কালামপুর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের নকল নবিশ আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে দলিল লেখক, দাতা ও গ্রহীতাদের হয়রানি, কমিশন বাণিজ্য এবং ঘুষ লেনদেনসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কয়েকজন দলিল লেখক ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, বিভিন্ন অজুহাতে দলিলের ত্রুটি দেখিয়ে তা আটকে রাখা এবং পরে অর্থের বিনিময়ে কাজ এগিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, আব্দুল মান্নান দীর্ঘদিন ধরে ওই অফিসে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন। তার বিরুদ্ধে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অফিসের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ দলিল লেখক ও সেবাগ্রহীতাদের ওপর চাপ প্রয়োগের অভিযোগও রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন দলিল লেখক জানান, দলিলে ত্রুটি রয়েছে—এমন কথা বলে অনেক সময় তাদের হয়রানি করা হয়। অভিযোগকারীদের দাবি, এ ধরনের পরিস্থিতিতে কাজ দ্রুত সম্পন্ন করতে অতিরিক্ত অর্থ দিতে চাপ সৃষ্টি করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অতীতে আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে জেলা রেজিস্ট্রার, ঢাকা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছিল। অভিযোগকারীদের দাবি, এসব অভিযোগের মধ্যে অফিসের রেকর্ড রুম থেকে মূল দলিলের রশিদ ছাড়াই কয়েকটি দলিল নিয়ে যাওয়ার বিষয়ও ছিল। অভিযোগে দলিল নম্বর হিসেবে ১১০/১৪, ৭২৯২/১৪, ৭৩১৯/১৪, ১২৯৯৪/১৫, ১২৯৫৮/১৫ ও ৬৯৫/১৬ উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া অভিযোগকারীরা দাবি করেন, ২০১৮ সালে আব্দুল মান্নানের বিরুদ্ধে অফিসের কর্মচারীদের সঙ্গে অসদাচরণ, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, উচ্চস্বরে হৈচৈ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ওঠে। ওই সময় তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, ২০১৮ সালের ২৫ জানুয়ারি অফিসের এক নারী নকল নবিশকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগে ধামরাই থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়েছিল।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, তৎকালীন জেলা রেজিস্ট্রারের নির্দেশে বিষয়টি তদন্ত করা হয় এবং ২০১৮ সালের ৯ এপ্রিল আব্দুল মান্নানের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়। পরে ১২ এপ্রিল ২০১৮ তারিখে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছিল বলেও অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।
বর্তমানে অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, অতীতে বিভিন্ন অভিযোগ ওঠার পরও আব্দুল মান্নান কীভাবে একই কর্মস্থলে কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
এ বিষয়ে আব্দুল মান্নানের বক্তব্য জানা গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয় ও সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা সম্ভব হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















