ঢাকা ০১:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, চট্টগ্রাম পতেঙ্গা মডেল থানায় জিডি ভয়ংকর জাকারিয়া : রাজউক যেন দুর্নীতির ‘সেফ জোন’ রাজউকের ইমারত পরিদর্শক শামীম রেজার ‘ঘুষের হাটে’ নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মান লেকশোর কর্তৃপক্ষের দাপট ১০০ কোটির প্লট কিনল এক কোটিতে নকল মালিক সাজিয়ে গুলশানে সরকারি প্লট দখলে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সুন্নতে খাৎনা করতে গিয়ে ভুয়া ডাক্তার খলিল গ্রেপ্তার মহেশপুরে সাইফুল ইসলামের ঘুষ বাণিজ্য বড়লেখা পৌর শহরের ৬নং ওয়ার্ড এর অন্তর্গত মুড়িড়গুলে ইউনি-ব্লক দ্বারা রাস্তা উন্নয়নের কাজ উদ্বোধন করলেন মৌলভীবাজার -১ সংসদীয় আসনের মাননীয় এমপি আলহাজ্ব নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু। সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ায় হাজী জসিম উদ্দিনকে সংবর্ধনা ​নিজ গ্রামে ফুলে ফুলে সংবর্ধিত হলেন এমপি জসিম উদ্দিন  বোরহানউদ্দিনে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবিতে কলেজছাত্র অপহরণ: থানায় অভিযোগ 

বোরহানউদ্দিনে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবিতে কলেজছাত্র অপহরণ: থানায় অভিযোগ 

‎ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় এক কলেজ ছাত্রকে অপহরণ করে বেধড়ক মারধর এবং ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি গত ১০ এপ্রিল বিকেলে বোরহানউদ্দিন সরকারি আব্দুল জব্বার কলেজ এলাকায় ঘটে।
‎অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোঃ মাসুম (২০) লালমোহন উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং সরকারি আব্দুল জব্বার কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি কলেজের ছাত্রাবাসে বসবাস করতেন।
‎ঘটনার দিন বিকাল আনুমানিক ৫টা ১৫ মিনিটে একই কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র মোঃ তাওহিদ (২২) মেসেঞ্জারের মাধ্যমে মাসুমকে কলেজ মাঠে ডেকে নেয়। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া মোঃ মেহেদী (২৫) সহ কয়েকজন মিলে তাকে কলেজের পেছনে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে।
‎মারধরের একপর্যায়ে অভিযুক্তরা মাসুমের কাছ থেকে নগদ ৬০০ টাকা এবং আনুমানিক ৫৭ হাজার ৫০০ শত  টাকা মূল্যের একটি আইফোন ১৩ প্রো ছিনিয়ে নেয়। পরে তাকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে কাচিয়া ইউনিয়নের একটি নির্জন বাগানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আবারও লাঠি দিয়ে মারধর করে তার পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা পাঠানোর জন্য একটি বিকাশ নম্বরও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
‎এক পর্যায়ে মাসুম প্রাণভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
‎ভুক্তভোগীর বাবা সালাউদ্দিন বলেন, “অনেক আশা নিয়ে ছেলেকে কলেজে ভর্তি করিয়েছিলাম। এমন ঘটনার শিকার হবে তা কখনো ভাবিনি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
‎এ বিষয়ে সরকারি আব্দুল জব্বার কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল হালিম জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‎বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান  জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‎অন্যদিকে, অভিযুক্ত তাওহিদের বাবা নুর ইসলাম তার ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান। এছাড়া অপর অভিযুক্ত মেহেদীর পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, চট্টগ্রাম পতেঙ্গা মডেল থানায় জিডি

বোরহানউদ্দিনে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবিতে কলেজছাত্র অপহরণ: থানায় অভিযোগ 

আপডেট সময় ১১:৫৪:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬
‎ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় এক কলেজ ছাত্রকে অপহরণ করে বেধড়ক মারধর এবং ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। ঘটনাটি গত ১০ এপ্রিল বিকেলে বোরহানউদ্দিন সরকারি আব্দুল জব্বার কলেজ এলাকায় ঘটে।
‎অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মোঃ মাসুম (২০) লালমোহন উপজেলার চরভূতা ইউনিয়নের বাসিন্দা এবং সরকারি আব্দুল জব্বার কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি কলেজের ছাত্রাবাসে বসবাস করতেন।
‎ঘটনার দিন বিকাল আনুমানিক ৫টা ১৫ মিনিটে একই কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের ছাত্র মোঃ তাওহিদ (২২) মেসেঞ্জারের মাধ্যমে মাসুমকে কলেজ মাঠে ডেকে নেয়। সেখানে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া মোঃ মেহেদী (২৫) সহ কয়েকজন মিলে তাকে কলেজের পেছনে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করে।
‎মারধরের একপর্যায়ে অভিযুক্তরা মাসুমের কাছ থেকে নগদ ৬০০ টাকা এবং আনুমানিক ৫৭ হাজার ৫০০ শত  টাকা মূল্যের একটি আইফোন ১৩ প্রো ছিনিয়ে নেয়। পরে তাকে জোরপূর্বক একটি অটোরিকশায় তুলে কাচিয়া ইউনিয়নের একটি নির্জন বাগানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আবারও লাঠি দিয়ে মারধর করে তার পরিবারের কাছে ২০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা পাঠানোর জন্য একটি বিকাশ নম্বরও দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
‎এক পর্যায়ে মাসুম প্রাণভয়ে সেখান থেকে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে বোরহানউদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
‎ভুক্তভোগীর বাবা সালাউদ্দিন বলেন, “অনেক আশা নিয়ে ছেলেকে কলেজে ভর্তি করিয়েছিলাম। এমন ঘটনার শিকার হবে তা কখনো ভাবিনি। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
‎এ বিষয়ে সরকারি আব্দুল জব্বার কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আব্দুল হালিম জানান, অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‎বোরহানউদ্দিন থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মনিরুজ্জামান  জানান, অভিযোগটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
‎অন্যদিকে, অভিযুক্ত তাওহিদের বাবা নুর ইসলাম তার ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান। এছাড়া অপর অভিযুক্ত মেহেদীর পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।