আদালতের স্থগিতাদেশ, ঊর্ধ্বতন রাজস্ব কর্মকর্তার আপিল এবং পরবর্তী বাতিল আদেশ কোনোটিই যেন বাধা হতে পারেনি ঢাকার ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের কথিত নামজারি সিন্ডিকেটের! সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ রাকিবুল ইসলামের বিরুদ্ধে আদালতের আদেশ উপেক্ষা করে নামজারি প্রদান, প্রায় ১ কোটি টাকা ঘুষ লেনদেন এবং ইউনিয়ন ভূমি সহকারীদের সঙ্গে যোগসাজশে সরকারি জমি ব্যক্তি মালিকানায় নামজারি করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে নামজারি মামলা নং ১২৬৯১/২৫-২৬। ঢাকা বিভাগীয় কমিশনারের কাছে দেওয়া লিখিত অভিযোগে মোঃ মাহামুদুল হাসান মুরাদ দাবি করেছেন, সংশ্লিষ্ট তফসিলভুক্ত সম্পত্তি নিয়ে আদালতের স্থগিতাদেশ ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম চলমান থাকার বিষয়টি জানানো সত্ত্বেও ২৯ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ওই সম্পত্তির নামজারি দেওয়া হয়।
অভিযোগকারীর দাবি, নামজারির সুবিধাভোগী জনৈক রাম আনন্দ মন্ডলকে অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে নামজারি দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রায় এক কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও করা হয়েছে।
বাতিল হলো নামজারি, তবু বাস্তবায়নে গড়িমসি?
অভিযোগপত্র অনুযায়ী, বিষয়টি গড়ায় অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব), ঢাকার আপিল আদালতে। ১৭ আগস্ট ২০২৬ শুনানির পর ১২৬৯১/২৫-২৬ নম্বর নামজারি বাতিলের আদেশ দেওয়া হয় বলে অভিযোগকারী দাবি করেছেন।
কিন্তু এখানেই নতুন প্রশ্ন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশের পরও কেন সেটি বাস্তবায়নে বিলম্ব হচ্ছে?
অভিযোগকারীর দাবি, আদেশ বাস্তবায়নের পরিবর্তে ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) নানা ধরনের তালবাহানা করছেন। ফলে শুধু নামজারি প্রক্রিয়া নিয়েই নয়, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আদেশ বাস্তবায়ন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সরকারি জমি ‘ব্যক্তির’ করে দেওয়ার অভিযোগ
অভিযোগপত্রে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো ডেমরা রাজস্ব সার্কেলের সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে একাধিক সরকারি জমি ব্যক্তি মালিকানায় নামজারি করে দেওয়ার অভিযোগ।
এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি), ডেমরা রাজস্ব সার্কেল মোঃ রাকিবুল ইসলামের বক্তব্য জানতে চাইলে। তিনি অন্য একজন সাংবাদকর্মীর মাধ্যমে এ প্রতিনিধিকে ম্যানেজ করার চেষ্টা করেন।
নিজস্ব প্রতিবেদক 


















