ঢাকা ০৮:৩৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১ বঙ্গাব্দ

সম্পত্তির লোভে নিজের ভাই কে ৬ বছর রংপুর স্নেহা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে মোটা অর্থের বিনিময়ে আটক

রংপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকার পর্যটন মোটেল এর বিপরীতে রাস্তার পাশেই গড়ে উঠেছে স্নেহা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র।এই একই নামে রয়েছে ১) স্নেহা নার্সিং কলেজ লিঃ, ২) স্নেহা জেনারেল হসপিটাল, ৩) স্নেহা অর্গানিক ফার্মস, ৪) স্নেহা মাদকাসক্তি, মানসিক হাসপাতাল।

গতকাল মঙ্গলবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি সাংবাদিক হামিদুল খান সুমন এর কাছে একটি তথ্য আসে,যে সম্পত্তি ভোগের লোভে পরে চিকিৎসার নামে দীর্ঘ ৬ বছর আটক রাখার অভিযোগ জানতে পাই। সেই তথ্য উদঘাটন করার জন্য সরাসরি স্নেহা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের চেয়ারম্যান মোঃ মনোয়ারুল কাদির মাসুম এর কাছে গিয়ে বিষয়টি জানতে চাই।সাথে এটিও জানতে চাওয়া হয় একজন মাদকাসক্ত রোগিকে সর্বচ্চ কতদিন রেখে চিকিৎসা দেয়ার নিয়ম রয়েছে? তিনি বললেন ৩ মাস থেকে ৬ মাস পর্যন্ত। তখন প্রতিবেদক তার মূল প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বললেন, আমার কাছে তথ্য রয়েছে চিকিৎসার নাম করে মোঃ ছামিদুল ইসলাম সুমন, পিতা: মৃত: খায়রুল আনাম, মাতা: সাজেদা বেগম,আলমনগড়,ঠিকাদার পাড়া,রংপুর কে ৬ বছর ধরে জোরপূর্বক আইন বহির্ভূত ভাবে আটক করে রাখা হয়েছে।উক্ত ব্যাক্তির সম্পদ লুট করে খাওয়ার সুযোগ করে দেয়াই একমাত্র উদ্দেশ্য।

উক্ত প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জানান, ছামিদুল ইসলাম সুমন কে প্রথম মাদকাসক্ত রোগী হিসেবে ভর্তি করায় রোগীর নিজের ছোট ভাই সুজন।এর পরে হতে চিকিৎসার নামে আটক রাখার জন্য মোটা অংকের টাকার প্রস্তাব দেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মোঃ মনোয়ারুল কাদির মাসুম কে, আর তিনিও রাজি হয়ে যান এবং দীর্ঘ ৬ বছর যাবত আটক রেখে বাহির জগতের কারোরই সাথে যোগাযোগ করতে দেয়া হয় নাই।

উক্ত প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান প্রতিবেদককে আরো জানান যে,চিকিৎসা নেয়ার পর সুস্থ হয়ে গেলে ঐ রুগী কে স্টাফ হিসেবে চাকরি তে রাখেন।
এখন কথা হলো এমন কোন চাকরি আছে যে বেতন নাই,ভালো খাবার নাই,সুচিকিৎসা নাই,আবার বন্দী থাকতে হয় বছরের পরে বছর।এমন ঘটনা জেলখানায় এখনোও হয় তা অনেকেই জানে।
কিন্তু মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে এমন দুঃসাহসিক ধৃষ্টতা করার সাহস কোথা থেকে পায়? মাদকাসক্তি অধিদপ্তর কি করে?
গোয়ান্দা শাখা কি করে?
স্বাস্থ বিষয়ক অধিদপ্তরের কাজ কি?

আমাদের কাছে তথ্য আসে এই সমস্ত দপ্তর গুলিতে মোটা অংকের মাসহারা প্রদান করা হয়। তাই রংপুরে গড়ে উঠেছে যত্রতত্র অনুমোদন বিহীন মাদক নিরাময় কেন্দ্রের নামে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান। জ্বি এখানে শুধু ব্যাবসাই হয়, কোন কিছুই নিরাময় হয় না।

প্রতিবেদক রুগীর সাথে সাক্ষাৎ করতে চাইলে তিনি সুকৌশলে রাতে দেখা করার কথা এরিয়ে গিয়ে আজ বুধবার সকাল ১০ টা হতে বিকেল ৫ টার মধ্যে দেখা করতে বলেন।আজ বিকেল ০৪:৩০ মিনিটে সাক্ষাৎ করতে গেলে ঐ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মাসুম রুগীকে সাক্ষাৎ না করিয়ে বলেন,ভাই আমি তো রুগী কে তাঁর ভাই সুজন এর হাতে গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০:০০ টায় বুঝে দিয়েছি,অথচ তার কথা অনুযায়ী আজ বুধবার প্রতিবেদকের সাথে কথা বলিয়ে দেয়ার কথা ছিলো।

যে ভাই-বোন সম্পত্তির লোভে নিজের বড় ভাই কে ৬ বছর জিম্মি করে রাখতে পারে তাদের দ্বারা পরিকল্পিত ভাবে মেরে ফেলাটা কি স্বাভাবিক না অ-স্বাভাবিক?

এই মুহুর্তে যদি এক সময়ে রংপুরের তুখোড় যুবলীগ নেতা ছামিদুল ইসলাম সুমন এর কোনো দুর্ঘটনা ঘটে এর দায়ভার অবশ্যই স্নেহা মাদকাসক্তির চেয়ারম্যান মাসুম এবং ভুক্তভোগীর ভাই-বোনের উপর বর্তাবে। এ বিষয়ে উক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক সহ জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পত্তির লোভে নিজের ভাই কে ৬ বছর রংপুর স্নেহা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে মোটা অর্থের বিনিময়ে আটক

আপডেট সময় ১২:১৩:৪৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৪ জুলাই ২০২৪

রংপুর সিটি কর্পোরেশন এলাকার পর্যটন মোটেল এর বিপরীতে রাস্তার পাশেই গড়ে উঠেছে স্নেহা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্র।এই একই নামে রয়েছে ১) স্নেহা নার্সিং কলেজ লিঃ, ২) স্নেহা জেনারেল হসপিটাল, ৩) স্নেহা অর্গানিক ফার্মস, ৪) স্নেহা মাদকাসক্তি, মানসিক হাসপাতাল।

গতকাল মঙ্গলবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দৈনিক আমাদের মাতৃভূমি পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি সাংবাদিক হামিদুল খান সুমন এর কাছে একটি তথ্য আসে,যে সম্পত্তি ভোগের লোভে পরে চিকিৎসার নামে দীর্ঘ ৬ বছর আটক রাখার অভিযোগ জানতে পাই। সেই তথ্য উদঘাটন করার জন্য সরাসরি স্নেহা মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের চেয়ারম্যান মোঃ মনোয়ারুল কাদির মাসুম এর কাছে গিয়ে বিষয়টি জানতে চাই।সাথে এটিও জানতে চাওয়া হয় একজন মাদকাসক্ত রোগিকে সর্বচ্চ কতদিন রেখে চিকিৎসা দেয়ার নিয়ম রয়েছে? তিনি বললেন ৩ মাস থেকে ৬ মাস পর্যন্ত। তখন প্রতিবেদক তার মূল প্রশ্ন ছুঁড়ে দিয়ে বললেন, আমার কাছে তথ্য রয়েছে চিকিৎসার নাম করে মোঃ ছামিদুল ইসলাম সুমন, পিতা: মৃত: খায়রুল আনাম, মাতা: সাজেদা বেগম,আলমনগড়,ঠিকাদার পাড়া,রংপুর কে ৬ বছর ধরে জোরপূর্বক আইন বহির্ভূত ভাবে আটক করে রাখা হয়েছে।উক্ত ব্যাক্তির সম্পদ লুট করে খাওয়ার সুযোগ করে দেয়াই একমাত্র উদ্দেশ্য।

উক্ত প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান জানান, ছামিদুল ইসলাম সুমন কে প্রথম মাদকাসক্ত রোগী হিসেবে ভর্তি করায় রোগীর নিজের ছোট ভাই সুজন।এর পরে হতে চিকিৎসার নামে আটক রাখার জন্য মোটা অংকের টাকার প্রস্তাব দেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মোঃ মনোয়ারুল কাদির মাসুম কে, আর তিনিও রাজি হয়ে যান এবং দীর্ঘ ৬ বছর যাবত আটক রেখে বাহির জগতের কারোরই সাথে যোগাযোগ করতে দেয়া হয় নাই।

উক্ত প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান প্রতিবেদককে আরো জানান যে,চিকিৎসা নেয়ার পর সুস্থ হয়ে গেলে ঐ রুগী কে স্টাফ হিসেবে চাকরি তে রাখেন।
এখন কথা হলো এমন কোন চাকরি আছে যে বেতন নাই,ভালো খাবার নাই,সুচিকিৎসা নাই,আবার বন্দী থাকতে হয় বছরের পরে বছর।এমন ঘটনা জেলখানায় এখনোও হয় তা অনেকেই জানে।
কিন্তু মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রে এমন দুঃসাহসিক ধৃষ্টতা করার সাহস কোথা থেকে পায়? মাদকাসক্তি অধিদপ্তর কি করে?
গোয়ান্দা শাখা কি করে?
স্বাস্থ বিষয়ক অধিদপ্তরের কাজ কি?

আমাদের কাছে তথ্য আসে এই সমস্ত দপ্তর গুলিতে মোটা অংকের মাসহারা প্রদান করা হয়। তাই রংপুরে গড়ে উঠেছে যত্রতত্র অনুমোদন বিহীন মাদক নিরাময় কেন্দ্রের নামে ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান। জ্বি এখানে শুধু ব্যাবসাই হয়, কোন কিছুই নিরাময় হয় না।

প্রতিবেদক রুগীর সাথে সাক্ষাৎ করতে চাইলে তিনি সুকৌশলে রাতে দেখা করার কথা এরিয়ে গিয়ে আজ বুধবার সকাল ১০ টা হতে বিকেল ৫ টার মধ্যে দেখা করতে বলেন।আজ বিকেল ০৪:৩০ মিনিটে সাক্ষাৎ করতে গেলে ঐ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান মাসুম রুগীকে সাক্ষাৎ না করিয়ে বলেন,ভাই আমি তো রুগী কে তাঁর ভাই সুজন এর হাতে গতকাল মঙ্গলবার রাত ১০:০০ টায় বুঝে দিয়েছি,অথচ তার কথা অনুযায়ী আজ বুধবার প্রতিবেদকের সাথে কথা বলিয়ে দেয়ার কথা ছিলো।

যে ভাই-বোন সম্পত্তির লোভে নিজের বড় ভাই কে ৬ বছর জিম্মি করে রাখতে পারে তাদের দ্বারা পরিকল্পিত ভাবে মেরে ফেলাটা কি স্বাভাবিক না অ-স্বাভাবিক?

এই মুহুর্তে যদি এক সময়ে রংপুরের তুখোড় যুবলীগ নেতা ছামিদুল ইসলাম সুমন এর কোনো দুর্ঘটনা ঘটে এর দায়ভার অবশ্যই স্নেহা মাদকাসক্তির চেয়ারম্যান মাসুম এবং ভুক্তভোগীর ভাই-বোনের উপর বর্তাবে। এ বিষয়ে উক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক সহ জড়িতদের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে।