ঢাকা ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এ-প্লাসের মরীচিকা বনাম প্রকৃত শিক্ষা: আমাদের মানসিকতার অবক্ষয় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে পাঁচ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠক ধামরাইয়ের ঐতিহাসিক রথযাত্রার উদ্বোধনে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা দিলেন চীফ হুইপ ফ্যাসিস্ট আমলে শাহিন চেয়ারম্যানের সহযোগী হয়ে কেরানীগঞ্জে ব্যাপক ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে : পবিপ্রবি উপাচার্য বড়লেখায় জমি বিরোধ মামলা তুলে নিতে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ রঞ্জু মিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ধামইরহাটে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় গাছের ডাল থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ফুটবলার মেসি-কেইন কেন ওমর সানিকে চাবুক মারতেন মৌসুমী?

গাজায় ছড়িয়েছে বিপজ্জনক ভাইরাস, ঘটছে প্রাণহানি

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:৪৪:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬২২ বার পড়া হয়েছে

গাজার এক জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সোমবার সতর্ক করে বলেছেন, উপত্যকাজুড়ে একটি বিপজ্জনক শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এতে প্রাণহানি ঘটছে এবং ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

গাজা সিটির আল শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্সের চিকিৎসা পরিচালক মোহাম্মেদ আবু সালমিয়া আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর ঘটনা হাসপাতালগুলোতে নথিভুক্ত হচ্ছে—বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা রোগীদের মধ্যে।

আবু সালমিয়া বলেন, ‘আমরা এক নজিরবিহীন স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের মুখোমুখি।

পরিস্থিতি এমন গতিতে অবনতি হচ্ছে, যা আমরা আগে কখনো দেখিনি।’
তিনি জানান, ইনফ্লুয়েঞ্জা বা করোনাভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো একটি ধরন বলে ধারণা করা এই ভাইরাসটি সব বয়সী মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। তীব্র অপুষ্টি, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক আঘাত এবং টিকাদানের প্রায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি এই বিস্তারে ভূমিকা রাখছে।

আবু সালমিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী তীব্র উপসর্গ দেখা যাচ্ছে—যার মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, তীব্র জয়েন্ট ও হাড়ের ব্যথা, লাগাতার মাথাব্যথা এবং বমি।

অনেক ক্ষেত্রে এই অসুস্থতা তীব্র নিউমোনিয়ায় রূপ নিচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এই জটিলতাগুলো প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে, বিশেষ করে তাঁবুতে বসবাসকারী বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে—যেখানে ঠান্ডা, আর্দ্রতা কিংবা অতিরিক্ত ভিড় থেকে কোনো সুরক্ষা নেই।’

আবু সালমিয়া জানান, গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর ১০০ দিনেরও বেশি সময় পার হলেও এই ধস আরো দ্রুততর হয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালগুলো ন্যূনতম চিকিৎসা সামগ্রীরও চরম ঘাটতির মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘অপারেশন থিয়েটারে জীবাণুমুক্ত গজ নেই। অ্যান্টিবায়োটিক মারাত্মকভাবে সংকটাপন্ন। ক্যানসারের ওষুধ পুরোপুরি অনুপস্থিত, একইভাবে কিডনি ডায়ালাইসিসের রোগী ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসাও নেই।’

তিনি আরো জানান, একটি ক্রমবর্ধমান মানসিক স্বাস্থ্য সংকট তৈরি হয়েছে।

মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে এবং মানসিক রোগীদের ওষুধ প্রায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিত—যা শুধু রোগীদের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
আবু সালমিয়া যোগ করেন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণের ঘাটতির কারণে গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ চিকিৎসা পরীক্ষাগার আর কার্যকর নেই। ফলে চিকিৎসকেরা নিয়মিত রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষাও করতে পারছেন না।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি

 

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এ-প্লাসের মরীচিকা বনাম প্রকৃত শিক্ষা: আমাদের মানসিকতার অবক্ষয়

গাজায় ছড়িয়েছে বিপজ্জনক ভাইরাস, ঘটছে প্রাণহানি

আপডেট সময় ০৭:৪৪:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

গাজার এক জ্যেষ্ঠ স্বাস্থ্য কর্মকর্তা সোমবার সতর্ক করে বলেছেন, উপত্যকাজুড়ে একটি বিপজ্জনক শ্বাসযন্ত্রের ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এতে প্রাণহানি ঘটছে এবং ইতিমধ্যেই বিপর্যস্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থা সম্পূর্ণ ধসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।

গাজা সিটির আল শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্সের চিকিৎসা পরিচালক মোহাম্মেদ আবু সালমিয়া আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, এই প্রাদুর্ভাবের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মৃত্যুর ঘটনা হাসপাতালগুলোতে নথিভুক্ত হচ্ছে—বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগে ভোগা রোগীদের মধ্যে।

আবু সালমিয়া বলেন, ‘আমরা এক নজিরবিহীন স্বাস্থ্য বিপর্যয়ের মুখোমুখি।

পরিস্থিতি এমন গতিতে অবনতি হচ্ছে, যা আমরা আগে কখনো দেখিনি।’
তিনি জানান, ইনফ্লুয়েঞ্জা বা করোনাভাইরাসের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো একটি ধরন বলে ধারণা করা এই ভাইরাসটি সব বয়সী মানুষের মধ্যে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। তীব্র অপুষ্টি, দীর্ঘস্থায়ী মানসিক আঘাত এবং টিকাদানের প্রায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিতি এই বিস্তারে ভূমিকা রাখছে।

আবু সালমিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত স্থায়ী তীব্র উপসর্গ দেখা যাচ্ছে—যার মধ্যে রয়েছে উচ্চ জ্বর, তীব্র জয়েন্ট ও হাড়ের ব্যথা, লাগাতার মাথাব্যথা এবং বমি।

অনেক ক্ষেত্রে এই অসুস্থতা তীব্র নিউমোনিয়ায় রূপ নিচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘এই জটিলতাগুলো প্রাণঘাতী হয়ে উঠছে, বিশেষ করে তাঁবুতে বসবাসকারী বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর ক্ষেত্রে—যেখানে ঠান্ডা, আর্দ্রতা কিংবা অতিরিক্ত ভিড় থেকে কোনো সুরক্ষা নেই।’

আবু সালমিয়া জানান, গাজার স্বাস্থ্যব্যবস্থা ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর থেকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে। যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর ১০০ দিনেরও বেশি সময় পার হলেও এই ধস আরো দ্রুততর হয়েছে বলে তিনি সতর্ক করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, হাসপাতালগুলো ন্যূনতম চিকিৎসা সামগ্রীরও চরম ঘাটতির মধ্যে পরিচালিত হচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘অপারেশন থিয়েটারে জীবাণুমুক্ত গজ নেই। অ্যান্টিবায়োটিক মারাত্মকভাবে সংকটাপন্ন। ক্যানসারের ওষুধ পুরোপুরি অনুপস্থিত, একইভাবে কিডনি ডায়ালাইসিসের রোগী ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্তদের চিকিৎসাও নেই।’

তিনি আরো জানান, একটি ক্রমবর্ধমান মানসিক স্বাস্থ্য সংকট তৈরি হয়েছে।

মানসিক স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে এবং মানসিক রোগীদের ওষুধ প্রায় সম্পূর্ণ অনুপস্থিত—যা শুধু রোগীদের জন্য নয়, পুরো সমাজের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে।
আবু সালমিয়া যোগ করেন, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও উপকরণের ঘাটতির কারণে গাজার প্রায় ৭০ শতাংশ চিকিৎসা পরীক্ষাগার আর কার্যকর নেই। ফলে চিকিৎসকেরা নিয়মিত রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষাও করতে পারছেন না।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি