সংবাদ শিরোনাম ::
মৌলভীবাজারের বড়লেখা দুর্গম পাহাড়ি সীমান্তে বিজিবি কর্তৃক ৩০০ প্যাকেট ভারতীয় মন্ড সিগারেট আটক দেশে নতুন উদ্যোক্তা না আসাই আয় বৈষম্যের মূল কারণ : বাণিজ্যমন্ত্রী আর্জেন্টিনাকে দুঃসংবাদ দিলেন কেইনকে কালো জাদু করা ঘানার সেই তান্ত্রিক দেশের ৯ জেলায় বন্যার শঙ্কা করমুক্ত আয়সীমা ৬ লাখ টাকা করার প্রস্তাব প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর চীনের সঙ্গে সমঝোতায় বাংলাদেশের নিউ মিডিয়ায় গুণগত পরিবর্তন আসবে : তথ্যমন্ত্রী দুর্নীতি মামলায় টিউলিপসহ ২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন পেছাল এলপিজির কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সিরাজুল ও জ্বালানি সচিব সাইফুলের সিন্ডিকেটে কোটি টাকা আত্মসাত মনোহরগঞ্জে জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জি‌সি‌সির সঙ্গে অংশীদারিত্ব সংলাপ সংক্রান্ত এমওইউ সই বাংলাদেশের

বাংলাদেশের সঙ্গে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) সহযোগিতার বিষয়ে অংশীদারিত্ব সংলাপ নি‌য়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

মোমেন বলেন, প্রায় ৫০ লাখ বাংলাদেশি অভিবাসী জিসিসিভুক্ত দেশে কর্মরত রয়েছে, যারা জিসিসি ও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখছে। এ সব দেশে আরও বেশি দক্ষ অভিবাসী কর্মী নিয়োগের আরও সুযোগ রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রেমিট্যান্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস। তবে মানি লন্ডারিং বা অবৈধ পথে অর্থ প্রেরণ বাংলাদেশ ও জিসিসি দেশগুলোর অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। মানি লন্ডারিং ও অবৈধ পথে অর্থ প্রেরণ বন্ধ করার বিষয়ে জিসিসির সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তি‌নি।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, জিসিসি দেশগুলো এবং মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের অন্যতম জ্বালানি যোগানদাতা অঞ্চল এবং বিশ্ব রাজনীতিতে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা সবার জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জিসিসিভুক্ত দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি জ্বালানি নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির বিষয়ে মহাসচিবের সঙ্গে আলোচনা করেন।

মোমেন বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা সব দেশের জন্য একটি অভিন্ন অগ্রাধিকার। বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষিভিত্তিক এবং আমরা খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। বাংলাদেশ জিসিসি সদস্য দেশ ও বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করতে ইচ্ছুক বলে তিনি উল্লেখ করেন। জিসিসির বাজারে বাংলাদেশের মানসম্মন্ন পণ্যের রপ্তানি আরও বৃদ্ধি করার সুযোগ রয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসময় জিসিসির সঙ্গে বাংলাদেশের একটি অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি করার কথা বিবেচনা করার অনুরোধ জানান। ড. মোমেন বাংলাদেশ-জিসিসি সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার আশা প্রকাশ করেন এবং এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে উল্লেখ করেন।

জিসিসি মহাসচিব সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরের জন্য তার সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, সমঝোতা স্মারকটি দুই পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন সেক্টরে যৌথ কর্মপরিকল্পনা, জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ এবং টেকনিক্যাল টিম, যৌথ বিজনেস কাউন্সিল গঠনের সুযোগ তৈরি ও সহযোগিতাকে এগিয়ে নিতে আইনি কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। বাংলাদেশ প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য রাজনৈতিক ও মানবিক সহায়তার জন্য বাংলাদেশ জিসিসি সদস্য দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশ এই সমস্যার কারণ এবং মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে জিসিসি সচিবালয়ের সহায়তা প্রত্যাশা করে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিসিসি মহাসচিবকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে জিসিসি মহাসচিব তা সাদরে গ্রহণ করেন। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স‌চিব (পূর্ব) মাশফি বিনতে শামস, বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. নজরুল ইসলাম ও অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মৌলভীবাজারের বড়লেখা দুর্গম পাহাড়ি সীমান্তে বিজিবি কর্তৃক ৩০০ প্যাকেট ভারতীয় মন্ড সিগারেট আটক

জি‌সি‌সির সঙ্গে অংশীদারিত্ব সংলাপ সংক্রান্ত এমওইউ সই বাংলাদেশের

আপডেট সময় ০১:০৪:০৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ নভেম্বর ২০২২

বাংলাদেশের সঙ্গে গালফ কো-অপারেশন কাউন্সিলের (জিসিসি) সহযোগিতার বিষয়ে অংশীদারিত্ব সংলাপ নি‌য়ে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। শুক্রবার (১৮ নভেম্বর) এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।

মোমেন বলেন, প্রায় ৫০ লাখ বাংলাদেশি অভিবাসী জিসিসিভুক্ত দেশে কর্মরত রয়েছে, যারা জিসিসি ও বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখছে। এ সব দেশে আরও বেশি দক্ষ অভিবাসী কর্মী নিয়োগের আরও সুযোগ রয়েছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রেমিট্যান্স বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস। তবে মানি লন্ডারিং বা অবৈধ পথে অর্থ প্রেরণ বাংলাদেশ ও জিসিসি দেশগুলোর অর্থনীতির জন্য ক্ষতিকর। মানি লন্ডারিং ও অবৈধ পথে অর্থ প্রেরণ বন্ধ করার বিষয়ে জিসিসির সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তি‌নি।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, জিসিসি দেশগুলো এবং মধ্যপ্রাচ্য বিশ্বের অন্যতম জ্বালানি যোগানদাতা অঞ্চল এবং বিশ্ব রাজনীতিতে বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এ অঞ্চলের শান্তি ও স্থিতিশীলতা সবার জন্যই খুব গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জিসিসিভুক্ত দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের একটি জ্বালানি নিরাপত্তা কাঠামো তৈরির বিষয়ে মহাসচিবের সঙ্গে আলোচনা করেন।

মোমেন বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা সব দেশের জন্য একটি অভিন্ন অগ্রাধিকার। বাংলাদেশের অর্থনীতি কৃষিভিত্তিক এবং আমরা খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ং সম্পূর্ণতা অর্জন করেছি। বাংলাদেশ জিসিসি সদস্য দেশ ও বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করতে ইচ্ছুক বলে তিনি উল্লেখ করেন। জিসিসির বাজারে বাংলাদেশের মানসম্মন্ন পণ্যের রপ্তানি আরও বৃদ্ধি করার সুযোগ রয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এসময় জিসিসির সঙ্গে বাংলাদেশের একটি অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি করার কথা বিবেচনা করার অনুরোধ জানান। ড. মোমেন বাংলাদেশ-জিসিসি সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করার আশা প্রকাশ করেন এবং এ সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে উল্লেখ করেন।

জিসিসি মহাসচিব সমঝোতা স্মারকটি স্বাক্ষরের জন্য তার সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, সমঝোতা স্মারকটি দুই পক্ষের মধ্যে বিভিন্ন সেক্টরে যৌথ কর্মপরিকল্পনা, জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ এবং টেকনিক্যাল টিম, যৌথ বিজনেস কাউন্সিল গঠনের সুযোগ তৈরি ও সহযোগিতাকে এগিয়ে নিতে আইনি কাঠামো হিসেবে কাজ করবে। বাংলাদেশ প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়েছে উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য রাজনৈতিক ও মানবিক সহায়তার জন্য বাংলাদেশ জিসিসি সদস্য দেশগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞ। বাংলাদেশ এই সমস্যার কারণ এবং মিয়ানমারে তাদের নিরাপদ প্রত্যাবর্তনে জিসিসি সচিবালয়ের সহায়তা প্রত্যাশা করে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী জিসিসি মহাসচিবকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানালে জিসিসি মহাসচিব তা সাদরে গ্রহণ করেন। সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের সময় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের স‌চিব (পূর্ব) মাশফি বিনতে শামস, বাহরাইনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত ড. নজরুল ইসলাম ও অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।