ঢাকা ১০:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে সরকারের জিরো টলারেন্স: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিপ্পন ফাউন্ডেশন ও সাসাকাওয়ার চেয়ারম্যানের আমন্ত্রণে নৈশভোজে প্রধানমন্ত্রী পরকীয়ার অভিযোগ নিয়ে মুখ খুললেন গোবিন্দ নকল ডিম ব্যবসায়ী ফোরকান করেছেন অঢেল অর্থ, গড়েছেন অট্টালিকা ৩ বিভাগে বৃষ্টির আভাস, বাড়তে পারে তাপমাত্রা নেতানিয়াহুর নীতির বিরোধিতায় ভোট দিতে ফিরছেন প্রবাসীরা আনসার-ভিডিপির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ঘুরে দেখলেন চার দেশের কূটনীতিক নাগরপুরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে দলিল জালিয়াতির অভিযোগ চৌদ্দগ্রামে নবজাতক উদ্ধার, পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪ যুবলীগ নেতা ছোট্টুর পরিবার পেল ৪ সরকারি ডিলারশিপ
নামজারির নামে ঘুষ আদায়

নাগরপুরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে দলিল জালিয়াতির অভিযোগ

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ধুবড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও তালিকাভুক্ত দলিল লেখক (সনদ নং- ৭৯৩) মো. মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে জমির খারিজ (নামজারি) করিয়ে দেওয়ার নামে দলিল জালিয়াতি এবং প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে গেলে ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

ভুক্তভোগী ধুবড়িয়া পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ মো. মাছেম আলী (৭০) জানান, তিনি তাঁর ৪২ শতাংশ জমির খারিজ করানোর জন্য সাবেক চেয়ারম্যান ও দলিল লেখক মো. মতিয়ার রহমানের কাছে যান। কাগজপত্র দেখার পর মতিয়ার রহমান দাবি করেন, দলিলের ‘জমির শ্রেণি’ এবং ‘খতিয়ান নম্বরে’ ভুল রয়েছে। এগুলো সংশোধন করে খারিজ করে দিতে হলে ১৫ হাজার টাকা দিতে হবে, অন্যথায় খারিজ করা সম্ভব নয়।

মাছেম আলীর অভিযোগ, তাঁকে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই টাকা নেওয়া হয় এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগাযোগ করতে নিষেধ করা হয়। বলা হয়, অফিসে কোনো যোগাযোগ করলে কাজ বিলম্বিত হবে এবং টাকাও ফেরত পাওয়া যাবে না।

পরবর্তীতে গত ৩ আগস্ট ধুবড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে একটি নামজারি আবেদন (মামলা নং: ১০৩১(IX-I)২০২৬-২৭, আবেদন নং: ১৬১৮৮৪২১) জমা দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ধুবড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ্ আল মামুন ভুক্তভোগীকে মূল দলিলসহ তলব করেন। কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ভুক্তভোগীর মূল দলিলে খতিয়ান নম্বর ১০৪৫ এবং জমির শ্রেণি ‘ছনখোলা’ উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু অনলাইনে দাখিলকৃত আবেদনে খতিয়ান নম্বর ১০৮৮ এবং শ্রেণি ‘কান্দা’ উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ধুবড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ্ আল মামুন জানান, ‘অনলাইনে জমা দেওয়া আবেদনের সঙ্গে মূল দলিলের তথ্যের কোনো মিল ছিল না। আবেদনটিতে দলিল টেম্পারিং বা জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ায় আমি এটি নামঞ্জুরের সুপারিশ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করেছি।’

বৃদ্ধ মাছেম আলী বলেন, ‘আমি অসুস্থ, চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে ভাতিজার কাছে জমি বিক্রি করেছি। কিন্তু নামজারি না হওয়ায় দলিল বুঝিয়ে দিতে পারছি না। মতিয়ার চেয়ারম্যান নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করছেন। আমি দ্রুত নামজারি শেষ করে জমি বিক্রি ও নিজের চিকিৎসা করাতে চাই।’

এদিকে একই ধরনের অভিযোগ করেছেন ধুবড়িয়া গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক ব্যক্তি। তিনি মুঠোফোনে অভিযোগ করে বলেন, তাঁর ১৬ শতাংশ জমি নামজারি করে দেওয়ার কথা বলে সাবেক এই চেয়ারম্যান তাঁর কাছ থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাবেক চেয়ারম্যান ও দলিল লেখক মো. মতিয়ার রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া এবং দলিল টেম্পারিং বা জালিয়াতির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মানবপাচার ও সংঘবদ্ধ অপরাধ দমনে সরকারের জিরো টলারেন্স: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

নামজারির নামে ঘুষ আদায়

নাগরপুরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে দলিল জালিয়াতির অভিযোগ

আপডেট সময় ০৯:০৪:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলার ধুবড়িয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও তালিকাভুক্ত দলিল লেখক (সনদ নং- ৭৯৩) মো. মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে জমির খারিজ (নামজারি) করিয়ে দেওয়ার নামে দলিল জালিয়াতি এবং প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিন অনুসন্ধানে গেলে ভুক্তভোগী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কাছ থেকে এসব তথ্য জানা যায়।

ভুক্তভোগী ধুবড়িয়া পশ্চিম পাড়ার বাসিন্দা বয়োবৃদ্ধ মো. মাছেম আলী (৭০) জানান, তিনি তাঁর ৪২ শতাংশ জমির খারিজ করানোর জন্য সাবেক চেয়ারম্যান ও দলিল লেখক মো. মতিয়ার রহমানের কাছে যান। কাগজপত্র দেখার পর মতিয়ার রহমান দাবি করেন, দলিলের ‘জমির শ্রেণি’ এবং ‘খতিয়ান নম্বরে’ ভুল রয়েছে। এগুলো সংশোধন করে খারিজ করে দিতে হলে ১৫ হাজার টাকা দিতে হবে, অন্যথায় খারিজ করা সম্ভব নয়।

মাছেম আলীর অভিযোগ, তাঁকে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে ওই টাকা নেওয়া হয় এবং ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যোগাযোগ করতে নিষেধ করা হয়। বলা হয়, অফিসে কোনো যোগাযোগ করলে কাজ বিলম্বিত হবে এবং টাকাও ফেরত পাওয়া যাবে না।

পরবর্তীতে গত ৩ আগস্ট ধুবড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে একটি নামজারি আবেদন (মামলা নং: ১০৩১(IX-I)২০২৬-২৭, আবেদন নং: ১৬১৮৮৪২১) জমা দেওয়া হয়।

পরবর্তীতে ধুবড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ্ আল মামুন ভুক্তভোগীকে মূল দলিলসহ তলব করেন। কাগজপত্র পর্যালোচনা করে দেখা যায়, ভুক্তভোগীর মূল দলিলে খতিয়ান নম্বর ১০৪৫ এবং জমির শ্রেণি ‘ছনখোলা’ উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু অনলাইনে দাখিলকৃত আবেদনে খতিয়ান নম্বর ১০৮৮ এবং শ্রেণি ‘কান্দা’ উল্লেখ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে ধুবড়িয়া ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ্ আল মামুন জানান, ‘অনলাইনে জমা দেওয়া আবেদনের সঙ্গে মূল দলিলের তথ্যের কোনো মিল ছিল না। আবেদনটিতে দলিল টেম্পারিং বা জালিয়াতির প্রমাণ পাওয়ায় আমি এটি নামঞ্জুরের সুপারিশ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট প্রতিবেদন দাখিল করেছি।’

বৃদ্ধ মাছেম আলী বলেন, ‘আমি অসুস্থ, চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে ভাতিজার কাছে জমি বিক্রি করেছি। কিন্তু নামজারি না হওয়ায় দলিল বুঝিয়ে দিতে পারছি না। মতিয়ার চেয়ারম্যান নানা অজুহাতে কালক্ষেপণ করছেন। আমি দ্রুত নামজারি শেষ করে জমি বিক্রি ও নিজের চিকিৎসা করাতে চাই।’

এদিকে একই ধরনের অভিযোগ করেছেন ধুবড়িয়া গ্রামের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অপর এক ব্যক্তি। তিনি মুঠোফোনে অভিযোগ করে বলেন, তাঁর ১৬ শতাংশ জমি নামজারি করে দেওয়ার কথা বলে সাবেক এই চেয়ারম্যান তাঁর কাছ থেকে সাড়ে ৭ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে সাবেক চেয়ারম্যান ও দলিল লেখক মো. মতিয়ার রহমানের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া এবং দলিল টেম্পারিং বা জালিয়াতির অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন।

এ বিষয়ে নাগরপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. জসিম উদ্দিন বলেন, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।