ঢাকা ০৪:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
বাবা-মায়ের খোঁজে বন্যার পানিতে তিন ঘণ্টা সাঁতরালেন ছেলে ফাইনাল উদযাপনে মাদারীপুরে স্পেন সমর্থকদের ‘এলাহী আয়োজন’ হেফাজতের সমাবেশে হামলায় ৬১ জনের মৃত্যুর তালিকা মিলেছে: চিফ প্রসিকিউটর স্থানীয় নির্বাচন আ.লীগের অংশগ্রহণের সুযোগ প্রশ্নে যা জানালেন রিজভী  গোপালগঞ্জে গরুতে হবে আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ভূরিভোজ ভারী বৃষ্টিতে বাড়ছে নদীর পানি, ৫ জেলায় আকস্মিক বন্যার শঙ্কা কালুখালীতে পোল্ট্রি খামার থেকে যুবকের ম’র’দে’হ উদ্ধার মদ বিক্রেতা’ হচ্ছেন ইসলামী ধারার ব্যাংকের চেয়ারম্যান একাধিক দুর্নীতি মামলার আসামি তবুও সিডিএর ক্ষমতাধর কর্মকর্তা হাসান! রাজনৈতিক পক্ষপাতমুক্ত থেকে সরকারি কর্মচারীদের দায়িত্ব পালন করতে হবে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ভিকারুননিসায় নানা অজুহাতে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ফেস্টিভ্যাল ফি ৫০০ টাকা, ম্যাগাজিন ফি ২৫০ টাকা এবং পূজা ফি বাবদ ১৫০ টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা উপেক্ষা করে বিবিধ খাত কিংবা বিশেষ ফি-এর নামে এই বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করছেন অভিভাবকরা।

ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ফেস্টিভ্যাল ফি ৫০০ টাকা, ম্যাগাজিন ফি ২৫০ টাকা এবং পূজা ফি বাবদ ১৫০ টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক জানান, মার্চ মাসে জেনারেটর ফি ৫০০ টাকা এবং ক্যালেন্ডার ও সিলেবাসের জন্য ১৫০ টাকা নেওয়া হয়। এরপর এপ্রিল মাসে স্পোর্টস ফি ২০০ টাকা, মে মাসে ডায়েরি বাবদ ২০০ টাকা এবং অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফি হিসেবে ৭০০ টাকা আদায় করা হয়েছে। জুলাই মাসে এসে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ৫০০ টাকা, যা অনুপস্থিতি ও সেশন চার্জ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি এসি ফি বাবদ ৫০০ টাকাসহ নামে-বেনামে আরও নানা রকমের ফি আদায় করে চলেছে।

এ বিষয়ে অভিভাবকরা বলছেন, এত ফি দেওয়ার পরও শিক্ষার্থী অনুপস্থিত হলেই ৫০ ঢাকা জরিমানা গুনতে হচ্ছে। এসবের কারণ জানতে চাওয়া হলে কর্তৃপক্ষ বলছেন, দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে সন্তান পড়বে, টাকা তো বেশি লাগবেই। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে তীর প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

অভিভাবক মাসুদ বলেন, ঝড়-বৃষ্টি, বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা অসুস্থতার মতো যৌক্তিক কারণেও শিক্ষার্থীরা অনুপস্থিত থাকলে স্কুল কর্তৃপক্ষ জরিমানা মওকুফ করছে না। বিষয়টি চরম অমানবিক ও নিয়মবহির্ভূত। মূলত শিক্ষা প্রশাসনের সঠিক নজরদারি না থাকার কারণেই এমনটা ঘটছে।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজেরই একজন শিক্ষক জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী কোনো শিক্ষার্থী ক্লাসে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ উপস্থিত থাকলেই তাকে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে গণ্য করা হয় এবং পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু ভিকারুননিসায় বর্তমানে যা চলছে তা অবৈধ। এখানে একজন শিক্ষার্থী ৯৬ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিত থাকার পরও তাকে জরিমানা গুনতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক এক অধ্যক্ষ জানান, ভিকারুননিসায় অনিয়মের ঘটনা নতুন নয়। এই প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির প্রধান হন সব সময় প্রচণ্ড ক্ষমতাবান। সেখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়েরও কিছুই করার থাকে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (বিদ্যালয়) প্রফেসর মো. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে তিনি দ্রুতই এর খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাবা-মায়ের খোঁজে বন্যার পানিতে তিন ঘণ্টা সাঁতরালেন ছেলে

ভিকারুননিসায় নানা অজুহাতে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগে ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা

আপডেট সময় ০২:৪২:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ফেস্টিভ্যাল ফি ৫০০ টাকা, ম্যাগাজিন ফি ২৫০ টাকা এবং পূজা ফি বাবদ ১৫০ টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হয়েছে।

রাজধানীর ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত ফি আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা উপেক্ষা করে বিবিধ খাত কিংবা বিশেষ ফি-এর নামে এই বাড়তি টাকা নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করছেন অভিভাবকরা।

ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের অভিযোগ, শিক্ষাবর্ষের শুরু থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে ফেস্টিভ্যাল ফি ৫০০ টাকা, ম্যাগাজিন ফি ২৫০ টাকা এবং পূজা ফি বাবদ ১৫০ টাকা অতিরিক্ত নেওয়া হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অভিভাবক জানান, মার্চ মাসে জেনারেটর ফি ৫০০ টাকা এবং ক্যালেন্ডার ও সিলেবাসের জন্য ১৫০ টাকা নেওয়া হয়। এরপর এপ্রিল মাসে স্পোর্টস ফি ২০০ টাকা, মে মাসে ডায়েরি বাবদ ২০০ টাকা এবং অর্ধবার্ষিক পরীক্ষার ফি হিসেবে ৭০০ টাকা আদায় করা হয়েছে। জুলাই মাসে এসে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও ১ হাজার ৫০০ টাকা, যা অনুপস্থিতি ও সেশন চার্জ হিসেবে দেখানো হয়েছে। এছাড়া প্রতিষ্ঠানটি এসি ফি বাবদ ৫০০ টাকাসহ নামে-বেনামে আরও নানা রকমের ফি আদায় করে চলেছে।

এ বিষয়ে অভিভাবকরা বলছেন, এত ফি দেওয়ার পরও শিক্ষার্থী অনুপস্থিত হলেই ৫০ ঢাকা জরিমানা গুনতে হচ্ছে। এসবের কারণ জানতে চাওয়া হলে কর্তৃপক্ষ বলছেন, দেশের শীর্ষ প্রতিষ্ঠানে সন্তান পড়বে, টাকা তো বেশি লাগবেই। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে তীর প্রতিক্রিয়া শুরু হয়েছে।

অভিভাবক মাসুদ বলেন, ঝড়-বৃষ্টি, বন্যা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা অসুস্থতার মতো যৌক্তিক কারণেও শিক্ষার্থীরা অনুপস্থিত থাকলে স্কুল কর্তৃপক্ষ জরিমানা মওকুফ করছে না। বিষয়টি চরম অমানবিক ও নিয়মবহির্ভূত। মূলত শিক্ষা প্রশাসনের সঠিক নজরদারি না থাকার কারণেই এমনটা ঘটছে।

এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজেরই একজন শিক্ষক জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিয়ম অনুযায়ী কোনো শিক্ষার্থী ক্লাসে ন্যূনতম ৩০ শতাংশ উপস্থিত থাকলেই তাকে নিয়মিত শিক্ষার্থী হিসেবে গণ্য করা হয় এবং পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেওয়া হয়। কিন্তু ভিকারুননিসায় বর্তমানে যা চলছে তা অবৈধ। এখানে একজন শিক্ষার্থী ৯৬ শতাংশ ক্লাসে উপস্থিত থাকার পরও তাকে জরিমানা গুনতে হচ্ছে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রতিষ্ঠানটির সাবেক এক অধ্যক্ষ জানান, ভিকারুননিসায় অনিয়মের ঘটনা নতুন নয়। এই প্রতিষ্ঠানের গভর্নিং বডির প্রধান হন সব সময় প্রচণ্ড ক্ষমতাবান। সেখানে শিক্ষা মন্ত্রণালয়েরও কিছুই করার থাকে না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (বিদ্যালয়) প্রফেসর মো. সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তবে তিনি দ্রুতই এর খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।