সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে একই প্রতিষ্ঠানের দুটি ভিন্ন নামে অংশগ্রহণের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার সরকারি রাজস্ব ফাঁকি ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (Rangpur Metal Industries Limited) এবং রংপুর মেটাল ইন্ডাস্ট্রিজ লি. (Rangpur Metal Industries Ltd)—এই দুটি কোম্পানি।
সম্প্রতি এক সচেতন নাগরিক মো. মিলন মৈত্রা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এর চেয়ারম্যানের কাছে দাখিল করা লিখিত অভিযোগে এই জালিয়াতি ও অনিয়মের বিষয়টি তুলে ধরেছেন। চিঠিটি ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে দুদকের চট্টগ্রাম দফতরে প্রাপ্ত হয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, একই মালিকানাধীন এই দুটি কোম্পানি আলাদা নামে সরকারি বিভিন্ন প্রকল্পে ই-জিপি (e-GP) সিস্টেমে অংশগ্রহণ করে এখন পর্যন্ত মোট ২১৩টি ওয়ার্ক অর্ডার পেয়েছে। এর মধ্যে “Rangpur Metal Industries Limited” নামে ১০১টি ওয়ার্ক অর্ডারের বিপরীতে প্রায় ২৮৮.৪৮ কোটি টাকা এবং “Rangpur Metal Industries Ltd.” নামে ১১২টি ওয়ার্ক অর্ডারের বিপরীতে ৭৭১.৩৯ কোটি টাকা কাজ পেয়েছে।
একই প্রতিষ্ঠানের দুই নাম, আলাদা BIN ও TIN : অভিযোগে বলা হয়, কোম্পানিদুটি আলাদা ব্যবসায়িক শনাক্তকরণ নম্বর (BIN) এবং ট্যাক্স আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (TIN) ব্যবহার করলেও প্রকৃতপক্ষে উভয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম, ঠিকানা ও পরিচালনা পর্ষদ অভিন্ন। এভাবে একই কোম্পানি দুটি নামে দরপত্রে অংশ নিয়ে সরকারি ক্রয়ে প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা ব্যাহত করছে এবং কর ফাঁকি দিচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
Audit Firm Information এবং Document Verification System (DVS)-এর তথ্য উদ্ধৃত করে অভিযোগকারী জানান, “Rangpur Metal Industries Limited”-এর নথি যাচাইয়ে প্রকৃত আর্থিক মালিকানার সঙ্গে অসঙ্গতি পাওয়া গেছে, অথচ একই প্রতিষ্ঠানের অন্য নাম “Rangpur Metal Industries Ltd.” দিয়ে বিপুল পরিমাণ সরকারি কাজের ওয়ার্ক অর্ডার নেওয়া হয়েছে।
সরকারি অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতার লঙ্ঘন : অভিযোগপত্রে বলা হয়, সরকারি ক্রয়বিধি (PPR 2008)-এর Rule 127, Rule 128(1) ও Rule 9(3) অনুযায়ী একাধিক নামে দরপত্রে অংশ নেওয়া বা মালিকানা গোপন করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এতে সরকারি অর্থনৈতিক স্বচ্ছতা, প্রতিযোগিতা ও রাজস্ব আয়ে মারাত্মক প্রভাব পড়ে।
এ বিষয়ে অভিযোগকারী দুদক, ক্রয় পরিদর্শন কর্তৃপক্ষ (BPPA), সেন্ট্রাল প্রোকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (CPTU) এবং সংশ্লিষ্ট অর্থ মন্ত্রণালয়কে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি লিখেছেন, “এটি শুধু একটি কর ফাঁকির বিষয় নয়; বরং সরকারের ই-জিপি সিস্টেম ও আরজেএসসি (RJSC) নিবন্ধন নীতিমালা পাশ কাটিয়ে সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র ব্যবস্থার অপব্যবহার।”
দুদকের তদন্ত দাবি : চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, এ ধরনের দ্বৈত পরিচয়ে সরকারি কাজের সুযোগ নেওয়া সরকারি ক্রয় বিধি (PPR 2008) এর সরাসরি লঙ্ঘন। তাই এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে দুদকের উদ্যোগে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত, কোম্পানিদ্বয়ের BIN, TIN, RJSC নিবন্ধন, e-GP রেকর্ড এবং আর্থিক লেনদেন যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়।
এছাড়া, প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে বিষয়টি BPPA, CPTU ও RISC–এ পাঠানোরও অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এমন অভিযোগ প্রমাণিত হলে সরকারি ক্রয়ে প্রতিযোগিতার স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হবে, পাশাপাশি শত কোটি টাকার রাজস্ব ক্ষতির দায়ও নির্ধারণ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মনে করছেন।
সংবাদ শিরোনাম ::
একই কোম্পানির দুই নামে দরপত্রে অংশগ্রহণ (২য় পর্ব)
প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের কোটি টাকার ভ্যাট-ট্যাক্স ফাঁকি
-
নিজস্ব প্রতিবেদক - আপডেট সময় ০৮:০০:২৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫
- ৬৬৮ বার পড়া হয়েছে
Tag :
জনপ্রিয় সংবাদ


























