ঢাকা ০৯:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বিষ মেশানো ভাত খেয়ে কাতরাচ্ছিলেন স্বামী, স্ত্রী এনে দিলেন বিষাক্ত শরবত হলিস্টিক গ্রুপের দুই শত কোটি টাকার প্রতারণা পবিপ্রবিতে গ্রেটার রাজশাহী স্টুডেন্ট অ্যালায়েন্সের নবীনবরণ ও বিদায় সংবর্ধনা গাজী নজরুল ইসলামকে বাদ দিয়েই সংসদীয় কমিটি গঠন রেলওয়ের প্রকৌশলী শাহ আলমের কুলখানি ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত মঠবাড়িয়ায় প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে দুটি  বিস্ফোরক ও হত্যা মামলার আসামী আল মামুন  অটোরিকশায় যুক্ত হচ্ছে কিউআর কোড ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং সিস্টেম অটোরিকশায় বছরে ৪ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতি : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘নিউ মেক্সিকো’র নাম পরিবর্তন করে ‘নিউ আমেরিকা’ রাখার প্রস্তাব ট্রাম্পের বাসা থেকে অফিসের কাজ সামলাচ্ছেন বিদ্যুৎমন্ত্রী, শিগগির ফিরবেন কর্মস্থলে
তিন হাজার পরিবার নিঃস্ব, নেপথ্যে প্রভাবশালী নেতা শিশির

হলিস্টিক গ্রুপের দুই শত কোটি টাকার প্রতারণা

চমকপ্রদ অফার আর অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে হাজারো মানুষের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিয়েছে ‘হলিস্টিক গ্রুপ’। সরকারের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী, শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন পেশার সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে দুইশত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রতারণামূলক চক্রের নেপথ্যে রয়েছেন হলিস্টিক গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), প্রভাবশালী ফ্যাসিস্ট নেতা শিশির আহমেদ। তাঁর এই অর্থ আত্মসাতের শিকার হয়ে এখন নিঃস্ব হাজারো পরিবার।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিশির আহমেদের নেতৃত্বে এই প্রতারণা সিন্ডিকেটে সরাসরি যুক্ত ছিলেন তাঁর তৈরি ম্যানেজমেন্টের অন্যতম সহযোগী হায়দার কবির মিথুন ও হাবিবউল্লাহ বাহার। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ সংগ্রহ করে পরবর্তীতে তা আত্মসাৎ করে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের পক্ষে ‘গ্রাহক কমিটি’র নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, গ্রাহকদের রক্তঘামে অর্জিত বিনিয়োগের টাকা ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত তারা আইনি লড়াই থেকে পিছু হটবেন না। প্রতারক শিশির, মিথুন ও বাহারের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে ইতোমধ্যে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কমিটির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, “আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু যতদিন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া না হবে, ততদিন পর্যন্ত দায়েরকৃত মামলাসমূহ কোনোভাবেই প্রত্যাহার করা হবে না; বড়জোর তা স্থগিত থাকতে পারে।

তারা আরও জানান, কোনো রকম জমিতে যৌথ মালিকানা দেওয়ার নাম করে মামলা প্রত্যাহারের শর্ত আপাতত মেনে নেওয়া হবে না। যেদিন সকল গ্রাহক তাঁদের বিনিয়োগকৃত টাকা বুঝে পাবেন, কেবল সেদিনই এই প্রতারক চক্রকে দায়মুক্তি দেওয়া হবে।

বিনিয়োগের টাকা ফেরত না দিলে এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি জেলায় মাসের ৩০ দিনই নতুন নতুন প্রতারণার মামলা দায়ের করে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে গ্রাহক কমিটি। একই সঙ্গে নিজেদের অধিকার আদায়ে সকল ভুক্তভোগী গ্রাহককে ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কমিটির নেতারা।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিষ মেশানো ভাত খেয়ে কাতরাচ্ছিলেন স্বামী, স্ত্রী এনে দিলেন বিষাক্ত শরবত

তিন হাজার পরিবার নিঃস্ব, নেপথ্যে প্রভাবশালী নেতা শিশির

হলিস্টিক গ্রুপের দুই শত কোটি টাকার প্রতারণা

আপডেট সময় ০৮:৪৩:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চমকপ্রদ অফার আর অধিক মুনাফার লোভ দেখিয়ে হাজারো মানুষের স্বপ্ন ধূলিসাৎ করে দিয়েছে ‘হলিস্টিক গ্রুপ’। সরকারের তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী, শ্রমজীবীসহ বিভিন্ন পেশার সাধারণ মানুষকে টার্গেট করে দুইশত কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এই প্রতারণামূলক চক্রের নেপথ্যে রয়েছেন হলিস্টিক গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা মালিক ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি), প্রভাবশালী ফ্যাসিস্ট নেতা শিশির আহমেদ। তাঁর এই অর্থ আত্মসাতের শিকার হয়ে এখন নিঃস্ব হাজারো পরিবার।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, শিশির আহমেদের নেতৃত্বে এই প্রতারণা সিন্ডিকেটে সরাসরি যুক্ত ছিলেন তাঁর তৈরি ম্যানেজমেন্টের অন্যতম সহযোগী হায়দার কবির মিথুন ও হাবিবউল্লাহ বাহার। এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ গ্রাহকদের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ সংগ্রহ করে পরবর্তীতে তা আত্মসাৎ করে।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের পক্ষে ‘গ্রাহক কমিটি’র নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানিয়েছেন, গ্রাহকদের রক্তঘামে অর্জিত বিনিয়োগের টাকা ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত তারা আইনি লড়াই থেকে পিছু হটবেন না। প্রতারক শিশির, মিথুন ও বাহারের বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন আদালতে ইতোমধ্যে একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।

কমিটির পক্ষ থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, “আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু যতদিন পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহকদের সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত দেওয়া না হবে, ততদিন পর্যন্ত দায়েরকৃত মামলাসমূহ কোনোভাবেই প্রত্যাহার করা হবে না; বড়জোর তা স্থগিত থাকতে পারে।

তারা আরও জানান, কোনো রকম জমিতে যৌথ মালিকানা দেওয়ার নাম করে মামলা প্রত্যাহারের শর্ত আপাতত মেনে নেওয়া হবে না। যেদিন সকল গ্রাহক তাঁদের বিনিয়োগকৃত টাকা বুঝে পাবেন, কেবল সেদিনই এই প্রতারক চক্রকে দায়মুক্তি দেওয়া হবে।

বিনিয়োগের টাকা ফেরত না দিলে এই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে ঢাকাসহ দেশের প্রতিটি জেলায় মাসের ৩০ দিনই নতুন নতুন প্রতারণার মামলা দায়ের করে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে গ্রাহক কমিটি। একই সঙ্গে নিজেদের অধিকার আদায়ে সকল ভুক্তভোগী গ্রাহককে ঐক্যবদ্ধ ও সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন কমিটির নেতারা।