ঢাকা ০৩:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ২৯ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
তুলে ধরা হলো কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের আয়-ব্যয় ও উন্নয়ন অগ্রগতি কীর্তনখোলায় ফুল ভাসিয়ে ববি’র চাকমা শিক্ষার্থীদের ‘ফুল বিজু’ উদযাপন এবার আ.লীগপন্থী দুই শিক্ষকের দখলে থাকছে বেরোবির বইমেলার দায়িত্ব ২০ দিনের ছুটি নিয়ে তিন মাস যুক্তরাষ্ট্রে পরিচালক সিসি ক্যামেরায় ৫ লাখ টাকার ঘুষ গ্রহণের দৃশ্য, ঢাকায় কোটি টাকার ফ্ল্যাট সংবাদ প্রকাশের জেরে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি, চট্টগ্রাম পতেঙ্গা মডেল থানায় জিডি ভয়ংকর জাকারিয়া, রাজউক যেন দুর্নীতির ‘সেফ জোন’ রাজউকের ইমারত পরিদর্শক শামীম রেজার ‘ঘুষের হাটে’ নকশা বহির্ভূত ভবন নির্মান লেকশোর কর্তৃপক্ষের দাপট ১০০ কোটির প্লট কিনল এক কোটিতে নকল মালিক সাজিয়ে গুলশানে সরকারি প্লট দখলে

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সুন্নতে খাৎনা করতে গিয়ে ভুয়া ডাক্তার খলিল গ্রেপ্তার

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সুন্নতে খাৎনা করতে গিয়ে এক শিশুর গুরুতর ক্ষতি করার অভিযোগে ভুয়া ডাক্তার খলিলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জানা যায়, মোহাম্মদপুর চন্দ্রিমা হাউজিং মডেল টাউন, একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন আতিক যাহা বাড়ি নং ১৯, রোড নং ১২, ব্লক-ই এলাকার একটি চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, ভুক্তভোগী শিশু আতিক (৬-৭ বছর) পিতৃহীন; তার বাবা আগেই মারা গেছেন। মায়ে পরবর্তীতে আবারো বিয়ে করেন আতিকের মা। বর্তমানে কিশোরগঞ্জে থাকেন আতিকের মা নানা-নানির কাছে থাকেন ঢাকাতে আতিক ।
আতিকের নানা জানান, এক পরিচিত অটোচালকের মাধ্যমে তিনি খলিল নামের ওই ব্যক্তির কাছে যান। তিনি বলেন, “অটোচালক আমাকে জানায়, ঢাকা উদ্যান পানির পাম্পের পাশে খলিলের একটি ফার্মেসি রয়েছে, যেখানে সব ধরনের চিকিৎসা করা হয়। তার কথায় বিশ্বাস করে রোজার ঈদের দুই দিন পর আমি আমার নাতিকে খাৎনা করানোর জন্য সেখানে নিয়ে যাই।”
তিনি আরও বলেন, “খলিল নিজেই আমার নাতির অপারেশন করে এবং এতে গুরুতর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। তখন আমার নাতি চিৎকার করে বলে—‘নানা, আমার মা কোথায়? আমি বোধহয় বাঁচবো না।’ পরে খলিল দ্রুত আমাদের শিশু হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে।”
স্থানীয় এক সাংবাদিক উজ্জলের মাধ্যমে জানা যায়, খলিলের কোনো বৈধ ডাক্তারি সনদ নেই। তিনি আগে আদাবর এলাকায় একজন সাধারণ ফার্মেসি কর্মী ছিলেন। মাত্র ছয় মাসের একটি পল্লী চিকিৎসক কোর্স সম্পন্ন করে তিনি চিকিৎসা দেওয়ার নামে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খলিল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তিনি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, যৌন উত্তেজক ওষুধ সরবরাহ এবং নিজস্ব তৈরি তথাকথিত “কলকাতার হারবাল ওষুধ” বলে প্রতারণা করতেন। এসব ওষুধ খেলে বৈবাহিক জীবনে কোনো সমস্যা হবে না—এমন বিভ্রান্তিকর প্রচারণাও চালাতেন তিনি।
এছাড়া খলিলের একটি কিশোর গ্যাং রয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার ভাই ও ভাতিজারা ভুক্তভোগী আতিকের নানা-নানিকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে বলে পরিবারটি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছে। তারা জানান, মামলা তুলে না নিলে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
গত ১০/০৪/২০২৬ তারিখে মোহাম্মদপুর থানায় এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ কে দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি অনুসন্ধান রিপোর্টার স্থানীয় সাংবাদিক মোহাম্মদ শাফায়াত হোসেন বলেন ন্যায়বিচার পাবে কি শিশুটি উত্তরে ওসি মেজবাহ উদ্দিন জানান, হ্যাঁ অবশ্যই “আতিকের পরিবার মামলা করেছে এ বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। আমরা আশা করছি, ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পাবে।”
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আতিকের চিকিৎসাসহ সব ধরনের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। তারা সরকারের কাছে সুষ্ঠু বিচার কামনা করেছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তুলে ধরা হলো কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের আয়-ব্যয় ও উন্নয়ন অগ্রগতি

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সুন্নতে খাৎনা করতে গিয়ে ভুয়া ডাক্তার খলিল গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ১২:৪৯:২৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে সুন্নতে খাৎনা করতে গিয়ে এক শিশুর গুরুতর ক্ষতি করার অভিযোগে ভুয়া ডাক্তার খলিলকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
জানা যায়, মোহাম্মদপুর চন্দ্রিমা হাউজিং মডেল টাউন, একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন আতিক যাহা বাড়ি নং ১৯, রোড নং ১২, ব্লক-ই এলাকার একটি চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, ভুক্তভোগী শিশু আতিক (৬-৭ বছর) পিতৃহীন; তার বাবা আগেই মারা গেছেন। মায়ে পরবর্তীতে আবারো বিয়ে করেন আতিকের মা। বর্তমানে কিশোরগঞ্জে থাকেন আতিকের মা নানা-নানির কাছে থাকেন ঢাকাতে আতিক ।
আতিকের নানা জানান, এক পরিচিত অটোচালকের মাধ্যমে তিনি খলিল নামের ওই ব্যক্তির কাছে যান। তিনি বলেন, “অটোচালক আমাকে জানায়, ঢাকা উদ্যান পানির পাম্পের পাশে খলিলের একটি ফার্মেসি রয়েছে, যেখানে সব ধরনের চিকিৎসা করা হয়। তার কথায় বিশ্বাস করে রোজার ঈদের দুই দিন পর আমি আমার নাতিকে খাৎনা করানোর জন্য সেখানে নিয়ে যাই।”
তিনি আরও বলেন, “খলিল নিজেই আমার নাতির অপারেশন করে এবং এতে গুরুতর রক্তক্ষরণ শুরু হয়। তখন আমার নাতি চিৎকার করে বলে—‘নানা, আমার মা কোথায়? আমি বোধহয় বাঁচবো না।’ পরে খলিল দ্রুত আমাদের শিশু হাসপাতালে নিয়ে যেতে বলে।”
স্থানীয় এক সাংবাদিক উজ্জলের মাধ্যমে জানা যায়, খলিলের কোনো বৈধ ডাক্তারি সনদ নেই। তিনি আগে আদাবর এলাকায় একজন সাধারণ ফার্মেসি কর্মী ছিলেন। মাত্র ছয় মাসের একটি পল্লী চিকিৎসক কোর্স সম্পন্ন করে তিনি চিকিৎসা দেওয়ার নামে প্রতারণা চালিয়ে আসছিলেন।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, খলিল দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। তিনি মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি, যৌন উত্তেজক ওষুধ সরবরাহ এবং নিজস্ব তৈরি তথাকথিত “কলকাতার হারবাল ওষুধ” বলে প্রতারণা করতেন। এসব ওষুধ খেলে বৈবাহিক জীবনে কোনো সমস্যা হবে না—এমন বিভ্রান্তিকর প্রচারণাও চালাতেন তিনি।
এছাড়া খলিলের একটি কিশোর গ্যাং রয়েছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার ভাই ও ভাতিজারা ভুক্তভোগী আতিকের নানা-নানিকে নিয়মিত হুমকি দিচ্ছে বলে পরিবারটি সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেছে। তারা জানান, মামলা তুলে না নিলে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
গত ১০/০৪/২০২৬ তারিখে মোহাম্মদপুর থানায় এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ বিষয়ে মোহাম্মদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ কে দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি অনুসন্ধান রিপোর্টার স্থানীয় সাংবাদিক মোহাম্মদ শাফায়াত হোসেন বলেন ন্যায়বিচার পাবে কি শিশুটি উত্তরে ওসি মেজবাহ উদ্দিন জানান, হ্যাঁ অবশ্যই “আতিকের পরিবার মামলা করেছে এ বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। আমরা আশা করছি, ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পাবে।”
ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, অপরাধীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আতিকের চিকিৎসাসহ সব ধরনের ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করতে হবে। তারা সরকারের কাছে সুষ্ঠু বিচার কামনা করেছেন।