ঢাকা ০২:৫৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬, ৩ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উপেক্ষা করে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতি ভিকারুননিসায় নানা অজুহাতে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা ‘গবেষণা’র নামে নিয়মিত কাজ, সম্মানী নেওয়ার অভিযোগ বিটিআরসির কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিশ্বকাপ ফাইনালকে ঘিরে মেক্সিকোতে গণবিয়ে, অংশ নিয়েছে ৭৫০ দম্পতি দুর্যোগ থেকে উপকূলীয় এলাকাকে রক্ষা করতে বেড়িবাঁধ নির্মাণ করবে সরকার : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ তথ্য দফতরের উপপরিচালকের বিরুদ্ধে টেন্ডারে অনিয়মের অভিযোগ মহাখালীতে সওজের ২০০ কোটি টাকার সরকারি জমি ইস্টার্ন হাউজিংয়ের দখলে! পঞ্চগড়ে ইউএনওর বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ শিক্ষামন্ত্রীর কাছে যে দাবি জানালেন নওগাঁর এমপি বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের সময় ৩ বছর বাড়ানোর আহ্বান বাণিজ্যমন্ত্রীর

৭ দিনে ৩০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও ‘ঊষার আলো ফাউন্ডেশন’

বাড়ি ভাড়া নিয়ে অস্থায়ী কার্যালয় খুলে সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে নেয়া হয় মোটা অংকের জামানত। এরপর সুযোগ বুঝে লাপাত্তা। রাজবাড়ীতে প্রায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ‘ঊষার আলো ফাউন্ডেশন’ নামে এক ভুয়া এনজিও। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বাড়ির মালিকের স্ত্রীর যোগসাজসে হয়েছে এমন প্রতারণা।   বিষয়টি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। প্রতারক চক্রকে ধরতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন, এই নামে উপজেলায় কোন বৈধ এনজিও নেই। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস তার। জানা গেছে, গত ১০ মার্চ গোয়ালন্দ পৌরসভার নিলু শেখের পাড়ার নাজমুল হাসানের বাড়ির নিচতলায় অস্থায়ী কার্যালয় খুলে বসে ‘ঊষার আলো ফাউন্ডেশন’। পরে কয়েকজন নিজেদেরকে এনজিওকর্মী পরিচয় দিয়ে শুরু করেন সদস্য সংগ্রহ। সহজ শর্তে মোটা অংকের ঋণ দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয় সদস্যদের। তবে ঋণ বিতরণের আগে প্রতি এক লাখে ১০ হাজার টাকা জামানত রাখতে বলা হয়।  ভুক্তভোগী গোয়ালন্দ উপজেলার জামতলা হাটের সাইকেল মেকানিক সাইদুল খান জানান, ঊষার আলো ফাউন্ডেশন’ এর কর্মকর্তারা ১৩ মার্চ তার দোকানে যান। তারা নানা বিষয়ে আলোচনার পর ৮ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ জন্য সাইদুলকে সঞ্চয় বাবদ ৮০ হাজার টাকা ও বীমা বাবদ পাঁচ হাজার টাকা জমা দিতে বলা হয়। তিনি ১৬ মার্চ ৭৫ হাজার ১০০ টাকা প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে জমা দেন। কথা ছিল, ১৮ মার্চ তিনি ৮ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। নির্ধারিত দিনে ঋণ আনতে গিয়ে দেখেন উধাও হয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটি। কার্যালয়ে ঝুলছে তালা। সাইদুল বলেন, ‘আমি গরীব মানুষ। প্রতারণা করে আমার ৭৫ হাজার ১০০ টাকা নিয়ে পালিয়েছে প্রতারক  চক্র। আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি। পুলিশের কাছে দাবি জানাই, তারা যেন প্রতারক চক্রকে গ্রেফতার ও আমার টাকা উদ্ধার করে দেন।’ আরেক ভুক্তভোগী গোয়ালন্দ বাজারের ব্যবসায়ী ইমরান শেখ জানান, তাকে ১০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখায় ওই ভুয়া এনজিওর কর্মীরা। তিনি তাদের কথার ফাঁদে পড়ে ১৬ মার্চ এক লাখ টাকা জামানত দেন। তারও ঋণ দেওয়ার কথা ছিল ১৮ মার্চ। তবে একদিন আগে ১৭ মার্চ তিনি ঋণের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নিতে ওই কার্যালয়ে যান। গিয়ে দেখেন দরজায় তালা ঝুলছে। একইভাবে প্রতারিত হয়েছেন রাজবাড়ী সদরের ব্যবসায়ী মো. কামরুল ইসলাম। খানখানাপুর বাজারে তার প্রসাধনসামগ্রীর ব্যবসা রয়েছে। কামরুল ইসলাম জানান, ১৩ মার্চ ঊষার আলো ফাউন্ডেশনের কয়েকজন কর্মী তার দোকানে যান। তাকে ঋণ দেয়ার আশ্বাস দেন। তিনিও আগ্রহ প্রকাশ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই কর্মকর্তারা ১৫ মার্চ তাঁর বাড়িতে যান। সেখানেই ৮ লাখ টাকা ঋণ দেয়ার বিষয়ে আলাপ হয়। ১৭ মার্চ ঋণ দেয়া হবে জানিয়ে ৮০ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা দিতে বলা হয় কামরুলকে। তিনি এক সুদের কারবারির কাছে নিজের মোটরসাইকেল বন্ধক রেখে মাসিক ৫ হাজার টাকা সুদের বিনিময়ে ৮০ হাজার টাকা নেন। সেই টাকা ১৬ মার্চ প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেন। ১৭ মার্চ ঋণ নিতে কার্যালয়ে গিয়ে অন্যদের কাছ থেকে জানতে পারেন, ওই ব্যক্তিরা পালিয়েছেন। আরেক ভুক্তভোগী গোয়ালন্দ বাজারের চাল ব্যবসায়ী সুজন মোল্লা জানান, ৮ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারক চক্র তার কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ৭০ হাজার টাকা। একইভাবে প্রতারক চক্রটি শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে অন্তত ৩০ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়েছে। প্রতারণার শিকার গোয়ালন্দ বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী আমির আলী বলেন, ‘বাড়ির মালিক বলছেন তিনি নাকি ওই প্রতারকদের চেনেন না। তাদের কাছ থেকে নাকি কোন কাগজপত্রও নেননি। আমি মনেকরি এই প্রতারক চক্রের সাথে বাড়ির মালিক জড়িত৷ তার যোগসাজশেই এতোবড় প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। তাকে আইনের আওতায় আনলেই পুরো চক্রটি ধরা পড়বে।’ বাড়ির মালিক নাজমুল হাসানের স্ত্রী প্রান্তি সুলতানা বলেন, ‘আমার স্বামী চাকরির সুবাদে যশোরে থাকেন। বাড়িতে আমি থাকি। গত ১০ মার্চ তিনজন ব্যক্তি এসে আমার বাড়ি দেখে পছন্দ করে মাসে ৭ হাজার টাকা ভাড়ায় তিন বছরের জন্য নিচতলা ভাড়া নেন। আমি চুক্তিপত্র করার জন্য বললে তারা কয়েকদিন সময় চান। আমিও সরল মনে তাদের সময় দেই। তবে সোমবার (১৭ মার্চ) সকালে দেখি তারা সবাই পালিয়েছে। পরে আমি দরজা তালা দিয়ে রাখি। এরপর একে একে প্রতারণার শিকার লোকজন আমার বাড়িতে আসতে থাকেন। প্রতারকরা কক্ষের ভেতর চেয়ার-টেবিল ও তাদের ভুয়া ভর্তি ফরম, পাশবইসহ অন্যান্য কাগজপত্র রেখে গেছেন।’ গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। প্রতারক চক্রকে ধরতে কাজ চলছে।’ গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদুর রহমান বলেন, ‘ঊষার আলো ফাউন্ডেশন’ নামে গোয়ালন্দ উপজেলায় কোন বৈধ এনজিও নেই। এনজিওর নামে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে লাপাত্তার বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে কেউ কোন লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উপেক্ষা করে সহকারী প্রধান শিক্ষকের পদোন্নতি

৭ দিনে ৩০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও ‘ঊষার আলো ফাউন্ডেশন’

আপডেট সময় ০৯:২০:০২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ মার্চ ২০২৫

বাড়ি ভাড়া নিয়ে অস্থায়ী কার্যালয় খুলে সহজ শর্তে ঋণ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে নেয়া হয় মোটা অংকের জামানত। এরপর সুযোগ বুঝে লাপাত্তা। রাজবাড়ীতে প্রায় ৩০ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে ‘ঊষার আলো ফাউন্ডেশন’ নামে এক ভুয়া এনজিও। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বাড়ির মালিকের স্ত্রীর যোগসাজসে হয়েছে এমন প্রতারণা।   বিষয়টি নিয়ে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। প্রতারক চক্রকে ধরতে কাজ চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বলছেন, এই নামে উপজেলায় কোন বৈধ এনজিও নেই। লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস তার। জানা গেছে, গত ১০ মার্চ গোয়ালন্দ পৌরসভার নিলু শেখের পাড়ার নাজমুল হাসানের বাড়ির নিচতলায় অস্থায়ী কার্যালয় খুলে বসে ‘ঊষার আলো ফাউন্ডেশন’। পরে কয়েকজন নিজেদেরকে এনজিওকর্মী পরিচয় দিয়ে শুরু করেন সদস্য সংগ্রহ। সহজ শর্তে মোটা অংকের ঋণ দেয়ার আশ্বাস দেয়া হয় সদস্যদের। তবে ঋণ বিতরণের আগে প্রতি এক লাখে ১০ হাজার টাকা জামানত রাখতে বলা হয়।  ভুক্তভোগী গোয়ালন্দ উপজেলার জামতলা হাটের সাইকেল মেকানিক সাইদুল খান জানান, ঊষার আলো ফাউন্ডেশন’ এর কর্মকর্তারা ১৩ মার্চ তার দোকানে যান। তারা নানা বিষয়ে আলোচনার পর ৮ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দেন। এ জন্য সাইদুলকে সঞ্চয় বাবদ ৮০ হাজার টাকা ও বীমা বাবদ পাঁচ হাজার টাকা জমা দিতে বলা হয়। তিনি ১৬ মার্চ ৭৫ হাজার ১০০ টাকা প্রতিষ্ঠানটির কার্যালয়ে জমা দেন। কথা ছিল, ১৮ মার্চ তিনি ৮ লাখ টাকা ঋণ পাবেন। নির্ধারিত দিনে ঋণ আনতে গিয়ে দেখেন উধাও হয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটি। কার্যালয়ে ঝুলছে তালা। সাইদুল বলেন, ‘আমি গরীব মানুষ। প্রতারণা করে আমার ৭৫ হাজার ১০০ টাকা নিয়ে পালিয়েছে প্রতারক  চক্র। আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি। পুলিশের কাছে দাবি জানাই, তারা যেন প্রতারক চক্রকে গ্রেফতার ও আমার টাকা উদ্ধার করে দেন।’ আরেক ভুক্তভোগী গোয়ালন্দ বাজারের ব্যবসায়ী ইমরান শেখ জানান, তাকে ১০ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখায় ওই ভুয়া এনজিওর কর্মীরা। তিনি তাদের কথার ফাঁদে পড়ে ১৬ মার্চ এক লাখ টাকা জামানত দেন। তারও ঋণ দেওয়ার কথা ছিল ১৮ মার্চ। তবে একদিন আগে ১৭ মার্চ তিনি ঋণের অগ্রগতি সম্পর্কে খোঁজ নিতে ওই কার্যালয়ে যান। গিয়ে দেখেন দরজায় তালা ঝুলছে। একইভাবে প্রতারিত হয়েছেন রাজবাড়ী সদরের ব্যবসায়ী মো. কামরুল ইসলাম। খানখানাপুর বাজারে তার প্রসাধনসামগ্রীর ব্যবসা রয়েছে। কামরুল ইসলাম জানান, ১৩ মার্চ ঊষার আলো ফাউন্ডেশনের কয়েকজন কর্মী তার দোকানে যান। তাকে ঋণ দেয়ার আশ্বাস দেন। তিনিও আগ্রহ প্রকাশ করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ওই কর্মকর্তারা ১৫ মার্চ তাঁর বাড়িতে যান। সেখানেই ৮ লাখ টাকা ঋণ দেয়ার বিষয়ে আলাপ হয়। ১৭ মার্চ ঋণ দেয়া হবে জানিয়ে ৮০ হাজার টাকা সঞ্চয় জমা দিতে বলা হয় কামরুলকে। তিনি এক সুদের কারবারির কাছে নিজের মোটরসাইকেল বন্ধক রেখে মাসিক ৫ হাজার টাকা সুদের বিনিময়ে ৮০ হাজার টাকা নেন। সেই টাকা ১৬ মার্চ প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তাদের হাতে তুলে দেন। ১৭ মার্চ ঋণ নিতে কার্যালয়ে গিয়ে অন্যদের কাছ থেকে জানতে পারেন, ওই ব্যক্তিরা পালিয়েছেন। আরেক ভুক্তভোগী গোয়ালন্দ বাজারের চাল ব্যবসায়ী সুজন মোল্লা জানান, ৮ লাখ টাকা ঋণ দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে প্রতারক চক্র তার কাছ থেকে হাতিয়ে নিয়েছে ৭০ হাজার টাকা। একইভাবে প্রতারক চক্রটি শতাধিক গ্রাহকের কাছ থেকে অন্তত ৩০ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়েছে। প্রতারণার শিকার গোয়ালন্দ বাজারের কাপড় ব্যবসায়ী আমির আলী বলেন, ‘বাড়ির মালিক বলছেন তিনি নাকি ওই প্রতারকদের চেনেন না। তাদের কাছ থেকে নাকি কোন কাগজপত্রও নেননি। আমি মনেকরি এই প্রতারক চক্রের সাথে বাড়ির মালিক জড়িত৷ তার যোগসাজশেই এতোবড় প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। তাকে আইনের আওতায় আনলেই পুরো চক্রটি ধরা পড়বে।’ বাড়ির মালিক নাজমুল হাসানের স্ত্রী প্রান্তি সুলতানা বলেন, ‘আমার স্বামী চাকরির সুবাদে যশোরে থাকেন। বাড়িতে আমি থাকি। গত ১০ মার্চ তিনজন ব্যক্তি এসে আমার বাড়ি দেখে পছন্দ করে মাসে ৭ হাজার টাকা ভাড়ায় তিন বছরের জন্য নিচতলা ভাড়া নেন। আমি চুক্তিপত্র করার জন্য বললে তারা কয়েকদিন সময় চান। আমিও সরল মনে তাদের সময় দেই। তবে সোমবার (১৭ মার্চ) সকালে দেখি তারা সবাই পালিয়েছে। পরে আমি দরজা তালা দিয়ে রাখি। এরপর একে একে প্রতারণার শিকার লোকজন আমার বাড়িতে আসতে থাকেন। প্রতারকরা কক্ষের ভেতর চেয়ার-টেবিল ও তাদের ভুয়া ভর্তি ফরম, পাশবইসহ অন্যান্য কাগজপত্র রেখে গেছেন।’ গোয়ালন্দ ঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। প্রতারক চক্রকে ধরতে কাজ চলছে।’ গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. নাহিদুর রহমান বলেন, ‘ঊষার আলো ফাউন্ডেশন’ নামে গোয়ালন্দ উপজেলায় কোন বৈধ এনজিও নেই। এনজিওর নামে প্রতারণার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে লাপাত্তার বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে এ ব্যাপারে কেউ কোন লিখিত অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।’