ঢাকা ০৬:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
৬৯ বছরেও মেলেনি বয়স্ক ভাতার কার্ড, ভাঙা ঘরে মানবেতর জীবন পরীমণির সঙ্গে কী ঘটেছিল, জানালেন হেনস্তার শিকার সেই সাংবাদিক! সীমান্তের কাঁটাতারে ৫০ বছর ধরে বিচ্ছিন্ন বাবা-মেয়ে, দেখা হলো শেষ বিদায়ে এক্সপ্রেসওয়ের ক্রেনের ধাক্কায় প্রাণ গেল প্রকৌশলীর, পিতৃহারা শিশুর দায়িত্ব নেবে কে? অনিয়ম-দুর্নীতি-করদাতাদের সাথে আঁতাত, সবকিছুতেই সর্বেসর্বা কর কমিশনার মুরাদ পবিত্র মদিনা লক্ষ্য করে হুথিদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চট্টগ্রামে রেলের ৬৫ লাখ টাকার দরপত্র জালিয়াতির তদন্তে গড়িমসি, সময়সীমা জানেন না জিএম বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র: স্পিকার বরিশাল বিআরটিএতে সৌরভ সাহার দাপট, দালাল সিন্ডিকেটে জমজমাট লাইসেন্স বাণিজ্য ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে নতুন আশার আলো সালাউদ্দিন তিতু

সীমান্তের কাঁটাতারে ৫০ বছর ধরে বিচ্ছিন্ন বাবা-মেয়ে, দেখা হলো শেষ বিদায়ে

বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা হয়নি প্রায় ৫০ বছর। কাঁটাতারের সীমান্ত বেড়ার সীমাবদ্ধতা তাদের দূরে সরিয়ে রেখেছিল। দীর্ঘ সময় পরে দেখা হলো বাবার সঙ্গে। তবে জীবিত নয়, মেয়ের দেখার পরই বাবার মরদেহ নেওয়া হলো গোরস্তানে।

হৃদয়স্পর্শী এ ঘটনা ঘটে মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার ভারতীয় সীমান্তে। বিজিবি-বিএসএফের মানবিকতায় বাবা-মেয়ের শেষ দেখার ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরের। বাবাকে শেষ বিদায় দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ফেরদৌসি খাতুন।

জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার হৃদয়পুর গ্রামের বাসিন্দা শতবর্ষী মনোরুদ্দীন। তাঁর ছয় সন্তানের মধ্যে তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। বড় মেয়ে ফিরদৌসী খাতুনের বিয়ে হয় মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের সোনাপুর নতুনপাড়ায়।

প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ বছর স্বামীর বাড়িতে বসবাস করছেন ফিরদৌসী খাতুন। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পর বাবার বাড়ির সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘদিন বাবার সঙ্গে সরাসরি দেখা বা যোগাযোগের সুযোগ হয়নি বড় মেয়ের।

বাবার মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর শেষবারের মতো বাবাকে দেখার সুযোগ করে দিতে সীমান্তে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উদ্যোগে এই সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়।

এ সময় বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিজিবির মুজিবনগর কোম্পানি সদর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার এনায়েত হোসেন। অন্যদিকে ভারতের পক্ষে ছয় সদস্যের একটি দল উপস্থিত ছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন এএসআই সুনীল কুমার।

দীর্ঘ কয়েক দশকের বিচ্ছেদের পর বাবাকে শেষবারের মতো দেখার এই সুযোগে সীমান্তের শূন্যরেখায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

৬৯ বছরেও মেলেনি বয়স্ক ভাতার কার্ড, ভাঙা ঘরে মানবেতর জীবন

সীমান্তের কাঁটাতারে ৫০ বছর ধরে বিচ্ছিন্ন বাবা-মেয়ে, দেখা হলো শেষ বিদায়ে

আপডেট সময় ০৫:৩৮:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ নভেম্বর ২০২৬

বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা হয়নি প্রায় ৫০ বছর। কাঁটাতারের সীমান্ত বেড়ার সীমাবদ্ধতা তাদের দূরে সরিয়ে রেখেছিল। দীর্ঘ সময় পরে দেখা হলো বাবার সঙ্গে। তবে জীবিত নয়, মেয়ের দেখার পরই বাবার মরদেহ নেওয়া হলো গোরস্তানে।

হৃদয়স্পর্শী এ ঘটনা ঘটে মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার ভারতীয় সীমান্তে। বিজিবি-বিএসএফের মানবিকতায় বাবা-মেয়ের শেষ দেখার ঘটনাটি বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরের। বাবাকে শেষ বিদায় দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন ফেরদৌসি খাতুন।

জানা গেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নদীয়া জেলার চাপড়া থানার হৃদয়পুর গ্রামের বাসিন্দা শতবর্ষী মনোরুদ্দীন। তাঁর ছয় সন্তানের মধ্যে তিন ছেলে ও তিন মেয়ে। বড় মেয়ে ফিরদৌসী খাতুনের বিয়ে হয় মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান ইউনিয়নের সোনাপুর নতুনপাড়ায়।

প্রায় ৪৫ থেকে ৫০ বছর স্বামীর বাড়িতে বসবাস করছেন ফিরদৌসী খাতুন। ভারত-বাংলাদেশ সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের পর বাবার বাড়ির সঙ্গে তাঁদের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দীর্ঘদিন বাবার সঙ্গে সরাসরি দেখা বা যোগাযোগের সুযোগ হয়নি বড় মেয়ের।

বাবার মৃত্যুসংবাদ পাওয়ার পর শেষবারের মতো বাবাকে দেখার সুযোগ করে দিতে সীমান্তে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উদ্যোগে এই সাক্ষাতের ব্যবস্থা করা হয়।

এ সময় বাংলাদেশের পক্ষে নেতৃত্ব দেন বিজিবির মুজিবনগর কোম্পানি সদর কোম্পানি কমান্ডার সুবেদার এনায়েত হোসেন। অন্যদিকে ভারতের পক্ষে ছয় সদস্যের একটি দল উপস্থিত ছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন এএসআই সুনীল কুমার।

দীর্ঘ কয়েক দশকের বিচ্ছেদের পর বাবাকে শেষবারের মতো দেখার এই সুযোগে সীমান্তের শূন্যরেখায় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।