ঢাকা ০৯:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬, ২ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
এ-প্লাসের মরীচিকা বনাম প্রকৃত শিক্ষা: আমাদের মানসিকতার অবক্ষয় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টার সঙ্গে পাঁচ ইউরোপীয় রাষ্ট্রদূতের বৈঠক ধামরাইয়ের ঐতিহাসিক রথযাত্রার উদ্বোধনে সম্প্রীতি ও সৌহার্দ্যের বার্তা দিলেন চীফ হুইপ ফ্যাসিস্ট আমলে শাহিন চেয়ারম্যানের সহযোগী হয়ে কেরানীগঞ্জে ব্যাপক ঘুষ দুর্নীতির অভিযোগ ফ্যাসিবাদের অবসান ঘটিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার মর্যাদা রক্ষা করতে হবে : পবিপ্রবি উপাচার্য বড়লেখায় জমি বিরোধ মামলা তুলে নিতে হুমকি ও হয়রানির অভিযোগ রঞ্জু মিয়ার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ ধামইরহাটে ওড়না প্যাঁচানো অবস্থায় গাছের ডাল থেকে এইচএসসি পরীক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার বিশ্বের সবচেয়ে বিপজ্জনক ফুটবলার মেসি-কেইন কেন ওমর সানিকে চাবুক মারতেন মৌসুমী?

‘ইউরোপকে ব্ল্যাকমেইল করা হবে না’, হুঁশিয়ারি ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৪২:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬২০ বার পড়া হয়েছে

‘ইউরোপকে ব্ল্যাকমেইল করা যাবে না’। গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির বিষয়ে ইউরোপের নেতারা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, তা নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এ কথা বলেছেন।

ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের তার প্রস্তাবের বিরোধিতা করলে ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আট মিত্র দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করা হবে। এই দেশগুলো হলো—ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন ও যুক্তরাজ্য।

ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে অঞ্চলটি নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। তার এই বক্তব্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। যেসব দেশকে শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়া হয়েছে, তারা একসঙ্গে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে।

এতে বলা হয়, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা পরিস্থিতিকে একটি বিপজ্জনক নিম্নমুখী পথে ঠেলে দিতে পারে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, শুল্কের হুমকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে তারা জানায়, ‘ডেনমার্ক রাজ্য ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের প্রতি আমরা পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি।’

নাটো জোটের সদস্য দেশগুলো জানায়, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করা তাদের সবার যৌথ স্বার্থ। তারা সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার নীতির প্রতি দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং এসব নীতির ভিত্তিতেই সংলাপে প্রস্তুত। এদিকে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডেরিকসেন লেখেন, তারা সহযোগিতা চান এবং কোনো সংঘাত চান না। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইউরোপকে ভয় দেখিয়ে কিছু আদায় করা যাবে না। ইউরোপীয় ঐক্যের মূল মূল্যবোধে অটল থাকার গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার রবিবার ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন এবং ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।

পরে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গেও কথা বলেন। স্টারমারের দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ন্যাটোর সব সদস্যের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরো বলেন, যৌথ নিরাপত্তার স্বার্থে কাজ করার কারণে মিত্র দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করা ভুল।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এসব দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। পরে তা বাড়িয়ে ২৫ শতাংশও করা হতে পারে এবং কোনো সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক কার্যকর থাকবে। ট্রাম্প একে খুবই বিপজ্জনক পরিস্থিতি বলে উল্লেখ করে দাবি করেন, এতে পুরো বিশ্বের নিরাপত্তা ও টিকে থাকার বিষয় জড়িত। গ্রিনল্যান্ড জনসংখ্যায় কম হলেও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিকের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে এটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও অঞ্চলের জাহাজ চলাচল নজরদারির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, গ্রিনল্যান্ড কেবল যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হলে তা সঠিকভাবে রক্ষা করা সম্ভব। তার মতে, এটি গ্রিনল্যান্ড, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র—সবার জন্যই ভালো হবে। নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ এইডে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও সহযোগিতার মূল ভিত্তি হলো সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক সম্মান, এবং এই নীতির সঙ্গে কোনো আপস করা যায় না।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যদি শান্তিতে বসবাস করতে চাই এবং যৌথ সমস্যাগুলোতে একসঙ্গে কাজ করতে চাই, তাহলে প্রথমেই একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে পারস্পরিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে।’ এখনও স্পষ্ট নয়, নতুন করে প্রস্তাবিত এই শুল্কগুলো যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর ট্রাম্প ইতিমধ্যে যে শুল্ক আরোপ করেছেন, তার সঙ্গে কীভাবে প্রভাব ফেলবে।

ইউরোপের পক্ষ থেকে শুল্ক হুমকির জবাব সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ বলেছেন, ট্রাম্প যদি সত্যিই শুল্ক আরোপ করেন, তাহলে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে তাদের ‘অ্যান্টি-কোয়েরশন ইনস্ট্রুমেন্ট’ (চাপ মোকাবিলার ব্যবস্থা) সক্রিয় করার অনুরোধ জানাবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুধবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এবারের সম্মেলনের মূল বিষয়—‘আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিশ্বে আমরা কীভাবে সহযোগিতা করতে পারি?’ এই সম্মেলনে ম্যাখোঁ ছাড়াও জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি নিয়ে তার দেশ উদ্বিগ্ন। তিনি জানান, কানাডা আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে—সামরিক সক্ষমতা জোরদার করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘ন্যাটোর ভেতরে একসঙ্গে কাজ করাই আর্কটিক নিরাপদ রাখার সবচেয়ে ভালো উপায়।’

এদিকে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে জানান, তিনি গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, এই বিষয়ে কাজ চলবে এবং দাভোসে এই সপ্তাহের শেষ দিকে ট্রাম্পের সঙ্গে আবার দেখা হওয়ার আশা করছেন। গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে ট্রাম্পের হুমকির বিরুদ্ধে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড—উভয় জায়গাতেই জনরোষ এখনো কমেনি। শুল্ক ঘোষণার আগেই শনিবার গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক ও ডেনমার্কের বিভিন্ন শহরে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখল পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়।

এই বিক্ষোভের সময়ই যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল কোপেনহেগেন সফর করে। প্রতিনিধি দলের প্রধান, ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য গঠনমূলক নয়।

গ্রিনল্যান্ডের যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত প্রতিনিধি জানান, সর্বশেষ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গ্রিনল্যান্ডবাসীর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল তারা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চান কি না। তখন মাত্র ৬ শতাংশ মানুষ এতে সমর্থন জানিয়েছিলেন, আর ৮৫ শতাংশ ছিলেন বিপক্ষে। এদিকে সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, বেশিরভাগ মার্কিন নাগরিকও গ্রিনল্যান্ড দখলের পক্ষে নন।

রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ১৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার পক্ষে এবং ৪৭ শতাংশ ট্রাম্পের এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন।

সূত্র : বিবিসি

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

এ-প্লাসের মরীচিকা বনাম প্রকৃত শিক্ষা: আমাদের মানসিকতার অবক্ষয়

‘ইউরোপকে ব্ল্যাকমেইল করা হবে না’, হুঁশিয়ারি ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রীর

আপডেট সময় ১২:৪২:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২৬

‘ইউরোপকে ব্ল্যাকমেইল করা যাবে না’। গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক হুমকির বিষয়ে ইউরোপের নেতারা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবেন, তা নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন এ কথা বলেছেন।

ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, গ্রিনল্যান্ড দখলের তার প্রস্তাবের বিরোধিতা করলে ফেব্রুয়ারি মাসে যুক্তরাষ্ট্রের আট মিত্র দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপ করা হবে। এই দেশগুলো হলো—ডেনমার্ক, ফিনল্যান্ড, ফ্রান্স, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন ও যুক্তরাজ্য।

ট্রাম্পের দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তার জন্য গ্রিনল্যান্ড অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি প্রয়োজনে শক্তি প্রয়োগ করে অঞ্চলটি নেওয়ার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেননি। তার এই বক্তব্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। যেসব দেশকে শুল্ক আরোপের হুমকি দেওয়া হয়েছে, তারা একসঙ্গে একটি যৌথ বিবৃতি দিয়েছে।

এতে বলা হয়, ট্রাম্পের এই পরিকল্পনা পরিস্থিতিকে একটি বিপজ্জনক নিম্নমুখী পথে ঠেলে দিতে পারে।
বিবৃতিতে আরো বলা হয়, শুল্কের হুমকি যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মধ্যে দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে তারা জানায়, ‘ডেনমার্ক রাজ্য ও গ্রিনল্যান্ডের জনগণের প্রতি আমরা পূর্ণ সংহতি প্রকাশ করছি।’

নাটো জোটের সদস্য দেশগুলো জানায়, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা জোরদার করা তাদের সবার যৌথ স্বার্থ। তারা সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার নীতির প্রতি দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ এবং এসব নীতির ভিত্তিতেই সংলাপে প্রস্তুত। এদিকে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডেরিকসেন লেখেন, তারা সহযোগিতা চান এবং কোনো সংঘাত চান না। তবে তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইউরোপকে ভয় দেখিয়ে কিছু আদায় করা যাবে না। ইউরোপীয় ঐক্যের মূল মূল্যবোধে অটল থাকার গুরুত্বও তিনি তুলে ধরেন।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার রবিবার ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েন এবং ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন।

পরে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গেও কথা বলেন। স্টারমারের দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ন্যাটোর সব সদস্যের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরো বলেন, যৌথ নিরাপত্তার স্বার্থে কাজ করার কারণে মিত্র দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করা ভুল।
ট্রাম্প জানিয়েছেন, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এসব দেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। পরে তা বাড়িয়ে ২৫ শতাংশও করা হতে পারে এবং কোনো সমঝোতা না হওয়া পর্যন্ত এই শুল্ক কার্যকর থাকবে। ট্রাম্প একে খুবই বিপজ্জনক পরিস্থিতি বলে উল্লেখ করে দাবি করেন, এতে পুরো বিশ্বের নিরাপত্তা ও টিকে থাকার বিষয় জড়িত। গ্রিনল্যান্ড জনসংখ্যায় কম হলেও প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ। উত্তর আমেরিকা ও আর্কটিকের মাঝামাঝি অবস্থানের কারণে এটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আগাম সতর্কতা ব্যবস্থা ও অঞ্চলের জাহাজ চলাচল নজরদারির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, গ্রিনল্যান্ড কেবল যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হলে তা সঠিকভাবে রক্ষা করা সম্ভব। তার মতে, এটি গ্রিনল্যান্ড, ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্র—সবার জন্যই ভালো হবে। নরওয়ের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসপেন বার্থ এইডে বলেন, আন্তর্জাতিক আইন ও সহযোগিতার মূল ভিত্তি হলো সার্বভৌমত্বের প্রতি পারস্পরিক সম্মান, এবং এই নীতির সঙ্গে কোনো আপস করা যায় না।

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যদি শান্তিতে বসবাস করতে চাই এবং যৌথ সমস্যাগুলোতে একসঙ্গে কাজ করতে চাই, তাহলে প্রথমেই একে অপরের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতাকে পারস্পরিকভাবে স্বীকৃতি দিতে হবে।’ এখনও স্পষ্ট নয়, নতুন করে প্রস্তাবিত এই শুল্কগুলো যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ওপর ট্রাম্প ইতিমধ্যে যে শুল্ক আরোপ করেছেন, তার সঙ্গে কীভাবে প্রভাব ফেলবে।

ইউরোপের পক্ষ থেকে শুল্ক হুমকির জবাব সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ বলেছেন, ট্রাম্প যদি সত্যিই শুল্ক আরোপ করেন, তাহলে তিনি ইউরোপীয় ইউনিয়নকে তাদের ‘অ্যান্টি-কোয়েরশন ইনস্ট্রুমেন্ট’ (চাপ মোকাবিলার ব্যবস্থা) সক্রিয় করার অনুরোধ জানাবেন।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুধবার সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এবারের সম্মেলনের মূল বিষয়—‘আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ বিশ্বে আমরা কীভাবে সহযোগিতা করতে পারি?’ এই সম্মেলনে ম্যাখোঁ ছাড়াও জার্মানি ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেছেন, সাম্প্রতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি নিয়ে তার দেশ উদ্বিগ্ন। তিনি জানান, কানাডা আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াবে—সামরিক সক্ষমতা জোরদার করবে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে বিনিয়োগ করবে। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লেখেন, ‘ন্যাটোর ভেতরে একসঙ্গে কাজ করাই আর্কটিক নিরাপদ রাখার সবচেয়ে ভালো উপায়।’

এদিকে ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে জানান, তিনি গ্রিনল্যান্ড ও আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেন, এই বিষয়ে কাজ চলবে এবং দাভোসে এই সপ্তাহের শেষ দিকে ট্রাম্পের সঙ্গে আবার দেখা হওয়ার আশা করছেন। গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে ট্রাম্পের হুমকির বিরুদ্ধে ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ড—উভয় জায়গাতেই জনরোষ এখনো কমেনি। শুল্ক ঘোষণার আগেই শনিবার গ্রিনল্যান্ডের রাজধানী নুক ও ডেনমার্কের বিভিন্ন শহরে ট্রাম্পের গ্রিনল্যান্ড দখল পরিকল্পনার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ হয়।

এই বিক্ষোভের সময়ই যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের একটি প্রতিনিধি দল কোপেনহেগেন সফর করে। প্রতিনিধি দলের প্রধান, ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস কুনস বলেন, ট্রাম্পের বক্তব্য গঠনমূলক নয়।

গ্রিনল্যান্ডের যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত প্রতিনিধি জানান, সর্বশেষ ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে গ্রিনল্যান্ডবাসীর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল তারা যুক্তরাষ্ট্রের অংশ হতে চান কি না। তখন মাত্র ৬ শতাংশ মানুষ এতে সমর্থন জানিয়েছিলেন, আর ৮৫ শতাংশ ছিলেন বিপক্ষে। এদিকে সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, বেশিরভাগ মার্কিন নাগরিকও গ্রিনল্যান্ড দখলের পক্ষে নন।

রয়টার্স/ইপসোসের এক জরিপ অনুযায়ী, মাত্র ১৭ শতাংশ মার্কিন নাগরিক গ্রিনল্যান্ডকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশ করার পক্ষে এবং ৪৭ শতাংশ ট্রাম্পের এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেছেন।

সূত্র : বিবিসি