স্বপ্ন দেখার সাহস, অধ্যবসায়ের শক্তি আর দায়িত্ব পালনের দৃঢ়তা—এই তিনের সমন্বয়ে নিজের যোগ্যতায় এগিয়ে চলেছেন সুনন্দা সরকার প্রমা।
হাওরাঞ্চলের মাটি থেকে উঠে এসে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং বর্তমানে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মরত থাকা—তাঁর এই পথচলা নতুন প্রজন্মের কাছে অনুপ্রেরণার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
সুনন্দা সরকার প্রমা মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০০৯ ব্যাচের একজন কৃতী প্রাক্তন শিক্ষার্থী। তাঁর পিতা অ্যাডভোকেট কালীকান্ত সরকার নেত্রকোনা জজ কোর্টের আইনজীবী। মা আলপনা রানী পাল মোহনগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক। শিক্ষিত ও মূল্যবোধসম্পন্ন পারিবারিক পরিবেশ তাঁর জীবনের অগ্রযাত্রায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেই প্রতীয়মান হয়।
তাঁদের স্থায়ী ঠিকানা নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার ৪ নম্বর মাঘান সিয়াদার ইউনিয়নের বাখরপুর গ্রামে।
মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে মাধ্যমিক শিক্ষা শেষ করার পর তিনি পড়াশোনা করেন মুমিনুন্নিসা সরকারি মহিলা কলেজে। পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।
একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্য সামনে রেখে শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপ অতিক্রম করে তিনি পৌঁছে যান তাঁর কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে। তাঁর এই অর্জন মনে করিয়ে দেয়—সাফল্যের জন্য শুধু স্বপ্ন দেখাই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন নিয়মিত পরিশ্রম, আত্মবিশ্বাস এবং লক্ষ্যপানে অবিচল থাকা।
সুনন্দা সরকার প্রমার কর্মজীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্জন ৩৮তম বিসিএসের মাধ্যমে প্রশাসন ক্যাডারে যোগদান। ২০২১ সালে তিনি কর্মজীবন শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে ময়মনসিংহের গৌরীপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
বর্তমানে তিনি শেরপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
প্রশাসন ক্যাডারে কাজ করার অর্থ কেবল একটি সম্মানজনক পদে আসীন হওয়া নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে জনসেবা, সরকারি দায়িত্ব পালন এবং মানুষের প্রয়োজনের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়। তাঁর কর্মজীবনের এই অগ্রযাত্রা সেই দায়িত্বপূর্ণ পথেই এগিয়ে চলার পরিচায়ক।
ব্যক্তিগত জীবনে সুনন্দা সরকার প্রমা বিবাহিত এবং এক সন্তানের জননী। পেশাগত দায়িত্বের পাশাপাশি পারিবারিক জীবনও তাঁর পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কর্মজীবন ও পরিবার—দুই ক্ষেত্রেই দায়িত্ব পালনের এই বাস্তবতা কর্মজীবনে এগিয়ে যেতে আগ্রহী অনেক নারীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হতে পারে।
একজন নারীর সাফল্য তাঁর ব্যক্তিগত অর্জনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না; তা অন্য নারীদেরও নিজেদের সক্ষমতার ওপর আস্থা রাখতে উৎসাহিত করে।
আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা
মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন প্রাক্তন শিক্ষার্থী থেকে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হয়ে ওঠার এই যাত্রা নিঃসন্দেহে গর্বের। তাঁর জীবনপথের শিক্ষা হলো—নিজের সামর্থ্যের ওপর বিশ্বাস রাখতে হবে, শিক্ষাকে শক্তিতে পরিণত করতে হবে এবং অর্জিত যোগ্যতাকে দায়িত্বশীল কর্মের মাধ্যমে কাজে লাগাতে হবে।
সুনন্দা সরকার প্রমা—শেকড়ের সঙ্গে আত্মিক বন্ধন রেখে নিজের যোগ্যতায় এগিয়ে চলা এক নারী। তাঁর কর্মজীবন আরও সাফল্যমণ্ডিত হোক, মানুষের কল্যাণে তাঁর দায়িত্বশীল ভূমিকা আরও বিস্তৃত হোক—এই প্রত্যাশা।
মোহনগঞ্জ পাইলট সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ২০০৯ ব্যাচের এই প্রাক্তন শিক্ষার্থীর জন্য রইল আন্তরিক শ্রদ্ধা, ভালোবাসা ও শুভকামনা। তাঁর পথচলা আগামী দিনের শিক্ষার্থী ও তরুণীদের স্বপ্ন দেখতে এবং সেই স্বপ্ন পূরণে সাহসী হতে অনুপ্রাণিত করুক।
সাফল্য হোক যোগ্যতার, পরিচয় হোক কর্মের, আর অর্জন হোক মানুষের কল্যাণে।
মো. আরিফুল ইসলাম মুরাদ-সিনিয়র সাংবাদিক 



















