ঢাকা ০৯:৩০ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৩ বিভাগে বৃষ্টির আভাস, বাড়তে পারে তাপমাত্রা নেতানিয়াহুর নীতির বিরোধিতায় ভোট দিতে ফিরছেন প্রবাসীরা আনসার-ভিডিপির প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ঘুরে দেখলেন চার দেশের কূটনীতিক নাগরপুরে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে দলিল জালিয়াতির অভিযোগ চৌদ্দগ্রামে নবজাতক উদ্ধার, পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার ৪ যুবলীগ নেতা ছোট্টুর পরিবার পেল ৪ সরকারি ডিলারশিপ হাসপাতালে মঈন খানকে দেখতে গেলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম আইজিপির বক্তব্য প্রত্যাহারে ডিআরইউর ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম চাকরির মেয়াদ শেষ, আরও এক বছর অর্থসচিব থাকছেন খায়েরুজ্জামান লালপুরে অনলাইন জুয়ার আসরে অভিযান, ৬ মোবাইলসহ আটক ৩
খালেদা জিয়ার রায়ের খবরে দুই মণ মিষ্টি বিতরণ

যুবলীগ নেতা ছোট্টুর পরিবার পেল ৪ সরকারি ডিলারশিপ

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দুই মণ মিষ্টি বিতরণের অভিযোগে আলোচিত যুবলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন ছোট্টু ও তার পরিবারের নিয়ন্ত্রণে চারটি সরকারি ডিলারশিপ থাকার তথ্য সামনে এসেছে। তবে ডিলারশিপগুলো নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ছোট্টু।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেলোয়ার হোসেন ছোট্টুর নামে টিসিবি, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও সার ডিলারশিপ এবং তার স্ত্রী শাহীন আক্তারের নামে ওএমএস ডিলারশিপ রয়েছে।

একই পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক সরকারি ডিলারশিপ থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে এসব ডিলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা, যোগ্যতা ও অনুমোদনপ্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, দেলোয়ার হোসেন ছোট্টু এলাকায় ‘ছোট্টু ডাকাত’ নামে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে অতীতে ডাকাতি ও রাজনৈতিক সহিংসতাসহ একাধিক মামলা থাকার কথা জানিয়েছে সূত্রটি। একটি ব্যাংক ডাকাতির মামলায়ও তাকে আসামি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি মামলায়ও তিনি এজাহারভুক্ত আসামি বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন ছোট্টু। ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ ও ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও রাজনৈতিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে সরকারি ডিলারশিপে নিজের ও পরিবারের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন ছোট্টু। স্থানীয় সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রথমে জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর অনুসারীদের সঙ্গে এবং পরে বিএনপির একটি অংশের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন তিনি।

উপজেলা পরিষদের সামনে ‘মেসার্স সানিক ট্রেডার্স’ নামে তার একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে লোহাগাড়ায় বিএনপি ও জামায়াতের একাধিক নেতাকর্মী ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেও বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ছোট্টুর পক্ষে জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর ডিও বা সুপারিশপত্র দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা চলছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, ওএমএস, টিসিবি ও সার ডিলার নিয়োগের নীতিমালা আলাদা। ফলে একই ব্যক্তি বা পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক ডিলারশিপ থাকলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিধিবহির্ভূত হয় না। তবে প্রতিটি ডিলারশিপে প্রযোজ্য যোগ্যতা, পারিবারিক বিধিনিষেধ, সুপারিশ ও অনুমোদনপ্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে পারিবারিক বিধিনিষেধ মানা হয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দীন চৌধুরী সোহেল বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনের মামলার এজাহারনামীয় আসামি ও চিহ্নিত যুবলীগ নেতা এবং তার পরিবার কীভাবে এতগুলো ডিলারশিপ পেল, কার সুপারিশে পেল, তার জবাব উপজেলা প্রশাসন, খাদ্য কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তাকে দিতে হবে। অন্যথায় আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।’

অভিযোগের বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন ছোট্টু বলেন, ‘নিয়ম মেনেই ডিলারশিপ নিয়েছি।’ তবে তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও অন্যান্য অভিযোগ নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ-বিন-আখন্দ বলেন, ‘আবেদনগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা তদন্ত করেছেন। বিষয়গুলো তদন্তে উত্থাপন করা হয়নি বলে আমি জানতে পারিনি। অভিযোগের বিষয়ে লিখিত আবেদন পাইনি। তবু সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তথ্য যাচাই করে তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি।’

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৩ বিভাগে বৃষ্টির আভাস, বাড়তে পারে তাপমাত্রা

খালেদা জিয়ার রায়ের খবরে দুই মণ মিষ্টি বিতরণ

যুবলীগ নেতা ছোট্টুর পরিবার পেল ৪ সরকারি ডিলারশিপ

আপডেট সময় ০৮:৩৯:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন প্রয়াত বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে রায়ের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দুই মণ মিষ্টি বিতরণের অভিযোগে আলোচিত যুবলীগ নেতা দেলোয়ার হোসেন ছোট্টু ও তার পরিবারের নিয়ন্ত্রণে চারটি সরকারি ডিলারশিপ থাকার তথ্য সামনে এসেছে। তবে ডিলারশিপগুলো নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছেন ছোট্টু।

স্থানীয় সূত্র ও সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেলোয়ার হোসেন ছোট্টুর নামে টিসিবি, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি ও সার ডিলারশিপ এবং তার স্ত্রী শাহীন আক্তারের নামে ওএমএস ডিলারশিপ রয়েছে।

একই পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক সরকারি ডিলারশিপ থাকায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষ করে এসব ডিলারশিপ পাওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা, যোগ্যতা ও অনুমোদনপ্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, দেলোয়ার হোসেন ছোট্টু এলাকায় ‘ছোট্টু ডাকাত’ নামে পরিচিত। তার বিরুদ্ধে অতীতে ডাকাতি ও রাজনৈতিক সহিংসতাসহ একাধিক মামলা থাকার কথা জানিয়েছে সূত্রটি। একটি ব্যাংক ডাকাতির মামলায়ও তাকে আসামি করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন-সংক্রান্ত একটি মামলায়ও তিনি এজাহারভুক্ত আসামি বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন ছোট্টু। ২০০৮, ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ ও ভোটকেন্দ্রে অনিয়মের সঙ্গেও তার সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও রাজনৈতিক যোগাযোগ কাজে লাগিয়ে সরকারি ডিলারশিপে নিজের ও পরিবারের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখেন ছোট্টু। স্থানীয় সূত্রের দাবি, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর প্রথমে জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর অনুসারীদের সঙ্গে এবং পরে বিএনপির একটি অংশের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন তিনি।

উপজেলা পরিষদের সামনে ‘মেসার্স সানিক ট্রেডার্স’ নামে তার একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে সরকারি কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিদের সঙ্গে অনৈতিক লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া গেছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে লোহাগাড়ায় বিএনপি ও জামায়াতের একাধিক নেতাকর্মী ডিলারশিপের জন্য আবেদন করেও বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। ছোট্টুর পক্ষে জামায়াতের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর ডিও বা সুপারিশপত্র দেওয়ার অভিযোগ নিয়েও স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে সমালোচনা চলছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচি, ওএমএস, টিসিবি ও সার ডিলার নিয়োগের নীতিমালা আলাদা। ফলে একই ব্যক্তি বা পরিবারের সদস্যদের নামে একাধিক ডিলারশিপ থাকলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিধিবহির্ভূত হয় না। তবে প্রতিটি ডিলারশিপে প্রযোজ্য যোগ্যতা, পারিবারিক বিধিনিষেধ, সুপারিশ ও অনুমোদনপ্রক্রিয়া যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা যাচাই করা প্রয়োজন। বিশেষ করে সার ডিলার নিয়োগের ক্ষেত্রে পারিবারিক বিধিনিষেধ মানা হয়েছে কি না, তা তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য সালাহ উদ্দীন চৌধুরী সোহেল বলেন, ‘ছাত্র আন্দোলনের মামলার এজাহারনামীয় আসামি ও চিহ্নিত যুবলীগ নেতা এবং তার পরিবার কীভাবে এতগুলো ডিলারশিপ পেল, কার সুপারিশে পেল, তার জবাব উপজেলা প্রশাসন, খাদ্য কর্মকর্তা ও কৃষি কর্মকর্তাকে দিতে হবে। অন্যথায় আমরা কঠোর আন্দোলনে যাব।’

অভিযোগের বিষয়ে দেলোয়ার হোসেন ছোট্টু বলেন, ‘নিয়ম মেনেই ডিলারশিপ নিয়েছি।’ তবে তার রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা ও অন্যান্য অভিযোগ নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

লোহাগাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বায়েজিদ-বিন-আখন্দ বলেন, ‘আবেদনগুলো সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা তদন্ত করেছেন। বিষয়গুলো তদন্তে উত্থাপন করা হয়নি বলে আমি জানতে পারিনি। অভিযোগের বিষয়ে লিখিত আবেদন পাইনি। তবু সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে তথ্য যাচাই করে তদন্ত এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছি।’