ঢাকা ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
লাকসামে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি: থানায় জিডি ভোটার আইডি থাকতেও তা লুকিয়ে ৮ বছর বয়স কমানোর চাঞ্চল্যকর কারসাজি: কাঠগড়ায় ডিএসসিসি প্রশাসন! মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে সরকারের জিরো টলারেন্স: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়ার চেয়ারম্যানের আমন্ত্রণে নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী পরকীয়ার অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন গোবিন্দ নকল ডিম ব্যবসায়ী ফোরকান করেছেন অঢেল অর্থ, গড়েছেন অট্টালিকা ৩ বিভাগে বৃষ্টির আভাস, বাড়তে পারে তাপমাত্রা নেতানিয়াহুর নীতির বিরোধিতায় ভোট দিতে ফিরছেন প্রবাসীরা আনসার-ভিডিপির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ঘুরে দেখলেন চার দেশের কূটনীতিক নাগরপুরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে দলিল জালিয়াতির অভিযোগ

নোয়াখালীতে কান্না করায় ১৪ দিনের শিশুকে পানির ড্রামে ফেলে হত্যা, মা গ্রেপ্তার

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের প্লাস্টিকের ড্রামে ফেলে ১৪ দিন বয়সী এক নবজাতককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা সৌরভ হোসেন বাদী হয়ে স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেগমগঞ্জ থানায় মামলাটি করা হয়। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদারহাট সংলগ্ন বাজার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ওই দিন রাত ১০টার দিকে বসতঘরে রাখা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের একটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত নবজাতক সৌরভ হোসেনের ছেলে। মামলার আসামি ফাতেমা বেগম (১৯) বেগমগঞ্জ উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের শরীফ উল্যার মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রেমের সম্পর্কের পর সৌরভ হোসেন ও ফাতেমা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কলহ চলছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
সোমবার সন্ধ্যার পর পরিবারের সদস্যরা নবজাতককে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এ সময় ফাতেমাকে শিশুটির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে দাবি করেন, পেছন থেকে কেউ তাকে মাথায় আঘাত করে শিশুটিকে নিয়ে গেছে। পরে তিনি বলেন, জিন শিশুটিকে নিয়ে গেছে। তার বক্তব্যে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হলে ঘর ও আশপাশের এলাকায় খোঁজ শুরু করেন তারা।

একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে বসতঘরে রাখা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের একটি প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর নবজাতকের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ফাতেমা সন্তানকে ড্রামের পানিতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি অতিরিক্ত কান্নাকাটি করত এবং রাতে ঘুমাতে না দেওয়ায় বিরক্ত হয়ে ফাতেমা তাকে পানিভর্তি প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে ফেলে মুখ বন্ধ করে দেন। এতে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানায়।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জামান বলেন, নবজাতককে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার পরপরই তার মাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তদন্তের ভিত্তিতে নিহত শিশুর মা ফাতেমা বেগমকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ফাতেমা নবজাতককে বসতঘরে থাকা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ড্রামের পানিতে ফেলে দেন এবং ড্রামের মুখ বন্ধ করে দেন। এতে শিশুটির মৃত্যু হয়। নিহতের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার ফাতেমাকে আসামি হিসেবে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।
ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

লাকসামে সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি: থানায় জিডি

নোয়াখালীতে কান্না করায় ১৪ দিনের শিশুকে পানির ড্রামে ফেলে হত্যা, মা গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০৩:০৬:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের প্লাস্টিকের ড্রামে ফেলে ১৪ দিন বয়সী এক নবজাতককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিহত শিশুর বাবা সৌরভ হোসেন বাদী হয়ে স্ত্রী ফাতেমা বেগমকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা করেছেন।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) বেগমগঞ্জ থানায় মামলাটি করা হয়। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদারহাট সংলগ্ন বাজার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। ওই দিন রাত ১০টার দিকে বসতঘরে রাখা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের একটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

নিহত নবজাতক সৌরভ হোসেনের ছেলে। মামলার আসামি ফাতেমা বেগম (১৯) বেগমগঞ্জ উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের শরীফ উল্যার মেয়ে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের নভেম্বরে প্রেমের সম্পর্কের পর সৌরভ হোসেন ও ফাতেমা বেগমের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কলহ চলছিল বলে স্থানীয়রা জানান।
সোমবার সন্ধ্যার পর পরিবারের সদস্যরা নবজাতককে দেখতে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এ সময় ফাতেমাকে শিশুটির বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি প্রথমে দাবি করেন, পেছন থেকে কেউ তাকে মাথায় আঘাত করে শিশুটিকে নিয়ে গেছে। পরে তিনি বলেন, জিন শিশুটিকে নিয়ে গেছে। তার বক্তব্যে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হলে ঘর ও আশপাশের এলাকায় খোঁজ শুরু করেন তারা।

একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে বসতঘরে রাখা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের একটি প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর নবজাতকের মরদেহ পাওয়া যায়। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

পুলিশের দাবি, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ফাতেমা সন্তানকে ড্রামের পানিতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটি অতিরিক্ত কান্নাকাটি করত এবং রাতে ঘুমাতে না দেওয়ায় বিরক্ত হয়ে ফাতেমা তাকে পানিভর্তি প্লাস্টিকের ড্রামের মধ্যে ফেলে মুখ বন্ধ করে দেন। এতে শিশুটির মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানায়।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জামান বলেন, নবজাতককে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনার পরপরই তার মাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তদন্তের ভিত্তিতে নিহত শিশুর মা ফাতেমা বেগমকে একমাত্র আসামি করে হত্যা মামলা করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ফাতেমা নবজাতককে বসতঘরে থাকা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ড্রামের পানিতে ফেলে দেন এবং ড্রামের মুখ বন্ধ করে দেন। এতে শিশুটির মৃত্যু হয়। নিহতের বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। গ্রেপ্তার ফাতেমাকে আসামি হিসেবে নোয়াখালীর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হবে।
ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।