ঢাকা ০৪:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৫ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
গাজীপুরে কালো টাকা সাদা করার অভিযোগ যুবলীগ নেতা ‘রাধুনী হাবিবের’ বিরুদ্ধে দুর্নীতি-অনিয়মের অভিযোগে ওএসডি, এবার মিটফোর্ডের উপপরিচালক ডা. শায়লা পাহাড়সম অভিযোগ মাথায় নিয়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের শীর্ষ পদে ওয়াহিদা বেগম জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ রাশেদ-রেজাউল-শাহজাহান সিণ্ডিকেটে চলছে আরপিসিএলে লুটপাট চারদিনের মাথায় ঢাকায় বদলি গণপূর্তের দুই প্রকৌশলী রায়হান-আনিসুজ্জামান রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের এমডি হওয়ার দৌড়ে গোলাম মরতুজা গণপূর্ত প্রকৌশলী আবুল খায়েরের বিরুদ্ধে কোটি টাকার ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ ডেমরা সাব রেজিস্ট্রার রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোটি টাকা ঘুষের অভিযোগ ডিএসসিসির ট্রেড সেন্টারের ছাদে ৩ হাজারের বেশি অবৈধ দোকান, নিয়ন্ত্রণে মজু সিন্ডিকেট

জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

জনতা ব্যাংক পিএলসির মতিঝিল লোকাল অফিস ও প্রধান শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, ঋণ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আব্দুল মালেক ঘুষ বা কমিশন ছাড়া বিভিন্ন ফাইল অনুমোদন ও স্বাক্ষর করতে অনীহা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ঋণসংক্রান্ত কার্যক্রমে গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ কমিশন হিসেবে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সার্ভেয়ার, আইনজীবী ও ইন্স্যুরেন্স-সংশ্লিষ্ট বিল পরিশোধের ক্ষেত্রেও কমিশন দাবির অভিযোগ করেছেন অভিযোগকারীরা।
আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো, বিদেশে দায়িত্ব পালনকালে দুবাই শাখার প্রায় ৯ কোটি টাকা আত্মসাতের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা ছিল। অভিযোগকারীরা এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগটির সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নথি, নিরীক্ষা প্রতিবেদন বা তদন্তের ফলাফল যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগকারীদের দাবি, ব্যাংকের গ্রাহকদের ঋণ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে আব্দুল মালেক অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা দাবি করতেন। ঋণের পরিমাণ ও প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে গ্রাহকদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের কমিশন নেওয়া হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ঋণের জামানত মূল্যায়ন, সার্ভে, আইনগত মতামত ও ইন্স্যুরেন্স-সংক্রান্ত বিল পরিশোধের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, ঘুষ, কমিশন ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে আব্দুল মালেক বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। ঢাকায় তার বাড়ি ও একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকা বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তবে এই সম্পদের পরিমাণ, মালিকানা এবং সম্পদ অর্জনের বৈধ উৎস সম্পর্কে সরকারি নথি বা নির্ভরযোগ্য তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
অভিযোগকারীরা আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জনতা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের দাবি, দুবাই শাখায় দায়িত্ব পালনকালের আর্থিক লেনদেন, ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ, বিল পরিশোধ, কমিশন গ্রহণের অভিযোগ এবং বর্তমানে থাকা সম্পদের উৎস—সবকিছু তদন্তের আওতায় আনা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা বেরিয়ে আসতে পারে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল মালেকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরে কালো টাকা সাদা করার অভিযোগ যুবলীগ নেতা ‘রাধুনী হাবিবের’ বিরুদ্ধে

জনতা ব্যাংকের কর্মকর্তা আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ

আপডেট সময় ০৩:৫৬:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জনতা ব্যাংক পিএলসির মতিঝিল লোকাল অফিস ও প্রধান শাখার ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে ঘুষ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, ঋণ প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ব্যাংকের বিভিন্ন কার্যক্রমে প্রভাব খাটিয়ে ব্যক্তিগত আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, আব্দুল মালেক ঘুষ বা কমিশন ছাড়া বিভিন্ন ফাইল অনুমোদন ও স্বাক্ষর করতে অনীহা প্রকাশ করেন। বিশেষ করে ঋণসংক্রান্ত কার্যক্রমে গ্রাহকদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ কমিশন হিসেবে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে সার্ভেয়ার, আইনজীবী ও ইন্স্যুরেন্স-সংশ্লিষ্ট বিল পরিশোধের ক্ষেত্রেও কমিশন দাবির অভিযোগ করেছেন অভিযোগকারীরা।
আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো, বিদেশে দায়িত্ব পালনকালে দুবাই শাখার প্রায় ৯ কোটি টাকা আত্মসাতের সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতা ছিল। অভিযোগকারীরা এ বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। তবে অভিযোগটির সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক নথি, নিরীক্ষা প্রতিবেদন বা তদন্তের ফলাফল যাচাই করা প্রয়োজন।
অভিযোগকারীদের দাবি, ব্যাংকের গ্রাহকদের ঋণ পাইয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে আব্দুল মালেক অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা দাবি করতেন। ঋণের পরিমাণ ও প্রক্রিয়ার ওপর ভিত্তি করে গ্রাহকদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের কমিশন নেওয়া হতো বলেও অভিযোগ রয়েছে।
এছাড়া ঋণের জামানত মূল্যায়ন, সার্ভে, আইনগত মতামত ও ইন্স্যুরেন্স-সংক্রান্ত বিল পরিশোধের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে কমিশন নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগকারীরা আরও দাবি করেছেন, ঘুষ, কমিশন ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে আব্দুল মালেক বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। ঢাকায় তার বাড়ি ও একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তার মোট সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১০০ কোটি টাকা বলে অভিযোগকারীদের দাবি। তবে এই সম্পদের পরিমাণ, মালিকানা এবং সম্পদ অর্জনের বৈধ উৎস সম্পর্কে সরকারি নথি বা নির্ভরযোগ্য তদন্ত ছাড়া নিশ্চিতভাবে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
অভিযোগকারীরা আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ ব্যাংক এবং জনতা ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন। তাদের দাবি, দুবাই শাখায় দায়িত্ব পালনকালের আর্থিক লেনদেন, ঋণ অনুমোদন ও বিতরণ, বিল পরিশোধ, কমিশন গ্রহণের অভিযোগ এবং বর্তমানে থাকা সম্পদের উৎস—সবকিছু তদন্তের আওতায় আনা হলে অভিযোগগুলোর সত্যতা বেরিয়ে আসতে পারে।
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে আব্দুল মালেকের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, আব্দুল মালেকের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।