গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ একাধিক অধ্যাদেশ বাতিলের প্রক্রিয়া বন্ধ করে দ্রুত আইন হিসেবে প্রণয়নের দাবিতে ফেনীতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে মানবাধিকার সংগঠন অধিকার।
মঙ্গলবার দুপুরে ফেনী প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে অধিকার ফেনী ইউনিটের আয়োজনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন গুমের শিকার মাহবুবুর রহমান রিপনের মা রওশন আরা বেগম।
প্রবীণ সাংবাদিক এ কে এম আবদুর রহিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মূলপ্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মানবাধিকার সংগঠক ও ‘২৪-এর আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ জুলাইযোদ্ধা মো. আবুল হাসান শাহীন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন অধিকার ফেনীর ফোকাল পার্সন সাংবাদিক নাজমুল হক শামীম।
সমাবেশে বক্তব্য দেন সাপ্তাহিক আনন্দ তারকা পত্রিকার সম্পাদক মামুনুর রশিদ, সাপ্তাহিক স্বদেশপত্র সম্পাদক এন এন জীবন, বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় মহাসচিব মোহাম্মদ মহিউদ্দিন খোন্দকার, জাসাস ফেনী শাখার সভাপতি কাজি ইকবাল আহমেদ পরান, দৈনিক অজেয় বাংলার নির্বাহী সম্পাদক শাহজালাল ভূইয়া, একতা মহিলা উন্নয়ন সংস্থার চেয়ারম্যান রোকেয়া ইসলামসহ আরও অনেকে।
গুমের শিকার রিপনের মা রওশন আরা বেগম আবেগঘন বক্তব্যে বলেন, “১১ বছর আগে আমার ছেলেকে র্যাব পরিচয়ে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়। বহু চেষ্টা করেও তার কোনো খোঁজ পাইনি। গুম অধ্যাদেশ হওয়ার পর আশা করেছিলাম বিচার পাবো। কিন্তু এখন সেটি বাতিলের পাঁয়তারা দেখে শঙ্কায় আছি—আমার ছেলের বিচার কি আর পাবো না?”
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, দুর্নীতি দমন কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধিসহ ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে, যা কার্যকর হলে আগামী ১০ এপ্রিলের পর এসব অধ্যাদেশ অকার্যকর হয়ে পড়বে।
অধিকার তাদের লিখিত বক্তব্যে জানায়, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য এসব অধ্যাদেশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এগুলো বাতিল করা হলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো আবারও অতীতের মতো দলীয়করণ ও নিয়ন্ত্রণের ঝুঁকিতে পড়বে।
সংগঠনটি আরও দাবি করে, বিগত সময়ের গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও নির্যাতনের বিচার নিশ্চিত করতে গুম প্রতিরোধ অধ্যাদেশ দ্রুত আইনে পরিণত করা জরুরি। অন্যথায় ভুক্তভোগী পরিবারগুলো চরম অনিশ্চয়তায় পড়ে যাবে।
সমাবেশ শেষে অংশগ্রহণকারীরা ফেনী প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।
অধিকার নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এসব গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ জাতীয় সংসদে পাস করে আইনে পরিণত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি জোর দাবি জানান।
মুস্তাফা মুহিত, ফেনী 




















