ঢাকা ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ইবনে সিনা ফার্মা এমডির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ আইফোন ছিনিয়ে নিতেই অপ্রতিমকে হত্যা, পুরো ঘটনার বর্ণনা পুলিশ সুপার শিবগঞ্জ সীমান্তে ৫০ বোতল ফেন্সিডিল ও মোটরসাইকেল জব্দ, পালাল মাদক কারবারি বড়লেখার পিআইও মিজানুরের বিরুদ্ধে ১২% কমিশনের অভিযোগ, বাদ যায়নি মসজিদ-মন্দিরও ৬০০ কোটি টাকার জমি ৭১ লাখে! তেজগাঁওয়ের দুই প্লট ঘিরে অনিয়মের অভিযোগ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির চেয়ারম্যান আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ অপ্রতিম হত্যার বিচার দ্রুত করতে আদালতকে সহযোগিতা করবো : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আ.লীগ নেতার বাড়িতে ভূরিভোজ, প্রত্যাহার সেনবাগের ওসি কালিহাতীতে জমি নিয়ে বিরোধ, বৃদ্ধকে কুপিয়ে হত্যা নওগাঁয় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ তিন কিশোর গ্যাং সদস্য গ্রেপ্তার

বড়লেখার পিআইও মিজানুরের বিরুদ্ধে ১২% কমিশনের অভিযোগ, বাদ যায়নি মসজিদ-মন্দিরও

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ঘুষ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী এই প্রতিবেদকের কাছে পাঠানো লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট পিআইও মিজানুর রহমানের কার্যালয়ে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ থেকে নিয়মিতভাবে কমিশন বাবদ অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী, এই কার্যালয়ে টেস্ট রিলিফ (টিআর) ও কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্পসহ সরকারের সব ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে সরাসরি ১২ শতাংশ হারে কমিশন আদায় করা হয়। এমনকি টিআর ও কাবিটা প্রকল্পের মাস্টাররোল—অর্থাৎ প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকদের পারিশ্রমিকের তালিকা—জমাদানকারী প্রকল্প সভাপতিদের কাছ থেকেও প্রতিটি মাস্টাররোলের বিপরীতে ২ হাজার টাকা করে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই অর্থ পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কারও বিল ছাড় করেন না, ফলে সাধারণ সুবিধাভোগীদের বিল দীর্ঘদিন আটকে থাকে।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, এলাকার বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দিরসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত সামাজিক অনুদান থেকেও একই হারে কমিশন কেটে রাখা হচ্ছে, যা অভিযোগকারীর ভাষায় একটি সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা একটি নির্দিষ্ট ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত জুন মাসে তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্যের টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের একটি বরাদ্দ আসে। নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত যাওয়ার কথা থাকলেও, অভিযোগকারীর দাবি, পিআইও মিজানুর রহমান ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে সেই অর্থ ফেরত না পাঠিয়ে সোনালী ব্যাংকে তাদের একটি যৌথ হিসাবে জমা রাখা হয়েছে। বর্তমানে সরকারি নিয়মবহির্ভূতভাবে সেখান থেকে চেকের মাধ্যমে পূর্ববর্তী তারিখ বসিয়ে (ব্যাকডেটে) বিল পরিশোধ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় উপজেলা প্রেসক্লাবের জন্য বরাদ্দকৃত ১ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকেও পিআইও ১০ শতাংশ কমিশন কেটে রেখেছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি এবং তা একজন ভুক্তভোগী দাবিদার ব্যক্তির লিখিত বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত এসব অভিযোগকে চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমে বিষয়টি আরও অনুসন্ধান করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইবনে সিনা ফার্মা এমডির বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ

বড়লেখার পিআইও মিজানুরের বিরুদ্ধে ১২% কমিশনের অভিযোগ, বাদ যায়নি মসজিদ-মন্দিরও

আপডেট সময় ০২:৪৭:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত ঘুষ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী এই প্রতিবেদকের কাছে পাঠানো লিখিত অভিযোগে দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট পিআইও মিজানুর রহমানের কার্যালয়ে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ থেকে নিয়মিতভাবে কমিশন বাবদ অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

অভিযোগকারীর দাবি অনুযায়ী, এই কার্যালয়ে টেস্ট রিলিফ (টিআর) ও কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা) প্রকল্পসহ সরকারের সব ধরনের উন্নয়ন প্রকল্পের বরাদ্দ থেকে সরাসরি ১২ শতাংশ হারে কমিশন আদায় করা হয়। এমনকি টিআর ও কাবিটা প্রকল্পের মাস্টাররোল—অর্থাৎ প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিকদের পারিশ্রমিকের তালিকা—জমাদানকারী প্রকল্প সভাপতিদের কাছ থেকেও প্রতিটি মাস্টাররোলের বিপরীতে ২ হাজার টাকা করে ঘুষ আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন তিনি। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই অর্থ পরিশোধ না করলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কারও বিল ছাড় করেন না, ফলে সাধারণ সুবিধাভোগীদের বিল দীর্ঘদিন আটকে থাকে।

অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, এলাকার বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দিরসহ ধর্মীয় উপাসনালয়ের জন্য বরাদ্দকৃত সামাজিক অনুদান থেকেও একই হারে কমিশন কেটে রাখা হচ্ছে, যা অভিযোগকারীর ভাষায় একটি সামাজিক ব্যাধিতে রূপ নিয়েছে।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা একটি নির্দিষ্ট ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, গত জুন মাসে তৎকালীন স্থানীয় সংসদ সদস্যের টিআর ও কাবিখা প্রকল্পের একটি বরাদ্দ আসে। নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না হলে সেই অর্থ সরকারি কোষাগারে ফেরত যাওয়ার কথা থাকলেও, অভিযোগকারীর দাবি, পিআইও মিজানুর রহমান ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে সেই অর্থ ফেরত না পাঠিয়ে সোনালী ব্যাংকে তাদের একটি যৌথ হিসাবে জমা রাখা হয়েছে। বর্তমানে সরকারি নিয়মবহির্ভূতভাবে সেখান থেকে চেকের মাধ্যমে পূর্ববর্তী তারিখ বসিয়ে (ব্যাকডেটে) বিল পরিশোধ করা হচ্ছে।

এ ছাড়া অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, স্থানীয় উপজেলা প্রেসক্লাবের জন্য বরাদ্দকৃত ১ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকেও পিআইও ১০ শতাংশ কমিশন কেটে রেখেছেন।

এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য এই প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, এই প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি এবং তা একজন ভুক্তভোগী দাবিদার ব্যক্তির লিখিত বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য না পাওয়া পর্যন্ত এসব অভিযোগকে চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমে বিষয়টি আরও অনুসন্ধান করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।