ঢাকা ০৫:৩৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
কোটালীপাড়ায় যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি কোটালীপাড়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালিত বিএডিসিতে এখনো শক্তিশালী আওয়ামী প্রভাব খাটানো বঙ্গ অ্যাগ্রিটেক, নেপথ্যে দুই কর্মকর্তা সোনারগাঁয়ে দোকান দখল ও ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ সেলিম সরকারের বিরুদ্ধে পাঁচ সাংবাদিক হত্যার বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন ময়মনসিংহের সাংবাদিকেরা আশুলিয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নাচের ভিডিও ভাইরাল দাউদকান্দিতে বন্দুক-কার্তুজ ও গ্রিল কাটারসহ ডাকাতি মামলার আসামি গ্রেপ্তার গুলিস্তান-সদরঘাট সড়কে হকার বসতে দেওয়া হবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক রামপুরা থানার এসআই পলাশ কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ দেবীগঞ্জে জমজমাট উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম জলপাইয়ের হাট, দৈনিক বেচাকেনা ৫০ লাখ টাকা
প্রবাসীর স্ত্রীকে হয়রানি

রামপুরা থানার এসআই পলাশ কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

ঢাকা মহানগরীর রামপুরা থানার এসআই পলাশ কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে হয়রানি, কুৎসা রটনা ও মিথ্যা মামলা দায়ের করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ সূত্রে প্রকাশ, খিলগাঁও চৌধুরীপাড়া এলাকার ১৯৫/১/বি ঠিকানায় এক প্রবাসীর স্ত্রী একটি ফ্ল্যাট মর্টগেজের জন্য ফ্ল্যাটমালিককে বিভিন্ন দফায় মোট ২০ লাখ টাকা প্রদান করেন। টাকা প্রদানের পর ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিতে বললে ফ্ল্যাটমালিক তাঁকে বলেন, “ফ্ল্যাট বায়না করা যাবে না।” প্রবাসীর স্ত্রী তখন ফ্ল্যাটের জন্য প্রদত্ত ২০ লাখ টাকা ফেরত চাইলে ফ্ল্যাটমালিক তাঁকে টাকা ফেরত না দিয়ে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করেন, ভয়ভীতি দেখান, মেরে ফেলবেন বলে হুমকি দেন এবং একপর্যায়ে ওই মহিলার নামে রামপুরা থানার এসআই পলাশ কুমার ঘোষের সঙ্গে যোগসাজশে দুটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।

নিরাপত্তার কারণে প্রবাসীর স্ত্রী রামপুরা থানায় পরপর তিনটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তবে রামপুরা থানা তিনটি সাধারণ ডায়েরির একটিরও তদন্ত করেনি। মামলায় প্রবাসীর স্ত্রীর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মামলার পর ঘটনাস্থল তদন্তের জন্য আইও (তদন্তকারী কর্মকর্তা) পলাশ কুমার ঘোষ এলাকার কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, এমনকি মামলার আসামিকেও মামলার বিষয়টি জানাননি। প্রবাসীর স্ত্রী জানেন না, কবে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলা দেওয়ার পর অতি দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। তবে আদালত থেকে ওয়ারেন্টের খবর পেয়ে তিনি দ্রুত আদালতে হাজির হয়ে সপরিবারে জামিন নিয়েছেন। নিরাপত্তার কারণে প্রবাসীর স্ত্রীর নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ডিসি মতিঝিল, ডিএমপি সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

ফ্ল্যাটমালিক সৈয়দ আজাদ উল্লাহ মামলা দিয়েও ক্ষান্ত হননি। এসআই পলাশ কুমার ঘোষের সহায়তায় ওই মহিলা বর্তমানে যে ফ্ল্যাটে আছেন, সেই ফ্ল্যাটের পানির সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছেন এবং বৈদ্যুতিক প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ করতে না পারেন, সে জন্য মিটারে তালা মেরে রেখেছেন ফ্ল্যাটমালিক সৈয়দ আজাদ উল্লাহ। বৃদ্ধ বাবা-মা ও দুই সন্তান নিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন এবং মিথ্যা মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে আদালতে দৌড়ে বেড়াচ্ছেন। জীবনের নিরাপত্তা ও বিচারের জন্য রামপুরা থানা, ডিসি মতিঝিল, ডিএমপি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় দৌড়ে বেড়াচ্ছেন। তবে টাকার কাছে তিনি হেরে যাচ্ছেন। রামপুরা থানার এসআই পলাশ কুমার ঘোষ (আইডি বিপি নং ৯০১৯২২৩৫৭৪) তাঁকে বলছেন, “আপনি ফ্ল্যাট ছেড়ে চলে যান, সৈয়দ আজাদ উল্লাহর সঙ্গে পারবেন না; কারণ তিনি ডিসি থেকে শুরু করে থানার ওসি, এসআই—সকলকে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে দিয়েছেন।”

খিলগাঁও চৌধুরীপাড়া এলাকার সূত্রে জানা গেছে, এসআই পলাশ সৈয়দ আজাদ উল্লাহর ফ্ল্যাটে গিয়ে প্রায়ই দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় কাটান। তাঁর বাড়ি ব্যাচেলর ভাড়াটিয়ায় ভরপুর। ব্যাচেলর ভাড়াটিয়ারা নিজেদের মধ্যে মারামারি করলে সৈয়দ আজাদ উল্লাহ এসআই পলাশ কুমার ঘোষকে ফোন করলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে এসে ভাড়াটিয়াদের নিয়ন্ত্রণ না করে প্রবাসীর স্ত্রীকে হুমকি-ধমকি দেন এবং বলেন, “আপনি কেন মারামারি করছেন?” প্রবাসীর স্ত্রী এর প্রতিবাদ করে ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরা দেখতে বললে পলাশ কুমার ধমকের সুরে বলেন, “আমি কী দেখব বা না দেখব, তা আপনি বলার কে?”

ফ্ল্যাটমালিক সৈয়দ আজাদ উল্লাহ এবং রামপুরা থানার এসআই পলাশ কুমার ঘোষ মিলে প্রবাসীর স্ত্রীর নামে কুৎসা ও অপপ্রচার চালাচ্ছেন। অভিযোগ সূত্রে প্রকাশ, এসআই পলাশ কুমার ঘোষ প্রবাসীর স্ত্রীর বাসায় গিয়ে বলেন, “আপনার ফ্ল্যাট মর্টগেজের ২০ লাখ টাকা যদি আমি আদায় করে দিতে পারি, তবে আমাকে কী দেবেন?” জবাবে তিনি কিছু না বললে পলাশ কুমার তাঁকে বাজে ও নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করেন।

অভিযোগ সূত্রে আরও প্রকাশ, রামপুরা থানার এসআই পলাশ কুমার ঘোষ কিছুদিন পরপর প্রবাসীর স্ত্রীর ফ্ল্যাটে রাত ১২টার সময় আসেন, ভয়ভীতি দেখান এবং দরজা খুলতে বলেন। দরজা খুলতে না চাইলে খুলতে বাধ্য করেন। তারপর ভেতরে প্রবেশ করে নোংরা ভাষায় কথা বলেন। যার দরুন বৃদ্ধ বাবা-মা ও দুই সন্তান নিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

এ বিষয়ে এলাকার একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসআই পলাশ কুমার ঘোষ শুধুমাত্র টাকার জন্য সহায়-সম্বলহীন মানুষদের একের পর এক মামলা দিয়ে জীবন নষ্ট করে দিচ্ছেন। সৈয়দ আজাদ উল্লাহর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে প্রবাসীর পরিবারকে ধ্বংস করে দিচ্ছেন। তবে স্থানীয়রা তাঁদের নাম প্রকাশ করতে অপারগ। তাঁরা বলেন, তাঁদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করলে এসআই পলাশ কুমার ঘোষ তাঁদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে যেকোনো ধরনের হয়রানি করতে পারেন। ঢাকা মহানগরীর রামপুরা থানার এসআই পলাশ কুমার ঘোষ থানা এলাকায় একটি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন।

এ ব্যাপারে এসআই পলাশ কুমার ঘোষের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলে তিনি প্রতিবারই “থানায় এসে কথা বলুন”—এ কথা বলে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

পুলিশের একজন কর্মকর্তার এ ধরনের আচরণ সম্পর্কে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনরা বলছেন, রামপুরা থানার এসআই পলাশ কুমার ঘোষের এসব অপকর্ম, আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড ও তাণ্ডব মারাত্মক দণ্ডনীয় অপরাধ। এসব অপকর্মের কারণে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা হারিয়ে গেছে এবং পুলিশ সাধারণ মানুষের কাছে একটি আতঙ্কের নাম হিসেবে পরিচিত। বিশিষ্টজনরা আরও বলেন, কোনো অপরাধ সম্পর্কে পুলিশের কাছে ফরিয়াদ করলে যদি পুলিশই ফরিয়াদকারীর কাছে বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?

Tag :

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

কোটালীপাড়ায় যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য র‌্যালি

প্রবাসীর স্ত্রীকে হয়রানি

রামপুরা থানার এসআই পলাশ কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৪:২৯:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

ঢাকা মহানগরীর রামপুরা থানার এসআই পলাশ কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে হয়রানি, কুৎসা রটনা ও মিথ্যা মামলা দায়ের করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগ সূত্রে প্রকাশ, খিলগাঁও চৌধুরীপাড়া এলাকার ১৯৫/১/বি ঠিকানায় এক প্রবাসীর স্ত্রী একটি ফ্ল্যাট মর্টগেজের জন্য ফ্ল্যাটমালিককে বিভিন্ন দফায় মোট ২০ লাখ টাকা প্রদান করেন। টাকা প্রদানের পর ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দিতে বললে ফ্ল্যাটমালিক তাঁকে বলেন, “ফ্ল্যাট বায়না করা যাবে না।” প্রবাসীর স্ত্রী তখন ফ্ল্যাটের জন্য প্রদত্ত ২০ লাখ টাকা ফেরত চাইলে ফ্ল্যাটমালিক তাঁকে টাকা ফেরত না দিয়ে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করেন, ভয়ভীতি দেখান, মেরে ফেলবেন বলে হুমকি দেন এবং একপর্যায়ে ওই মহিলার নামে রামপুরা থানার এসআই পলাশ কুমার ঘোষের সঙ্গে যোগসাজশে দুটি মিথ্যা মামলা দায়ের করেন।

নিরাপত্তার কারণে প্রবাসীর স্ত্রী রামপুরা থানায় পরপর তিনটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তবে রামপুরা থানা তিনটি সাধারণ ডায়েরির একটিরও তদন্ত করেনি। মামলায় প্রবাসীর স্ত্রীর বৃদ্ধ বাবা-মায়ের নামও অন্তর্ভুক্ত করা হয়। মামলার পর ঘটনাস্থল তদন্তের জন্য আইও (তদন্তকারী কর্মকর্তা) পলাশ কুমার ঘোষ এলাকার কারও সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, এমনকি মামলার আসামিকেও মামলার বিষয়টি জানাননি। প্রবাসীর স্ত্রী জানেন না, কবে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলা দেওয়ার পর অতি দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে। তবে আদালত থেকে ওয়ারেন্টের খবর পেয়ে তিনি দ্রুত আদালতে হাজির হয়ে সপরিবারে জামিন নিয়েছেন। নিরাপত্তার কারণে প্রবাসীর স্ত্রীর নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং ডিসি মতিঝিল, ডিএমপি সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

ফ্ল্যাটমালিক সৈয়দ আজাদ উল্লাহ মামলা দিয়েও ক্ষান্ত হননি। এসআই পলাশ কুমার ঘোষের সহায়তায় ওই মহিলা বর্তমানে যে ফ্ল্যাটে আছেন, সেই ফ্ল্যাটের পানির সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছেন এবং বৈদ্যুতিক প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ করতে না পারেন, সে জন্য মিটারে তালা মেরে রেখেছেন ফ্ল্যাটমালিক সৈয়দ আজাদ উল্লাহ। বৃদ্ধ বাবা-মা ও দুই সন্তান নিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন এবং মিথ্যা মামলার বোঝা মাথায় নিয়ে আদালতে দৌড়ে বেড়াচ্ছেন। জীবনের নিরাপত্তা ও বিচারের জন্য রামপুরা থানা, ডিসি মতিঝিল, ডিএমপি, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় দৌড়ে বেড়াচ্ছেন। তবে টাকার কাছে তিনি হেরে যাচ্ছেন। রামপুরা থানার এসআই পলাশ কুমার ঘোষ (আইডি বিপি নং ৯০১৯২২৩৫৭৪) তাঁকে বলছেন, “আপনি ফ্ল্যাট ছেড়ে চলে যান, সৈয়দ আজাদ উল্লাহর সঙ্গে পারবেন না; কারণ তিনি ডিসি থেকে শুরু করে থানার ওসি, এসআই—সকলকে ১৫ লাখ টাকা ঘুষ হিসেবে দিয়েছেন।”

খিলগাঁও চৌধুরীপাড়া এলাকার সূত্রে জানা গেছে, এসআই পলাশ সৈয়দ আজাদ উল্লাহর ফ্ল্যাটে গিয়ে প্রায়ই দুই থেকে তিন ঘণ্টা সময় কাটান। তাঁর বাড়ি ব্যাচেলর ভাড়াটিয়ায় ভরপুর। ব্যাচেলর ভাড়াটিয়ারা নিজেদের মধ্যে মারামারি করলে সৈয়দ আজাদ উল্লাহ এসআই পলাশ কুমার ঘোষকে ফোন করলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে এসে ভাড়াটিয়াদের নিয়ন্ত্রণ না করে প্রবাসীর স্ত্রীকে হুমকি-ধমকি দেন এবং বলেন, “আপনি কেন মারামারি করছেন?” প্রবাসীর স্ত্রী এর প্রতিবাদ করে ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরা দেখতে বললে পলাশ কুমার ধমকের সুরে বলেন, “আমি কী দেখব বা না দেখব, তা আপনি বলার কে?”

ফ্ল্যাটমালিক সৈয়দ আজাদ উল্লাহ এবং রামপুরা থানার এসআই পলাশ কুমার ঘোষ মিলে প্রবাসীর স্ত্রীর নামে কুৎসা ও অপপ্রচার চালাচ্ছেন। অভিযোগ সূত্রে প্রকাশ, এসআই পলাশ কুমার ঘোষ প্রবাসীর স্ত্রীর বাসায় গিয়ে বলেন, “আপনার ফ্ল্যাট মর্টগেজের ২০ লাখ টাকা যদি আমি আদায় করে দিতে পারি, তবে আমাকে কী দেবেন?” জবাবে তিনি কিছু না বললে পলাশ কুমার তাঁকে বাজে ও নোংরা ভাষায় গালিগালাজ করেন।

অভিযোগ সূত্রে আরও প্রকাশ, রামপুরা থানার এসআই পলাশ কুমার ঘোষ কিছুদিন পরপর প্রবাসীর স্ত্রীর ফ্ল্যাটে রাত ১২টার সময় আসেন, ভয়ভীতি দেখান এবং দরজা খুলতে বলেন। দরজা খুলতে না চাইলে খুলতে বাধ্য করেন। তারপর ভেতরে প্রবেশ করে নোংরা ভাষায় কথা বলেন। যার দরুন বৃদ্ধ বাবা-মা ও দুই সন্তান নিয়ে প্রবাসীর স্ত্রী চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছেন।

এ বিষয়ে এলাকার একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসআই পলাশ কুমার ঘোষ শুধুমাত্র টাকার জন্য সহায়-সম্বলহীন মানুষদের একের পর এক মামলা দিয়ে জীবন নষ্ট করে দিচ্ছেন। সৈয়দ আজাদ উল্লাহর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে প্রবাসীর পরিবারকে ধ্বংস করে দিচ্ছেন। তবে স্থানীয়রা তাঁদের নাম প্রকাশ করতে অপারগ। তাঁরা বলেন, তাঁদের নাম-ঠিকানা প্রকাশ করলে এসআই পলাশ কুমার ঘোষ তাঁদের নামে মিথ্যা মামলা দিয়ে যেকোনো ধরনের হয়রানি করতে পারেন। ঢাকা মহানগরীর রামপুরা থানার এসআই পলাশ কুমার ঘোষ থানা এলাকায় একটি ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছেন।

এ ব্যাপারে এসআই পলাশ কুমার ঘোষের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলে তিনি প্রতিবারই “থানায় এসে কথা বলুন”—এ কথা বলে মোবাইল সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

পুলিশের একজন কর্মকর্তার এ ধরনের আচরণ সম্পর্কে সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও বিশিষ্টজনরা বলছেন, রামপুরা থানার এসআই পলাশ কুমার ঘোষের এসব অপকর্ম, আইনবিরোধী কর্মকাণ্ড ও তাণ্ডব মারাত্মক দণ্ডনীয় অপরাধ। এসব অপকর্মের কারণে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা হারিয়ে গেছে এবং পুলিশ সাধারণ মানুষের কাছে একটি আতঙ্কের নাম হিসেবে পরিচিত। বিশিষ্টজনরা আরও বলেন, কোনো অপরাধ সম্পর্কে পুলিশের কাছে ফরিয়াদ করলে যদি পুলিশই ফরিয়াদকারীর কাছে বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে?