ঢাকা ০৭:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জামালপুরে ১০ বছরেও শুরু হয়নি ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ নেত্রকোণায় দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নারী নিহত, আহত ২০ জঙ্গলে ২৭ বছর কাটিয়ে দেশে ফিরলেন নি‌খোঁজ মালয়েশিয়া প্রবাসী উল্টো পথে আসা পিকআপে অটোরিকশায় ধাক্কা, অন্তঃসত্ত্বাসহ আহত ৭ এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ‘রাজনৈতিক পর্ষদ’ সদস্য হলেন ২ এমপি গুম-নির্যাতের পেছনে দায়ী শেখ হাসিনা : জেরায় সাক্ষী পটুয়াখালীতে এসএসসি-সমমান পরীক্ষায় ৫৩৩ জন অনুপস্থিত বাংলাদেশি জাহাজকে কেন হরমুজ প্রণালি পার হতে দিচ্ছে না ইরান? অপতথ্যের বিস্তার রোধে ইউনেস্কোর সহযোগিতা চাইলেন তথ্যমন্ত্রী ঢাকায় মা‌র্কিন রাষ্ট্রদূ‌তের ১০০ দিন : বাণিজ্য চুক্তিকে বললেন ‘ঐতিহাসিক’
মামলার আসামি বহাল তবিয়তে

গণপূর্ত অধিদপ্তরের সিন্ডিকেটের কেন্দ্রবিন্দু ‘তৈমুর আলম’

গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মপরিবেশ দীর্ঘদিন ধরে কমিশন বাণিজ্য, অনিয়ম এবং সিন্ডিকেটের কারণে উত্তপ্ত। এ ক্ষেত্রের সবচেয়ে আলোচিত নামের মধ্যে একজন হলেন তৈমুর আলম, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, ইলেকট্রিক্যাল-মেকানিক্যাল (ই/এম) সার্কেল/৪, ঢাকা জোন। সম্প্রতি ঢাকার বিজ্ঞ সিএমএম আদালতে দায়ের হওয়া সিআর মামলা নং-১১৮/২০২৫ (ধারা: ১৪৭/১৪৮/৩২৬/৩০৭/৫০৬/৩৪) অনুযায়ী, তৈমুর আলম সহ ২৫ জনেরও বেশি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলার প্রধান অভিযোগ হলো সরকারি তহবিলের অনিয়মমূলক ব্যবহার, প্রকল্প বরাদ্দে অবৈধ প্রভাব, এবং কমিশন বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকা। অভিযোগ অনুযায়ী, ই/এম সার্কেল/৪ এর অধীনে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ ও তদারকিতে তৈমুর আলমের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে, যা কোটি কোটি টাকার বরাদ্দে প্রভাব বিস্তার করত।
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পদে থাকা ‘অভিযুক্তের শক্তি’ : তৈমুর আলমের কর্মকাণ্ড গণপূর্তে দীর্ঘদিন ধরে নজরে এসেছে। তার অধীনে থাকা প্রকল্পগুলোর আর্থিক লেনদেন এবং বরাদ্দ প্রক্রিয়ার বিশ্লেষণ দেখায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নিয়মের চেয়ে অনেক বেশি “প্রফেশনাল ফ্লেক্সিবিলিটি” ব্যবহার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করেন, এটি সিন্ডিকেট পরিচালনা ও কমিশন আদায়ের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করেছিল। যখন সরকারি প্রকল্পে পর্যবেক্ষণ করা হয়, দেখা যায়, তার নেতৃত্বে পরিচালিত কাজগুলোতে দরপত্র প্রক্রিয়া প্রায়শই অভ্যন্তরীণ স্বার্থান্বেষী ব্যবস্থার শিকার হয়ে থাকে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরাসরি এবং গোপন বৈঠক করে প্রকল্প বরাদ্দ নিশ্চিত করা হত। ফলে সরকারের প্রকল্প ব্যয় ও আর্থিক স্বচ্ছতা যথাযথভাবে বজায় থাকে না।
তৈমুর আলম এবং তার সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যরা সরকারি তহবিলের থেকে অনিয়মমূলক অর্থ গ্রহণ করেছেন। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে : প্রকল্প বরাদ্দে প্রভাব বিস্তার: বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দরপত্র প্রক্রিয়া প্রায়শই স্বার্থান্বেষী ও নিয়ন্ত্রিত।
অর্থ আত্মসাৎ ও কমিশন আদায় : সরকারি তহবিল থেকে নির্ধারিত বরাদ্দের একাংশ ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ। সিন্ডিকেট গঠন ও নেটওয়ার্কিং: ই/এম সার্কেল/৪ এর অধীনে সহকর্মীদের সাথে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, যা প্রকল্প বরাদ্দের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করত। প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং তদারকিতে অনিয়ম: প্রকল্পের মান, সময়সীমা ও বাজেটের নিয়ন্ত্রণে অসংগতি। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে অনেকেই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরকারি প্রকল্প ও তহবিলের স্বচ্ছতা এবং জনগণের আস্থা স্থির করা সম্ভব হবে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলা চলমান অবস্থায় তদন্ত প্রক্রিয়া সীমিত। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তৈমুর আলমের বহাল তবিয়তে থাকা প্রশাসনিক দায়িত্ব সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতার জন্য বড় হুমকি। সরকারি কর্মকর্তারা আরও জানান, গণপূর্তে সিন্ডিকেট ও অনিয়ম বন্ধ করতে কার্যকর নীতি প্রণয়ন, প্রশাসনিক কঠোরতা এবং স্বচ্ছতার নিশ্চয়তা প্রয়োজন। তবে বাস্তবতা হলো, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সিন্ডিকেট নেটওয়ার্ক অনেক গভীর এবং এর মূল কেন্দ্র হলো তৈমুর আলম।
সিন্ডিকেট ও অনিয়মের প্রভাব : গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মক্ষেত্রে সিন্ডিকেট ও অনিয়ম শুধুমাত্র আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়, বরং সরকারি প্রকল্পের মান ও জনগণের আস্থা কমিয়ে দেয়। প্রকল্পের সময়মেয়াদ দীর্ঘায়িত হয়। মান নিয়ন্ত্রণে সমস্যা সৃষ্টি হয়। সরকারি তহবিলের অপচয় বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি তৈমুর আলম এবং তার সিন্ডিকেটের কর্মকাণ্ডের প্রকৃত চিত্র প্রকাশিত না হয়, তবে গণপূর্তের অন্য জোনগুলোও অনিয়মের শিকার হতে পারে।
সূত্র মতে, তৈমুর আলম মামলার বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তার আইনজীবীরা আদালতে জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণের জন্য যথাযথ প্রমাণের অভাব রয়েছে। তারা বলেছেন, প্রশাসনিক তদারকি এবং সরকারের প্রক্রিয়াগত জটিলতা অনেক সময় সহকর্মীদের জন্য অসুবিধা সৃষ্টি করে, যা ভুলভাবে অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত হয়।
অনুসন্ধানকারীরা মনে করেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের সিন্ডিকেটের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা তৈমুর আলম বহু বছরের অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা ব্যবহার করে একটি অবৈধ নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন। এই নেটওয়ার্কে কাজ করা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছে উচ্চপদস্থ প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তবে দেশের সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের হার ক্রমেই বাড়তে থাকবে। এর প্রভাব পড়বে সাধারণ নাগরিক, সরকারের বাজেট এবং দেশের উন্নয়ন সূচকে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সিন্ডিকেটের কার্যক্রম প্রকাশ্যে আনা এবং তদন্ত করা সহজ নয়। এর কারণগুলো হলো: তথ্যের অভাব এবং সংরক্ষণের সমস্যা। অভ্যন্তরীণ ঘনিষ্ঠ নেটওয়ার্ক। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রভাব। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রয়োজন কার্যকর তদারকি, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রশাসনিক পদক্ষেপ।
বিশেষজ্ঞরা সুপারিশ করছেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরে স্বচ্ছতা ও দায়িত্ববোধ নিশ্চিত করতে: প্রকল্প বরাদ্দে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া। তদারকি সংক্রান্ত স্বতন্ত্র সংস্থা প্রতিষ্ঠা। অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপর নিয়মিত অডিট।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সিন্ডিকেট এবং অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা তৈমুর আলম, বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করলেও মামলার আওতায় রয়েছে। তার নেতৃত্বে গঠিত নেটওয়ার্ক শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জনগণের আস্থা নষ্ট করছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে ১০ বছরেও শুরু হয়নি ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ

মামলার আসামি বহাল তবিয়তে

গণপূর্ত অধিদপ্তরের সিন্ডিকেটের কেন্দ্রবিন্দু ‘তৈমুর আলম’

আপডেট সময় ০৯:৫২:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৫

গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মপরিবেশ দীর্ঘদিন ধরে কমিশন বাণিজ্য, অনিয়ম এবং সিন্ডিকেটের কারণে উত্তপ্ত। এ ক্ষেত্রের সবচেয়ে আলোচিত নামের মধ্যে একজন হলেন তৈমুর আলম, তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, ইলেকট্রিক্যাল-মেকানিক্যাল (ই/এম) সার্কেল/৪, ঢাকা জোন। সম্প্রতি ঢাকার বিজ্ঞ সিএমএম আদালতে দায়ের হওয়া সিআর মামলা নং-১১৮/২০২৫ (ধারা: ১৪৭/১৪৮/৩২৬/৩০৭/৫০৬/৩৪) অনুযায়ী, তৈমুর আলম সহ ২৫ জনেরও বেশি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এই মামলার প্রধান অভিযোগ হলো সরকারি তহবিলের অনিয়মমূলক ব্যবহার, প্রকল্প বরাদ্দে অবৈধ প্রভাব, এবং কমিশন বাণিজ্যের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত থাকা। অভিযোগ অনুযায়ী, ই/এম সার্কেল/৪ এর অধীনে পরিচালিত প্রকল্পগুলোর বরাদ্দ ও তদারকিতে তৈমুর আলমের নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে ওঠে, যা কোটি কোটি টাকার বরাদ্দে প্রভাব বিস্তার করত।
তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পদে থাকা ‘অভিযুক্তের শক্তি’ : তৈমুর আলমের কর্মকাণ্ড গণপূর্তে দীর্ঘদিন ধরে নজরে এসেছে। তার অধীনে থাকা প্রকল্পগুলোর আর্থিক লেনদেন এবং বরাদ্দ প্রক্রিয়ার বিশ্লেষণ দেখায়, প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় নিয়মের চেয়ে অনেক বেশি “প্রফেশনাল ফ্লেক্সিবিলিটি” ব্যবহার করা হয়েছে। তদন্তকারীরা মনে করেন, এটি সিন্ডিকেট পরিচালনা ও কমিশন আদায়ের জন্য সুবিধাজনক পরিবেশ তৈরি করেছিল। যখন সরকারি প্রকল্পে পর্যবেক্ষণ করা হয়, দেখা যায়, তার নেতৃত্বে পরিচালিত কাজগুলোতে দরপত্র প্রক্রিয়া প্রায়শই অভ্যন্তরীণ স্বার্থান্বেষী ব্যবস্থার শিকার হয়ে থাকে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সরাসরি এবং গোপন বৈঠক করে প্রকল্প বরাদ্দ নিশ্চিত করা হত। ফলে সরকারের প্রকল্প ব্যয় ও আর্থিক স্বচ্ছতা যথাযথভাবে বজায় থাকে না।
তৈমুর আলম এবং তার সিন্ডিকেটের অন্যান্য সদস্যরা সরকারি তহবিলের থেকে অনিয়মমূলক অর্থ গ্রহণ করেছেন। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে : প্রকল্প বরাদ্দে প্রভাব বিস্তার: বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে দরপত্র প্রক্রিয়া প্রায়শই স্বার্থান্বেষী ও নিয়ন্ত্রিত।
অর্থ আত্মসাৎ ও কমিশন আদায় : সরকারি তহবিল থেকে নির্ধারিত বরাদ্দের একাংশ ব্যক্তিগতভাবে গ্রহণ। সিন্ডিকেট গঠন ও নেটওয়ার্কিং: ই/এম সার্কেল/৪ এর অধীনে সহকর্মীদের সাথে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, যা প্রকল্প বরাদ্দের সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করত। প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং তদারকিতে অনিয়ম: প্রকল্পের মান, সময়সীমা ও বাজেটের নিয়ন্ত্রণে অসংগতি। মামলার নথিতে বলা হয়েছে, অভিযুক্তদের মধ্যে অনেকেই উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরকারি প্রকল্প ও তহবিলের স্বচ্ছতা এবং জনগণের আস্থা স্থির করা সম্ভব হবে।
সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলা চলমান অবস্থায় তদন্ত প্রক্রিয়া সীমিত। তবে অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তৈমুর আলমের বহাল তবিয়তে থাকা প্রশাসনিক দায়িত্ব সরকারি প্রকল্পে স্বচ্ছতার জন্য বড় হুমকি। সরকারি কর্মকর্তারা আরও জানান, গণপূর্তে সিন্ডিকেট ও অনিয়ম বন্ধ করতে কার্যকর নীতি প্রণয়ন, প্রশাসনিক কঠোরতা এবং স্বচ্ছতার নিশ্চয়তা প্রয়োজন। তবে বাস্তবতা হলো, দীর্ঘদিন ধরে চলা এই সিন্ডিকেট নেটওয়ার্ক অনেক গভীর এবং এর মূল কেন্দ্র হলো তৈমুর আলম।
সিন্ডিকেট ও অনিয়মের প্রভাব : গণপূর্ত অধিদপ্তরের কর্মক্ষেত্রে সিন্ডিকেট ও অনিয়ম শুধুমাত্র আর্থিক ক্ষতির কারণ নয়, বরং সরকারি প্রকল্পের মান ও জনগণের আস্থা কমিয়ে দেয়। প্রকল্পের সময়মেয়াদ দীর্ঘায়িত হয়। মান নিয়ন্ত্রণে সমস্যা সৃষ্টি হয়। সরকারি তহবিলের অপচয় বাড়ে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, যদি তৈমুর আলম এবং তার সিন্ডিকেটের কর্মকাণ্ডের প্রকৃত চিত্র প্রকাশিত না হয়, তবে গণপূর্তের অন্য জোনগুলোও অনিয়মের শিকার হতে পারে।
সূত্র মতে, তৈমুর আলম মামলার বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। তবে তার আইনজীবীরা আদালতে জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণের জন্য যথাযথ প্রমাণের অভাব রয়েছে। তারা বলেছেন, প্রশাসনিক তদারকি এবং সরকারের প্রক্রিয়াগত জটিলতা অনেক সময় সহকর্মীদের জন্য অসুবিধা সৃষ্টি করে, যা ভুলভাবে অনিয়ম হিসেবে চিহ্নিত হয়।
অনুসন্ধানকারীরা মনে করেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরের সিন্ডিকেটের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা তৈমুর আলম বহু বছরের অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক দক্ষতা ব্যবহার করে একটি অবৈধ নেটওয়ার্ক তৈরি করেছেন। এই নেটওয়ার্কে কাজ করা কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছে উচ্চপদস্থ প্রকৌশলী, সহকারী প্রকৌশলী এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।
বিশ্লেষকরা বলছেন, প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয়, তবে দেশের সরকারি প্রকল্পে অনিয়মের হার ক্রমেই বাড়তে থাকবে। এর প্রভাব পড়বে সাধারণ নাগরিক, সরকারের বাজেট এবং দেশের উন্নয়ন সূচকে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সিন্ডিকেটের কার্যক্রম প্রকাশ্যে আনা এবং তদন্ত করা সহজ নয়। এর কারণগুলো হলো: তথ্যের অভাব এবং সংরক্ষণের সমস্যা। অভ্যন্তরীণ ঘনিষ্ঠ নেটওয়ার্ক। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের প্রভাব। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে সরকারি কর্মকর্তাদের প্রয়োজন কার্যকর তদারকি, স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শক্তিশালী প্রশাসনিক পদক্ষেপ।
বিশেষজ্ঞরা সুপারিশ করছেন, গণপূর্ত অধিদপ্তরে স্বচ্ছতা ও দায়িত্ববোধ নিশ্চিত করতে: প্রকল্প বরাদ্দে স্বচ্ছ প্রক্রিয়া। তদারকি সংক্রান্ত স্বতন্ত্র সংস্থা প্রতিষ্ঠা। অনিয়ম ও কমিশন বাণিজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপর নিয়মিত অডিট।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের সিন্ডিকেট এবং অনিয়মের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা তৈমুর আলম, বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করলেও মামলার আওতায় রয়েছে। তার নেতৃত্বে গঠিত নেটওয়ার্ক শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি নয়, সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও জনগণের আস্থা নষ্ট করছে।