ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
মায়ের সুস্থতায় দানবাক্সে সন্তানের হৃদয়ছোঁয়া চিরকুট ও সোনার দুল জিদানের ছেলের বিশ্বকাপ শেষ! পঞ্চগড়ে ট্রাকচাপায় আইনজীবী নিহত ঝিনাইগাতীতে প্রেমসংক্রান্ত বিরোধে উত্তেজনা, সংঘর্ষে আহত ৩ কমলনগরে কৃষকদের মাঝে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরের ম্যানেজার হাফিজ চক্রের দূর্নীতি এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আজ ২৮ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে বড়লেখা উপজেলায় অবস্থিত সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও র‍্যালির আয়োজন করা হয়। শোয়েব চৌধুরীকে মাল্টা সরকারের বিশেষ সম্মাননা রাতের মধ্যে ১১ অঞ্চলে ৮০ কিলোমিটার বেগে ঝড়ের আভাস আর ‘ভালো লোক’ থাকব না, অস্ত্র হাতে ছবি দিয়ে ট্রাম্পের হুমকি

ডে-কেয়ারে বেঁধে রাখা হতো শিশুদের, শরীরে আঘাতের চিহ্ন

ইন্দোনেশিয়ার ইয়োগ্যাকার্তা শহরের একটি ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশুদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন ও অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, এ নির্যাতনের শিকার হয়েছে অন্তত ৫৩ শিশু। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিবিসি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘লিটল আরেশা’ নামের ওই ডে-কেয়ার সেন্টারটি বহুদিন ধরে অভিভাবকদের কাছে নিরাপদ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু গত শুক্রবার হঠাৎ পুলিশের অভিযানে বেরিয়ে আসে ভয়ংকর সব তথ্য।

স্থানীয় এক অভিভাবক জানান, অভিযানের সময় পাওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুদের হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। বেশিরভাগ শিশুর শরীরেই কোনো কাপড় ছিল না, কেবল ডায়াপার পরানো ছিল।

পুলিশের অভিযোগ, ডে-কেয়ারটির ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চলছিল। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান, ফাউন্ডেশনের প্রধানসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তদন্তকারীরা জানান, অভিযানের সময় কয়েকটি ছোট কক্ষ পাওয়া যায়। যেখানে প্রায় তিন মিটার জায়গার মধ্যে গাদাগাদি করে ২০ জন শিশুকে রাখা হতো। এছাড়া অনেক শিশুর শরীরে আঘাতের চিহ্নও পাওয়া গেছে।

ডে-কেয়ারটিতে মোট ১০৩ জন শিশু ছিল। এর মধ্যে অন্তত ৫৩ জন শারীরিক নির্যাতন বা অবহেলার শিকার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ‘লিটল আরেশা’ কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। পুলিশের অভিযানের পর প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার অন্যান্য ডে কেয়ারগুলোর ওপরও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অনেক কেন্দ্রই যথাযথ লাইসেন্স ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষের দাবি।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের জন্য শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদের জন্যও ট্রমা নিরসন সহায়তা দেওয়া হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মায়ের সুস্থতায় দানবাক্সে সন্তানের হৃদয়ছোঁয়া চিরকুট ও সোনার দুল

ডে-কেয়ারে বেঁধে রাখা হতো শিশুদের, শরীরে আঘাতের চিহ্ন

আপডেট সময় ০৬:৪০:৩৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ার ইয়োগ্যাকার্তা শহরের একটি ডে-কেয়ার সেন্টারে শিশুদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন ও অবহেলার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, এ নির্যাতনের শিকার হয়েছে অন্তত ৫৩ শিশু। সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিবিসি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘লিটল আরেশা’ নামের ওই ডে-কেয়ার সেন্টারটি বহুদিন ধরে অভিভাবকদের কাছে নিরাপদ হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু গত শুক্রবার হঠাৎ পুলিশের অভিযানে বেরিয়ে আসে ভয়ংকর সব তথ্য।

স্থানীয় এক অভিভাবক জানান, অভিযানের সময় পাওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, শিশুদের হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। বেশিরভাগ শিশুর শরীরেই কোনো কাপড় ছিল না, কেবল ডায়াপার পরানো ছিল।

পুলিশের অভিযোগ, ডে-কেয়ারটির ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে শিশুদের ওপর অমানবিক নির্যাতন চলছিল। এ ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির প্রধান, ফাউন্ডেশনের প্রধানসহ মোট ১৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

তদন্তকারীরা জানান, অভিযানের সময় কয়েকটি ছোট কক্ষ পাওয়া যায়। যেখানে প্রায় তিন মিটার জায়গার মধ্যে গাদাগাদি করে ২০ জন শিশুকে রাখা হতো। এছাড়া অনেক শিশুর শরীরে আঘাতের চিহ্নও পাওয়া গেছে।

ডে-কেয়ারটিতে মোট ১০৩ জন শিশু ছিল। এর মধ্যে অন্তত ৫৩ জন শারীরিক নির্যাতন বা অবহেলার শিকার হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পুলিশ আরও জানিয়েছে, ‘লিটল আরেশা’ কোনো বৈধ অনুমতি ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছিল। পুলিশের অভিযানের পর প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

এ ঘটনায় দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার অন্যান্য ডে কেয়ারগুলোর ওপরও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। অনেক কেন্দ্রই যথাযথ লাইসেন্স ছাড়া পরিচালিত হচ্ছে বলে কর্তৃপক্ষের দাবি।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত শিশুদের জন্য শারীরিক ও মানসিক পরীক্ষা নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি তাদের অভিভাবকদের জন্যও ট্রমা নিরসন সহায়তা দেওয়া হবে।