রংপুরের পীরগঞ্জে বাঁশপুকুরিয়া ছিদ্দিকিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানায় শিক্ষার্থীদের দিয়ে রান্না করার সময় আগুনে দগ্ধ হয়েছেন চার ছাত্রী। তাদের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এর মধ্যে সাদিয়া নামে এক শিক্ষার্থীর অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার পর মাদ্রাসা ও এতিমখানার লিল্লাহ বোর্ডিংয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার রান্নার সময় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের খাবার রান্নার জন্য প্রতিষ্ঠানে কোনো বাবুর্চি নেই। ফলে শিক্ষার্থীরা পালাক্রমে রান্নার দায়িত্ব পালন করে থাকে। রোববার দুপুরের খাবার রান্নার সময় অসাবধানতাবশত চার শিক্ষার্থী দগ্ধ হন। তারা হলেন—সাদিয়া, তানিয়া, সুইটি ও সাদিয়া। তাদের বয়স ১৪ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে বলে জানান মাদ্রাসার শিক্ষিকা তানিয়া।
দুর্ঘটনার পর মাদ্রাসার মুহতামিম সাদ্দাম হোসেনসহ কয়েকজন তাদের অটোরিকশাযোগে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে তাদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, দগ্ধ চার শিক্ষার্থীর মধ্যে দুজন প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে। অপর দুজন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে। তাদের মধ্যে সাদিয়া নামে এক শিক্ষার্থীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাকে হাসপাতালে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
দগ্ধ এক শিক্ষার্থীর বাবা বলেন, “আগে চিকিৎসা হোক, পরে কথা হবে।”
এ বিষয়ে মাদ্রাসা ও এতিমখানার মুহতামিম সাদ্দাম হোসেন বলেন, “মাদ্রাসার স্টাফ ও শিক্ষার্থীদের রান্না করতে গিয়ে চার শিক্ষার্থী অসাবধানতাবশত রান্না করা ডাল ছিটকে দগ্ধ হয়েছে। শরীর পোশাকে ঢাকা থাকায় পোশাক খুলতে বিলম্ব হওয়ায় তাদের শরীর ঝলসে গেছে। বর্তমানে তাদের চিকিৎসা চলছে।”
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। লিল্লাহ বোর্ডিংয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের খাবার রান্নার জন্য কোনো বাবুর্চি না থাকায় শিক্ষার্থীদের দিয়ে রান্নার দায়িত্ব পালন করানো নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। বিষয়টি মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের নজরে এনে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তারিকুল ইসলাম তারিক পীরগঞ্জ (রংপুর) প্রতিনিধি 






















