক মোক্তার হোসেন ও নাজমুল আলম নাহিদকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

রায়ে দণ্ডের পাশাপাশি প্রাণ-আরএফএলের কর্মকর্তা ফয়সাল ও সরওয়ারকে ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। আর মোক্তার ও নাহিদকে পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বুধবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকি’র আদালত এই রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামিরা আদালতে উপস্থিত না থাকায় তাদের জামিন বাতিল করে সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি শামছুদ্দোহা সুমন বলেন, নদী দখল ও ভরাটসংক্রান্ত খিলক্ষেত থানার মামলার রায়ে প্রাণ-আরএফএলের দুই ম্যানেজারকে তিন বছরের কারাদণ্ড এবং ১০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অনাদায়ে আরও ৩০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এই নদী ভরাটের কাজে যারা সরঞ্জাম দিয়েছেন, সেই কোম্পানি মেসার্স মদিনার পথের মালিক মোক্তার ও নাহিদকে এক বছর করে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। তাদেরও পাঁচ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে, অনাদায়ে আরও ১৫ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ঢাকার চারপাশে প্রবহমান বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু ও শীতলক্ষ্যা নদী দখল, দূষণ এবং মৃতপ্রায় নদীগুলো নিয়ে হাইকোর্টের রিট পিটিশনের নির্দেশনার আলোকে জেলা প্রশাসক, বিআইডব্লিউটিএ এবং সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও সংস্থাকে দূষণ রোধে কিছু নির্দেশনা দেন। এরপর বেশ কয়েকবার বালু নদীতে উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়।

উচ্চ আদালতের নির্দেশনা বাস্তবায়নে অভিযান অব্যাহত রাখা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২১ সালের ২৪ অক্টোবর খিলক্ষেতের পাতিরা মৌজায় বালু নদী পরিদর্শনে যান বিআইডব্লিউটিএ ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সেখানে গিয়ে তারা দেখতে পান, প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ বালু নদীর সাড়ে ১২ হাজার বর্গফুট তীরভূমি ও নদী ভরাট করেছে। পরে স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টির সত্যতা পান। এ ঘটনায় গাজীপুরের টঙ্গী নদীবন্দরের সহকারী পরিচালক রেজাউল করিম ওই দিনই খিলক্ষেত থানায় মামলা করেন।

২০২২ সালের ৩১ মে মামলার তদন্ত শেষে চারজনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন খিলক্ষেত থানার এসআই সোহরাব হোসেন। পরে ২০২৩ সালের ১৬ আগস্ট আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। মামলার বিচার চলাকালে রাষ্ট্রপক্ষে আটজন সাক্ষীর মধ্যে তিনজনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। আসামিপক্ষের আত্মপক্ষ সমর্থন ও যুক্তিতর্কের শুনানি শেষে গতকাল রায় ঘোষণা করেন আদালত।