ঢাকা ০৫:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সোনারগাঁয়ে দোকান দখল ও ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ সেলিম সরকারের বিরুদ্ধে পাঁচ সাংবাদিক হত্যার বিচারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ হচ্ছেন ময়মনসিংহের সাংবাদিকেরা আশুলিয়ায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নাচের ভিডিও ভাইরাল দাউদকান্দিতে বন্দুক-কার্তুজ ও গ্রিল কাটারসহ ডাকাতি মামলার আসামি গ্রেপ্তার গুলিস্তান-সদরঘাট সড়কে হকার বসতে দেওয়া হবে না: ডিএসসিসি প্রশাসক রামপুরা থানার এসআই পলাশ কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ দেবীগঞ্জে জমজমাট উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম জলপাইয়ের হাট, দৈনিক বেচাকেনা ৫০ লাখ টাকা বোরহানউদ্দিনে জমি নিয়ে বিরোধে হামলা, আহত ৩ হাতিয়া মডেল মসজিদ নির্মাণে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ইসরায়েলের নির্বাচনে ৬০ শতাংশ ভোট গণনা, এগিয়ে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি

দেবীগঞ্জে জমজমাট উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম জলপাইয়ের হাট, দৈনিক বেচাকেনা ৫০ লাখ টাকা

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবদারুতলা জলপাইয়ের হাট এখন ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় মুখর। মৌসুমের শুরুতেই জমে উঠেছে উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ এই পাইকারি বাজার। প্রতিদিন এখানে ১৪০ থেকে ২০০ টন পর্যন্ত জলপাই কেনাবেচা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, হাটজুড়ে ছোট-বড় স্তূপ করে রাখা হয়েছে জলপাই। কোথাও চলছে ওজন, কোথাও আকার অনুযায়ী বাছাই। পরে জলপাই পরিষ্কার করে বস্তাবন্দী করা হচ্ছে। এ কাজে পুরুষদের পাশাপাশি নারী শ্রমিকেরাও অংশ নিচ্ছেন।

মৌসুমজুড়ে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারী জেলা থেকে জলপাই নিয়ে আসেন কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ব্যাটারিচালিত ভ্যান, ইজিবাইক, নছিমনসহ বিভিন্ন যানবাহনে এসব জলপাই হাটে আনা হয়।

কারও কাছে এই হাট নিজের গাছের ফল বিক্রির জায়গা, আবার কারও কাছে বছরের পর বছর ধরে জীবিকার উৎস।

দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের পূর্ব দেবীডুবা এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম এবার প্রথমবারের মতো নিজের গাছের জলপাই নিয়ে হাটে এসেছেন। তিনি বলেন, “একটি গাছে এবার প্রথম জলপাই ধরেছে। ১৬ টাকা কেজি দরে ৫৩ কেজি জলপাই বিক্রি করেছি। যে দাম পেয়েছি, তাতে আমি খুশি।”

পঞ্চগড় থেকে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মতিউর রহমান বলেন, “৭ থেকে ৮ বছর ধরে আমরা তিনজন মিলে বিভিন্ন গ্রাম থেকে জলপাই কিনে এই হাটে এনে বিক্রি করি। দিনশেষে জনপ্রতি এক হাজার থেকে বারো শ টাকা পর্যন্ত লাভ থাকে।”

দীর্ঘদিন ধরে জলপাইয়ের ব্যবসা করছেন স্থানীয় পাইকার মো. বেলাল হোসেন। তিনি বলেন, “প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ টন জলপাই কেনাবেচা করি। এর কিছু প্রাণ কোম্পানিতে যায়। বাকিগুলো ঢাকা, বরিশাল, যশোরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। এ ছাড়া দেবীগঞ্জের জলপাই দেশের বাইরেও যায়।”

চট্টগ্রাম থেকে আসা ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, “এই বাজার থেকে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ টন জলপাই কিনি। আমার মতো চট্টগ্রামের আরও পাইকার আছেন, যারা ১০ থেকে ১৫ টন করে জলপাই কেনেন। এসব জলপাই বিভিন্ন কোম্পানিতে সরবরাহের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জেলাতেও পাঠানো হয়।”

জলপাইয়ের এই হাট ঘিরে মৌসুমে কয়েক শ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন শ্রমিক বিভিন্ন পাইকারের হয়ে জলপাই কেনা, বাছাই, পরিষ্কার ও ট্রাকে বোঝাইয়ের কাজ করেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী শ্রমিকও রয়েছেন।

মৌসুমি শ্রমিক সাব্বির ইসলাম বলেন, “এবার নতুন করে কাজ করছি। আমার মহাজন প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ টন জলপাই কেনেন। আমি জলপাই বাছাইয়ের কাজ করি।”

হাটে ৩০ সদস্যের একটি নারী শ্রমিক দলকে জলপাই বাছাই ও বোঁটা ছাড়ানোর কাজ করতে দেখা গেছে। তাঁদের একজন সাবিত্রী দাস বলেন, “সকাল ৮টায় আসি, বিকেল ৫টায় যাই। আমাদের কাজ জলপাই বাছাই করা ও বোঁটা ছাড়ানো। সারাদিন কাজ করে ৩০০ টাকা পাই।”

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেবীগঞ্জ উপজেলায় ৩ হেক্টর জমিতে জলপাই চাষ হয়। স্থানীয় উৎপাদন কম হলেও পঞ্চগড় ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারী জেলা থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জলপাই নিয়ে আসেন এই হাটে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাঈম মোর্শেদ বলেন, দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবদারুতলা উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম জলপাইয়ের হাট। প্রতিবছর অক্টোবর থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এখানে জলপাই কেনাবেচা চলে। এখানকার যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকারেরা এই হাটে জলপাই কিনতে আসেন। দেবীগঞ্জ তথা পঞ্চগড়ের অর্থনীতিতে হাটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে এত বড় বাজার হলেও এখানে জলপাই সংরক্ষণের জন্য নেই কোনো হিমাগার। ফলে কেনাবেচার পর দ্রুত জলপাই পাঠিয়ে দিতে হয় বিভিন্ন গন্তব্যে। হাটের পরিধি বাড়ানো ও সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

হাটের ইজারাদার কাদেরী কিবরিয়া রানা বলেন, “এই হাটে প্রতিদিন ১৪০ থেকে ২০০ টন জলপাই কেনাবেচা হয়। সংরক্ষণাগার বা হিমাগার না থাকায় প্রতিদিনের জলপাই সেদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে হয়। সরকারিভাবে হিমাগার স্থাপন এবং আশপাশের অবৈধ স্থাপনা সরানো হলে হাটটির পরিসর বাড়বে এবং এটি আরও পরিচিতি পাবে।”

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিত সাহা বলেন, “উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ জলপাইয়ের এই হাট সম্প্রসারণের জন্য এখানে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া এখানে জলপাই উৎপাদন হয়। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে একটি হিমাগার স্থাপনের বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাব।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, হাটের পরিধি সম্প্রসারণ ও আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পাইকার ও শ্রমিকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। এতে দেবীগঞ্জের জলপাই বাজারের পরিচিতি আরও বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও উপকৃত হবে।

 

আপনার মতামত লিখুন

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল ও অন্যান্য তথ্য সঞ্চয় করে রাখুন

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনারগাঁয়ে দোকান দখল ও ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ সেলিম সরকারের বিরুদ্ধে

দেবীগঞ্জে জমজমাট উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম জলপাইয়ের হাট, দৈনিক বেচাকেনা ৫০ লাখ টাকা

আপডেট সময় ০৪:২১:৪৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবদারুতলা জলপাইয়ের হাট এখন ক্রেতা-বিক্রেতার পদচারণায় মুখর। মৌসুমের শুরুতেই জমে উঠেছে উত্তরবঙ্গের অন্যতম বৃহৎ এই পাইকারি বাজার। প্রতিদিন এখানে ১৪০ থেকে ২০০ টন পর্যন্ত জলপাই কেনাবেচা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪০ থেকে ৫০ লাখ টাকা।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, হাটজুড়ে ছোট-বড় স্তূপ করে রাখা হয়েছে জলপাই। কোথাও চলছে ওজন, কোথাও আকার অনুযায়ী বাছাই। পরে জলপাই পরিষ্কার করে বস্তাবন্দী করা হচ্ছে। এ কাজে পুরুষদের পাশাপাশি নারী শ্রমিকেরাও অংশ নিচ্ছেন।

মৌসুমজুড়ে পঞ্চগড়ের বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারী জেলা থেকে জলপাই নিয়ে আসেন কৃষক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। ব্যাটারিচালিত ভ্যান, ইজিবাইক, নছিমনসহ বিভিন্ন যানবাহনে এসব জলপাই হাটে আনা হয়।

কারও কাছে এই হাট নিজের গাছের ফল বিক্রির জায়গা, আবার কারও কাছে বছরের পর বছর ধরে জীবিকার উৎস।

দেবীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের পূর্ব দেবীডুবা এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম এবার প্রথমবারের মতো নিজের গাছের জলপাই নিয়ে হাটে এসেছেন। তিনি বলেন, “একটি গাছে এবার প্রথম জলপাই ধরেছে। ১৬ টাকা কেজি দরে ৫৩ কেজি জলপাই বিক্রি করেছি। যে দাম পেয়েছি, তাতে আমি খুশি।”

পঞ্চগড় থেকে আসা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মতিউর রহমান বলেন, “৭ থেকে ৮ বছর ধরে আমরা তিনজন মিলে বিভিন্ন গ্রাম থেকে জলপাই কিনে এই হাটে এনে বিক্রি করি। দিনশেষে জনপ্রতি এক হাজার থেকে বারো শ টাকা পর্যন্ত লাভ থাকে।”

দীর্ঘদিন ধরে জলপাইয়ের ব্যবসা করছেন স্থানীয় পাইকার মো. বেলাল হোসেন। তিনি বলেন, “প্রতিদিন প্রায় ২৫ থেকে ৩০ টন জলপাই কেনাবেচা করি। এর কিছু প্রাণ কোম্পানিতে যায়। বাকিগুলো ঢাকা, বরিশাল, যশোরসহ দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় পাঠানো হয়। এ ছাড়া দেবীগঞ্জের জলপাই দেশের বাইরেও যায়।”

চট্টগ্রাম থেকে আসা ব্যবসায়ী আব্দুল কাদের বলেন, “এই বাজার থেকে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ টন জলপাই কিনি। আমার মতো চট্টগ্রামের আরও পাইকার আছেন, যারা ১০ থেকে ১৫ টন করে জলপাই কেনেন। এসব জলপাই বিভিন্ন কোম্পানিতে সরবরাহের পাশাপাশি দেশের অন্যান্য জেলাতেও পাঠানো হয়।”

জলপাইয়ের এই হাট ঘিরে মৌসুমে কয়েক শ মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ২৫০ জন শ্রমিক বিভিন্ন পাইকারের হয়ে জলপাই কেনা, বাছাই, পরিষ্কার ও ট্রাকে বোঝাইয়ের কাজ করেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী শ্রমিকও রয়েছেন।

মৌসুমি শ্রমিক সাব্বির ইসলাম বলেন, “এবার নতুন করে কাজ করছি। আমার মহাজন প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫ টন জলপাই কেনেন। আমি জলপাই বাছাইয়ের কাজ করি।”

হাটে ৩০ সদস্যের একটি নারী শ্রমিক দলকে জলপাই বাছাই ও বোঁটা ছাড়ানোর কাজ করতে দেখা গেছে। তাঁদের একজন সাবিত্রী দাস বলেন, “সকাল ৮টায় আসি, বিকেল ৫টায় যাই। আমাদের কাজ জলপাই বাছাই করা ও বোঁটা ছাড়ানো। সারাদিন কাজ করে ৩০০ টাকা পাই।”

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেবীগঞ্জ উপজেলায় ৩ হেক্টর জমিতে জলপাই চাষ হয়। স্থানীয় উৎপাদন কম হলেও পঞ্চগড় ছাড়াও পার্শ্ববর্তী দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও নীলফামারী জেলা থেকে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জলপাই নিয়ে আসেন এই হাটে।

দেবীগঞ্জ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. নাঈম মোর্শেদ বলেন, দেবীগঞ্জ উপজেলার দেবদারুতলা উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম জলপাইয়ের হাট। প্রতিবছর অক্টোবর থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত এখানে জলপাই কেনাবেচা চলে। এখানকার যোগাযোগব্যবস্থা ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকারেরা এই হাটে জলপাই কিনতে আসেন। দেবীগঞ্জ তথা পঞ্চগড়ের অর্থনীতিতে হাটটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে এত বড় বাজার হলেও এখানে জলপাই সংরক্ষণের জন্য নেই কোনো হিমাগার। ফলে কেনাবেচার পর দ্রুত জলপাই পাঠিয়ে দিতে হয় বিভিন্ন গন্তব্যে। হাটের পরিধি বাড়ানো ও সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

হাটের ইজারাদার কাদেরী কিবরিয়া রানা বলেন, “এই হাটে প্রতিদিন ১৪০ থেকে ২০০ টন জলপাই কেনাবেচা হয়। সংরক্ষণাগার বা হিমাগার না থাকায় প্রতিদিনের জলপাই সেদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে হয়। সরকারিভাবে হিমাগার স্থাপন এবং আশপাশের অবৈধ স্থাপনা সরানো হলে হাটটির পরিসর বাড়বে এবং এটি আরও পরিচিতি পাবে।”

দেবীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইন্দ্রজিত সাহা বলেন, “উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ জলপাইয়ের এই হাট সম্প্রসারণের জন্য এখানে থাকা অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এ ছাড়া এখানে জলপাই উৎপাদন হয়। তাই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে একটি হিমাগার স্থাপনের বিষয়ে কৃষি মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠাব।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, হাটের পরিধি সম্প্রসারণ ও আধুনিক সংরক্ষণব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে কৃষক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, পাইকার ও শ্রমিকদের জন্য নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। এতে দেবীগঞ্জের জলপাই বাজারের পরিচিতি আরও বাড়ার পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিও উপকৃত হবে।