ঢাকা ০৫:৪৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
জামালপুরে ১০ বছরেও শুরু হয়নি ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ নেত্রকোণায় দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে নারী নিহত, আহত ২০ জঙ্গলে ২৭ বছর কাটিয়ে দেশে ফিরলেন নি‌খোঁজ মালয়েশিয়া প্রবাসী উল্টো পথে আসা পিকআপে অটোরিকশায় ধাক্কা, অন্তঃসত্ত্বাসহ আহত ৭ এনসিপির সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ‘রাজনৈতিক পর্ষদ’ সদস্য হলেন ২ এমপি গুম-নির্যাতের পেছনে দায়ী শেখ হাসিনা : জেরায় সাক্ষী পটুয়াখালীতে এসএসসি-সমমান পরীক্ষায় ৫৩৩ জন অনুপস্থিত বাংলাদেশি জাহাজকে কেন হরমুজ প্রণালি পার হতে দিচ্ছে না ইরান? অপতথ্যের বিস্তার রোধে ইউনেস্কোর সহযোগিতা চাইলেন তথ্যমন্ত্রী ঢাকায় মা‌র্কিন রাষ্ট্রদূ‌তের ১০০ দিন : বাণিজ্য চুক্তিকে বললেন ‘ঐতিহাসিক’

ভারুয়াখালী-খুরুশকুল সেতুতে স্থবিরতা এলজিইডি প্রকৌশলী মামুন খানের অবহেলায় প্রকল্পে অচলাবস্থা

কক্সবাজারের উপকূলীয় জনপদের বহু প্রতীক্ষিত ভারুয়াখালী-খুরুশকুল সংযোগ সেতুর নির্মাণকাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। মাত্র দুই বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, বারবার সময় বাড়িয়েও কাজ এগোয়নি এক ইঞ্চি। স্থানীয়রা বলছেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের পাশাপাশি এলজিইডির কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন খানের দায়িত্বহীনতা ও নজরদারির অভাব এই প্রকল্পে স্থবিরতার মূল কারণ। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২০১৯ সালে কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ও খুরুশকুল ইউনিয়নের মধ্যে জোয়ারী খালের ওপর ৩৯২ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করে। ৩৬ কোটি ২৮ লাখ টাকার প্রকল্পটি ২০২১ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু করে তমা কনস্ট্রাকশন ও এম এ জাহের (জেবি) লিমিটেড। চুক্তি অনুযায়ী, দুই বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে- কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সময়মতো কাজ শেষ হয়নি। এরপর ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। তাতেও হয়নি। সর্বশেষ ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হলেও এখনো কাজের অগ্রগতি মাত্র ৭০ শতাংশ, বাকি কাজের কোনো গতি নেই। সেতুর কাজের ধীরগতি নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ এখন প্রকৌশলী মামুন খানের দিকেই। তারা অভিযোগ করছেন, কাজের অগ্রগতি নিয়ে তিনি কখনো প্রকল্প এলাকায় নিয়মিত পরিদর্শন করেন না, ঠিকাদারদের জবাবদিহিতার আওতায় আনেননি, বরং বারবার সময় বাড়িয়ে প্রকল্পটিকে স্থবির অবস্থায় ফেলে রেখেছেন। ভারুয়াখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা ও শিক্ষক নুরুল আমিন বলেন, “আমরা সেতুর জন্য কতবার আবেদন করেছি, কিন্তু এলজিইডির প্রকৌশলী মামুন সাহেব একবারও এসে দেখেননি কাজের বাস্তব চিত্র। ঠিকাদাররা মনগড়া অজুহাত দেখিয়ে সময় নিচ্ছে, তিনি শুধু অফিস থেকে কাগজে অনুমোদন দিচ্ছেন।” স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সাহাব উদ্দিন, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বলেন, “সেতুটি হলে মানুষ ১৫ মিনিটে কক্সবাজার পৌঁছাতে পারত। কিন্তু প্রকৌশলীর অবহেলায় কাজ থমকে গেছে। তিনি যদি নিয়মিত তদারকি করতেন, এতটা বিলম্ব হতো না।” প্রকল্পের অন্যতম ঠিকাদার কুমিল্লা-৫ আসনের সাবেক এমপি এম এ জাহের গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে আত্মগোপনে। তার অনুপস্থিতিতে সাইটে কার্যত কোনো প্রকৌশলী বা দায়িত্বশীল প্রতিনিধি নেই। অথচ এলজিইডির নিয়ম অনুযায়ী এমন অবস্থায় কাজ স্থগিত না রেখে বিকল্প তদারকি ব্যবস্থা নেওয়া বাধ্যতামূলক — যা প্রকৌশলী মামুন খান নেননি। ফলে নির্মাণসাইটে কাজ বন্ধ হয়ে পড়লেও এলজিইডির পক্ষ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতু এলাকায় ৪৫ শ্রমিক শুধু নির্মাণসামগ্রী গুছিয়ে রাখছেন, কোনো নির্মাণ কার্যক্রম নেই। সেতুর পশ্চিম পাশে সংযোগ সড়কের জমি এখনো অধিগ্রহণ হয়নি। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এ কাজ এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর ওপর ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও মামুন খান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। একাধিক সূত্র জানায়, এলজিইডি থেকে জেলা প্রশাসনকে শুধু “চিঠি দিয়ে তাগাদা” দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো যৌথ বৈঠক, মাঠপর্যায়ের উদ্যোগ বা বিকল্প প্রস্তাবনা দেওয়া হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল হামিদ বলেন, “আমরা শুনি কাগজে চিঠি গেছে, কিন্তু মাঠে কিছুই হয় না। এলজিইডি শুধু সময় বাড়ায়, কাজ নয়। মামুন খান সাহেবের মতো কর্মকর্তার কারণে উন্নয়ন প্রকল্পে আস্থা হারাচ্ছে মানুষ।” প্রকল্পের মোট ব্যয়ের প্রায় ২৫ কোটি টাকা ইতোমধ্যে ছাড় করা হয়েছে বলে জানায় এলজিইডি সূত্র। কিন্তু কাজের বাস্তব অগ্রগতি ৭০ শতাংশের কম। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কাজের ধীরগতি ও তদারকির ব্যর্থতায় প্রকৌশলী মামুন খানের বিরুদ্ধে আর্থিক দায়ের প্রশ্নও উঠতে পারে। কক্সবাজারের এক এলজিইডি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ও ব্যয়ের মধ্যে বড় ফারাক রয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী সঠিকভাবে প্রতিবেদন না পাঠানোয় বিভাগীয় পর্যায়ে বিষয়টি ধামাচাপা পড়েছে।” যোগাযোগ করা হলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন খান বলেন, “নির্মাণকাজের গতি কিছুটা কমে গেছে ঠিকই, তবে সম্পূর্ণ বন্ধ নয়। আমরা ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছি। মেয়াদ আগামী জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি জেলা প্রশাসনের দায়িত্বে। আমরা কেবল তাদের সহযোগিতা করছি।” তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, মামুন খান বিষয়টি জেলা প্রশাসনের ওপর ঠেলে নিজ দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করছেন। ভারুয়াখালী, খুরুশকুল ও পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের মানুষ কক্সবাজার সদরে যাতায়াত করতে এখনো দীর্ঘ ঘুরপথে যেতে বাধ্য। সেতুটি হলে মাত্র ১৫ মিনিটে শহরে পৌঁছানো সম্ভব হলেও বর্তমানে ৩৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে দুই ঘণ্টা লাগে। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “সেতুর জন্য বরাদ্দ হয়েছে কোটি কোটি টাকা, কিন্তু কাজের হাল আগের মতোই। প্রশাসনের কর্মকর্তারা শুধু কাগজে ব্যস্ত, মাঠে কেউ আসে না।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব হলো ঠিকাদারদের কাজের গতি, মান ও সময়সীমা নিশ্চিত করা। তিনি যদি সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেন, তবে পুরো প্রকল্পের ব্যর্থতা তার প্রশাসনিক দায়ের আওতায় পড়ে। কক্সবাজার সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আব্দুল জলিল বলেন, “সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলীদের দায়িত্বহীনতা। ভারুয়াখালী সেতু তার উদাহরণ। এই ধরনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা অপচয় হবে।” ভারুয়াখালী-খুরুশকুল সংযোগ সেতু এখন সরকারি উদাসীনতা ও প্রকৌশলীয় ব্যর্থতার প্রতীক। ঠিকাদার আত্মগোপনে, প্রকৌশলী মামুন খানের তদারকিতে শৈথিল্য—সব মিলিয়ে থমকে আছে কোটি টাকার প্রকল্প। আর এ অবস্থায় জোয়ারী খালের ওপারে লাখো মানুষ এখনো প্রতিদিন ঘুরপথে শহরে যাওয়ার কষ্ট নিয়ে বাঁচছেন। তাদের একটাই দাবি “সেতু নয়, এবার জবাবদিহি চাই।”

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জামালপুরে ১০ বছরেও শুরু হয়নি ৫০০ শয্যার হাসপাতাল ভবনের নির্মাণকাজ

ভারুয়াখালী-খুরুশকুল সেতুতে স্থবিরতা এলজিইডি প্রকৌশলী মামুন খানের অবহেলায় প্রকল্পে অচলাবস্থা

আপডেট সময় ১১:৫৯:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ অক্টোবর ২০২৫

কক্সবাজারের উপকূলীয় জনপদের বহু প্রতীক্ষিত ভারুয়াখালী-খুরুশকুল সংযোগ সেতুর নির্মাণকাজ পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি। মাত্র দুই বছরে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, বারবার সময় বাড়িয়েও কাজ এগোয়নি এক ইঞ্চি। স্থানীয়রা বলছেন, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের অনিয়মের পাশাপাশি এলজিইডির কক্সবাজারের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন খানের দায়িত্বহীনতা ও নজরদারির অভাব এই প্রকল্পে স্থবিরতার মূল কারণ। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ২০১৯ সালে কক্সবাজার সদর উপজেলার ভারুয়াখালী ও খুরুশকুল ইউনিয়নের মধ্যে জোয়ারী খালের ওপর ৩৯২ মিটার দীর্ঘ একটি সেতু নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করে। ৩৬ কোটি ২৮ লাখ টাকার প্রকল্পটি ২০২১ সালের জানুয়ারিতে কাজ শুরু করে তমা কনস্ট্রাকশন ও এম এ জাহের (জেবি) লিমিটেড। চুক্তি অনুযায়ী, দুই বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে- কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সময়মতো কাজ শেষ হয়নি। এরপর ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়। তাতেও হয়নি। সর্বশেষ ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হলেও এখনো কাজের অগ্রগতি মাত্র ৭০ শতাংশ, বাকি কাজের কোনো গতি নেই। সেতুর কাজের ধীরগতি নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভ এখন প্রকৌশলী মামুন খানের দিকেই। তারা অভিযোগ করছেন, কাজের অগ্রগতি নিয়ে তিনি কখনো প্রকল্প এলাকায় নিয়মিত পরিদর্শন করেন না, ঠিকাদারদের জবাবদিহিতার আওতায় আনেননি, বরং বারবার সময় বাড়িয়ে প্রকল্পটিকে স্থবির অবস্থায় ফেলে রেখেছেন। ভারুয়াখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা ও শিক্ষক নুরুল আমিন বলেন, “আমরা সেতুর জন্য কতবার আবেদন করেছি, কিন্তু এলজিইডির প্রকৌশলী মামুন সাহেব একবারও এসে দেখেননি কাজের বাস্তব চিত্র। ঠিকাদাররা মনগড়া অজুহাত দেখিয়ে সময় নিচ্ছে, তিনি শুধু অফিস থেকে কাগজে অনুমোদন দিচ্ছেন।” স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সাহাব উদ্দিন, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বলেন, “সেতুটি হলে মানুষ ১৫ মিনিটে কক্সবাজার পৌঁছাতে পারত। কিন্তু প্রকৌশলীর অবহেলায় কাজ থমকে গেছে। তিনি যদি নিয়মিত তদারকি করতেন, এতটা বিলম্ব হতো না।” প্রকল্পের অন্যতম ঠিকাদার কুমিল্লা-৫ আসনের সাবেক এমপি এম এ জাহের গত বছরের ৫ আগস্টের পর থেকে আত্মগোপনে। তার অনুপস্থিতিতে সাইটে কার্যত কোনো প্রকৌশলী বা দায়িত্বশীল প্রতিনিধি নেই। অথচ এলজিইডির নিয়ম অনুযায়ী এমন অবস্থায় কাজ স্থগিত না রেখে বিকল্প তদারকি ব্যবস্থা নেওয়া বাধ্যতামূলক — যা প্রকৌশলী মামুন খান নেননি। ফলে নির্মাণসাইটে কাজ বন্ধ হয়ে পড়লেও এলজিইডির পক্ষ থেকে কোনো তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতু এলাকায় ৪৫ শ্রমিক শুধু নির্মাণসামগ্রী গুছিয়ে রাখছেন, কোনো নির্মাণ কার্যক্রম নেই। সেতুর পশ্চিম পাশে সংযোগ সড়কের জমি এখনো অধিগ্রহণ হয়নি। জেলা প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এ কাজ এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্বও এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর ওপর ছিল। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও মামুন খান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি। একাধিক সূত্র জানায়, এলজিইডি থেকে জেলা প্রশাসনকে শুধু “চিঠি দিয়ে তাগাদা” দেওয়া হয়েছে, কিন্তু কোনো যৌথ বৈঠক, মাঠপর্যায়ের উদ্যোগ বা বিকল্প প্রস্তাবনা দেওয়া হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দা আবদুল হামিদ বলেন, “আমরা শুনি কাগজে চিঠি গেছে, কিন্তু মাঠে কিছুই হয় না। এলজিইডি শুধু সময় বাড়ায়, কাজ নয়। মামুন খান সাহেবের মতো কর্মকর্তার কারণে উন্নয়ন প্রকল্পে আস্থা হারাচ্ছে মানুষ।” প্রকল্পের মোট ব্যয়ের প্রায় ২৫ কোটি টাকা ইতোমধ্যে ছাড় করা হয়েছে বলে জানায় এলজিইডি সূত্র। কিন্তু কাজের বাস্তব অগ্রগতি ৭০ শতাংশের কম। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কাজের ধীরগতি ও তদারকির ব্যর্থতায় প্রকৌশলী মামুন খানের বিরুদ্ধে আর্থিক দায়ের প্রশ্নও উঠতে পারে। কক্সবাজারের এক এলজিইডি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, “প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ও ব্যয়ের মধ্যে বড় ফারাক রয়েছে। নির্বাহী প্রকৌশলী সঠিকভাবে প্রতিবেদন না পাঠানোয় বিভাগীয় পর্যায়ে বিষয়টি ধামাচাপা পড়েছে।” যোগাযোগ করা হলে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন খান বলেন, “নির্মাণকাজের গতি কিছুটা কমে গেছে ঠিকই, তবে সম্পূর্ণ বন্ধ নয়। আমরা ঠিকাদারকে দ্রুত কাজ শেষ করতে নির্দেশ দিয়েছি। মেয়াদ আগামী জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণের বিষয়টি জেলা প্রশাসনের দায়িত্বে। আমরা কেবল তাদের সহযোগিতা করছি।” তবে এলাকাবাসীর অভিযোগ, মামুন খান বিষয়টি জেলা প্রশাসনের ওপর ঠেলে নিজ দায়িত্ব এড়ানোর চেষ্টা করছেন। ভারুয়াখালী, খুরুশকুল ও পার্শ্ববর্তী ইউনিয়নের মানুষ কক্সবাজার সদরে যাতায়াত করতে এখনো দীর্ঘ ঘুরপথে যেতে বাধ্য। সেতুটি হলে মাত্র ১৫ মিনিটে শহরে পৌঁছানো সম্ভব হলেও বর্তমানে ৩৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে দুই ঘণ্টা লাগে। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, “সেতুর জন্য বরাদ্দ হয়েছে কোটি কোটি টাকা, কিন্তু কাজের হাল আগের মতোই। প্রশাসনের কর্মকর্তারা শুধু কাগজে ব্যস্ত, মাঠে কেউ আসে না।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলীর দায়িত্ব হলো ঠিকাদারদের কাজের গতি, মান ও সময়সীমা নিশ্চিত করা। তিনি যদি সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ না নেন, তবে পুরো প্রকল্পের ব্যর্থতা তার প্রশাসনিক দায়ের আওতায় পড়ে। কক্সবাজার সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক আব্দুল জলিল বলেন, “সরকারের উন্নয়ন প্রকল্পে সবচেয়ে বড় বাধা হচ্ছে মাঠপর্যায়ের প্রকৌশলীদের দায়িত্বহীনতা। ভারুয়াখালী সেতু তার উদাহরণ। এই ধরনের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে উন্নয়ন প্রকল্পের টাকা অপচয় হবে।” ভারুয়াখালী-খুরুশকুল সংযোগ সেতু এখন সরকারি উদাসীনতা ও প্রকৌশলীয় ব্যর্থতার প্রতীক। ঠিকাদার আত্মগোপনে, প্রকৌশলী মামুন খানের তদারকিতে শৈথিল্য—সব মিলিয়ে থমকে আছে কোটি টাকার প্রকল্প। আর এ অবস্থায় জোয়ারী খালের ওপারে লাখো মানুষ এখনো প্রতিদিন ঘুরপথে শহরে যাওয়ার কষ্ট নিয়ে বাঁচছেন। তাদের একটাই দাবি “সেতু নয়, এবার জবাবদিহি চাই।”