অভিযুক্ত আরিফুল ইসলাম জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি নুরুল ইসলামের ছেলে। তাঁর বাড়ি সদর উপজেলার বেংরুই গ্রামে। বর্তমানে তারা শহরের গঙ্গাধরপট্টি এলাকায় বসবাস করেন।
ভুক্তভোগী মো. তমাল তাঁর অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, আরিফুল ইসলাম তাঁকে মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আউটসোর্সিং সুপারভাইজার পদে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছিলেন। চাকরির জন্য জামানত হিসেবে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকাও নেন তিনি। পরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কে এস এফ ট্রেড লিমিটেডের অফিসিয়াল প্যাডে ২০২৫ সালের ২৭ নভেম্বর একটি নিয়োগপত্র দেওয়া হয় তাঁকে। সেটি নিয়ে হাসপাতালে যোগদান করতে গেলে তমাল জানতে পারেন, তাঁর নামে দেওয়া ওই নিয়োগপত্রটি ভুয়া। পরে টাকা ফেরত চাইলে আরিফুল নানা অজুহাত দেখান। আবার চাকরি দেওয়ার কথা বলে তাঁকে ঘোরাতে থাকেন। একপর্যায়ে তাঁকে চাকরি দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানানো হয়। এরপর গত ২৪ অক্টোবর ফোনে তমাল টাকা ফেরত চাইলে তাঁকে গালাগাল ও বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেন আরিফুল ইসলাম। পরে নিজের জীবনের নিরাপত্তার আশঙ্কায় তিনি গত শনিবার মানিকগঞ্জ সদর থানায় একটি জিডি করেন। পাশাপাশি এনসিপির জেলা কমিটির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন।
এ বিষয়ে কে এস এফ ট্রেড লিমিটেডের ম্যানেজার নাসিম হাওলাদার বলেন, মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে আউটসোর্সিংয়ে লোকবল সরবরাহের ঠিকাদার কে এস এফ ট্রেড হলেও সেখানে নতুন করে কোনো লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি। পুরোনো লোকবল দিয়েই আউটসোর্সিংয়ের কাজ চলছে। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলামের সঙ্গে তাদের প্রতিষ্ঠানের কোনো সম্পর্ক নেই। তবে তিনি লোকবল নিয়োগের জন্য তদবির করেছিলেন। নাসিম হাওলাদার আরও বলেন, আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে তমাল নামে কাউকে সুপারভাইজার পদে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়নি।
এ বিষয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলাম বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সত্য নয়। ওই অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। ষড়যন্ত্র করে তমালকে দিয়ে কেউ ওই অভিযোগ দিয়েছে। এ বিষয়ে তিনি গতকাল সোমবার আদালতে মানহানির মামলা করেছেন।
এনসিপির জেলা কমিটির আহ্বায়ক আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, আমরা একটি অভিযোগ পেয়েছি। কেন্দ্রের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি যাচাই করা হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মানিকগঞ্জ সদর থানার ওসি মো. মনির হোসেন বলেন, এনসিপির জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়টি একজন উপপুলিশ পরিদর্শককে (এসআই) তদন্তের জন্য দেওয়া হয়েছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















