ঢাকা ০৩:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তুলে ধরা হলো কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের আয়-ব্যয় ও উন্নয়ন অগ্রগতি কীর্তনখোলায় ফুল ভাসিয়ে ববি’র চাকমা শিক্ষার্থীদের ‘ফুল বিজু’ উদযাপন এবার আ.লীগপন্থী দুই শিক্ষকের দখলে থাকছে বেরোবির বইমেলার দায়িত্ব ২০ দিনের ছুটি নিয়ে তিন মাস যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালক সিসি ক্যামেরায় ৫ লাখ টাকার ঘুষ গ্রহণের দৃশ্য, ঢাকায় কোটি টাকার ফ্ল্যাট সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, চট্টগ্রাম পতেঙ্গা মডেল থানায় জিডি ভয়ংকর জাকারিয়া, রাজউক যেন দুর্নীতির ‘সেফ জোন’ রাজউকের ইমারত পরিদর্শক শামীম রেজার ‘ঘুষের হাটে’ নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মান লেকশোর কর্তৃপক্ষের দাপট ১০০ কোটির প্লট কিনল এক কোটিতে নকল মালিক সাজিয়ে গুলশানে সরকারি প্লট দখলে

লেকশোর কর্তৃপক্ষের দাপট ১০০ কোটির প্লট কিনল এক কোটিতে

গুলশানের ৪১ নম্বর সড়কের ৪৩ নম্বর প্লটটি জালিয়াতির মাধ্যমে দখল করার অভিযোগ উঠেছে হোটেল লেকশোর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সহকারী পরিচালক মো. সহিদুর রহমান এই অভিযোগটি অনুসন্ধান করছেন। তিনি অনুসন্ধানের স্বার্থে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চেয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাজউক চেয়ারম্যানকে চিঠি দেন।
চিঠিতে সংশ্লিষ্ট প্লটের সিএস, আরএস ও সিটি জরিপ সংক্রান্ত নথিপত্র চাওয়া হয়। এছাড়া প্লটটি ১৯৬২ সালে ৩০ মার্চ হাবিবা সুলতানা জাইদীর নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কিনা এবং প্লটের সর্বশেষ মালিকানা নথিপত্রসহ এ সংক্রান্ত অন্য কোনো নথিপত্র থাকলে ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দুদকে জমা দিতে বলা হয়। দুদক সূত্রে জানা গেছে, নোটিশের পর এ সংক্রান্ত কিছু নথিপত্র রাজউক থেকে দুদকে পাঠানো হয়েছে, যা এখন যাচাই-বাছাই চলছে।
দুদকের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, আদালতের আদেশে নিলামের মাধ্যমে প্রায় এক বিঘা আয়তনের ৪৩ নম্বর প্লটটি এক কোটি টাকায় ক্রয় করেন নুরুল ইসলাম মনি গং। পরে প্লটটি লেকশোর হোটেল মালিকপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্লটটির বাজার মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা। তবে প্লটটিতে কোনো স্থাপনা তৈরি করা হয়নি, খালি রয়েছে। এটি নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান কাজ শেষপর্যায়ে। শিগগিরই কমিশনে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করবে অনুসন্ধান টিম।
দুদকের কাছে থাকা অভিযোগে বলা হয়, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে নুরুল ইসলাম মনি গং প্রভাব খাটিয়ে প্রায় এক বিঘা আয়তনের ৪৩ নম্বর প্লটটি মাত্র এক কোটি টাকায় নিলামে ক্রয় করে। সব আইনি প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে মাত্র সাত দিনের মধ্যে নিলাম বহাল, বায়নানামা-দখলনামাসহ সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। প্লটটির মালিক রীনা হুমায়ুনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত নিলাম আপিল বিভাগে বাতিল হয়। তারপরও লেকশোর হোটেল কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে প্লট দখল করে রেখেছে।
হোটেল লেকশোরের দখলে থাকা প্লটটি ১৯৬২ সালের ৩০ মার্চ হাবিবা সুলতানা জায়েদীর নামে বরাদ্দ দেয় তৎকালীন ডিআইটি। এরপর ১৯৬৩ সালের ২৭ মার্চ প্লটের দলিল (নম্বর ৪৪৫৯) সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি হয়। হাবিবা সুলতানা জায়েদী ১৯৭৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হলফনামা সম্পাদন করে প্লটটি তার একমাত্র মেয়ে মমতাজ বেগমকে দান করেন, যেটি ১৯৭৮ সালের ২১ এপ্রিল সম্পন্ন হয়।
মমতাজ বেগম প্লটটিতে বাড়ি নির্মাণের জন্য অগ্রণী ব্যাংক থেকে ১৯৭৭ সালের ১৯ জুলাই তিন লাখ টাকা ঋণ নেন। এর মধ্যে ২০টি কিস্তি বাবদ ঋণের দুই লাখ ১৬ হাজার ৭৯২ টাকা পরিশোধ করেন। আর অবশিষ্ট ১৩টি কিস্তি ও সুদসহ এক লাখ ৩০ হাজার টাকা অপরিশোধিত থেকে যায়। মমতাজ বেগম ১৯৮৬ সালের ২৭ এপ্রিল প্লটটি ২৫ লাখ মূল্য ধরে রীনা হুমায়ুনের স্বামী হূমায়ুনকে আমমোক্তার নিয়োগ করেন। ওই সময়ে রীনা হুমায়ুন বায়না বাবদ ১১ লাখ ৬০ হাজার টাকা প্রদান করেন এবং ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা বাকি থাকে। আমমোক্তার নিয়োগের সময় মমতাজ বেগম ব্যাংকে প্লট বন্ধক রেখে যে পরিমাণ ঋণ নিয়েছেন, সেটি গোপন রাখেন।
এদিকে ঋণ পরিশোধ না করায় ১৯৮৯ সালের ৩১ মার্চ ব্যাংক পাওনা টাকা দাবি করে মমতাজ বেগম ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে ঢাকার বাণিজ্যিক আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমা (নম্বর ৭৯/৮৯) দায়ের করে। ১৯৯১ সালের ৯ জুন প্রাথমিক ডিক্রি লাভ করে। কিন্তু তিন বছরের মধ্যে চূড়ান্ত ডিক্রির জন্য আবেদন করেনি। ফলে ডিক্রিটি তামাদি হয়ে যায়। অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ১২ বছরের মধ্যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
অভিযোগ রয়েছে, চূড়ান্ত ডিক্রি না হলেও অর্থজারি মামলা (নং-৪১৭/২০০৩) দায়ের করা হয়। এ মামলায় নুরুল ইসলাম মনি গং প্রভাব খাটিয়ে বেআইনি ও প্রতারণামূলক নিলাম দরপত্রের মাধ্যমে ২০০৫ সালের ১৪ জুলাই মাত্র এক কোটি টাকায় প্লটটি ক্রয় করে। নিলাম ইশতেহার জারি না করে এবং ১৫ দিন পূর্বে নিলাম বিজ্ঞপ্তি বিজ্ঞ আদালতে দাখিল না করে আইনের বিধি-বিধান লঙ্ঘনের মাধ্যমে একক দরপত্র দাখিল করে বিচারক ও ব্যাংক অফিসারদের ওপর প্রভাব খাটিয়ে নুরুল ইসলাম মনি গং প্লটটি নিলামে ক্রয় করে এবং সব প্রক্রিয়া সাত দিনের মধ্যে সম্পন্ন করে। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এ নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযোগে বলা হয়, বেআইনি নিলাম কার্যক্রমের বিরুদ্ধে রীনা হুমায়ুন ঢাকার পঞ্চম যুগ্ম-জেলা জজ আদালতে নিলাম বাতিলের জন্য দেওয়ানি মোকদ্দমা (নম্বর ৯/২০০৮) দায়ের করেন। ওই মোকদ্দমা ২০১১ সালের ২৩ আগস্ট ডিক্রি হয় এবং আদালত উক্ত নিলাম কার্যক্রম নজিরবিহীন, জালিয়াতি, প্রতারণামূলক, যোগসাজশি, বেআইনি ও বাতিল ঘোষণা করে। ওই রায়ের বিরুদ্ধে অগ্রণী ব্যাংক এবং নুরুল ইসলাম মনি গং হাইকোর্টের ফার্স্ট আপিল (এফ.এ) নম্বর ৮৫/২০১২ দায়ের করেন, যা ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর খারিজ হয়ে যায়।
আপিল বিভাগ সম্পত্তিটি পুনরায় যথাযথভাবে নিলামে বিক্রয় করে রীনা হুমায়ুনকে তার পরিশোধিত ২৫ লাখ টাকা, ১৫ ভাগ সরল সুদসহ পরিশোধের নির্দেশ দেয়। এছাড়া আদালতে দাখিল করা টাকা উঠিয়ে নেওয়ার অনুমতি দেন। একইসঙ্গে সোলেটিয়াম হিসেবে রীনা হুমায়ুনকে আরও দুই কোটি টাকা প্রদানের নির্দেশ দেন। আর মমতাজ বেগম ও তার ওয়ারিশদের দুই কোটি টাকা প্রদানসহ ব্যাংকের পাওনা পরিশোধের নির্দেশ দেন। প্লট বিক্রির অবশিষ্ট মূল্য সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার জন্য ঢাকার প্রথম অর্থঋণ আদালতকে নির্দেশ প্রদান করেন। ওই আদেশের ভিত্তিতে ঢাকার প্রথম অর্থঋণ আদালত পুনরায় নিলাম কার্যক্রম গ্রহণ করে।
অভিযোগ রয়েছে, নিলামে প্লটটি হোটেল লেকশোরের মালিকপক্ষকে দিতে ব্যাপক কারসাজির আশ্রয় নেওয়া হয়। এ কারণে নিলাম বিজ্ঞপ্তিটি ২০১৮ সালের ২৩ নভেম্বর ‘দৈনিক ঢাকার ডাক’ নামের কম প্রচার সংখ্যার একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। জনগণ যাতে নিলাম সম্পর্কে জানতে না পারে, সেজন্য এ কাজ করা হয়। তারপরও রীনা হুমায়ুন ও তার নিকটজন আদালতে উপস্থিত হয়ে নিলাম দরপত্র দাখিল করেন। নিলামে জনৈকা হুমায়রা খান ৬৬ কোটি, হোটেল লেকশোর মালিক কাজী তারেক শামস ১১ কোটি ৬০ লাখ টাকা, দাদা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ৬৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা, রীনা হুমায়ুন নিজে ৫০ কোটি টাকার এবং সারিয়াত তাসরিন ৩০ কোটি টাকার দরপত্র দাখিল করেন। হুমায়রা খানের দরপত্র নন-রেসপনসিভ হওয়ায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে দাদা ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি রেসপনসিভ হিসেবে গণ্য হওয়ায় কথা। কিন্তু চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত একটি আদেশ পাওয়া যায়। তাতে দেখা যায়, প্রস্তাবিত মূল্য প্রকৃত মূল্য থেকে কম বিবেচনাপূর্বক আদালত অপর্যাপ্ত মূল্যের অজুহাতে সমুদয় দরপত্র বাতিল করেন। আর ২৮ ফেব্রুয়ারি পুনরায় নিলামের তারিখ নির্ধারণ করেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে অদ্যাবধি নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়নি।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তুলে ধরা হলো কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের আয়-ব্যয় ও উন্নয়ন অগ্রগতি

লেকশোর কর্তৃপক্ষের দাপট ১০০ কোটির প্লট কিনল এক কোটিতে

আপডেট সময় ০১:০৬:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

গুলশানের ৪১ নম্বর সড়কের ৪৩ নম্বর প্লটটি জালিয়াতির মাধ্যমে দখল করার অভিযোগ উঠেছে হোটেল লেকশোর কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) সহকারী পরিচালক মো. সহিদুর রহমান এই অভিযোগটি অনুসন্ধান করছেন। তিনি অনুসন্ধানের স্বার্থে অভিযোগ সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চেয়ে গত ৫ সেপ্টেম্বর রাজউক চেয়ারম্যানকে চিঠি দেন।
চিঠিতে সংশ্লিষ্ট প্লটের সিএস, আরএস ও সিটি জরিপ সংক্রান্ত নথিপত্র চাওয়া হয়। এছাড়া প্লটটি ১৯৬২ সালে ৩০ মার্চ হাবিবা সুলতানা জাইদীর নামে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে কিনা এবং প্লটের সর্বশেষ মালিকানা নথিপত্রসহ এ সংক্রান্ত অন্য কোনো নথিপত্র থাকলে ১৯ সেপ্টেম্বরের মধ্যে দুদকে জমা দিতে বলা হয়। দুদক সূত্রে জানা গেছে, নোটিশের পর এ সংক্রান্ত কিছু নথিপত্র রাজউক থেকে দুদকে পাঠানো হয়েছে, যা এখন যাচাই-বাছাই চলছে।
দুদকের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, আদালতের আদেশে নিলামের মাধ্যমে প্রায় এক বিঘা আয়তনের ৪৩ নম্বর প্লটটি এক কোটি টাকায় ক্রয় করেন নুরুল ইসলাম মনি গং। পরে প্লটটি লেকশোর হোটেল মালিকপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। প্লটটির বাজার মূল্য প্রায় ১০০ কোটি টাকা। তবে প্লটটিতে কোনো স্থাপনা তৈরি করা হয়নি, খালি রয়েছে। এটি নিয়ে দুদকের অনুসন্ধান কাজ শেষপর্যায়ে। শিগগিরই কমিশনে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করবে অনুসন্ধান টিম।
দুদকের কাছে থাকা অভিযোগে বলা হয়, বিএনপি ক্ষমতায় থাকাকালে নুরুল ইসলাম মনি গং প্রভাব খাটিয়ে প্রায় এক বিঘা আয়তনের ৪৩ নম্বর প্লটটি মাত্র এক কোটি টাকায় নিলামে ক্রয় করে। সব আইনি প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে মাত্র সাত দিনের মধ্যে নিলাম বহাল, বায়নানামা-দখলনামাসহ সব কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। প্লটটির মালিক রীনা হুমায়ুনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উক্ত নিলাম আপিল বিভাগে বাতিল হয়। তারপরও লেকশোর হোটেল কর্তৃপক্ষ অবৈধভাবে প্লট দখল করে রেখেছে।
হোটেল লেকশোরের দখলে থাকা প্লটটি ১৯৬২ সালের ৩০ মার্চ হাবিবা সুলতানা জায়েদীর নামে বরাদ্দ দেয় তৎকালীন ডিআইটি। এরপর ১৯৬৩ সালের ২৭ মার্চ প্লটের দলিল (নম্বর ৪৪৫৯) সম্পাদন ও রেজিস্ট্রি হয়। হাবিবা সুলতানা জায়েদী ১৯৭৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হলফনামা সম্পাদন করে প্লটটি তার একমাত্র মেয়ে মমতাজ বেগমকে দান করেন, যেটি ১৯৭৮ সালের ২১ এপ্রিল সম্পন্ন হয়।
মমতাজ বেগম প্লটটিতে বাড়ি নির্মাণের জন্য অগ্রণী ব্যাংক থেকে ১৯৭৭ সালের ১৯ জুলাই তিন লাখ টাকা ঋণ নেন। এর মধ্যে ২০টি কিস্তি বাবদ ঋণের দুই লাখ ১৬ হাজার ৭৯২ টাকা পরিশোধ করেন। আর অবশিষ্ট ১৩টি কিস্তি ও সুদসহ এক লাখ ৩০ হাজার টাকা অপরিশোধিত থেকে যায়। মমতাজ বেগম ১৯৮৬ সালের ২৭ এপ্রিল প্লটটি ২৫ লাখ মূল্য ধরে রীনা হুমায়ুনের স্বামী হূমায়ুনকে আমমোক্তার নিয়োগ করেন। ওই সময়ে রীনা হুমায়ুন বায়না বাবদ ১১ লাখ ৬০ হাজার টাকা প্রদান করেন এবং ১৩ লাখ ৪০ হাজার টাকা বাকি থাকে। আমমোক্তার নিয়োগের সময় মমতাজ বেগম ব্যাংকে প্লট বন্ধক রেখে যে পরিমাণ ঋণ নিয়েছেন, সেটি গোপন রাখেন।
এদিকে ঋণ পরিশোধ না করায় ১৯৮৯ সালের ৩১ মার্চ ব্যাংক পাওনা টাকা দাবি করে মমতাজ বেগম ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে ঢাকার বাণিজ্যিক আদালতে দেওয়ানি মোকদ্দমা (নম্বর ৭৯/৮৯) দায়ের করে। ১৯৯১ সালের ৯ জুন প্রাথমিক ডিক্রি লাভ করে। কিন্তু তিন বছরের মধ্যে চূড়ান্ত ডিক্রির জন্য আবেদন করেনি। ফলে ডিক্রিটি তামাদি হয়ে যায়। অগ্রণী ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ১২ বছরের মধ্যে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি।
অভিযোগ রয়েছে, চূড়ান্ত ডিক্রি না হলেও অর্থজারি মামলা (নং-৪১৭/২০০৩) দায়ের করা হয়। এ মামলায় নুরুল ইসলাম মনি গং প্রভাব খাটিয়ে বেআইনি ও প্রতারণামূলক নিলাম দরপত্রের মাধ্যমে ২০০৫ সালের ১৪ জুলাই মাত্র এক কোটি টাকায় প্লটটি ক্রয় করে। নিলাম ইশতেহার জারি না করে এবং ১৫ দিন পূর্বে নিলাম বিজ্ঞপ্তি বিজ্ঞ আদালতে দাখিল না করে আইনের বিধি-বিধান লঙ্ঘনের মাধ্যমে একক দরপত্র দাখিল করে বিচারক ও ব্যাংক অফিসারদের ওপর প্রভাব খাটিয়ে নুরুল ইসলাম মনি গং প্লটটি নিলামে ক্রয় করে এবং সব প্রক্রিয়া সাত দিনের মধ্যে সম্পন্ন করে। কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে এ নিলাম অনুষ্ঠিত হয়।
অভিযোগে বলা হয়, বেআইনি নিলাম কার্যক্রমের বিরুদ্ধে রীনা হুমায়ুন ঢাকার পঞ্চম যুগ্ম-জেলা জজ আদালতে নিলাম বাতিলের জন্য দেওয়ানি মোকদ্দমা (নম্বর ৯/২০০৮) দায়ের করেন। ওই মোকদ্দমা ২০১১ সালের ২৩ আগস্ট ডিক্রি হয় এবং আদালত উক্ত নিলাম কার্যক্রম নজিরবিহীন, জালিয়াতি, প্রতারণামূলক, যোগসাজশি, বেআইনি ও বাতিল ঘোষণা করে। ওই রায়ের বিরুদ্ধে অগ্রণী ব্যাংক এবং নুরুল ইসলাম মনি গং হাইকোর্টের ফার্স্ট আপিল (এফ.এ) নম্বর ৮৫/২০১২ দায়ের করেন, যা ২০১৩ সালের ৩ নভেম্বর খারিজ হয়ে যায়।
আপিল বিভাগ সম্পত্তিটি পুনরায় যথাযথভাবে নিলামে বিক্রয় করে রীনা হুমায়ুনকে তার পরিশোধিত ২৫ লাখ টাকা, ১৫ ভাগ সরল সুদসহ পরিশোধের নির্দেশ দেয়। এছাড়া আদালতে দাখিল করা টাকা উঠিয়ে নেওয়ার অনুমতি দেন। একইসঙ্গে সোলেটিয়াম হিসেবে রীনা হুমায়ুনকে আরও দুই কোটি টাকা প্রদানের নির্দেশ দেন। আর মমতাজ বেগম ও তার ওয়ারিশদের দুই কোটি টাকা প্রদানসহ ব্যাংকের পাওনা পরিশোধের নির্দেশ দেন। প্লট বিক্রির অবশিষ্ট মূল্য সরকারি কোষাগারে জমা দেয়ার জন্য ঢাকার প্রথম অর্থঋণ আদালতকে নির্দেশ প্রদান করেন। ওই আদেশের ভিত্তিতে ঢাকার প্রথম অর্থঋণ আদালত পুনরায় নিলাম কার্যক্রম গ্রহণ করে।
অভিযোগ রয়েছে, নিলামে প্লটটি হোটেল লেকশোরের মালিকপক্ষকে দিতে ব্যাপক কারসাজির আশ্রয় নেওয়া হয়। এ কারণে নিলাম বিজ্ঞপ্তিটি ২০১৮ সালের ২৩ নভেম্বর ‘দৈনিক ঢাকার ডাক’ নামের কম প্রচার সংখ্যার একটি পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। জনগণ যাতে নিলাম সম্পর্কে জানতে না পারে, সেজন্য এ কাজ করা হয়। তারপরও রীনা হুমায়ুন ও তার নিকটজন আদালতে উপস্থিত হয়ে নিলাম দরপত্র দাখিল করেন। নিলামে জনৈকা হুমায়রা খান ৬৬ কোটি, হোটেল লেকশোর মালিক কাজী তারেক শামস ১১ কোটি ৬০ লাখ টাকা, দাদা ইঞ্জিনিয়ার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ৬৫ কোটি ৫১ লাখ টাকা, রীনা হুমায়ুন নিজে ৫০ কোটি টাকার এবং সারিয়াত তাসরিন ৩০ কোটি টাকার দরপত্র দাখিল করেন। হুমায়রা খানের দরপত্র নন-রেসপনসিভ হওয়ায় সর্বোচ্চ দরদাতা হিসেবে দাদা ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি রেসপনসিভ হিসেবে গণ্য হওয়ায় কথা। কিন্তু চলতি বছরের ১৬ জানুয়ারি এ সংক্রান্ত একটি আদেশ পাওয়া যায়। তাতে দেখা যায়, প্রস্তাবিত মূল্য প্রকৃত মূল্য থেকে কম বিবেচনাপূর্বক আদালত অপর্যাপ্ত মূল্যের অজুহাতে সমুদয় দরপত্র বাতিল করেন। আর ২৮ ফেব্রুয়ারি পুনরায় নিলামের তারিখ নির্ধারণ করেন। কিন্তু রহস্যজনক কারণে অদ্যাবধি নিলাম বিজ্ঞপ্তি প্রচার করা হয়নি।