গাজীপুর জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়নের একটি দীর্ঘদিনের পুরনো চলাচলের রাস্তা প্রাচীর নির্মাণ করে বন্ধ করে দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগ্রুপ ওয়ালটন-এর বিরুদ্ধে। প্রায় ৪০ বছর ধরে এলাকাবাসীর চলাচলের এই ঐতিহাসিক রাস্তাটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগ ও বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় হাজার হাজার মানুষ। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে এবং সরেজমিন তথ্যে জানা যায়, কালীগঞ্জ উপজেলার নাগরী ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকল্পের আওতায় আঃ খালেকের বাড়ি সংলগ্ন কবরস্থানের পাশ দিয়ে যাওয়া এই রাস্তাটি দিয়ে গত অন্তত ৪০ বছর ধরে নিয়মিত চলাচল করে আসছে এলাকার সর্বস্তরের জনগণ। সম্প্রতি রাস্তাটির গুরুত্ব অনুধাবন করে ইটের সলিংকরণের জন্য নাগরী ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ফারজানা তাসলিম এর ভিত্তিপ্রস্তরও স্থাপন করেন। প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে হাজার হাজার সাধারণ মানুষ ছাড়াও স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা এবং বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচল করে থাকে।
অভিযোগ রয়েছে, রাস্তাটির পাশে কেটুন মৌজায় এস এম রেজাউল আলম নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে জমি ক্রয় করে ওয়ালটন গ্রুপ। স্থানীয়দের দাবি, ওই জমিটি এর আগেও অতীতে বহুবার হাতবদল বা কেনাবেচা হয়েছে, কিন্তু কখনো চলাচলের রাস্তায় কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হয়নি। সম্প্রতি ওয়ালটন কোম্পানি ওই জমি ক্রয়ের পর রাতের আঁধারের গোপনীয়তায় কিছু ক্যাডার ও সন্ত্রাসী বাহিনীকে লেলিয়ে দিয়ে চলমান রাস্তার উপরেই স্থায়ী প্রাচীর বা দেওয়াল নির্মাণ করে। এলাকাবাসী এর তীব্র প্রতিবাদ করতে গেলে ওই চক্রের লোকজন সাধারণ মানুষকে নানা ধরনের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দেয়।
রাস্তা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রাস্তা বন্ধ থাকায় এখন আর ওই পথ দিয়ে কোনো কৃষিপণ্য আনা-নেওয়া করা যাচ্ছে না। অতীতে যে রাস্তা দিয়ে নিয়মিত পিকআপ ভ্যান, অ্যাম্বুলেন্স, রোগী বহনকারী যান ও প্রাইভেট কার চলাচল করত, তা এখন সম্পূর্ণ বন্ধ।
এলাকার এক প্রবীণ বৃদ্ধ হতাশা প্রকাশ করে গণমাধ্যমকে জানান, “আমার জন্মেরও পর থেকে আমরা এই রাস্তা দিয়ে নির্বিঘ্নে চলাচল করে আসছি। অথচ এখন ওয়ালটন কোম্পানি ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমাদের চলাচলের সেই একমাত্র পথটি প্রাচীর দিয়ে আটকে দিয়েছে।”
আরেক অটোচালক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, রাস্তাটি বন্ধ থাকায় এলাকার কোমলমতি শিক্ষার্থীরা স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত করতে গিয়ে চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে কোনো অসুস্থ বয়োজ্যেষ্ঠ মানুষ বা গর্ভবতী মা-বোনদের হাসপাতালে নেওয়ার সময় চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে এলাকাবাসীকে।
ভুক্তভোগী মতিন নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “দীর্ঘ বহু বছর ধরে আমরা এই রাস্তাটি ব্যবহার করে আসছি। কিন্তু ওয়ালটন গ্রুপ ও স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী চক্র ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমাদের চলাচলের রাস্তাটি প্রাচীর দিয়ে আটকে ছোট ও অবরুদ্ধ করে দিয়েছে। আমরা এখন সম্পূর্ণ অসহায়। আমাদের একটাই দাবি, ওয়ালটন গ্রুপ ও স্থানীয় প্রশাসন যেন আমাদের এই মানবিক দুর্দশার বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করে অবিলম্বে প্রাচীর ভেঙে চলাচলের রাস্তাটি সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেয়।”
ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, সত্যিই ওই জনবহুল রাস্তার ওপর নতুন প্রাচীর নির্মাণ করে পথ আটকে দেওয়া হয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে ওয়ালটন গ্রুপের দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তাকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘সাকিব’ নামের এক ব্যক্তির সরাসরি নেতৃত্বে পেশিশক্তি ও ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে রাস্তা দখল করে এই প্রাচীর নির্মাণ করা হয়েছে। পরবর্তীতে এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত সাকিবের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
চল্লিশ বছরের পুরনো এবং জনসাধারণের চলাচলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রাস্তা এভাবে প্রাচীর দিয়ে বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। জনস্বার্থে এই অবৈধ প্রাচীর অপসারণ করে দ্রুত চলাচলের পথ উন্মুক্ত করতে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















