ঢাকা ০৮:০০ অপরাহ্ন, রবিবার, ০১ নভেম্বর ২০২৬, ১৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা, বন্দরে ২ নম্বর সংকেত গাজীপুরের কালীগঞ্জে ৪০ বছরের পুরনো রাস্তা বন্ধের অভিযোগ ওয়ালটনের বিরুদ্ধে ৭ নভেম্বর সরকারি-বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের নির্দেশ তাড়াইলে জাতীয় যুব দিবস উদ্‌যাপন: বর্ণাঢ্য র‍্যালি ও আলোচনা সভা বাইন্যান্স থেকে ৬৩০ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো চুরি, উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করল এফবিআই ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চাই: প্রতিমন্ত্রী হাবিব চার দিন বন্ধ থাকবে সামিটের এলএনজি টার্মিনাল, কমবে গ্যাসের সরবরাহ শ্রমিকদের বেতন বৃদ্ধির আন্দোলনে ছাত্রলীগ নেতার স্লোগান অদম্য নারী সুনন্দা সরকার প্রমা: মোহনগঞ্জ পাইলট থেকে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে দিনাজপুরের বীরগঞ্জে জাতীয় যুব দিবস পালিত, বিতরণ করা হলো ঋণের চেক

শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে ছদ্মবেশে মাঠে সক্রিয় ছাত্রলীগ

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করাসহ বিভিন্ন দাবিতে চলমান পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা তৈরিতে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত কয়েকজন মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে আন্দোলন থেকে ইতোমধ্যে ১০ জন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে আটকের খবরও পাওয়া গেছে।

আটককৃতরা হলেন—মোয়াজ্জেম শাহরিয়ার নিয়াজ (২৬), মো. আরিফ আকন্দ (২৯), মো. ওলিউল্লাহ অনিক (২০), মো. মাহিম মোল্লা (১৯), মো. রমজান সরকার (১৮), মো. কামাল গাজী (৩২), মো. কামাল গাজী (৩২), আলীফ হোসেন ইমন (২৬), মো. নাহিদ হাসান (২০), মো. আরিফ (২০)।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে—ছাত্রলীগের পদধারী অনেকেই আন্দোলনে অংশ নিয়ে অস্থিরতা তৈরির ছবি তাদের নিজ নিজ ফেসবুকে পোস্ট করেছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজিবুল ইসলাম। তিনি কিছুক্ষণ পরপর শ্রমিক আন্দোলনে অংশ নেওয়ার ছবি দিয়ে উসকানিমূলক পোস্ট দিচ্ছেন। রোববার বেলা ২টা ১৭ মিনিটে একটি ছবি দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কারও ওপর ভর করে ক্ষমতায় আসবে না। আমরা জনগণের শক্তি সঙ্গে নিয়ে কর্মসূচি দেব।’

এই পোস্টের ৫১ মিনিট আগে তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করেন। তার আগে ১২টা ৫১ মিনিটে তিনি আরেকটি ভিডিও পোস্ট করেন। এর আগে পোস্ট করেন ১০টা ৬ মিনিটে।

সেই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘শ্রমিকের বেতন ৩০০০০ বৃদ্ধির দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো আজকেও শ্রমিক আন্দোলন চলছে।’ গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে তিনি আগুন জ্বালানোর একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে স্লোগানে বলছিলেন, ‘৩০ হাজার বেতন দে, নইলে গদি ছেড়ে দে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক আন্দোলনে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। তাদের অনেকেই আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

শ্রমিকদের দাবিকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের এই তৎপরতা এবং আন্দোলনে তাদের ভূমিকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নজরদারি চলছে বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, দেশকে অস্থিতিশীল করার অংশ হিসেবে এই আন্দোলনের উসকানি দিচ্ছে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতারা।

এদিকে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং ওই প্রক্রিয়ায় বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। শ্রমিকদের বিষয়টি বোঝানোর পরও তারা সড়ক ছাড়েননি। পুলিশের কাছে মনে হয়েছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কোনো সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী চক্র যুক্ত হয়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে।

গত চার দিন ধরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলন চলছে। এর মধ্যে মিরপুরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও একটি পুলিশ গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের পর মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশনে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

অন্যদিকে, গাজীপুরের কালিয়াকৈরেও ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে। আন্দোলনকারীরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে সড়কে আগুন জ্বালানোর পাশাপাশি ব্যাংক, যানবাহন ও দোকানপাটে ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ঘূর্ণিঝড় ‘মুরাসু’ প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়ার আশঙ্কা, বন্দরে ২ নম্বর সংকেত

শ্রমিক আন্দোলনের আড়ালে ছদ্মবেশে মাঠে সক্রিয় ছাত্রলীগ

আপডেট সময় ০৬:২০:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১ নভেম্বর ২০২৬

ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করাসহ বিভিন্ন দাবিতে চলমান পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলনে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, আন্দোলনকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা তৈরিতে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত কয়েকজন মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রে আন্দোলন থেকে ইতোমধ্যে ১০ জন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ নেতাকর্মীকে আটকের খবরও পাওয়া গেছে।

আটককৃতরা হলেন—মোয়াজ্জেম শাহরিয়ার নিয়াজ (২৬), মো. আরিফ আকন্দ (২৯), মো. ওলিউল্লাহ অনিক (২০), মো. মাহিম মোল্লা (১৯), মো. রমজান সরকার (১৮), মো. কামাল গাজী (৩২), মো. কামাল গাজী (৩২), আলীফ হোসেন ইমন (২৬), মো. নাহিদ হাসান (২০), মো. আরিফ (২০)।

এ ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা গেছে—ছাত্রলীগের পদধারী অনেকেই আন্দোলনে অংশ নিয়ে অস্থিরতা তৈরির ছবি তাদের নিজ নিজ ফেসবুকে পোস্ট করেছেন।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাজিবুল ইসলাম। তিনি কিছুক্ষণ পরপর শ্রমিক আন্দোলনে অংশ নেওয়ার ছবি দিয়ে উসকানিমূলক পোস্ট দিচ্ছেন। রোববার বেলা ২টা ১৭ মিনিটে একটি ছবি দিয়ে তিনি লিখেছেন, ‘বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কারও ওপর ভর করে ক্ষমতায় আসবে না। আমরা জনগণের শক্তি সঙ্গে নিয়ে কর্মসূচি দেব।’

এই পোস্টের ৫১ মিনিট আগে তিনি একটি ভিডিও পোস্ট করেন। তার আগে ১২টা ৫১ মিনিটে তিনি আরেকটি ভিডিও পোস্ট করেন। এর আগে পোস্ট করেন ১০টা ৬ মিনিটে।

সেই পোস্টে তিনি লেখেন, ‘শ্রমিকের বেতন ৩০০০০ বৃদ্ধির দাবিতে টানা চতুর্থ দিনের মতো আজকেও শ্রমিক আন্দোলন চলছে।’ গতকাল শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ২৪ মিনিটে তিনি আগুন জ্বালানোর একটি ভিডিও পোস্ট করেন। সেখানে স্লোগানে বলছিলেন, ‘৩০ হাজার বেতন দে, নইলে গদি ছেড়ে দে।’

সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শ্রমিক আন্দোলনে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আরও কয়েকজনের সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। তাদের অনেকেই আন্দোলনের কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

শ্রমিকদের দাবিকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের এই তৎপরতা এবং আন্দোলনে তাদের ভূমিকা নিয়ে সংশ্লিষ্ট মহলে নজরদারি চলছে বলে জানা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, দেশকে অস্থিতিশীল করার অংশ হিসেবে এই আন্দোলনের উসকানি দিচ্ছে ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতারা।

এদিকে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো চক্র যুক্ত হয়ে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম কমিশনার মহিদুল ইসলাম।

তিনি বলেন, শ্রমিকদের মজুরি নির্ধারণে মজুরি বোর্ড গঠন করা হয়েছে এবং ওই প্রক্রিয়ায় বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। শ্রমিকদের বিষয়টি বোঝানোর পরও তারা সড়ক ছাড়েননি। পুলিশের কাছে মনে হয়েছে, আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কোনো সরকারবিরোধী বা রাষ্ট্রবিরোধী চক্র যুক্ত হয়ে পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা করছে।

গত চার দিন ধরে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে বিভিন্ন এলাকায় শ্রমিকদের আন্দোলন চলছে। এর মধ্যে মিরপুরে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও একটি পুলিশ গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষের পর মিরপুর-১০, মিরপুর-১১ ও পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশনে সাময়িকভাবে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়।

অন্যদিকে, গাজীপুরের কালিয়াকৈরেও ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা করার দাবিতে বিক্ষোভ হয়েছে। আন্দোলনকারীরা ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক অবরোধ করে সড়কে আগুন জ্বালানোর পাশাপাশি ব্যাংক, যানবাহন ও দোকানপাটে ভাঙচুর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।

শ্রমিকদের ন্যায্য দাবির আন্দোলনের সঙ্গে রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং বিভিন্ন স্থানে সহিংসতার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।