ঢাকা ০৬:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিক্ষিত যুবকদের জন্য বিশেষ ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ: দেশের ৬৪ জেলায় কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ আ.লীগের সাব-রেজিষ্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ “ড. তারেক হোসেনের নেতৃত্বে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিয়োগ ও টেন্ডার সিণ্ডিকেট” বালিয়াডাঙ্গীতে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে রং মিশ্রিত শিং-মাগুর মাছ গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য : মির্জা ফখরুল প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে একের পর এক নিয়োগ বিতর্কে বয়জার রহমান বাগেরহাটের রামপালে চাঁদা দাবি করে সাংবাদিককে প্রাণে মারার হুমকি । জুলাই যোদ্ধাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর সাথে সচিবালয়ে সাক্ষাত নওগাঁয় বিএমডিএ জোনে ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ,তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে আবু সুফিয়ানের প্রকল্প-নিয়োগ বাণিজ্য

“ড. তারেক হোসেনের নেতৃত্বে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিয়োগ ও টেন্ডার সিণ্ডিকেট”

  • মোঃ মামুন হোসেন
  • আপডেট সময় ০৪:৪০:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫০৮ বার পড়া হয়েছে

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে উপপরিচালক ড. তারেক হোসেনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে গঠিত একটি দুর্নীতি ও নিয়োগ সিণ্ডিকেট সম্প্রতি জনসমক্ষে আলোচিত হয়েছে। কর্মকর্তা ও কিছু সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক নিয়োগ ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি টাকার লোপাট এবং অনিয়মমূলক নিয়োগের ঘটনা ঘটেছে, যার মূল দায়িত্বশীল হিসেবে ড. তারেক হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হচ্ছে যে, কর্তৃপক্ষের মধ্যে থাকা কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তার সঙ্গে মিলে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে স্বার্থসিদ্ধির চক্রান্ত চালিয়ে আসছেন।

পাশাপাশি, উপপরিচালকের সঙ্গে পরিচালক প্রশাসনের সমন্বয়ে প্রায় ৬০০ কর্মচারীর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, নিয়োগের সময় প্রার্থী নির্বাচন ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের অনুকূলে পরিচালিত হয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, নিয়োগের ক্ষেত্রে সম্মানী ভাতা নামক এক ধরনের অর্থ লোপাট করা হয়েছে, যা প্রায় ৫ কোটি টাকার বেশি। প্রতিদিন একজন নিয়োগ প্রার্থীর কাছ থেকে প্রায় এক লাখ টাকা করে নেওয়া হতো বলে কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন। নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ এলাকার প্রার্থীদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এমন অভিযোগের ফলে জানা গেছে যে, যারা প্রকৃতভাবে যোগ্য ও দক্ষ ছিলেন তারা দীর্ঘদিন বঞ্চিত হয়েছেন।

উপরন্তু, উপপরিচালক ড. তারেক হোসেনের ব্যক্তিগত গাড়িচালককেও নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে নিয়মের বাইরে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা বলেন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আইন ও বিধি মানা হয়নি, যা প্রকাশ্যে আসার পরও প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ইতিমধ্যেই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যের তথ্য উঠে এসেছে।

অধিদপ্তরের টেন্ডার সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডেও তারেক হোসেনের নাম জড়িত। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন ভ্যাকসিন ক্রয় প্রকল্পে ২১ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুদুক (দুর্নীতি দমন কমিশন) বিষয়টি তদন্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ চেয়েছিল। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পরিচালক প্রশাসন মামলার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বাধা দিয়েছেন। এমনকি দুদুক কর্মকর্তারা স্বশরীরে এসে কাগজপত্র প্রদান করতে চাইলেও তাদের আবেদন উপেক্ষা করা হয়েছে। এই ধরনের ব্যবস্থা প্রশাসনিক দুর্নীতিকে স্বচ্ছভাবে প্রতিরোধের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করেছে।

জাতীয় প্রাণিসম্পদ মেলার আয়োজনেও বড় ধরনের অর্থনৈতিক অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। মেলার প্রস্তুতি, পণ্য ক্রয় এবং বিভিন্ন আয়োজনের ক্ষেত্রে উপপরিচালক ড. তারেক হোসেন এবং পরিচালক প্রশাসনের সঙ্গে আরও কয়েকজন কর্মকর্তা মিলে প্রায় ৪ কোটি টাকার বাণিজ্য করেছে। এই দুর্নীতির ঘটনায় সহায়তা করেছেন পরিচালক উৎপাদন ড. খালিদুজ্জামান এবং উপপরিচালক খামার শরিফুল হক। কর্মকর্তারা বলেন, এই ধরনের অনিয়মের ফলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মপরিবেশে অরাজকতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ড. তারেক হোসেন ও তার সহযোগীরা প্রশাসনের মধ্যে এক ধরনের প্রভাবশালী চক্র গঠন করেছেন। এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে অধিদপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিএনপি-পন্থী এবং জামাত-সহায়ক কিছু কর্মকর্তার দাপটের কারণে সাধারণ ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তারা পদক্ষেপ নিতে পারছেন না। অনেক দক্ষ কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত হলেও তাদের দাবির কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার গঠন হওয়ার পর মাননীয় মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীর নিকট বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তবে অভিযোগের কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়েছেন এবং অব্যাহতভাবে ক্ষমতার বাইরে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশপ্রেমিক ও দক্ষ কর্মকর্তারা আশাবাদী যে, সরকারের পদক্ষেপে এই সিণ্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কার্যক্রম স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে।

অধিদপ্তরের ভেতর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিয়োগ ও টেন্ডারের এই ধরনের দুর্নীতি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বরং এটি প্রতিষ্ঠান ও দেশের সার্বিক প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলে। কর্মকর্তারা বলেন, এই ধরনের অনিয়ম ও সিণ্ডিকেটের কারণে প্রকৃত দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তা প্রণোদনা পাচ্ছেন না এবং প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের মতে, অবিলম্বে উপপরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠানো বা অপসারণ করা প্রয়োজন, না হলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও উন্নয়নমূলক কাজ ব্যাহত হবে।

উল্লেখযোগ্য যে, এই অভিযোগগুলো প্রকাশের পরও কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। অনেক কর্মকর্তা জানাচ্ছেন, দুর্নীতিবাজদের কারণে অধিদপ্তরের পরিবেশ শিথিল ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে সাধারণ জনসাধারণের জন্য প্রাণিসম্পদ সেবা প্রাপ্তি ও ন্যায্য সুযোগ সীমিত হচ্ছে। কর্মকর্তারা মনে করছেন, সঠিক পদক্ষেপ নিলে এই ধরনের সিণ্ডিকেট ভেঙে দেওয়া সম্ভব এবং প্রতিষ্ঠান পুনরায় স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল হতে পারবে।

সংস্থার ভেতরের সূত্র থেকে জানা যায়, দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের কারণে অনেক নতুন প্রকল্পও স্থগিত হয়ে আছে। কর্মকর্তারা বলেন, উপপরিচালক ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করছেন। এই চক্রের কারণে প্রকল্পের সময়সীমা মিলে না এবং সঠিক বাজেট ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে প্রতিষ্ঠানকে পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত থাকা কর্মীরা জানিয়েছেন, তারা স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার জন্য বহুবার উচ্চকর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ জানিয়েছেন। তবে প্রশাসনের ভিতরে ক্ষমতাশালী চক্রের কারণে তাদের অভিযোগ কার্যকর হয়নি। অনেক দক্ষ কর্মকর্তা এই অবস্থায় হতাশ এবং আশঙ্কা করছেন যে, যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন ব্যাহত হবে।

অভিযোগগুলোতে আরও বলা হয়েছে, উপপরিচালক তারেক হোসেনের নেতৃত্বে এই সিণ্ডিকেট কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বরং প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকেও প্রভাবিত করছে। কর্মকর্তারা আশাবাদী, সরকার যদি অবিলম্বে পদক্ষেপ নেন, তবে এই ধরনের দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এছাড়া দক্ষ ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠান পুনরায় স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষিত যুবকদের জন্য বিশেষ ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ: দেশের ৬৪ জেলায় কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ

“ড. তারেক হোসেনের নেতৃত্বে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিয়োগ ও টেন্ডার সিণ্ডিকেট”

আপডেট সময় ০৪:৪০:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে উপপরিচালক ড. তারেক হোসেনকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে গঠিত একটি দুর্নীতি ও নিয়োগ সিণ্ডিকেট সম্প্রতি জনসমক্ষে আলোচিত হয়েছে। কর্মকর্তা ও কিছু সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক নিয়োগ ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় কোটি কোটি টাকার লোপাট এবং অনিয়মমূলক নিয়োগের ঘটনা ঘটেছে, যার মূল দায়িত্বশীল হিসেবে ড. তারেক হোসেনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হচ্ছে যে, কর্তৃপক্ষের মধ্যে থাকা কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তার সঙ্গে মিলে তিনি দীর্ঘদিন ধরে অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে স্বার্থসিদ্ধির চক্রান্ত চালিয়ে আসছেন।

পাশাপাশি, উপপরিচালকের সঙ্গে পরিচালক প্রশাসনের সমন্বয়ে প্রায় ৬০০ কর্মচারীর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের দুর্নীতি সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা যায়, নিয়োগের সময় প্রার্থী নির্বাচন ও পরীক্ষার প্রক্রিয়া প্রভাবশালী কর্মকর্তাদের অনুকূলে পরিচালিত হয়েছে। তাদের হিসাব অনুযায়ী, নিয়োগের ক্ষেত্রে সম্মানী ভাতা নামক এক ধরনের অর্থ লোপাট করা হয়েছে, যা প্রায় ৫ কোটি টাকার বেশি। প্রতিদিন একজন নিয়োগ প্রার্থীর কাছ থেকে প্রায় এক লাখ টাকা করে নেওয়া হতো বলে কর্মকর্তারা অভিযোগ করেছেন। নিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষ এলাকার প্রার্থীদেরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এমন অভিযোগের ফলে জানা গেছে যে, যারা প্রকৃতভাবে যোগ্য ও দক্ষ ছিলেন তারা দীর্ঘদিন বঞ্চিত হয়েছেন।

উপরন্তু, উপপরিচালক ড. তারেক হোসেনের ব্যক্তিগত গাড়িচালককেও নিয়োগ দেওয়ার বিষয়ে নিয়মের বাইরে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। কর্মকর্তারা বলেন, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আইন ও বিধি মানা হয়নি, যা প্রকাশ্যে আসার পরও প্রশাসন যথাযথ পদক্ষেপ নেয়নি। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে ইতিমধ্যেই প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্যের তথ্য উঠে এসেছে।

অধিদপ্তরের টেন্ডার সংক্রান্ত কর্মকাণ্ডেও তারেক হোসেনের নাম জড়িত। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের বিভিন্ন ভ্যাকসিন ক্রয় প্রকল্পে ২১ কোটি টাকার দুর্নীতি হয়েছে বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। দুদুক (দুর্নীতি দমন কমিশন) বিষয়টি তদন্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজ চেয়েছিল। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও পরিচালক প্রশাসন মামলার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বাধা দিয়েছেন। এমনকি দুদুক কর্মকর্তারা স্বশরীরে এসে কাগজপত্র প্রদান করতে চাইলেও তাদের আবেদন উপেক্ষা করা হয়েছে। এই ধরনের ব্যবস্থা প্রশাসনিক দুর্নীতিকে স্বচ্ছভাবে প্রতিরোধের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করেছে।

জাতীয় প্রাণিসম্পদ মেলার আয়োজনেও বড় ধরনের অর্থনৈতিক অনিয়মের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। মেলার প্রস্তুতি, পণ্য ক্রয় এবং বিভিন্ন আয়োজনের ক্ষেত্রে উপপরিচালক ড. তারেক হোসেন এবং পরিচালক প্রশাসনের সঙ্গে আরও কয়েকজন কর্মকর্তা মিলে প্রায় ৪ কোটি টাকার বাণিজ্য করেছে। এই দুর্নীতির ঘটনায় সহায়তা করেছেন পরিচালক উৎপাদন ড. খালিদুজ্জামান এবং উপপরিচালক খামার শরিফুল হক। কর্মকর্তারা বলেন, এই ধরনের অনিয়মের ফলে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কর্মপরিবেশে অরাজকতা ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

অভিযোগ অনুযায়ী, ড. তারেক হোসেন ও তার সহযোগীরা প্রশাসনের মধ্যে এক ধরনের প্রভাবশালী চক্র গঠন করেছেন। এই চক্র দীর্ঘদিন ধরে অধিদপ্তরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিএনপি-পন্থী এবং জামাত-সহায়ক কিছু কর্মকর্তার দাপটের কারণে সাধারণ ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তারা পদক্ষেপ নিতে পারছেন না। অনেক দক্ষ কর্মকর্তা দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত হলেও তাদের দাবির কোন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার গঠন হওয়ার পর মাননীয় মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রীর নিকট বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। তবে অভিযোগের কারণে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আরও ক্ষিপ্ত হয়েছেন এবং অব্যাহতভাবে ক্ষমতার বাইরে থাকা কর্মকর্তাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশপ্রেমিক ও দক্ষ কর্মকর্তারা আশাবাদী যে, সরকারের পদক্ষেপে এই সিণ্ডিকেট ভেঙে দেওয়া হবে এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কার্যক্রম স্বচ্ছ ও সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হবে।

অধিদপ্তরের ভেতর থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিয়োগ ও টেন্ডারের এই ধরনের দুর্নীতি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বরং এটি প্রতিষ্ঠান ও দেশের সার্বিক প্রাণিসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও বড় প্রভাব ফেলে। কর্মকর্তারা বলেন, এই ধরনের অনিয়ম ও সিণ্ডিকেটের কারণে প্রকৃত দক্ষ ও যোগ্য কর্মকর্তা প্রণোদনা পাচ্ছেন না এবং প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তাদের মতে, অবিলম্বে উপপরিচালক ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের অবসরে পাঠানো বা অপসারণ করা প্রয়োজন, না হলে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও উন্নয়নমূলক কাজ ব্যাহত হবে।

উল্লেখযোগ্য যে, এই অভিযোগগুলো প্রকাশের পরও কর্তৃপক্ষের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যায়নি। অনেক কর্মকর্তা জানাচ্ছেন, দুর্নীতিবাজদের কারণে অধিদপ্তরের পরিবেশ শিথিল ও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এর ফলে সাধারণ জনসাধারণের জন্য প্রাণিসম্পদ সেবা প্রাপ্তি ও ন্যায্য সুযোগ সীমিত হচ্ছে। কর্মকর্তারা মনে করছেন, সঠিক পদক্ষেপ নিলে এই ধরনের সিণ্ডিকেট ভেঙে দেওয়া সম্ভব এবং প্রতিষ্ঠান পুনরায় স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল হতে পারবে।

সংস্থার ভেতরের সূত্র থেকে জানা যায়, দুর্নীতি ও নিয়োগ বাণিজ্যের কারণে অনেক নতুন প্রকল্পও স্থগিত হয়ে আছে। কর্মকর্তারা বলেন, উপপরিচালক ও তার সহযোগীরা দীর্ঘদিন ধরে প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত প্রভাবিত করছেন। এই চক্রের কারণে প্রকল্পের সময়সীমা মিলে না এবং সঠিক বাজেট ব্যবহার হচ্ছে না। ফলে প্রতিষ্ঠানকে পরিকল্পিত উন্নয়ন কার্যক্রম চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

দীর্ঘদিন ধরে বঞ্চিত থাকা কর্মীরা জানিয়েছেন, তারা স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতার জন্য বহুবার উচ্চকর্তৃপক্ষের নিকট অভিযোগ জানিয়েছেন। তবে প্রশাসনের ভিতরে ক্ষমতাশালী চক্রের কারণে তাদের অভিযোগ কার্যকর হয়নি। অনেক দক্ষ কর্মকর্তা এই অবস্থায় হতাশ এবং আশঙ্কা করছেন যে, যদি ব্যবস্থা না নেওয়া হয়, তাহলে দেশের প্রাণিসম্পদ খাতের উন্নয়ন ব্যাহত হবে।

অভিযোগগুলোতে আরও বলা হয়েছে, উপপরিচালক তারেক হোসেনের নেতৃত্বে এই সিণ্ডিকেট কেবল অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, বরং প্রশাসনিক স্বচ্ছতাকেও প্রভাবিত করছে। কর্মকর্তারা আশাবাদী, সরকার যদি অবিলম্বে পদক্ষেপ নেন, তবে এই ধরনের দুর্নীতি প্রতিরোধ করা সম্ভব হবে। এছাড়া দক্ষ ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠান পুনরায় স্বচ্ছ ও কার্যকর হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।