সম্প্রতি এ-সংক্রান্ত কয়েকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন মাধ্যমে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্তরা হলেন, বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের ক্রেডিট চেকিং কাম সায়রাত সহকারী আল আমিন লাবু, অফিস সহায়ক হারুন অর-রশীদ এবং অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সার্ভেয়ার আবু সোয়েব। আবু সোয়েব বর্তমানে দেবীগঞ্জ উপজেলা ভূমি অফিসে কর্মরত।
ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে আল আমিন লাবু ও হারুন অর-রশীদের বিরুদ্ধে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার দৃশ্য রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে, জমির নামজারিসংক্রান্ত কাজে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে সার্ভেয়ার আবু সোয়েবের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ অনুযায়ী, জমির পরিমাণ ও দলিলের ধরন বিবেচনায় নামজারির জন্য পাঁচ হাজার টাকা বা তার বেশি দাবি করেন সার্ভেয়ার আবু সোয়েব। এ টাকা সরাসরি না নিয়ে আল আমিন লাবুর মাধ্যমে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া নামজারির বিভিন্ন কারণ দেখিয়ে সেবাপ্রার্থীদের কাছ থেকে তিন হাজার টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে আল আমিন লাবুর বিরুদ্ধে। অন্যদিকে, নামজারির শুনানির তারিখ নির্ধারণ ও সিরিয়াল দেওয়ার নামে অফিস সহায়ক হারুন অর-রশীদ এক হাজার টাকা করে নেন বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত ফি জমা দেওয়ার পরও ভূমিসেবা পেতে বিভিন্ন অজুহাতে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। এতে একদিকে যেমন আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন তাঁরা, অন্যদিকে প্রয়োজনীয় সেবা পেতে বাড়ছে ভোগান্তি। বাধ্য হয়ে অনেকে অতিরিক্ত টাকা দিতে রাজি হন বলেও অভিযোগ তাঁদের।
এ ঘটনায় নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ভূমি অফিসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে সেবাপ্রার্থীদের হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা সার্ভেয়ার আবু সোয়েব বলেন, আমি ওইখানে যাই সপ্তাহে দু-এক দিন। এসিল্যান্ড যেসব কাগজপত্র বাতিল করে দেন বা যে সিদ্ধান্ত দেন, সেগুলো দেখে কাগজপত্র যাচাই করে আমি রিপোর্ট দিই। এর বাইরে আমি কিছু জানি না। আমার নাম বলে যদি কেউ কারও কাছ থেকে টাকা নেয়, তাহলে সেটা তার বিষয়।
এ বিষয়ে বোদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রবিউল ইসলাম বলেন, বোদা উপজেলা ভূমি অফিসের কয়েকজন কর্মচারীর অনিয়মের কিছু ভিডিও ও ছবি দেখেছি। এসব বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে যতটুকু বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন, তা অবশ্যই নেওয়া হবে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 






















