ঢাকা ০৫:০১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৮ অগাস্ট ২০২৬, ২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
নিখোঁজের একদিন পর পায়রা নদীতে মিলল জুঁইয়ের মরদেহ আমিরাতে বাংলাদেশিদের ভিসা বাতিলের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে সরকার: প্রবাসীকল্যাণমন্ত্রী শেখ মুজিবকে নিয়ে পোস্ট দেওয়ায় কলেজ শিক্ষক বরখাস্ত মাদক ব্যবসার অভিযোগে দারাজের বিরুদ্ধে মামলা নারকোটিক্সের সার্কে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে চায় বাংলাদেশ মামলা প্রত্যাহার না করলে মিলবে না নীতি সহায়তা জ্বালানি সংকট দূর করতে নেওয়া হচ্ছে তিন পরিকল্পনা: সেতুমন্ত্রী এসএসসি-এইচএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়নে আসছে নতুন নীতিমালা বড়পুকুরিয়ায় কয়লাখনির ১৬৮ শ্রমিককে পুনর্বহালের দাবিতে লাগাতার আন্দোলন সাবেক আইজিপি বেনজীরের বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ পেছাল

২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেলের মোট লোকসান ১৮৮৯ কোটি টাকা

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৮৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা। সংস্থাটি মোট ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আয় করলেও পরিচালন ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা।
রবিবার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) আনিসুর রহমানের পাঠানো এক বার্তা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

তবে আগের অর্থবছরের তুলনায় আয় ও ব্যয়ের অনুপাত কিছুটা উন্নত হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় ছিল ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয় মোট ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

অর্থাৎ এক বছরে রেলের আয় বেড়েছে ২২১ কোটি টাকার বেশি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার ফলে গত অর্থবছরে রেলওয়ের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি আয় বেড়েছে যাত্রী পরিবহন খাতে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে আয় বেড়েছে ২৫৬ কোটি টাকা।

তবে ইঞ্জিন সংকটের কারণে মালামাল পরিবহন খাতে আয় কমেছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। অন্যদিকে ভূ-সম্পত্তি খাতে ৩ কোটি টাকা এবং অপটিক্যাল ফাইবার লিজ থেকে ১১ কোটি ৫২ লাখ টাকা বেশি আয় হয়েছে।

এছাড়া পরিবহন ও বাণিজ্যিক খাতে ভেন্ডিং লাইসেন্স এবং বিবিধ উৎস থেকে মোট আয় কমেছে প্রায় ২৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

রেলওয়ের পরিচালন ব্যয়ের মধ্যে বেতন-ভাতা, পেনশন, রেলপথ ও রোলিং স্টকের রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব ব্যয় বিবেচনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয় ও ব্যয়ের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯১, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২ দশমিক ০৯।

অর্থাৎ আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান কিছুটা কমেছে।
তবে বাংলাদেশ রেলওয়ের দাবি, প্রতিবছর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা পেনশন খাতে ব্যয় হয়, যা পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত করাকে তারা সমীচীন মনে করে না। এই ব্যয় বাদ দিলে অপারেটিং রেশিও দাঁড়ায় ১ দশমিক ৪৩। সে হিসাবে পেনশন ব্যতীতও রেলের আয়-ব্যয়ের ঘাটতি থাকে ৮৮৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন ব্যবস্থা হওয়ায় যাত্রীদের জন্য রেয়াতি ভাড়া বহাল রাখা হয়েছে। ২০১৬ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত রেলভাড়া বাড়ানো হয়নি। এ সময়ে রক্ষণাবেক্ষণ সামগ্রীর দাম, আমদানিনির্ভর ব্যয়, ডলারের বিনিময় হার, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন এবং জ্বালানি তেলের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

রেলওয়ের মতে, বর্তমান ভাড়া প্রায় এক দশক ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যান্য পরিবহন মাধ্যম ও বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রেলভাড়া যৌক্তিকভাবে সমন্বয় করা হলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান আরো কমে আসবে। এ কারণে বাংলাদেশ রেলওয়েকে কেবল লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা সমীচীন নয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিখোঁজের একদিন পর পায়রা নদীতে মিলল জুঁইয়ের মরদেহ

২০২৫-২৬ অর্থবছরে রেলের মোট লোকসান ১৮৮৯ কোটি টাকা

আপডেট সময় ০৬:৩৫:১৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ রেলওয়ের মোট লোকসান দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮৮৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা। সংস্থাটি মোট ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আয় করলেও পরিচালন ব্যয় হয়েছে ৩ হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা।
রবিবার (১৯ জুলাই) বাংলাদেশ রেলওয়ের পরিচালক (জনসংযোগ) আনিসুর রহমানের পাঠানো এক বার্তা থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

তবে আগের অর্থবছরের তুলনায় আয় ও ব্যয়ের অনুপাত কিছুটা উন্নত হয়েছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আয় ছিল ১ হাজার ৮৪৫ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয় মোট ২ হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা।

অর্থাৎ এক বছরে রেলের আয় বেড়েছে ২২১ কোটি টাকার বেশি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নানা প্রতিকূলতা সত্ত্বেও বিভিন্ন উদ্যোগ ও প্রচেষ্টার ফলে গত অর্থবছরে রেলওয়ের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি আয় বেড়েছে যাত্রী পরিবহন খাতে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে আয় বেড়েছে ২৫৬ কোটি টাকা।

তবে ইঞ্জিন সংকটের কারণে মালামাল পরিবহন খাতে আয় কমেছে ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। অন্যদিকে ভূ-সম্পত্তি খাতে ৩ কোটি টাকা এবং অপটিক্যাল ফাইবার লিজ থেকে ১১ কোটি ৫২ লাখ টাকা বেশি আয় হয়েছে।

এছাড়া পরিবহন ও বাণিজ্যিক খাতে ভেন্ডিং লাইসেন্স এবং বিবিধ উৎস থেকে মোট আয় কমেছে প্রায় ২৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।

রেলওয়ের পরিচালন ব্যয়ের মধ্যে বেতন-ভাতা, পেনশন, রেলপথ ও রোলিং স্টকের রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব ব্যয় বিবেচনায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয় ও ব্যয়ের অনুপাত দাঁড়িয়েছে ১ দশমিক ৯১, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২ দশমিক ০৯।

অর্থাৎ আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান কিছুটা কমেছে।
তবে বাংলাদেশ রেলওয়ের দাবি, প্রতিবছর প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা পেনশন খাতে ব্যয় হয়, যা পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত করাকে তারা সমীচীন মনে করে না। এই ব্যয় বাদ দিলে অপারেটিং রেশিও দাঁড়ায় ১ দশমিক ৪৩। সে হিসাবে পেনশন ব্যতীতও রেলের আয়-ব্যয়ের ঘাটতি থাকে ৮৮৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়, বাংলাদেশ রেলওয়ে একটি রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন ব্যবস্থা হওয়ায় যাত্রীদের জন্য রেয়াতি ভাড়া বহাল রাখা হয়েছে। ২০১৬ সালের পর থেকে এখন পর্যন্ত রেলভাড়া বাড়ানো হয়নি। এ সময়ে রক্ষণাবেক্ষণ সামগ্রীর দাম, আমদানিনির্ভর ব্যয়, ডলারের বিনিময় হার, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন এবং জ্বালানি তেলের মূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

রেলওয়ের মতে, বর্তমান ভাড়া প্রায় এক দশক ধরে অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যান্য পরিবহন মাধ্যম ও বাজারদরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রেলভাড়া যৌক্তিকভাবে সমন্বয় করা হলে আয় ও ব্যয়ের ব্যবধান আরো কমে আসবে। এ কারণে বাংলাদেশ রেলওয়েকে কেবল লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা সমীচীন নয় বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।