ঢাকা ০৪:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঢাকা ওয়াসায় ক্যাটাগরি পরিবর্তনের নামে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য অনুমোদন ছাড়াই প্ল্যান্ট চালুর পায়তারা, জ্বালানি বিভাগে সুপার পেট্রোকেমিক্যালের তদবির দিরাইয়ের ওসির বিরুদ্ধে নির্যাতন ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ কুরিয়ার অফিস থেকে পার্সেল নেওয়ার চেষ্টা, পুলিশ সদস্য গ্রেপ্তার ভুয়া চুক্তিতে ইসলামী ব্যাংকের প্রায় ৬৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ এনায়েত উল্লাহ আব্বাসীর বক্তব্য ও সাংবাদিক হত্যার প্রতিবাদে সিসকপের মানববন্ধন পঞ্চগড় জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে প্রশাসকের শুভেচ্ছা বিনিময় পবিপ্রবির পরিবহন সংকট নিরসনে বিআরটিসির সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর এনবিআরে যোগ দিতে গিয়ে জানলেন নিয়োগপত্র জাল নকশা লঙ্ঘন করে ভবন নির্মাণ, চট্টগ্রামে ৪ ভবনের অংশ ভাঙল সিডিএ, সিলগালা ২টি

কেমন হবে বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা, জানালেন শিশির মনির

  • বিশেষ প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় ০৫:৫৭:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৭২১ বার পড়া হয়েছে

নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। দলটির নেতৃত্বাধীন সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ও সরকারের কার্যক্রমে ওয়াচডগ হিসেবে ভূমিকা রাখতে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। ১১ দলীয় জোট সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে।

বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা কেমন হবে, এ বিষয়ে জানতে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ঢাকা পোস্টকে বলেন, গঠনমূলক গণতান্ত্রিক রাজনীতি আছে যেসব দেশে সেসব দেশে সরকার যে মন্ত্রিসভা গঠন করে তার বিরোধীদলও এমন একটি প্যারালাল বা ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করে। ছায়া মন্ত্রিপরিষদের কাজ হয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করা ও গঠনমূলক সমালোচনা করা। যা ভালো তা ভালো বলবে, যা সমালোচনার তার সমালোচনা করবে। সঠিক কোনটা সেটা আমরা তুলে ধরবো। এজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট যে মন্ত্রীদের দায়িত্ব দেওয়া হয় কোথাও কোথাও আমরা টিম গঠন করে দিতে দেখেছি, যেমন- আইনমন্ত্রী একটি মন্ত্রণালয়ে আছেন তিনি একটি মন্ত্রণালয়ে কাজ করেন তাকে ও তার কর্মাকাণ্ডকে পর্যবেক্ষণ করা, সঠিক পদক্ষেপকে উৎসাহ দেওয়া, কাজ সঠিক না হলে সংসদ নেতাদের মাধ্যমে সংসদে বা বাইরে আলোচনায় আনা।

শিশির মনির বলেন, যে সমস্ত দেশে ম্যাচিউরড গণতন্ত্র আছে সে সমস্ত দেশে এই পদ্ধতি চালু আছে। যদি ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করা হয় তাহলে বিরোধীদল যে পরিমাণ আসন পেয়েছে তারা যদি গঠনমূলক দেশ গঠনের জন্য কাজ করতে চান তাহলে তাদেরও উচিৎ সহযোগিতা করা। ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বিশেষ করে বড় বড় মন্ত্রণালয় যেগুলো আছে- স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, আইন প্রতিরক্ষা, স্থানীয় প্রশাসন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রভৃতি- এসব মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রের গতিবিধি নির্ণয় করে। এখানে শুধু যে সরকারই সব করবে তা নয়। বিরোধী দলে যদি অভিজ্ঞ লোক থাকে তাহলে গণতন্ত্র অনেক শক্তিশালী হয় বলেও জানান আইনজীবী শিশির মনির।

তিনি বলেন, এখনকার নির্বাচনের পর যদি এটা আমরা না করতে পারি তাহলে সেটি হবে জাতির জন্য লজ্জাজনক। ম্যাচিউরড পলিটিকস করে জাতিকে অগ্রসর করতে হবে। এখানে শুধু মানি না মানি না আর মানবো, মানবো- এসব আলেচনা করে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় না। ফলে পাঁচ বছর পর যখন আবার নির্বাচন হবে তখন কি হবে? এখন যারা বিরোধী দল আছে তারা যদি সরকার গঠনের ম্যান্ডেট পায় তাহলে তারা মন্ত্রিপরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে ছায়া মন্ত্রিপরিষদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারবেন। এগুলোকে উৎসাহিত করা উচিৎ। এটা নিয়ে আলোচনা চলছে। এর ফলে দেশের মানুষ উপকৃত হবে।

এ বিষয়ে বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক, নেত্রকোনা -১ আসন থেকে ধানের শীষের বিজয়ী প্রার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ছায়া মন্ত্রিসভার পরিকল্পনাকে স্বাগত জানাই। এটি করলে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

জানা যায়, বিশ্বের উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে ছায়া মন্ত্রিসভার গুরুত্ব অনেক। তাদের প্রধান কাজগুলো হলো- জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের চুলচেরা বিশ্লেষণ করা, বিকল্প বাজেট প্রস্তাব, সরকারের বাজেটের বিপরীতে জনবান্ধব বিকল্প বাজেট তুলে ধরা, প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণ, মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি বা অসংগতি জনগণের সামনে আনা, ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রস্তুতি, বিরোধী দলের নেতাদের প্রশাসনিকভাবে দক্ষ করে তোলা।

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা ওয়াসায় ক্যাটাগরি পরিবর্তনের নামে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য

কেমন হবে বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা, জানালেন শিশির মনির

আপডেট সময় ০৫:৫৭:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয়ের পর সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। দলটির নেতৃত্বাধীন সরকারের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ও সরকারের কার্যক্রমে ওয়াচডগ হিসেবে ভূমিকা রাখতে ছায়া মন্ত্রিসভা গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট। ১১ দলীয় জোট সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করবে।

বিরোধী দলের ছায়া মন্ত্রিসভা কেমন হবে, এ বিষয়ে জানতে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির ঢাকা পোস্টকে বলেন, গঠনমূলক গণতান্ত্রিক রাজনীতি আছে যেসব দেশে সেসব দেশে সরকার যে মন্ত্রিসভা গঠন করে তার বিরোধীদলও এমন একটি প্যারালাল বা ছায়া মন্ত্রিপরিষদ গঠন করে। ছায়া মন্ত্রিপরিষদের কাজ হয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করা ও গঠনমূলক সমালোচনা করা। যা ভালো তা ভালো বলবে, যা সমালোচনার তার সমালোচনা করবে। সঠিক কোনটা সেটা আমরা তুলে ধরবো। এজন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট যে মন্ত্রীদের দায়িত্ব দেওয়া হয় কোথাও কোথাও আমরা টিম গঠন করে দিতে দেখেছি, যেমন- আইনমন্ত্রী একটি মন্ত্রণালয়ে আছেন তিনি একটি মন্ত্রণালয়ে কাজ করেন তাকে ও তার কর্মাকাণ্ডকে পর্যবেক্ষণ করা, সঠিক পদক্ষেপকে উৎসাহ দেওয়া, কাজ সঠিক না হলে সংসদ নেতাদের মাধ্যমে সংসদে বা বাইরে আলোচনায় আনা।

শিশির মনির বলেন, যে সমস্ত দেশে ম্যাচিউরড গণতন্ত্র আছে সে সমস্ত দেশে এই পদ্ধতি চালু আছে। যদি ছায়া মন্ত্রিসভা গঠন করা হয় তাহলে বিরোধীদল যে পরিমাণ আসন পেয়েছে তারা যদি গঠনমূলক দেশ গঠনের জন্য কাজ করতে চান তাহলে তাদেরও উচিৎ সহযোগিতা করা। ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত হয়েছে, বিশেষ করে বড় বড় মন্ত্রণালয় যেগুলো আছে- স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, আইন প্রতিরক্ষা, স্থানীয় প্রশাসন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় প্রভৃতি- এসব মন্ত্রণালয় রাষ্ট্রের গতিবিধি নির্ণয় করে। এখানে শুধু যে সরকারই সব করবে তা নয়। বিরোধী দলে যদি অভিজ্ঞ লোক থাকে তাহলে গণতন্ত্র অনেক শক্তিশালী হয় বলেও জানান আইনজীবী শিশির মনির।

তিনি বলেন, এখনকার নির্বাচনের পর যদি এটা আমরা না করতে পারি তাহলে সেটি হবে জাতির জন্য লজ্জাজনক। ম্যাচিউরড পলিটিকস করে জাতিকে অগ্রসর করতে হবে। এখানে শুধু মানি না মানি না আর মানবো, মানবো- এসব আলেচনা করে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয় না। ফলে পাঁচ বছর পর যখন আবার নির্বাচন হবে তখন কি হবে? এখন যারা বিরোধী দল আছে তারা যদি সরকার গঠনের ম্যান্ডেট পায় তাহলে তারা মন্ত্রিপরিষদ গঠনের ক্ষেত্রে ছায়া মন্ত্রিপরিষদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে পারবেন। এগুলোকে উৎসাহিত করা উচিৎ। এটা নিয়ে আলোচনা চলছে। এর ফলে দেশের মানুষ উপকৃত হবে।

এ বিষয়ে বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক, নেত্রকোনা -১ আসন থেকে ধানের শীষের বিজয়ী প্রার্থী ও সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ছায়া মন্ত্রিসভার পরিকল্পনাকে স্বাগত জানাই। এটি করলে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত হবে।

জানা যায়, বিশ্বের উন্নত গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে ছায়া মন্ত্রিসভার গুরুত্ব অনেক। তাদের প্রধান কাজগুলো হলো- জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা, সরকারের প্রতিটি সিদ্ধান্তের চুলচেরা বিশ্লেষণ করা, বিকল্প বাজেট প্রস্তাব, সরকারের বাজেটের বিপরীতে জনবান্ধব বিকল্প বাজেট তুলে ধরা, প্রশাসনিক পর্যবেক্ষণ, মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি বা অসংগতি জনগণের সামনে আনা, ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের প্রস্তুতি, বিরোধী দলের নেতাদের প্রশাসনিকভাবে দক্ষ করে তোলা।