ঢাকা ০৯:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৫ এপ্রিল ২০২৬, ২২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
‘জুলাইয়ের টেন্ডার কি একাই নিয়েছেন?’— বিরোধী দলকে প্রশ্ন আন্দালিব পার্থের ‘প্রস্তর যুগে’ আটকে আছেন ট্রাম্প : ইরান সংসদে আহত জুলাই যোদ্ধাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, জানালেন সহমর্মিতা কক্সবাজারে নকল বিদেশি মদ তৈরির কারখানা, আটক ১ লক্ষ্মীপুরে ১৪৪ ধারা ভেঙে মিছিল: সংঘর্ষে পুলিশসহ আহত ১০, শহরে থমথমে পরিস্থিতি ৭ দিনের মধ্যে অবৈধ বাস কাউন্টার সরাতে হবে : ডিএমপি ভারতে পাচারের সময় শিশুসহ ৮ জন উদ্ধার মহেশখালীতে প্রথম দিনে ৪,২৩০ শিশুকে হাম টিকা, জনমনে স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে জোর প্রচারণা পীরগঞ্জে পূবালী ব্যাংকের উদ্যোগে ক্যাশলেস ব্যাংকিং সচেতনতামূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত সীমান্তেবর্তী দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ইদানিং চোরাকারবারিরা তৎপর হয়ে উঠেছে ভারতীয় ০৪টি মহিষ আটক।

আজিমপুর ডে- কেয়ার সেন্টারে শিশুর মৃত্যু: সুষ্ঠ পুন:তদন্ত ও জড়িতদের শস্তি দাবি

রাজধানীর আজিমপুর মধ্যবিত্ত ডে-কেয়ার সেন্টারে সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় ১১ মাস বয়সী কন্যা শিশু উম্মে আলিফের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু পুন:তদন্ত ও ন্যায্য বিচার চাইছি। বর্তমান সরকারের কাছে অবহেলায় মৃত্যুজনিত এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপিসহ সংশ্লিষ্টদের জরুরী হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন শিশুটির মা-বাবা। যাতে করে ভবিষ্যতে কোনো ডে- কেয়ার সেন্টারে কারো সন্তানের অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যু না হয়।
গতকাল (৫ এপ্রিল) রোববার দুপুরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) মিলনায়তনে (নীচতলা) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান নিহত উম্মে আলিফের পিতা হাকিবুল হাসান তালুকদার ও মাতা ইসমত আরা তালুকদার।
লিখিত বক্তব্যে হাকিবুল হাসান তালুকদার বলেন, গত ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর শিশু কন্যাকে ১০টার দিকে ওই ডে-কেয়ার সেন্টারে রেখে আমার স্ত্রীকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাই। ওই দিন দুপুর পৌনে একটার দিকে ওই সেন্টারের প্রধান রেজিনাওয়ালী মোবাইল ফোনে জানায় উম্মে আলিফ অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। তাকে আজিমপুর মেটার্নিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পারলে আপনারা আসুন। দ্রুত ওই মেটার্নিতে পৌঁছে দেখি তাকে ওই সেন্টারের কর্মচারী কোলে রেখেছে। সে সময় তার নাকে অক্সিজেনের পাইপ লাগানো ছিল। তাকে আমি নিজে কোলে নিতে চাইলে তারা বলে আপনার মেয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছে। আপনার কোলে দেয়া যাবে না। এই বলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রেফার্ডের কাগজ দেখে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক বলেন, আপনারাতো ওই বাচ্চাকে মৃত অবস্থায় মেটার্নিতে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে পোস্ট মোর্টেম করতে ঢামেকে পাঠিয়েছে। তখন আমি জানতে পারি সেন্টারে কর্মরতদের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে পুলিশের কয়েকজন সদস্য বিষয়টি ডে-কেয়ার সেন্টারের লোকজনের সাথে আলাপ করে মিটিয়ে ফেলুন। পুলিশ দীর্ঘ সময় আমাদের বসিয়ে রেখে রাত ২টার দিকে মামলা গ্রহণ করে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২জনকে গ্রেপ্তার করলেও বাকীরা পালিয়ে যায।
তিনি আরও জানান, তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ তড়িঘড়ি করে অসম্পূর্ণ চার্জশীট দাখিল করায় এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যরা খালাস পেয়ে যায়। চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি নিম্ন আদালত ওই মামলায় একজনকে দোষি সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণা করেন। বাকী ৫ জনকে খালাস প্রদান করা হয়। বিচার চলার শেষ দিকে একদিন এজলাসে ডেকে নেয়া হলেও কোনো কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়নি। মামলার বিচারে কোনো ধরণের গুরুত্ব না দিয়ে রায় ঘোষণা করা হয় বলে জানান তিনি।
নিহত উম্মে আলিফের মা ইসমত আরা তালুকদার কান্না ভেজা কণ্ঠে বলেন, সকালে আমার কন্যাকে সুস্থ্য অবস্থায় ডে- কেয়ার সেন্টারে রেখে এসে দুপূরের পর জানতে পারি তার মৃত্যু হয়েছে। সেন্টারে কর্মরতদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে উম্মে আলিফের মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুর দায় ওই সেন্টারে কর্মরতদের। এ সময় তিনি সন্তান হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ন্যায্য বিচার দাবি করেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

‘জুলাইয়ের টেন্ডার কি একাই নিয়েছেন?’— বিরোধী দলকে প্রশ্ন আন্দালিব পার্থের

আজিমপুর ডে- কেয়ার সেন্টারে শিশুর মৃত্যু: সুষ্ঠ পুন:তদন্ত ও জড়িতদের শস্তি দাবি

আপডেট সময় ০৪:৪৭:৩৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬

রাজধানীর আজিমপুর মধ্যবিত্ত ডে-কেয়ার সেন্টারে সংশ্লিষ্টদের অবহেলায় ১১ মাস বয়সী কন্যা শিশু উম্মে আলিফের মৃত্যুর ঘটনার সুষ্ঠু পুন:তদন্ত ও ন্যায্য বিচার চাইছি। বর্তমান সরকারের কাছে অবহেলায় মৃত্যুজনিত এই ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদানে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপিসহ সংশ্লিষ্টদের জরুরী হস্তক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন শিশুটির মা-বাবা। যাতে করে ভবিষ্যতে কোনো ডে- কেয়ার সেন্টারে কারো সন্তানের অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যু না হয়।
গতকাল (৫ এপ্রিল) রোববার দুপুরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স এসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) মিলনায়তনে (নীচতলা) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান নিহত উম্মে আলিফের পিতা হাকিবুল হাসান তালুকদার ও মাতা ইসমত আরা তালুকদার।
লিখিত বক্তব্যে হাকিবুল হাসান তালুকদার বলেন, গত ২০২৩ সালের ২০ ডিসেম্বর শিশু কন্যাকে ১০টার দিকে ওই ডে-কেয়ার সেন্টারে রেখে আমার স্ত্রীকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাই। ওই দিন দুপুর পৌনে একটার দিকে ওই সেন্টারের প্রধান রেজিনাওয়ালী মোবাইল ফোনে জানায় উম্মে আলিফ অসুস্থ্য হয়ে পড়েছে। তাকে আজিমপুর মেটার্নিতে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পারলে আপনারা আসুন। দ্রুত ওই মেটার্নিতে পৌঁছে দেখি তাকে ওই সেন্টারের কর্মচারী কোলে রেখেছে। সে সময় তার নাকে অক্সিজেনের পাইপ লাগানো ছিল। তাকে আমি নিজে কোলে নিতে চাইলে তারা বলে আপনার মেয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস নিচ্ছে। আপনার কোলে দেয়া যাবে না। এই বলে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রেফার্ডের কাগজ দেখে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক বলেন, আপনারাতো ওই বাচ্চাকে মৃত অবস্থায় মেটার্নিতে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেখান থেকে পোস্ট মোর্টেম করতে ঢামেকে পাঠিয়েছে। তখন আমি জানতে পারি সেন্টারে কর্মরতদের অবহেলায় তার মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে পুলিশের কয়েকজন সদস্য বিষয়টি ডে-কেয়ার সেন্টারের লোকজনের সাথে আলাপ করে মিটিয়ে ফেলুন। পুলিশ দীর্ঘ সময় আমাদের বসিয়ে রেখে রাত ২টার দিকে মামলা গ্রহণ করে। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ২জনকে গ্রেপ্তার করলেও বাকীরা পালিয়ে যায।
তিনি আরও জানান, তদন্তকারী সংস্থা পুলিশ তড়িঘড়ি করে অসম্পূর্ণ চার্জশীট দাখিল করায় এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যরা খালাস পেয়ে যায়। চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি নিম্ন আদালত ওই মামলায় একজনকে দোষি সাব্যস্ত করে রায় ঘোষণা করেন। বাকী ৫ জনকে খালাস প্রদান করা হয়। বিচার চলার শেষ দিকে একদিন এজলাসে ডেকে নেয়া হলেও কোনো কথা বলার সুযোগ দেয়া হয়নি। মামলার বিচারে কোনো ধরণের গুরুত্ব না দিয়ে রায় ঘোষণা করা হয় বলে জানান তিনি।
নিহত উম্মে আলিফের মা ইসমত আরা তালুকদার কান্না ভেজা কণ্ঠে বলেন, সকালে আমার কন্যাকে সুস্থ্য অবস্থায় ডে- কেয়ার সেন্টারে রেখে এসে দুপূরের পর জানতে পারি তার মৃত্যু হয়েছে। সেন্টারে কর্মরতদের দায়িত্বে অবহেলার কারণে উম্মে আলিফের মৃত্যু হয়। এই মৃত্যুর দায় ওই সেন্টারে কর্মরতদের। এ সময় তিনি সন্তান হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ন্যায্য বিচার দাবি করেন।