সংবাদ শিরোনাম ::
নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন জনগণের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত করাই সরকারের মূল লক্ষ্য: চীফ হুইপ নূরুল ইসলাম মণি সুনামগঞ্জে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে হবে : শিক্ষামন্ত্রী আড়াল ভেঙে ফিরছেন বুবলী মাদক কারবারিদের এলাকা থেকে বিতাড়িত করার দাবিতে ফুঁসে উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের এলাকাবাসী ‘আমার সঙ্গী তো আর্জেন্টিনারই’ স্পেনের মুখোমুখি হওয়ার আগে রোনালদোর রসিকতা জুনে মূল্যস্ফীতি কমে ৯.১৬ শতাংশ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাইকে ঘোষণা দিয়ে ৩ গ্রামের সংঘর্ষ খেলা শেষ, খোদা হাফেজ : মাহফুজ আলম

উত্তরা পূর্ব থানার শিকদার বাড়ি এলাকায় আতঙ্কের নাম ‘টোন্ডা মিজান’

উত্তরা পূর্ব থানার শিকদার বাড়ি এলাকায় ‘টোন্ডা মিজান’ নামে এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অভিযোগ রয়েছে, সন্ত্রাসী মিজান তার দলবলসহ এক ভুক্তভোগী নারীর ওপর হামলা চালায়। এ সময় ভুক্তভোগী জাহানারা বেগমের মা-বাবার চা ও মুদি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
ঘটনার পর এলাকাবাসী সাংবাদিকদের কাছে তাদের মতামত দেন। দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি পত্রিকার অনুসন্ধানী সাংবাদিক মো. শাফায়েত হোসেন প্রশ্ন করেন, মিজানের পেছনে কারা রয়েছে। উত্তরে শিকদার বাড়ি এলাকার সাধারণ মানুষ বলেন, “আমরা তা জানি না, আমরা শুধু টোন্ডা মিজান নামেই তাকে চিনি।”
দুইজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, কাজল নামের এক ব্যক্তি মিজানকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। তিনি নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করেন এবং কখনো ছাত্রদলের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচয় দেন বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় কিছু অসহায় মানুষজন অভিযোগ করেন, কাজলের নেতৃত্বে একাধিক অবৈধ অস্ত্র, এমনকি প্রায় ১১টি পিস্তল থাকার তথ্যও রয়েছে।
এদিকে জানা গেছে, উত্তরা পূর্ব থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা হয়েছে (মামলা নং: ১৬/২৩/৩/২০২৬)। এ বিষয়ে থানার ওসি মোরশেদ আলী জানান, পশ্চিম উত্তরা থানাতেও মিজানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এক বাড়িওয়ালার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ১ লাখ টাকা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পশ্চিম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে, যার কপি গণমাধ্যমের হাতে এসেছে।
এলাকাবাসী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচার দাবি করেছেন। তারা বলেন, “আমরা শিকদার বাড়ি এলাকার মানুষ টোন্ডা মিজানের কাছে জিম্মি হয়ে আছি। আমরা নিরাপত্তা চাই।”
ভুক্তভোগী নারী নুরজাহান বেগম বলেন, “আমরা এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই।”
স্থানীয়রা আরও জানান, উত্তরা পূর্ব থানার ওসি মোরশেদ আলী একজন ভালো কর্মকর্তা এবং তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সহায়তা করেছেন। পুলিশের সহযোগিতায় বড় কোনো দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
তবে এলাকাবাসীর আশঙ্কা, মিজান জেলখানায় থাকলেও তার সহযোগীরা বাইরে সক্রিয় রয়েছে। তারা বলেন, “আমরা এখনও আতঙ্কে আছি, যেকোনো সময় আমাদের ক্ষতি করা হতে পারে।”
একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “আমি প্রায় ৩০ বছর ধরে শিকদার বাড়ির বেড়িবাঁধ এলাকায় বসবাস করছি। কখনো আমার বাবার কাছে ১০ টাকাও চাঁদা চাওয়ার সাহস কেউ করেনি। কিন্তু এখন টোন্ডা মিজান ও তার দলবল আমাদের বসতভিটায় হামলা চালাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় ১৯৮১ সালে আমার দাদা বসবাস শুরু করেন। এখন আমরা সেখানে থাকছি। কিন্তু সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী টোন্ডা মিজান তার দলবল নিয়ে আমাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করছে, টিনের বেড়া ভেঙে ফেলছে এবং আমাদের ওপর জুলুম করছে।”
এ সময় রাস্তার পাশে ভ্যানগাড়িতে সবজি বিক্রি করা এক ভুক্তভোগী বলেন, “মিজানকে দৈনিক ৫০ টাকা না দিলে আমার সবজির গাড়ি তার লোকজন নিয়ে যায়।”
এলাকাবাসী নতুন সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, “অপরাধীরা জেল থেকে বের হয়ে আবারও একই কাজ করতে পারে। আমরা কোথায় যাব?”
তারা আরও দাবি করেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।”

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন

উত্তরা পূর্ব থানার শিকদার বাড়ি এলাকায় আতঙ্কের নাম ‘টোন্ডা মিজান’

আপডেট সময় ০৪:০৯:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

উত্তরা পূর্ব থানার শিকদার বাড়ি এলাকায় ‘টোন্ডা মিজান’ নামে এক ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।
অভিযোগ রয়েছে, সন্ত্রাসী মিজান তার দলবলসহ এক ভুক্তভোগী নারীর ওপর হামলা চালায়। এ সময় ভুক্তভোগী জাহানারা বেগমের মা-বাবার চা ও মুদি দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়।
ঘটনার পর এলাকাবাসী সাংবাদিকদের কাছে তাদের মতামত দেন। দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি পত্রিকার অনুসন্ধানী সাংবাদিক মো. শাফায়েত হোসেন প্রশ্ন করেন, মিজানের পেছনে কারা রয়েছে। উত্তরে শিকদার বাড়ি এলাকার সাধারণ মানুষ বলেন, “আমরা তা জানি না, আমরা শুধু টোন্ডা মিজান নামেই তাকে চিনি।”
দুইজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, কাজল নামের এক ব্যক্তি মিজানকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন। তিনি নিজেকে ‘জুলাই যোদ্ধা’ দাবি করেন এবং কখনো ছাত্রদলের প্রভাবশালী রাজনীতিবিদ হিসেবে পরিচয় দেন বলে জানা যায়।
এ বিষয়ে স্থানীয় কিছু অসহায় মানুষজন অভিযোগ করেন, কাজলের নেতৃত্বে একাধিক অবৈধ অস্ত্র, এমনকি প্রায় ১১টি পিস্তল থাকার তথ্যও রয়েছে।
এদিকে জানা গেছে, উত্তরা পূর্ব থানায় অস্ত্র আইনে একটি মামলা হয়েছে (মামলা নং: ১৬/২৩/৩/২০২৬)। এ বিষয়ে থানার ওসি মোরশেদ আলী জানান, পশ্চিম উত্তরা থানাতেও মিজানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। এক বাড়িওয়ালার কাছ থেকে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে ১ লাখ টাকা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পশ্চিম থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে, যার কপি গণমাধ্যমের হাতে এসেছে।
এলাকাবাসী সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচার দাবি করেছেন। তারা বলেন, “আমরা শিকদার বাড়ি এলাকার মানুষ টোন্ডা মিজানের কাছে জিম্মি হয়ে আছি। আমরা নিরাপত্তা চাই।”
ভুক্তভোগী নারী নুরজাহান বেগম বলেন, “আমরা এই ঘটনার সঠিক বিচার চাই।”
স্থানীয়রা আরও জানান, উত্তরা পূর্ব থানার ওসি মোরশেদ আলী একজন ভালো কর্মকর্তা এবং তিনি তাৎক্ষণিকভাবে তাদের সহায়তা করেছেন। পুলিশের সহযোগিতায় বড় কোনো দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়েছে।
তবে এলাকাবাসীর আশঙ্কা, মিজান জেলখানায় থাকলেও তার সহযোগীরা বাইরে সক্রিয় রয়েছে। তারা বলেন, “আমরা এখনও আতঙ্কে আছি, যেকোনো সময় আমাদের ক্ষতি করা হতে পারে।”
একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, “আমি প্রায় ৩০ বছর ধরে শিকদার বাড়ির বেড়িবাঁধ এলাকায় বসবাস করছি। কখনো আমার বাবার কাছে ১০ টাকাও চাঁদা চাওয়ার সাহস কেউ করেনি। কিন্তু এখন টোন্ডা মিজান ও তার দলবল আমাদের বসতভিটায় হামলা চালাচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গায় ১৯৮১ সালে আমার দাদা বসবাস শুরু করেন। এখন আমরা সেখানে থাকছি। কিন্তু সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী টোন্ডা মিজান তার দলবল নিয়ে আমাদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করছে, টিনের বেড়া ভেঙে ফেলছে এবং আমাদের ওপর জুলুম করছে।”
এ সময় রাস্তার পাশে ভ্যানগাড়িতে সবজি বিক্রি করা এক ভুক্তভোগী বলেন, “মিজানকে দৈনিক ৫০ টাকা না দিলে আমার সবজির গাড়ি তার লোকজন নিয়ে যায়।”
এলাকাবাসী নতুন সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তারা বলেন, “অপরাধীরা জেল থেকে বের হয়ে আবারও একই কাজ করতে পারে। আমরা কোথায় যাব?”
তারা আরও দাবি করেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেন দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।”