ঢাকা ০৭:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
শিক্ষিত যুবকদের জন্য বিশেষ ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ: দেশের ৬৪ জেলায় কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ আ.লীগের সাব-রেজিষ্ট্রার মাইকেল মহিউদ্দিনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ “ড. তারেক হোসেনের নেতৃত্বে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের নিয়োগ ও টেন্ডার সিণ্ডিকেট” বালিয়াডাঙ্গীতে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে রং মিশ্রিত শিং-মাগুর মাছ গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়াই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য : মির্জা ফখরুল প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে একের পর এক নিয়োগ বিতর্কে বয়জার রহমান বাগেরহাটের রামপালে চাঁদা দাবি করে সাংবাদিককে প্রাণে মারার হুমকি । জুলাই যোদ্ধাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রীর সাথে সচিবালয়ে সাক্ষাত নওগাঁয় বিএমডিএ জোনে ঘুষ-বাণিজ্যের অভিযোগ,তদন্ত নিয়েও প্রশ্ন প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে আবু সুফিয়ানের প্রকল্প-নিয়োগ বাণিজ্য

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে একের পর এক নিয়োগ বিতর্কে বয়জার রহমান

  • মোঃ মামুন হোসেন
  • আপডেট সময় ০৪:৩১:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫০৬ বার পড়া হয়েছে

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং প্রকল্পভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে এসব বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডাঃ মোঃ বয়জার রহমান। অধিদপ্তরের ভেতরে-বাইরে একাধিক নিয়োগ প্রক্রিয়া, পদোন্নতি, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে।

ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ৪৮৩টি ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক তদারকির দায়িত্বে থাকা হিসেবে ডাঃ বয়জার রহমান গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলের প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার ঘাটতি, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে।

এর আগে প্রায় ৬০০ কর্মচারী নিয়োগের সময়ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করা হয়েছিল এবং সম্মানী ভাতার নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়। নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে আর্থিক সুবিধা বণ্টনের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

শুধু নিয়োগ নয়, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াতেও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষুরা রোগ নির্মূল কর্মসূচির আওতায় ভ্যাকসিন ক্রয় প্রকল্পে প্রায় ২১ কোটি টাকার অনিয়মের বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এ বিষয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহে বিলম্ব হয়েছে বলে জানা যায়।

ডাঃ বয়জার রহমানের পদোন্নতিও বিতর্কের বাইরে নয়। একাধিক সূত্রের দাবি, তার পদোন্নতি প্রশাসনিক যোগ্যতার পাশাপাশি রাজনৈতিক সুপারিশের প্রভাবেও হয়েছে। বিশেষ করে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সংশ্লিষ্ট মহলের সমর্থন পেয়েছিলেন, যা তার প্রশাসনিক অবস্থানকে শক্তিশালী করে।

এদিকে ‘প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন’ প্রকল্পের অধীনে ১১৫ জন ড্রাইভার নিয়োগ প্রক্রিয়া নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩ কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য হয়েছে। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর এই নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং ২০২৫ সালের ১২ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হয় সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট-এ।

নিয়োগ কমিটির সভাপতি ছিলেন ডাঃ বয়জার রহমান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিজের পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রকল্পভিত্তিক নিয়োগের মূল নিয়ন্ত্রণ প্রশাসন শাখার হাতে থাকায় কার্যত পুরো প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়েছে প্রশাসনিক নেতৃত্বের মাধ্যমে। প্রকল্প কর্মকর্তারা তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় ছিলেন বলে জানা গেছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, ১১৫টি পদের বিপরীতে ১০ কোটি টাকার বেশি আর্থিক লেনদেন হয়েছে। মাথাপিছু ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে আলোচনা চলছে। এই লেনদেনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক সরদার, রনজিৎ কুমার এবং অফিস সহায়ক আব্দুল কাদেরসহ আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েও অনেক পরীক্ষার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ১৩০০ পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে ৩৫১ জনের নাম প্রাথমিকভাবে প্রকাশ করা হয় এবং ২০২৫ সালের ৫ মে ১১৫ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

নিয়োগ কমিটিতে আরও ছিলেন প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-এর পরিদর্শক মুহাম্মদ অহিদুর রহমান, বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল-এর ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস এবং অধিদপ্তরের পিইসি শাখার প্রধান ডা. মো. হাবিবুর রহমান।

এ বিষয়ে ডাঃ বয়জার রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সমন্বয়কদের কয়েকজন জানিয়েছেন, সরকারি নিয়োগে অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ এসব অভিযোগ শুধু একটি ব্যক্তিকে নয়, বরং পুরো প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ডাঃ বয়জার রহমানকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে এবং প্রয়োজনীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষিত যুবকদের জন্য বিশেষ ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ: দেশের ৬৪ জেলায় কর্মসংস্থান নিশ্চিতকরণ

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরে একের পর এক নিয়োগ বিতর্কে বয়জার রহমান

আপডেট সময় ০৪:৩১:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড, নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং প্রকল্পভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন মহলে আলোচনা থাকলেও সাম্প্রতিক সময়ে এসব বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডাঃ মোঃ বয়জার রহমান। অধিদপ্তরের ভেতরে-বাইরে একাধিক নিয়োগ প্রক্রিয়া, পদোন্নতি, প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত বিষয়ে তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে।

ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সালে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ৪৮৩টি ভেটেরিনারি ফিল্ড অ্যাসিস্ট্যান্ট নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক তদারকির দায়িত্বে থাকা হিসেবে ডাঃ বয়জার রহমান গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় প্রশাসনিক পর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট একটি অঞ্চলের প্রার্থীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতার ঘাটতি, যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় অসঙ্গতি এবং প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠেছে।

এর আগে প্রায় ৬০০ কর্মচারী নিয়োগের সময়ও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করা হয়েছিল এবং সম্মানী ভাতার নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ উত্তোলন করা হয়। নিয়োগ বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে আর্থিক সুবিধা বণ্টনের বিষয়টিও আলোচনায় আসে।

শুধু নিয়োগ নয়, সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াতেও প্রশাসনিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষুরা রোগ নির্মূল কর্মসূচির আওতায় ভ্যাকসিন ক্রয় প্রকল্পে প্রায় ২১ কোটি টাকার অনিয়মের বিষয়টি বিভিন্ন সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এ বিষয়ে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হলেও প্রয়োজনীয় নথিপত্র সংগ্রহে বিলম্ব হয়েছে বলে জানা যায়।

ডাঃ বয়জার রহমানের পদোন্নতিও বিতর্কের বাইরে নয়। একাধিক সূত্রের দাবি, তার পদোন্নতি প্রশাসনিক যোগ্যতার পাশাপাশি রাজনৈতিক সুপারিশের প্রভাবেও হয়েছে। বিশেষ করে অভিযোগ রয়েছে যে, তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সংশ্লিষ্ট মহলের সমর্থন পেয়েছিলেন, যা তার প্রশাসনিক অবস্থানকে শক্তিশালী করে।

এদিকে ‘প্রাণিসম্পদ ও ডেইরি উন্নয়ন’ প্রকল্পের অধীনে ১১৫ জন ড্রাইভার নিয়োগ প্রক্রিয়া নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে প্রায় ৩ কোটি টাকার নিয়োগ বাণিজ্য হয়েছে। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর এই নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয় এবং ২০২৫ সালের ১২ থেকে ২৬ এপ্রিল পর্যন্ত ব্যবহারিক ও মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরীক্ষাগুলো অনুষ্ঠিত হয় সাভারে অবস্থিত বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট-এ।

নিয়োগ কমিটির সভাপতি ছিলেন ডাঃ বয়জার রহমান। অভিযোগ রয়েছে, তিনি আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে নিজের পছন্দের প্রার্থীদের নিয়োগে অগ্রাধিকার দিয়েছেন এবং একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রকল্পভিত্তিক নিয়োগের মূল নিয়ন্ত্রণ প্রশাসন শাখার হাতে থাকায় কার্যত পুরো প্রক্রিয়া পরিচালিত হয়েছে প্রশাসনিক নেতৃত্বের মাধ্যমে। প্রকল্প কর্মকর্তারা তুলনামূলকভাবে কম সক্রিয় ছিলেন বলে জানা গেছে।

আরও অভিযোগ রয়েছে, ১১৫টি পদের বিপরীতে ১০ কোটি টাকার বেশি আর্থিক লেনদেন হয়েছে। মাথাপিছু ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে বলে অধিদপ্তরের অভ্যন্তরে আলোচনা চলছে। এই লেনদেনে প্রশাসনিক কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক সরদার, রনজিৎ কুমার এবং অফিস সহায়ক আব্দুল কাদেরসহ আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে।

ব্যবহারিক পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হয়েও অনেক পরীক্ষার্থী মৌখিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। প্রায় ১৩০০ পরীক্ষার্থীর মধ্য থেকে ৩৫১ জনের নাম প্রাথমিকভাবে প্রকাশ করা হয় এবং ২০২৫ সালের ৫ মে ১১৫ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়।

নিয়োগ কমিটিতে আরও ছিলেন প্রকল্প পরিচালক ডা. মো. জসিম উদ্দিন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ-এর পরিদর্শক মুহাম্মদ অহিদুর রহমান, বাংলাদেশ ভেটেরিনারি কাউন্সিল-এর ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার ডা. গোপাল চন্দ্র বিশ্বাস এবং অধিদপ্তরের পিইসি শাখার প্রধান ডা. মো. হাবিবুর রহমান।

এ বিষয়ে ডাঃ বয়জার রহমানের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র সমন্বয়কদের কয়েকজন জানিয়েছেন, সরকারি নিয়োগে অনিয়ম মেনে নেওয়া হবে না এবং এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।

প্রশাসনিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ ও প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। কারণ এসব অভিযোগ শুধু একটি ব্যক্তিকে নয়, বরং পুরো প্রশাসনিক কাঠামোর কার্যকারিতা ও বিশ্বাসযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, ডাঃ বয়জার রহমানকে ঘিরে ওঠা এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত চিত্র সামনে আসবে এবং প্রয়োজনীয় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।