ঢাকা ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ১ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এ-প্লাসের মরীচিকা বনাম প্রকৃত শিক্ষা: আমাদের মানসিকতার অবক্ষয় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে পাঁচ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠক ধামরাইয়ের ঐতিহাসিক রথযাত্রার উদ্বোধনে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা দিলেন চীফ হুইপ ফ্যাসিস্ট আমলে শাহিন চেয়ারম্যানের সহযোগী হয়ে কেরানীগঞ্জে ব্যাপক ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে : পবিপ্রবি উপাচার্য বড়লেখায় জমি বিরোধ মামলা তুলে নিতে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ রঞ্জু মিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ধামইরহাটে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় গাছের ডাল থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ফুটবলার মেসি-কেইন কেন ওমর সানিকে চাবুক মারতেন মৌসুমী?
রংপুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ

রঞ্জু মিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

রংপুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ মো. রঞ্জু মিয়ার বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশের পক্ষ থেকে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বরাবরে লিখিত অভিযোগে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অধ্যক্ষ রঞ্জু মিয়া তার আপন বড় ভাই ইলেকট্রিশিয়ান কামরুজ্জামান, কলেজটির প্রভাষক মাহমুদ হাসান এবং জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর পলাশ সরকারকে সাথে নিয়ে কলেজে একচ্ছত্র দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম করেছেন। কলেজটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মাণ এবং উন্নতমানের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার, রাউটার সহ আসবাবপত্র সরবরাহ করা হয়।
কলেজে অধ্যক্ষ রঞ্জু মিয়া যোগদানের পরই ৪০ টি কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক, মাদারবোর্ড সহ যন্ত্রাংশ সরিয়ে ফেলে এবং ৪০ টি ওয়াটারপ্রুফ রাউটার নষ্ট দেখিয়ে মালামাল বিক্রি করে পুনরায় নিম্নমানের রাউটার সরবরাহ করেছে। পাশাপাশি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পানির পাম্প মেরামতসহ বিভিন্ন খাতে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে উইভিং, স্পিনিং শেড ও টেস্টিং ল্যাবের কয়েক কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট করার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এ্যাপারেল বিভাগের প্রায় দুই লক্ষ টাকা মূল্যের একটি অত্যাধুনিক ‘রেজার’ ল্যাপটপ তিন মাস ধরে হদিস না থাকলেও অধ্যক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেননি। অভিযোগ রয়েছে, এটি তার ঘনিষ্ঠ মহলের লোকজনই সরিয়ে ফেলেছে।
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে পদোন্নতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে বসানোর অভিযোগও করা হয়েছে। এ ছাড়া, শিক্ষক ও কর্মচারীদের তুচ্ছ কারণে হয়রানি, ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
অধ্যক্ষ রঞ্জু মিয়ার বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের সিলেবাসের সাথে কোনো সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও তিনি নিয়মিত ক্লাস নেন না বা নিতে পারেন না বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিজ্ঞ শিক্ষকদের কৌশলে বদলি বা বিতাড়িত করে নিজের অনুগত অযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে কলেজ পরিচালনা করছেন তিনি।
অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, এর আগেও একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করা হলেও কোনো কার্যকর বিচার না হওয়ায় অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তারা কলেজের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব, বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবরও পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাকরি বিধির পরিপন্থী হওয়ায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের একাধিক শিক্ষক- কর্মচারী বলেন, অধ্যক্ষ ও তার সিন্ডিকেটের কারণে প্রতিষ্ঠানটি এখন ধ্বংসের মুখে। আমরা এর তদন্ত ও সঠিক বিচার চাই।
অধ্যক্ষ রঞ্জু মিয়া তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, যাদের স্বার্থের ব্যাঘাত হয়েছে, তারাই অভিযোগগুলো করেছে। কম্পিউটারগুলো না চলার কারণে আমি কিছু যন্ত্রাংশ লাগিয়েছি। আর রাউটারের ব্যাপারে ছাত্ররাই কমিটি করে তারাই সুবিধাজনক স্থানে স্থাপন করেছে। সেইসাথে যে কম্পিউটারের হদিস নেই, সেটি ডিপার্টমেন্টকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।
তিনি তার ভাই ইলেকট্রিশিয়ান কামরুজ্জামানের ব্যাপারে বলেন, আমি কাজের স্বচ্ছতা এবং বিশ্বাসের জন্য তাকে এনে কাজ করেছি। বিষয়টি হলো কাজ সঠিক হয়েছে কিনা, তা দেখুন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এ-প্লাসের মরীচিকা বনাম প্রকৃত শিক্ষা: আমাদের মানসিকতার অবক্ষয়

রংপুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ

রঞ্জু মিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৮:০৮:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

রংপুর টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের অধ্যক্ষ মো. রঞ্জু মিয়ার বিরুদ্ধে সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। কলেজের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশের পক্ষ থেকে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী বরাবরে লিখিত অভিযোগে এসব চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১৯ অক্টোবর দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই অধ্যক্ষ রঞ্জু মিয়া তার আপন বড় ভাই ইলেকট্রিশিয়ান কামরুজ্জামান, কলেজটির প্রভাষক মাহমুদ হাসান এবং জুনিয়র ইনস্ট্রাক্টর পলাশ সরকারকে সাথে নিয়ে কলেজে একচ্ছত্র দুর্নীতির রাজত্ব কায়েম করেছেন। কলেজটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে নির্মাণ এবং উন্নতমানের বিভিন্ন যন্ত্রপাতি, কম্পিউটার, রাউটার সহ আসবাবপত্র সরবরাহ করা হয়।
কলেজে অধ্যক্ষ রঞ্জু মিয়া যোগদানের পরই ৪০ টি কম্পিউটারের হার্ডডিস্ক, মাদারবোর্ড সহ যন্ত্রাংশ সরিয়ে ফেলে এবং ৪০ টি ওয়াটারপ্রুফ রাউটার নষ্ট দেখিয়ে মালামাল বিক্রি করে পুনরায় নিম্নমানের রাউটার সরবরাহ করেছে। পাশাপাশি অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পানির পাম্প মেরামতসহ বিভিন্ন খাতে ভুয়া ভাউচারের মাধ্যমে কয়েক লক্ষ টাকা আত্মসাৎ এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে উইভিং, স্পিনিং শেড ও টেস্টিং ল্যাবের কয়েক কোটি টাকার যন্ত্রপাতি নষ্ট করার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, এ্যাপারেল বিভাগের প্রায় দুই লক্ষ টাকা মূল্যের একটি অত্যাধুনিক ‘রেজার’ ল্যাপটপ তিন মাস ধরে হদিস না থাকলেও অধ্যক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেননি। অভিযোগ রয়েছে, এটি তার ঘনিষ্ঠ মহলের লোকজনই সরিয়ে ফেলেছে।
অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীকে পদোন্নতি দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে বসানোর অভিযোগও করা হয়েছে। এ ছাড়া, শিক্ষক ও কর্মচারীদের তুচ্ছ কারণে হয়রানি, ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে।
অধ্যক্ষ রঞ্জু মিয়ার বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং কোর্সের সিলেবাসের সাথে কোনো সম্পৃক্ততা না থাকা সত্ত্বেও তিনি নিয়মিত ক্লাস নেন না বা নিতে পারেন না বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিজ্ঞ শিক্ষকদের কৌশলে বদলি বা বিতাড়িত করে নিজের অনুগত অযোগ্য ব্যক্তিদের দিয়ে কলেজ পরিচালনা করছেন তিনি।
অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন, এর আগেও একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করা হলেও কোনো কার্যকর বিচার না হওয়ায় অভিযুক্তরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। তারা কলেজের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন এবং অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। অভিযোগের অনুলিপি বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব, বস্ত্র অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) বরাবরও পাঠানো হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে চাকরি বিধির পরিপন্থী হওয়ায় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলেজের একাধিক শিক্ষক- কর্মচারী বলেন, অধ্যক্ষ ও তার সিন্ডিকেটের কারণে প্রতিষ্ঠানটি এখন ধ্বংসের মুখে। আমরা এর তদন্ত ও সঠিক বিচার চাই।
অধ্যক্ষ রঞ্জু মিয়া তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো অস্বীকার করে বলেন, যাদের স্বার্থের ব্যাঘাত হয়েছে, তারাই অভিযোগগুলো করেছে। কম্পিউটারগুলো না চলার কারণে আমি কিছু যন্ত্রাংশ লাগিয়েছি। আর রাউটারের ব্যাপারে ছাত্ররাই কমিটি করে তারাই সুবিধাজনক স্থানে স্থাপন করেছে। সেইসাথে যে কম্পিউটারের হদিস নেই, সেটি ডিপার্টমেন্টকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি।
তিনি তার ভাই ইলেকট্রিশিয়ান কামরুজ্জামানের ব্যাপারে বলেন, আমি কাজের স্বচ্ছতা এবং বিশ্বাসের জন্য তাকে এনে কাজ করেছি। বিষয়টি হলো কাজ সঠিক হয়েছে কিনা, তা দেখুন।