সংক্রমণ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ৬ ইউনিয়নের ১৮ কেন্দ্রে চলছে টিকাদান কর্মসূচি
দেশজুড়ে হাম রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়তে থাকায় জনমনে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের উদ্যোগে কক্সবাজার জেলার মহেশখালী উপজেলায় প্রথমবারের মতো ব্যাপক আকারে হাম টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়েছে। কর্মসূচির প্রথম দিনেই ৪ হাজার ২৩০ জন শিশুকে টিকা প্রদান করা হয়েছে।
রবিবার সকাল ১০টায় ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন মাননীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমেদ। এসময় মহেশখালী উপজেলা প্রশাসন ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিল। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদ।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইমরান মাহমুদ ডালিম, মহেশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ সোলতান, বড় মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত উল্লাহ বাবুলসহ স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা। সভাপতিত্ব করেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহফুজুল হক। জাগিরাঘোনা কমিউনিটি ক্লিনিক থেকে প্রতীকীভাবে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়।
উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, মহেশখালীর ৬টি ইউনিয়নে মোট ১৮টি কেন্দ্রে একযোগে টিকাদান কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও টিকা প্রদান করা হচ্ছে। আগামী ২১ তারিখ পর্যন্ত প্রতিটি ইউনিয়নে তিনটি করে কেন্দ্রে এই কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে
সচেতন নাগরিকরা বলছেন, হামের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাওয়ায় এই টিকাদান কার্যক্রম সময়োপযোগী পদক্ষেপ। তারা অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানান, শিশুদের সুরক্ষায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করতে।
অভিভাবকদের মধ্যেও দেখা গেছে ব্যাপক আগ্রহ ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। তারা জানান, শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা টিকাদান কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন এবং অন্যদেরও উৎসাহিত করছেন।
স্বাস্থ্যকর্মী রাসেল উদ্দীন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা গ্রামে গ্রামে প্রচারণা চালিয়েছি। বর্তমানে হামের ঝুঁকি বেড়েছে। তাই শিশুদের টিকা দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। প্রথম দিনেই অভিভাবকদের ব্যাপক সাড়া পেয়েছি, সুন্দর পরিবেশে টিকাদান কার্যক্রম সম্পন্ন হচ্ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মাহফুজুল হক বলেন, “হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ। একজন আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে ১২ থেকে ১৮ জন পর্যন্ত সংক্রমিত হতে পারে। তাই ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সী সব শিশুকে দ্রুত টিকার আওতায় আনা জরুরি।” তিনি আরও জানান, কারো মধ্যে জ্বর, সর্দি-কাশি ও শরীরে র্যাশ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে এবং রোগীকে আলাদা রাখার পরামর্শ দেন।
বড় মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনায়েত উল্লাহ বাবুল বলেন, গত বছর টিকাদান কার্যক্রম না থাকায় হামের প্রকোপ বেড়েছে। এবার ব্যাপক প্রচারণার মাধ্যমে মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। আশা করছি, এই কর্মসূচির মাধ্যমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে।
স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হামের বিস্তার রোধে টিকাদানের বিকল্প নেই। তাই সকল অভিভাবককে নির্ধারিত কেন্দ্র থেকে শিশুদের টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আবু হেনা আসিফ , মহেশখালী: 
























