ঢাকা ০৩:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইবনে সিনা ফার্মা এমডির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা, পুরো ঘটনার বর্ণনা পুলিশ সুপার শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫০ বোতল ফেন্সিডিল ও মোটরসাইকেল জব্দ, পালাল মাদক কারবারি বড়লেখার পিআইও মিজানুরের বিরুদ্ধে ১২% কমিশনের অভিযোগ, বাদ যায়নি মসজিদ-মন্দিরও ৬০০ কোটি টাকার জমি ৭১ লাখে! তেজগাঁওয়ের দুই প্লট ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অপ্রতিম হত্যার বিচার দ্রুত করতে আদালতকে সহযোগিতা করবো : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আ.লীগ নেতার বাড়িতে ভূরিভোজ, প্রত্যাহার সেনবাগের ওসি কালিহাতীতে জমি নিয়ে বিরোধ, বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা নওগাঁয় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ তিন কিশোর গ্যাং সদস্য গ্রেপ্তার

আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা, পুরো ঘটনার বর্ণনা পুলিশ সুপার

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে পরিকল্পিতভাবে নির্জন স্থানে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইফোনটিও তুহিনের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

পুলিশ সুপার বলেন, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অপ্রতিমের আইফোন নেওয়াকে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা জানতে আরও তদন্ত প্রয়োজন।

তিনি জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এতে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর আনুমানিক দুপুর ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে তুহিন অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা নামের পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়।

পুলিশ সুপার বলেন, অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে মৃত্যুর খবর পাওয়ার আগেই হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন স্বীকার করে, অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করে তাকে ওই নির্জন স্থানে নিয়ে যায় সে।

তুহিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ফাহাদ ও ফাহাদের এক বন্ধু জড়িত ছিল। পরে অভিযান চালিয়ে ফাহাদকে হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ জানায়, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার আরেক বন্ধু কামরুলও জড়িত। এরপর ফাহাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামরুলকেও হেফাজতে নেওয়া হয়।

পুলিশ সুপার জানান, তুহিনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো জায়গা অনুযায়ী তার বাড়ি থেকে অপ্রতিমের আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সানন্দা নামের পাহাড়ঘেরা নির্জন স্থানে অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে অপ্রতিম বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা আইফোনটি নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায় বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, সিয়াম নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত পুলিশ প্রতিবেদন বা চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।

তিনি বলেন, আসামি সাহেদুল ইসলাম তুহিনের বয়স ১৯ বছর। সে কুমিল্লা সিদ্দিকুর রহমান কলেজের একাদশ শ্রেণিতে ফেল করে ২০২৫ সালে রোবট হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে যে আইফোনের কথা উঠে এসেছে, সেটিও আসামির দেখানো অনুযায়ী তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি তদন্ত শেষ করে দ্রুত আদালতে মামলার প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইবনে সিনা ফার্মা এমডির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ

আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা, পুরো ঘটনার বর্ণনা পুলিশ সুপার

আপডেট সময় ০৩:০৯:৫৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের কাছে থাকা আইফোন ছিনিয়ে নিতেই তাকে পরিকল্পিতভাবে নির্জন স্থানে নিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আইফোনটিও তুহিনের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।

রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টার দিকে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান কুমিল্লার পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান।

পুলিশ সুপার বলেন, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে অপ্রতিমের আইফোন নেওয়াকে হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এর পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, তা জানতে আরও তদন্ত প্রয়োজন।

তিনি জানান, তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। এতে প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর আনুমানিক দুপুর ২টা থেকে আড়াইটার মধ্যে তুহিন অপ্রতিমকে লালমাই পাহাড়ের সানন্দা নামের পাহাড়ঘেরা নির্জন জঙ্গলের দিকে নিয়ে যায়।

পুলিশ সুপার বলেন, অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে মৃত্যুর খবর পাওয়ার আগেই হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তুহিন স্বীকার করে, অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পনা করে তাকে ওই নির্জন স্থানে নিয়ে যায় সে।

তুহিনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় ফাহাদ ও ফাহাদের এক বন্ধু জড়িত ছিল। পরে অভিযান চালিয়ে ফাহাদকে হেফাজতে নেওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদে ফাহাদ জানায়, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার আরেক বন্ধু কামরুলও জড়িত। এরপর ফাহাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে কামরুলকেও হেফাজতে নেওয়া হয়।

পুলিশ সুপার জানান, তুহিনের দেওয়া তথ্য ও দেখানো জায়গা অনুযায়ী তার বাড়ি থেকে অপ্রতিমের আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ঘটনার দিন বিকেল ৫টা থেকে ৬টার মধ্যে সানন্দা নামের পাহাড়ঘেরা নির্জন স্থানে অপ্রতিমের আইফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়। এতে অপ্রতিম বাধা দিলে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের শক্ত লাঠি দিয়ে অপ্রতিমের মাথায় আঘাত করে। অপ্রতিমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তারা আইফোনটি নিয়ে সেখান থেকে পালিয়ে যায় বলে জানায় পুলিশ।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, সিয়াম নামে আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে পাওয়া তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত তুহিন, ফাহাদ ও কামরুলকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

ঘটনার সঙ্গে অন্য কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে জানিয়ে পুলিশ সুপার বলেন, হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত পুলিশ প্রতিবেদন বা চার্জশিট আদালতে দাখিল করা হবে।

তিনি বলেন, আসামি সাহেদুল ইসলাম তুহিনের বয়স ১৯ বছর। সে কুমিল্লা সিদ্দিকুর রহমান কলেজের একাদশ শ্রেণিতে ফেল করে ২০২৫ সালে রোবট হয়।

পুলিশ সুপার বলেন, অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে। মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের কারণ হিসেবে যে আইফোনের কথা উঠে এসেছে, সেটিও আসামির দেখানো অনুযায়ী তার বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি তদন্ত শেষ করে দ্রুত আদালতে মামলার প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।